HstockPlus এ পণ্য যোগ করার নিয়ম, আর যেখানে আটকায়
দারাজের মতো ভেবে শুরু করলে ঠকতে হয়। এখানে আগে বিক্রেতার একাউন্টই অনুমোদন হতে হয়, তারপর প্রতিটা তালিকায় অন্তত একটা উপ-পণ্য লাগে, আর কতগুলো তালিকা রাখতে পারবেন তার সীমা আপনার স্তরের ওপর।
Sarah Johnson
বাংলাদেশে অনলাইনে বিক্রির কথা উঠলে মাথায় যে ছবিটা আসে সেটা দারাজের। একাউন্ট খুলুন, পণ্য আপলোড করুন, কমিশন কাটা যাক, ডেলিভারির লোক এসে নিয়ে যাক। এখানকার কাজটা আলাদা, আর ফারাকগুলো আগে জেনে নিলে অনেক সময় বাঁচে।
আসল বাধাটা পণ্যে নয়, একাউন্টে
একটাও তালিকা বানানোর আগে আপনার বিক্রেতার একাউন্টটা অনুমোদিত হতে হয়। এটা স্বয়ংক্রিয় নয়, মানুষ দেখে সিদ্ধান্ত নেন। অনুমোদন না হওয়া পর্যন্ত পণ্য যোগ করার পথটাই বন্ধ থাকে, আর পর্দায় সেটা দেখতে অনেকটা কারিগরি ত্রুটির মতো লাগে।
এ পর্যন্ত যত আবেদন দেখা হয়েছে তার প্রায় সবই অনুমোদিত হয়েছে, বাতিল হয়েছে কুড়িটির কম। অর্থাৎ ধাপটা কঠিন নয়, কিন্তু ধাপটা আছে। ক্রেতার দিকে এরকম কিছুই নেই, ওখানে ঢুকলেই হয়ে যায়।
একবার অনুমোদন হয়ে গেলে তালিকা সঙ্গে সঙ্গে চালু হয়ে যায়। বর্তমানে সাইটে যত পণ্য আছে তার কার্যত সবগুলোই অনুমোদিত অবস্থায় আছে, বাতিল হয়েছে হাতে গোনা। তাই "রিভিউয়ের অপেক্ষায় বসে থাকা" এখানে বাস্তব ছবি নয়।
যে ঘরগুলো ছাড়া ফর্ম এগোয় না
পণ্য যোগ করার পাতায় অনেকগুলো ঘর থাকে, কিন্তু বাধ্যতামূলক মাত্র কয়েকটা:
- বিভাগ আর উপবিভাগ, দুটোই। একটা বাছলে হবে না।
- নাম আর বিবরণ। বিবরণ খালি রাখলে জমা হয় না।
- ধরন: হাতে দেওয়া না মজুত থেকে দেওয়া। তৃতীয় একটা ধরনও আছে, কিন্তু সেটা সাধারণ বিক্রেতাদের জন্য খোলা নয়।
এর সঙ্গে সবচেয়ে বেশি যেখানে মানুষ আটকান সেটা হলো উপ-পণ্য। অন্তত একটা লাগবেই, আর তার নিজের একটা নাম, একটা দাম আর একটা মজুতের সংখ্যা থাকতে হবে। দাম আর মজুত মূল পণ্যে বসে না, বসে উপ-পণ্যে। এই কাঠামোটা না বুঝলে মনে হয় ফর্মটা ভাঙা, আসলে ওটাই নকশা।
কতগুলো তালিকা রাখতে পারবেন
সংখ্যাটা আপনার স্তরের ওপর নির্ভর করে। শুরুতে একশোটা, আর প্রতিটা স্তর ওপরে উঠলে আরও একশো করে যোগ হয়। সবচেয়ে ওপরের স্তরে গিয়ে পাঁচশো।
দুটো কথা এর সঙ্গে জুড়ে আছে। এক, সোশ্যাল মিডিয়ার সেবাগুলো এই হিসাবের বাইরে, ওগুলোর কোনো সীমা নেই। দুই, শেয়ার করে বাড়তি জায়গা পাওয়ার একটা ব্যবস্থা আছে, আর নিচের তিনটে স্তরের বিক্রেতাদের জন্য সেটাই কিছু সুবিধা খোলার একমাত্র পথ। সীমা ফুরোলে যে বার্তাটা আসে সেখানে এই তিনটে পথই বলে দেওয়া থাকে।
