অর্ডার কোথায় দেখবেন, আর দুটো অবস্থা কেন আলাদা
এখানে কোনো ট্র্যাকিং নম্বর নেই, কারণ কেউ কিছু বয়ে আনছে না। যা আছে সেটা দুটো আলাদা অবস্থা, আর সেই দুটো না মেলালে সমস্যাটা কীসের তা বোঝা যায় না।
Sarah Johnson
বাংলায় "অর্ডার ট্র্যাক" লিখে খুঁজলে যা আসে তার সবগুলোই হাতে ধরা জিনিসের দোকান, আর প্রায় প্রতিটাতেই একটা ট্র্যাকিং নম্বরের কথা। এখানে সেরকম কিছু নেই, আর সেটা কোনো ঘাটতি নয়। কেউ কিছু বয়ে আনছে না, তাই পথের খবর নেওয়ারও কিছু নেই।
অর্ডারগুলো কোথায় আছে
ঢোকার পর ড্যাশবোর্ডের বাঁ দিকে My Orders নামের জায়গাটা। ওখানে আপনার সব অর্ডারের তালিকা, আর যেকোনো একটায় চাপ দিলে তার বিস্তারিত। মনে রাখবেন, ড্যাশবোর্ড আর দোকানের পাতাগুলো আলাদা ঠিকানায় থাকে, তাই দোকান থেকে সরাসরি ওখানে যাওয়া যায় না, ঢোকার পর ড্যাশবোর্ড হয়ে যেতে হয়।
লগইন না করে কিনে থাকলে অর্ডারটা একটা বিশেষ লিংকের ভরসায় থাকে, যেটা টাকা দেওয়ার পরের ধন্যবাদ জানানোর পাতায় ছিল। ওই লিংক হারিয়ে গেলে ঘাবড়ানোর কিছু নেই। টাকা মিটে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আপনার দেওয়া মেইলের নামে একটা একাউন্ট তৈরি হয়ে গেছে, তাই ওই মেইলে কোড চেয়ে ঢুকলেই অর্ডারটা সেখানে পাবেন।
দুটো অবস্থা, আর সেটাই আসল কথা
এই পাতার সবচেয়ে দরকারি লাইনটা এটাই। প্রতিটা অর্ডারের সঙ্গে দুটো আলাদা অবস্থা লেখা থাকে, একটা টাকার আর একটা কাজের। মানুষ প্রায়ই একটাকে অন্যটা ভেবে ভুল করেন।
টাকার অবস্থা পাঁচ রকম হতে পারে: টাকা দেওয়া হয়নি, দেওয়া হয়েছে, ব্যর্থ হয়েছে, ফেরত দেওয়া হয়েছে, বা আংশিক।
কাজের অবস্থা হতে পারে: অপেক্ষায়, চলছে, শেষ, বাতিল, বা ত্রুটি।
জোড়াগুলো মিলিয়ে পড়লে সমস্যাটা কীসের সেটা সঙ্গে সঙ্গে বোঝা যায়:
- টাকা দেওয়া হয়নি আর অপেক্ষায়: টাকাই পৌঁছায়নি। গেটওয়ে থেকে ফিরে আসার পথে কিছু আটকেছে। এখানে বিক্রেতার কিছু করার নেই। চব্বিশ ঘণ্টার বেশি এভাবে পড়ে থাকলে অর্ডারটা এমনিতেই মুছে যায়।
- টাকা দেওয়া হয়েছে আর চলছে: টাকা পৌঁছেছে, জিনিসটা এখনও আসেনি। এটাই সেই অবস্থা যেখানে চব্বিশ ঘণ্টার ঘড়িটা আপনার পক্ষে চলছে।
- টাকা দেওয়া হয়েছে আর শেষ: জিনিসটা এসে গেছে। এখন দেখে নেওয়ার পালা।
- আংশিক: অর্ডারের একটা অংশের টাকা ফেরত গেছে। বাকিটার হিসাব আলাদা চলে।
