ক্রেতার ধাপ আর ছাড়: হিসাবটা, আর কতজন আসলে ওপরে আছেন
ছাড়ের ধাপগুলো সত্যি, কিন্তু সংখ্যাটা দেখলে ছবিটা বদলে যায়। গত এক বছরে যাঁরা কিনেছেন তাঁদের প্রায় সবাই এখনো প্রথম ধাপেই, যেখানে ছাড় শূন্য।
Michael Chen
এখানে দুটো আলাদা মই আছে, আর দুটোর ধাপগুলোর নাম হুবহু এক। এই একটা কারণেই সবচেয়ে বেশি বিভ্রান্তি হয়।
একটা মই ক্রেতার, আর সেটা ঠিক করে আপনার অর্ডারে কত ছাড় বসবে। আরেকটা বিক্রেতার, আর সেটা ঠিক করে সম্পূর্ণ ভিন্ন কতগুলো জিনিস। নাম ছাড়া এদের মধ্যে আর কিছুই মেলে না, ওঠার শর্তও না, লাভও না।
এই লেখাটা শুধু ক্রেতার দিকটা নিয়ে। বিক্রেতার দিকটা আলাদা পাতায় পুরোটা লেখা আছে।
হিসাবটা কীভাবে হয়
একটাই সংখ্যা দিয়ে ঠিক হয়, আর সেটা হলো গত ৩৬৫ দিনে আপনি কত টাকার অর্ডারে সত্যিই টাকা দিয়েছেন। ফেরত পাওয়া টাকা এই হিসাব থেকে বাদ যায়।
ধাপগুলো এরকম, আর ছাড়টা প্রতিটা ধাপে এক শতাংশ করে বাড়ে।
- প্রথম ধাপ: শুরুর জায়গা, ছাড় নেই।
- দ্বিতীয় ধাপ: একশো ডলারের কেনাকাটা, ছাড় এক শতাংশ।
- তৃতীয় ধাপ: পাঁচশো, ছাড় দুই শতাংশ।
- চতুর্থ ধাপ: দুই হাজার, ছাড় তিন শতাংশ।
- পঞ্চম ধাপ: দশ হাজার, ছাড় চার শতাংশ।
বাংলায় এই বিষয়ে যা খোঁজা হয় তার মধ্যে একটা হলো ছাড় বের করার নিয়ম, তাই সেটা দেখিয়ে দেওয়া যাক। ছাড়টা বসে অর্ডারের মোট দামের ওপর, আর সেটা টাকা দেওয়ার আগেই পর্দায় দেখা যায়। অর্থাৎ দ্বিতীয় ধাপে থাকা কেউ একশো ডলারের অর্ডার করলে এক ডলার কম দেন, আর পঞ্চম ধাপে থাকা কেউ একই অর্ডারে চার ডলার কম দেন।
দুটো কথা এখানে জরুরি। ছাড়টা আলাদা করে চাইতে হয় না, নিজে থেকেই বসে। আর লগইন না করে কিনলে এটা পাওয়া যায় না, কারণ তখন ব্যবস্থাটা জানেই না আপনি কে।
সৎ সংখ্যাটা: কতজন আসলে ওপরে আছেন
উপরের তালিকাটা দেখতে যত আকর্ষণীয়, বাস্তব ছবিটা তত নয়। এই সংখ্যাগুলো আজ মেপে দেখা।
গত এক বছরে যাঁরা অন্তত একটা অর্ডারের টাকা দিয়েছেন, তাঁদের সংখ্যা পাঁচ হাজারের কিছু বেশি। তাঁদের মধ্যে প্রথম ধাপেই আছেন প্রতি একশো জনে তিরানব্বই জন, অর্থাৎ তাঁদের ছাড় শূন্য।
বাকিদের ভাগটা এরকম। দ্বিতীয় ধাপে দুইশোর কিছু বেশি জন। তৃতীয় ধাপে একশোর কাছাকাছি। চতুর্থ ধাপে তিরিশেরও কম। আর সবচেয়ে ওপরের ধাপে গোটা সাইটে মাত্র তিনজন।
এটা বলার কারণ হতাশ করা নয়, প্রত্যাশাটা ঠিক জায়গায় বসানো। দুটো ব্যবহারিক ফল আছে।
- ছাড়ের কথা ভেবে বেশি কেনার কোনো মানে নেই। এক শতাংশ পাওয়ার জন্য একশো ডলার খরচ করা মানে এক ডলার পাওয়ার জন্য একশো ডলার খরচ করা।
- কিন্তু যদি আপনি এমনিতেই নিয়মিত কেনেন, তাহলে দ্বিতীয় ধাপটা কাছেই, আর ওখানে পৌঁছানো মানেই আপনি ইতিমধ্যেই বেশিরভাগ ক্রেতার চেয়ে এগিয়ে।
জানালাটা রোজ এগোয়
এটাই সবচেয়ে বেশি ভুল বোঝা হয়, আর এই কারণেই মানুষ হঠাৎ দেখেন ধাপ নেমে গেছে।