মজুতের সীমা আলাদা, আর সেটা তোলার সময় ধরা হয়
তালিকার সংখ্যা আর মজুতের সংখ্যা দুটো আলাদা হিসাব। মজুতের সীমা তালিকা বানানোর সময় দেখা হয় না, দেখা হয় যখন আপনি সারি সারি তথ্য তুলতে যান।
প্রতিটা পণ্যের জন্য একটা সীমা, আর গোটা দোকানের জন্য আরেকটা। শুরুর স্তরে পণ্যপ্রতি দশ হাজার আর দোকানে পঞ্চাশ হাজার, আর ওপরের স্তরে দুটোই অনেক বেড়ে যায়। মনে রাখার বিষয় একটাই, এই হিসাবে কেবল বিক্রি হয়নি এমন সারিগুলো ধরা হয়। বিক্রি হয়ে যাওয়া মাল জায়গা দখল করে থাকে না।
ওয়ারেন্টি একটা বাধ্যতামূলক প্রতিশ্রুতি
প্রতিটা তালিকায় একটা ওয়ারেন্টির সময় থাকে, আর নতুন বিক্রেতার ক্ষেত্রে ফর্মটা চার ঘণ্টার কম মান নেবে না। আপনার জন্য এটাই কার্যকর নিয়ম।
কিন্তু এটা সাইটের সর্বজনীন মেঝে নয়, আর এই কথাটা আগে এখানে ভুল লেখা ছিল। ওই পরীক্ষাটা একটা শ্রেণির বিক্রেতার ক্ষেত্রে একেবারেই চলে না, আর ওটা কেবল লেখার মুহূর্তে চলে, আগে থেকে বসানো তালিকার ওপরে নয়। ফল হিসেবে সাইটে এই মুহূর্তে ক্রেতার সামনে থাকা তালিকার তিনটের একটায় ওয়ারেন্টি চার ঘণ্টারও কম।
এটা জেনে রাখা আপনার নিজের কাজে লাগে, কারণ প্রতিদ্বন্দ্বীর তালিকায় খুব ছোট সময় দেখলে ধরে নেবেন না তিনি নিয়ম ভেঙেছেন। তিনি ভাঙেননি, ওই মেঝেটা তাঁর ওপরে নেই।
এই সময়টা গোনা শুরু হয় ক্রেতা জিনিসটা হাতে পাওয়ার পর থেকে, টাকা দেওয়ার পর থেকে নয়। এর ভেতরেই ক্রেতা সমস্যা জানাতে পারেন, আর সময়টা ফুরোলে আর পারেন না। তাই খুব ছোট সময় বসিয়ে দিলে ক্রেতার দিক থেকে আপত্তি কমে ঠিকই, কিন্তু তালিকাটা তুলনায় দুর্বল দেখায়, কারণ ক্রেতারা এই সংখ্যাটা মিলিয়ে দেখেন।
দোকানের সেটিংসে একটা সাধারণ ওয়ারেন্টি বসিয়ে রাখলে নতুন প্রতিটা তালিকায় সেটাই বসে যায়। একবার ঠিক করে নিলে প্রতিবার ভাবতে হয় না।
বিবরণে যোগাযোগের তথ্য লিখবেন না
নাম, বিবরণ আর উপ-পণ্যের লেখা, সবই নিয়মিত পরীক্ষা করা হয় যাতে কোনো টেলিগ্রামের নাম, নম্বর বা বাইরের যোগাযোগের ঠিকানা না থাকে। দিনে কয়েকশো তালিকা এভাবে দেখা হয়।
ধরা পড়লে তালিকাটা সঙ্গে সঙ্গে বন্ধ হয় না, চিহ্নিত হয়ে প্রশাসনের তালিকায় যায়। কিন্তু ওখান থেকে তালিকা বন্ধ হয়ে যেতে পারে। ক্রেতাকে সাইটের বাইরে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা এখানে সবচেয়ে দ্রুত বিক্রির অধিকার হারানোর উপায়।
একই সঙ্গে বিভাগও নিজে থেকে ঠিক করে দেওয়া হয়। ভুল বিভাগে বসালে পরে সরিয়ে নেওয়া হতে পারে, তাই শুরুতেই ঠিক জায়গায় বসানোই ভালো।
দাম বসানোর সময় একটা হিসাব মাথায় রাখুন