মোট অর্ডারের ছবিটা এই: বেশির ভাগই শেষ হয়ে গেছে, আর তেরোটার মধ্যে একটার মতো ফেরত হয়েছে। অপেক্ষায় বা চলছে অবস্থায় আটকে থাকা অর্ডার সব মিলিয়ে হাজারেরও কম, অর্থাৎ শতকরা এক ভাগের নিচে।
একটা জায়গায় লেখাটা ইংরেজিতেই থেকে যায়
টাকা ফেরত হয়ে যাওয়া অর্ডারে কাজের অবস্থার ঘরটা মাঝে মাঝে অনুবাদ না হয়ে ইংরেজি শব্দটাই দেখায়। এটা কোনো ত্রুটি নয় আর আপনার অর্ডারের কিছু হয়নি, শুধু ওই একটা অবস্থার জন্য আলাদা অনুবাদ বসানো নেই। পাশের টাকার ঘরটা দেখলেই আসল খবরটা পাবেন।
ঘড়িটা এখনই চলছে
এটা না জানলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়। আপনি অর্ডারটা দেখছেন কি দেখছেন না, তার সঙ্গে সম্পর্ক নেই, একটা ঘড়ি চলতেই থাকে। নির্দিষ্ট সময় পেরিয়ে গেলে ব্যবস্থাটা নিজে থেকেই অর্ডারটা কনফার্ম করে দেয়, আর তখন টাকা বিক্রেতার দিকে চলে যায়।
দুটো কথা এর সঙ্গে জুড়ে আছে, আর দুটোই সহজে চোখ এড়ায়:
- ঘড়ি চালু হয় অর্ডার করার মুহূর্ত থেকে, জিনিস হাতে পাওয়ার মুহূর্ত থেকে নয়। অর্থাৎ জিনিসটা পেতে যদি আট ঘণ্টা লাগে, ওই আট ঘণ্টা আপনার দেখে নেওয়ার সময় থেকেই কাটা যায়।
- সময়টা বিক্রেতার স্তরের ওপর নির্ভর করে, তিন দিন থেকে এক দিন। যিনি বেশি বিক্রি করেন তাঁর ক্ষেত্রে সময়টা কম।
বাস্তবে কী হয়? কনফার্ম হওয়া অর্ডারের মধ্যে সাতটার মধ্যে ছয়টাই এই ঘড়ির হিসাবে হয়েছে, ক্রেতা নিজে চেপে নয়। অর্থাৎ বেশির ভাগ মানুষ কনফার্মের ঘরটা কখনও ছোঁনই না, আর তাতেও তাঁদের কিছু হারায় না। কিন্তু যাঁর অর্ডারে গোলমাল আছে, তাঁর জন্য এই ঘড়িটাই সবচেয়ে বড় ঝুঁকি।
ঘড়িটা থামানোর একটাই উপায়
ওই অর্ডারে একটা টিকিট খোলা থাকলে ব্যবস্থাটা আর নিজে থেকে কনফার্ম করে না। আপত্তি জানানো থাকলেও করে না।
এটা কাজে লাগানোর মতো জিনিস। সন্দেহ হচ্ছে অথচ এখনই বসে পুরো ব্যাপারটা দেখার সময় নেই, তখন একটা টিকিট খুলে রাখুন। ঘড়ি থেমে যাবে, আর আপনি সময় নিয়ে দেখতে পারবেন। শুধু মনে রাখবেন, টিকিট খোলা থাকলে আপনি নিজেও কনফার্ম করতে পারবেন না, আর সেটা ইচ্ছাকৃত।
কনফার্ম করার সিদ্ধান্তটা
দেখা হয়ে গেছে আর সব ঠিক আছে, তখন কনফার্ম করুন। এতে দুটো জিনিস হয়। টাকা বিক্রেতার দিকে ছাড়া পায়, আর রিভিউ লেখার ঘরটা খোলে।
আর ঠিক না থাকলে কনফার্ম করবেন না। কনফার্ম করে ফেললে আপত্তি জানানোর বোতামটা আর দেখা যায় না। যা করার আছে সেটা আগে করে নিন।
সমস্যা হলে আপত্তি জানানোর নিয়ম দেখুন। কীভাবে আর কত সময়ে জিনিস আসে সেটা এই পাতায়, আর সব রকম সাহায্যের পথ এখানে।



