বাইরে গিয়ে ঠকলে হাতে কী থাকে
প্রশ্নটা নীতির নয়, প্রমাণের। বাইরে লেনদেন হলে কোনো রেকর্ড তৈরি হয় না, আর তখন অভিযোগ করতে গেলেও দেখানোর মতো কিছু থাকে না। সংখ্যায় দেখা যাক।
বাংলায় অনলাইন প্রতারণা লিখে খুঁজলে যা আসে সেটা লক্ষ করার মতো। মামলা করার নিয়ম, জিডি, অভিযোগ, মামলার ধারা। অর্থাৎ যাঁরা খুঁজছেন তাঁদের বেশিরভাগেরই ঘটনাটা ঘটে গেছে, আর তাঁরা এখন পরের ধাপ খুঁজছেন।
তাই এই লেখাটা উপদেশ দিয়ে শুরু করছে না। এটা একটাই প্রশ্নের উত্তর, ঘটনাটা ঘটে যাওয়ার পর আপনার হাতে ঠিক কী থাকে।
বাইরে গেলে যা হারায় সেটা সুবিধা নয়, রেকর্ড
প্ল্যাটফর্মের ভেতরে একটা অর্ডার হলে কয়েকটা জিনিস নিজে থেকেই তৈরি হয়ে যায়, কেউ চাক বা না চাক।
- কে কার কাছ থেকে কী কিনলেন, কখন, আর কত টাকায়।
- ঠিক কী পাঠানো হয়েছিল, হুবহু সেই লেখাটা।
- দুই পক্ষের মধ্যে কী কথা হয়েছিল, আর সেটা কেউ মুছতে পারে না।
- কে কখন কী অভিযোগ করেছিলেন, আর তার ফল কী হয়েছিল।
বাইরে একটা কথোপকথনে টাকা দিলে এর একটাও তৈরি হয় না। ব্যাপারটা এমন নয় যে প্ল্যাটফর্ম সাহায্য করতে চায় না। ব্যাপারটা হলো দেখার মতো কিছুই নেই। কোনো অর্ডার নেই, কোনো লেখা নেই, কোনো টাকার হিসাব নেই।
এই কারণেই বাইরের ঘটনায় সিদ্ধান্ত নেওয়া যায় না। এটা কঠোরতা নয়, শূন্যতা।
দুটো সত্যি ঘটনা, আর দুটোই একই জায়গায় আটকেছে
এই দুটো এখানে সত্যিই ঘটেছে, আর দুটোর ভেতরের গঠন একই।
প্রথমটা। একজন ক্রেতা অর্ডারে আপত্তি খুললেন। তিনি বললেন বিক্রেতা তাঁর কাছ থেকে আগাম টাকা নিয়েছেন, তারপর কথোপকথন মুছে ফেলেছেন, তাই কোনো প্রমাণ নেই।
দুটো জিনিস মিলল না। এখানে বিক্রেতাকে আগাম টাকা দেওয়ার কোনো ব্যবস্থাই নেই, সব টাকা প্ল্যাটফর্মের ভেতর দিয়ে যায়। আর এখানকার কথোপকথনের ঘরে কেউ কিছু মুছতে পারেন না, পুরো ইতিহাসটা থেকে যায়। দেখা গেল লেনদেনটা বাইরের একটা কথোপকথনে হয়েছিল, আগাম টাকাও ওখানেই গেছে, আর ঠকার পর তিনি এখানকার আগের অর্ডারগুলোর ওপর আপত্তি খুলেছেন।
দ্বিতীয়টা। একজন বিক্রেতা বললেন তিনি মাল দিয়েছেন কিন্তু টাকা পাননি। ক্রেতা বললেন উল্টোটা। দেখা গেল দুজনেই বাইরে কথা বলছিলেন, আর দেওয়া নেওয়া দুটোই ওখানে হয়েছে। কোনো অর্ডার নেই, কী পাঠানো হয়েছিল তার কোনো প্রমাণ নেই, কে সত্যি বলছেন সেটা ঠিক করার কোনো উপায় নেই।
দুটো ঘটনায় দুজন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, আর দুবারই সমস্যাটা কে ঠিক কে ভুল সেটা নয়। সমস্যাটা হলো, প্রশ্নটার উত্তর দেওয়ার মতো কোনো তথ্যই তৈরি হয়নি।
