HstockPlus এ ক্রেতার একাউন্ট খোলার নিয়ম
এখানে আলাদা করে রেজিস্ট্রেশনের কোনো পাতা নেই। প্রথমবার ঢুকলেই একাউন্ট তৈরি হয়ে যায়, আর না ঢুকেও কেনা যায়। কোন পথে গেলে কী পাবেন আর কী হারাবেন, সেটাই আসল প্রশ্ন।
Avery Bennett
বাংলায় "একাউন্ট খোলার নিয়ম" লিখে খুঁজলে যা আসে তার প্রায় সবটাই নাম ধরা সেবা, বিকাশ, নগদ, রকেট, দারাজ। ওগুলোর সবগুলোতেই একটা আলাদা রেজিস্ট্রেশনের ধাপ থাকে, কাগজপত্র লাগে, আর যাচাইয়ের জন্য অপেক্ষা করতে হয়। HstockPlus এ ব্যাপারটা ওরকম নয়, আর সেই ফারাকটা আগে বলে নেওয়াই ভালো।
আলাদা রেজিস্ট্রেশনের পাতা নেই
এখানে সাইন আপ আর লগইন একই জিনিস। প্রথমবার যে পথে ঢুকবেন, ওই মুহূর্তেই আপনার একাউন্ট তৈরি হয়ে যায়। লগইনের পাতায় কথাটা লেখাও থাকে। তাই ফর্ম ভরা, কাগজ পাঠানো বা অনুমোদনের অপেক্ষা, এসবের কিছুই ক্রেতার দিকে নেই।
ঢোকার পাতায় প্রথমে বেছে নিতে হয় আপনি ক্রেতা না বিক্রেতা। ক্রেতার দিকটাই আগে থেকে বাছা থাকে, তাই কিছু না করলেই ক্রেতা হিসেবে এগোবেন। বিক্রেতার দিকটা সম্পূর্ণ আলাদা পথ, ওখানে অনুমোদন লাগে।
ঢোকার তিনটে পথ, আর কোনটা কার জন্য
- গুগল: সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত পথ। এক চাপে হয়ে যায়, আলাদা কোনো গোপন শব্দ মনে রাখতে হয় না। এখানকার ব্যবহারকারীদের মধ্যে সবচেয়ে বড় দলটাই এই পথে এসেছেন।
- মেইলে পাঠানো কোড: মেইলের ঠিকানা দিলে একটা এককালীন কোড যায়, সেটা বসালেই হয়ে গেল। গুগলের একাউন্ট না থাকলে বা ব্যবহার করতে না চাইলে এটাই পথ। দ্বিতীয় বড় দল এই পথে আসে।
- টেলিগ্রাম: আছে, কিন্তু খুব কম মানুষ ব্যবহার করেন। এক হাজারে বারো জনের মতো। কাজ করে, তবে টেলিগ্রামে ঢুকতে সমস্যা হলে অন্য পথ বেছে নেওয়াই সহজ।
গোপন শব্দ দিয়ে ঢোকার ব্যবস্থাও আছে, কিন্তু সেটা নতুন একাউন্ট বানানোর পথ নয়। যাঁরা আগে নিজে একটা গোপন শব্দ বসিয়েছেন, কেবল তাঁরাই ওটা ব্যবহার করতে পারেন, আর সেই সংখ্যাটা কুড়ি জনে একজনেরও কম। গোপন শব্দ না বসিয়ে ওই ঘরে চেষ্টা করলে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয় যে এই একাউন্টে কোনো গোপন শব্দ নেই।
কোড আসছে না, তখন কী করবেন
এটা এই পাতার সবচেয়ে দরকারি অংশ, কারণ সাহায্য চাওয়ার সবচেয়ে সাধারণ কারণগুলোর একটা এটাই।
কোড পাঠানোর ওপর সীমা বসানো আছে। একটা মেইলের ঠিকানায় ঘণ্টায় দশবারের বেশি কোড চাওয়া যায় না, আর একই সংযোগ থেকে ঘণ্টায় তিরিশবারের বেশি নয়। বারবার বোতাম চাপলে সীমাটা তাড়াতাড়ি ফুরিয়ে যায় আর তখন কিছুই আসে না। তাই একবার চেয়ে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করাই দ্রুততম পথ।