হিসাবটা মোট জীবনের নয়, শুধু গত ৩৬৫ দিনের। জানালাটা প্রতিদিন এক দিন করে এগোয়, আর পেছন থেকে পুরোনো অর্ডারগুলো বেরিয়ে যেতে থাকে। চারশো দিন আগের একটা বড় অর্ডার আজকের হিসাবে নেই।
তাই ধাপ নামার দুটো কারণ, আর দুটোই স্বাভাবিক।
- পুরোনো কেনাকাটা জানালা থেকে বেরিয়ে গেছে আর নতুন কিছু আসেনি।
- কোনো অর্ডারের টাকা ফেরত এসেছে, আর তাতে হিসাবের সংখ্যাটা কমেছে।
ধাপ নামলে কিছু মুছে যায় না, আর কেনাকাটা আবার শুরু করলে ধাপটা ফিরেও আসে। কিন্তু ফেরার হিসাবটাও ওই একই জানালার ভেতরেই হয়।
ছাড়ের সঙ্গে অন্য যেগুলো জড়িয়ে যায়
এই ধাপের ছাড়টাই দাম কমানোর একমাত্র জিনিস নয়, আর কয়েকটা জায়গায় এগুলো একে অন্যের সঙ্গে মেশে।
প্রথমত, কুপন আলাদা জিনিস। ওগুলোর নিজস্ব হিসাব আর মেয়াদ আছে, আর ধাপের ছাড়ের সঙ্গে ওদের কোনো সম্পর্ক নেই। ধাপের ছাড় বসে সবসময়, কুপন বসে যখন আপনি লাগান।
দ্বিতীয়ত, একটা ফাঁদ আছে যেটা অনেকে টের পান না। প্রতিটা টাকা দেওয়ার পদ্ধতির নিজস্ব সর্বনিম্ন অঙ্ক থাকে, আর সেই সীমাটা মেলানো হয় সব ছাড় বসার পরের অঙ্কের সঙ্গে। অর্থাৎ ছাড় বেশি হলে মোট অঙ্কটা নেমে গিয়ে কোনো কোনো পদ্ধতির সীমার নিচে চলে যেতে পারে, আর তখন ওই পদ্ধতিতে আর টাকা দেওয়া যায় না।
তৃতীয়ত, ছাড়টা শুধু নিজের একাউন্টে ঢুকে কিনলেই পাওয়া যায়। পরিচয় না দিয়ে কেনার পথটা খোলা আছে ঠিকই, কিন্তু ওই পথে ধাপের হিসাবটাই হয় না, তাই ছাড়ও বসে না। যাঁরা নিয়মিত কেনেন তাঁদের জন্য এটা একটা নীরব খরচ।
বিক্রেতার ভূমিকা আছে, কিন্তু পণ্য নেই
এই ক্ষেত্রটা প্রায়ই মানুষকে বিভ্রান্ত করে, তাই আলাদা করে বলা।
শুধু বিক্রেতার ভূমিকা থাকাই যথেষ্ট নয়। যদি আপনার কোনো তালিকা প্রকাশিত না থাকে, তাহলে আপনার ধাপটা ক্রেতার নিয়মেই হিসাব হয়, অর্থাৎ আপনি কত টাকার কেনাকাটা করেছেন তার ওপর।
প্রথম তালিকাটা প্রকাশিত হওয়ার মুহূর্ত থেকে হিসাবটা বিক্রির দিকে সরে যায়, আর তখন সম্পূর্ণ অন্য একটা শর্তের তালিকা কাজে আসে। ওখানে ওঠার সংখ্যাগুলো অনেক বড়, আর যা পাওয়া যায় সেটা ছাড় নয়।
ধাপটা কোথায় কোথায় দেখা যায়
এটা লুকোনো কিছু নয়, আর কয়েক জায়গায় নিজে থেকেই দেখা যায়।
- নিজের ছবির পাশে, একটা গোল বলয় থাকে যেটা দেখায় পরের ধাপে যেতে আর কতটা বাকি। ওটার ওপর মাউস রাখলে চলতি শর্তগুলো দেখা যায়, আর ওটাই সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য জায়গা।
- দোকানের পাতায়, বিক্রেতার ধাপটা তাঁর ছবির সঙ্গে দেখানো থাকে, তাই কেনার আগেই চোখে পড়ে।
- সহায়তার ঘরে, দুই পক্ষেরই ধাপ দেখা যায়।
- রিভিউয়ে, যিনি লিখেছেন তিনি চাইলে নিজের ধাপটা দেখাতে পারেন।
শেষ একটা কথা। এই সংখ্যাগুলো, নাম আর শতাংশ সবই প্রশাসনের সেটিংস থেকে বদলানো যায়। তাই কোনো লেখায় পড়া সংখ্যার চেয়ে নিজের ছবির পাশের ওই বলয়টাই বেশি নির্ভরযোগ্য, কারণ ওটা সবসময় চলতি হিসাবটাই দেখায়।