বিক্রির ওপর কোনো কমিশন কাটা হয় না, আর এটাই দারাজের সঙ্গে সবচেয়ে বড় ফারাক। তবে টাকা তোলার সময় একটা দশ শতাংশের লাইন কাটা যায়, আর সেটা ক্রেতাদের কুপন আর জমা দেওয়ার বোনাসের খরচ। অর্থাৎ টাকাটা প্ল্যাটফর্মের ঘরে যায় না, ক্রেতার দিকেই ফিরে যায়।
এ ছাড়া অনুমোদিত পুনর্বিক্রেতারা আপনার তালিকা থেকে কিনলে তাঁদের একটা ছাড় দিতে হয়, আর সেটাও আপনার দিক থেকেই যায়। শুরুতে সেটা পাঁচ শতাংশে বসানো থাকে, আর দোকানের সেটিংস থেকে শূন্যে নামিয়ে দেওয়া যায়। বন্ধ করলে ওই খরচটা বাঁচে, কিন্তু ওই পথে আসা বিক্রিও কমে।
টাকা কবে হাতে আসবে সেটা টাকা তোলার পাতায় আছে, আর স্তরগুলো কী কী খোলে সেটা বিক্রেতার স্তরের পাতায়।
Frequently Asked Questions
প্রায় সব ক্ষেত্রেই বিক্রেতার একাউন্টটা এখনও অনুমোদিত হয়নি। অনুমোদন না হওয়া পর্যন্ত পণ্য বানানোর পথটাই বন্ধ থাকে, আর পর্দায় সেটা কারিগরি ত্রুটির মতো দেখায়। অনুমোদন মানুষ দেখে দেন, তাই একটু সময় লাগে।
ওগুলো মূল পণ্যে নেই, আছে উপ-পণ্যে। অন্তত একটা উপ-পণ্য বানাতে হবে, আর তার নিজের নাম, দাম আর মজুতের সংখ্যা দিতে হবে। এটা না করলে ফর্ম জমাই হয় না, আর এখানেই সবচেয়ে বেশি মানুষ আটকান।
বর্তমান ব্যবস্থায় নতুন তালিকা সঙ্গে সঙ্গে চালু হয়ে যায়। সাইটে থাকা প্রায় পঁয়ত্রিশ হাজার তালিকার কার্যত সবগুলোই অনুমোদিত, বাতিল হয়েছে হাতে গোনা। আসল যাচাইটা একাউন্টের স্তরে হয়েছে, তালিকার স্তরে নয়।
আপনার জন্য চার ঘণ্টা, অর্থাৎ ফর্মটা এর কম মান নেবে না। তবে এটা সাইটের সর্বজনীন মেঝে নয়: পরীক্ষাটা একটা শ্রেণির বিক্রেতার ক্ষেত্রে চলে না আর কেবল লেখার মুহূর্তে চলে, তাই ক্রেতার সামনে থাকা তালিকার তিনটের একটায় ওয়ারেন্টি চার ঘণ্টারও কম। সময়টা গোনা শুরু হয় ক্রেতা জিনিসটা হাতে পাওয়ার পর থেকে, টাকা দেওয়ার পর থেকে নয়। দোকানের সেটিংসে একটা সাধারণ মান বসিয়ে রাখলে প্রতিটা নতুন তালিকায় সেটাই বসে যায়।
তিনটে পথ আছে। বিক্রি বাড়িয়ে পরের স্তরে ওঠা, তাতে আরও একশো যোগ হয়। শেয়ার করে বাড়তি জায়গা পাওয়া। আর সাপোর্টের সঙ্গে কথা বলা। সোশ্যাল মিডিয়ার সেবাগুলো এই হিসাবের বাইরে, ওগুলোর কোনো সীমা নেই।
না। নাম, বিবরণ আর উপ-পণ্যের লেখা নিয়মিত পরীক্ষা করা হয়, আর যোগাযোগের তথ্য পাওয়া গেলে তালিকাটা চিহ্নিত হয়ে প্রশাসনের কাছে যায়। ওখান থেকে তালিকা বন্ধ হয়ে যেতে পারে।

Sarah Johnson
ডিজিটাল মার্কেটিং বিশেষজ্ঞ, সামাজিক মাধ্যম কৌশলে ১০+ বছরের অভিজ্ঞতা। কার্যকরী মার্কেটিং কৌশলের মাধ্যমে ব্যবসার অনলাইন উপস্থিতি বাড়াতে সাহায্য করতে আগ্রহী।