যাঁরা বাইরে ডাকেন, তাঁদের কতবার ধরা হয়েছে
এই সংখ্যাগুলো এখানে মাপা, আর এগুলো বলে দেওয়া দরকার কারণ এতে বোঝা যায় ব্যাপারটা কতটা সাধারণ।
সহায়তার ঘরে যোগাযোগের ঠিকানা চাওয়ার ঘটনা এ পর্যন্ত পৌনে চারশো বার ধরা পড়েছে, আর সেগুলো এসেছে একশো পঁয়ষট্টির কাছাকাছি আলাদা মানুষের কাছ থেকে। প্রতিটা ক্ষেত্রে বার্তাটা হুবহু জমা থাকে।
একটা কথা লক্ষ করার মতো। এই ধরনের সব ঘটনাই একই রকম, অর্থাৎ নিয়ম ভাঙার আর কোনো ধরনই এভাবে ধরা পড়ে না। সমস্যাটা একটাই, আর সেটা হলো কথোপকথনটা বাইরে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা।
তালিকার লেখাতেও একই জিনিস খোঁজা হয়। এ পর্যন্ত তেত্রিশ হাজারের বেশি তালিকার লেখা এভাবে পড়ে দেখা হয়েছে, যাতে কোথাও বাইরের কোনো ঠিকানা লেখা না থাকে।
আর একটা কথা, যেটা বাংলাভাষী পাঠকের জেনে রাখা ভালো। এ পর্যন্ত ধরা পড়া ঘটনাগুলোর একটাও বাংলায় লেখা নয়। সেটার মানে এই নয় যে বাংলাদেশ থেকে কেউ এটা করেন না, কারণ অনেকেই ইংরেজিতে লেখেন। কিন্তু ব্যাপারটা যে অন্য কোথাও বেশি ঘটে সেটাও সত্যি।
পরে অভিযোগ করতে গেলে কী চাওয়া যায়
এটাই বাংলায় সবচেয়ে বেশি খোঁজা প্রশ্নটার আসল উত্তর, তাই সোজাসুজি বলা দরকার।
ভেতরে হওয়া লেনদেনের ক্ষেত্রে সহায়তার ঘরে চাইলে আপনি অর্ডারের পূর্ণ ইতিহাস পেতে পারেন। কবে অর্ডার হয়েছিল, কত টাকা, কী পাঠানো হয়েছিল, কী কথা হয়েছিল, আর কী সিদ্ধান্ত হয়েছিল। এটা একটা নথি, আর নথিটা আপনার।
বাইরে হওয়া লেনদেনের ক্ষেত্রে এর কিছুই দেওয়া সম্ভব নয়, কারণ কিছুই নেই। যেটুকু থাকতে পারে সেটা হলো ওই মানুষটির এখানকার একাউন্টের অস্তিত্ব, কিন্তু সেটা দিয়ে আপনি কী কিনেছিলেন বা কত দিয়েছিলেন সেটা প্রমাণ হয় না।
অর্থাৎ ভেতরে থাকা আর বাইরে যাওয়ার আসল ফারাকটা নিরাপত্তার নয়, নথির। ভেতরে থাকলে ঘটনার পরে আপনার হাতে কাগজ থাকে, বাইরে গেলে থাকে না।
সস্তার যুক্তিটা কেন ফাঁপা
বাইরে ডাকার সময় প্রায় সবসময় একই কথা বলা হয়। ভেতরে কমিশন কাটে, তাই বাইরে সস্তা পড়বে।
এই কথাটার প্রথম অংশটাই ভুল। বিক্রির ওপর এখানে কোনো কমিশন নেই, আর কোডেও এমন কোনো ব্যবস্থা নেই যেটা অর্ডারের টাকা থেকে কিছু কেটে নেয়। অর্থাৎ বিক্রেতা তালিকায় যে দাম লিখেছেন, ক্রেতার দিক থেকে তার ওপর প্ল্যাটফর্মের কোনো বাড়তি স্তর বসেনি।