এ ছাড়া কোড চাওয়ার আগে একটা যাচাইয়ের ধাপ থাকে যেটা দেখে অনুরোধটা মানুষের কি না। ওটা ঠিকমতো না পেরোলে কোড যায়ই না, অথচ পর্দায় ব্যর্থতার কোনো বার্তা না-ও দেখতে পারেন। পাতাটা একবার নতুন করে খুলে নিন। আর স্প্যামের ঘরটা দেখে নিন, নতুন ঠিকানায় প্রথম মেইলটা প্রায়ই ওখানে পড়ে।
লগইন না করেও কেনা যায়, কিন্তু দাম বেশি পড়ে
মেইলের ঠিকানা দিয়ে সরাসরি কিনে ফেলা যায়। এখানে কেনা অর্ডারের একটা বড় অংশ ঠিক এভাবেই শুরু হয়। কিন্তু এই পথে তিনটে জিনিস হারান:
- সদস্যের ছাড়: লগইন করা না থাকলে ছাড়ের হিসাবটাই শূন্য ধরা হয়। একই জিনিস, বেশি দাম।
- ব্যালেন্স: সাইটের ভেতরের ব্যালেন্স দিয়ে টাকা দেওয়া যায় না। ওটার জন্য ঢোকা বাধ্যতামূলক। কিছু পদ্ধতিও কেবল ঢোকা অবস্থায় খোলে।
- পরে খুঁজে পাওয়া: অর্ডারটা একটা বিশেষ লিংকের ভরসায় থাকে।
একটা কথা জেনে রাখা দরকার। টাকা দেওয়ার আগে পর্যন্ত কোনো একাউন্ট তৈরি হয় না, এটা ইচ্ছাকৃত। টাকা মিটে যাওয়ার পরেই আপনার ওই মেইলের নামে একাউন্ট বানিয়ে দেওয়া হয়, আর প্রথমবারের গোপন শব্দটা ধন্যবাদ জানানোর পাতায় দেখানো হয়। ওই পাতাটা বন্ধ করে ফেলার আগে গোপন শব্দটা টুকে রাখুন, নইলে পরে মেইলের কোড দিয়েই ঢুকতে হবে।
কেনাকাটা বাড়লে ছাড়ও বাড়ে
ক্রেতাদেরও স্তর আছে, আর সেটা কত টাকার কেনাকাটা হয়েছে তার ওপর নির্ভর করে। প্রথম স্তরে কোনো ছাড় নেই। এরপর ধাপে ধাপে ছাড় বাড়ে, আর সবচেয়ে ওপরের স্তরে গিয়ে সেটা চার শতাংশে পৌঁছায়। প্রথম ধাপটা পেরোতে খুব বেশি লাগে না, একশো ডলারের কেনাকাটাতেই এক শতাংশ ছাড় শুরু হয়ে যায়।
এই ছাড় কেবল ঢোকা অবস্থায় কেনার সময় ধরা হয়। অর্থাৎ যিনি নিয়মিত কিনবেন, তাঁর জন্য প্রথম দিনেই ঢুকে নেওয়াটা সরাসরি টাকার হিসাব, সুবিধার হিসাব নয়।
মেইল যাচাই করা কি বাধ্যতামূলক
না। মেইলের ঠিকানা যাচাই করা না থাকলেও কেনা যায়, টাকা দেওয়া যায়, অর্ডার দেখা যায়। কোথাও এটা আটকায় না।
তবু যাচাই করে রাখা ভালো, কারণ অর্ডারের খবর, ফেরতের খবর আর ঢোকার কোড সবই ওই ঠিকানায় যায়। ভুল বা পুরোনো ঠিকানা দিলে অর্ডারটা কার্যত হারিয়ে যায়। বিশেষ করে লগইন না করে কেনার সময় ওই ঠিকানাটাই আপনার একমাত্র পরিচয়, তাই চেকআউটের ঘরে বানানটা দুবার দেখে নিন।
পরের ধাপে যেতে চাইলে ব্যালেন্সে টাকা যোগ করার নিয়ম আর অর্ডার করার ধাপগুলো দেখুন। একাউন্ট নিরাপদ রাখার দিকটা আলাদা পাতায় আছে।