একটা কাটা আছে ঠিকই, কিন্তু সেটা বিক্রেতার টাকা তোলার সময়, দশ শতাংশ। ওটা আপনার দামের ওপর বসেনি, বসেছে তাঁর আয়ের ওপর। আর বাইরে গেলে ওই দশ শতাংশ তিনি বাঁচান, আপনি কিছুই বাঁচান না। বাইরের সস্তা দামটা তাই আপনার সঞ্চয় নয়, তাঁর সঞ্চয়ের একটা ভাগ, আর তার বিনিময়ে আপনি পুরো নথিটা ছেড়ে দিচ্ছেন।
এর সঙ্গে আরেকটা ছোট হিসাব যোগ হয়। ভেতরে কেনাকাটা করলে সদস্যপদের ধাপ অনুযায়ী প্রতিটা অর্ডারে একটা ছাড় বসে, আর বাইরের অর্ডার ওই হিসাবে ঢোকেই না। ধাপগুলো কীভাবে কাজ করে সেটা আলাদা পাতায় লেখা আছে।
বাইরে যাওয়ার প্রস্তাব এলে কী করবেন
খুব সহজ, আর তর্ক করার দরকার নেই।
প্রস্তাবটা যেখানে এসেছে সেখানেই থাকুক। উত্তর না দিয়ে সহায়তার ঘরে বিষয়টা জানিয়ে দিন। বার্তাটা এমনিতেই জমা থাকে, তাই আলাদা করে ছবি তোলারও দরকার নেই।
আর নিজের দিক থেকে একটা কথা মনে রাখুন। যিনি বাইরে ডাকছেন, তিনি আপনার সুবিধার কথা ভেবে ডাকছেন না। তিনি এমন একটা জায়গায় যেতে চাইছেন যেখানে কোনো নথি তৈরি হয় না। সেটা তাঁর জন্য যত সুবিধাজনক, আপনার জন্য ঠিক ততটাই নয়।
Frequently Asked Questions
পারে না, আর কারণটা অনিচ্ছা নয়, শূন্যতা। বাইরে লেনদেন হলে এখানে কোনো অর্ডার তৈরি হয় না, কী পাঠানো হয়েছিল তার কোনো নথি থাকে না, আর টাকার কোনো হিসাব থাকে না। দেখার মতো কিছু না থাকলে সিদ্ধান্ত নেওয়ারও উপায় থাকে না।
ভেতরে হওয়া লেনদেনের ক্ষেত্রে যাবে। সহায়তার ঘরে চাইলে অর্ডারের পূর্ণ ইতিহাস পাওয়া যায়, কবে হয়েছিল, কত টাকা, কী পাঠানো হয়েছিল আর কী কথা হয়েছিল। বাইরে হওয়া লেনদেনের ক্ষেত্রে এর কিছুই দেওয়া সম্ভব নয়, কারণ কিছুই তৈরি হয়নি।
ক্রেতার দিক থেকে নয়। বিক্রির ওপর এখানে কোনো কমিশনই নেই, তাই আপনার দামের ওপর কোনো বাড়তি স্তর বসেনি। যে দশ শতাংশ কাটা হয় সেটা বিক্রেতার টাকা তোলার সময়, তাঁর আয়ের ওপর। বাইরে গেলে ওটা তিনি বাঁচান, আপনি কিছুই বাঁচান না।
এখানকার ঘরে কেউ কিছু মুছতে পারেন না, পুরো ইতিহাসটা থেকে যায়। একটা ঘটনায় একজন দাবি করেছিলেন বিক্রেতা কথোপকথন মুছে ফেলেছেন, আর সেটাই প্রথম সূত্র ছিল যে ব্যাপারটা আসলে বাইরে ঘটেছে। বাইরের কথোপকথনে অবশ্য যে কেউ যেকোনো সময় সব মুছে ফেলতে পারেন।
সহায়তার ঘরে যোগাযোগের ঠিকানা চাওয়ার ঘটনা পৌনে চারশো বার ধরা পড়েছে, একশো পঁয়ষট্টির কাছাকাছি আলাদা মানুষের কাছ থেকে। উল্লেখযোগ্য ব্যাপার হলো নিয়ম ভাঙার আর কোনো ধরনই এভাবে ধরা পড়ে না, সমস্যাটা একটাই।
উত্তর না দিয়ে সহায়তার ঘরে জানিয়ে দিন। বার্তাটা এমনিতেই জমা থাকে বলে আলাদা করে ছবি তোলারও দরকার নেই। তর্ক করার প্রয়োজন নেই, শুধু কথোপকথনটা যেখানে আছে সেখানেই রাখুন।



