একাউন্ট নিরাপদ রাখার উপায়, এই সাইটের বাস্তব হিসাবে
এখানে বেশির ভাগ মানুষের কোনো পাসওয়ার্ডই নেই, তাই শক্ত পাসওয়ার্ডের পরামর্শ এখানে অর্থহীন। যা আসল সেটা হলো যে মেইলে কোড আসে সেটা, আর যে আইডিগুলো আপনি কিনছেন সেগুলো।
Michael Chen
নিরাপত্তার পরামর্শ প্রায় সবসময় শুরু হয় শক্ত পাসওয়ার্ড দিয়ে। এই সাইটে সেটা প্রায় অর্থহীন, কারণ এখানকার তেইশ জনের মধ্যে বাইশ জনেরই কোনো পাসওয়ার্ড নেই। মানুষ ঢোকেন গুগল দিয়ে, নয়তো মেইলে আসা কোড দিয়ে।
তাহলে আসল ঝুঁকি কোথায়? দুটো জায়গায়, আর দুটোই এই সাইটের বাইরে।
যে মেইলে কোড আসে, সেটাই আপনার আসল চাবি
এখানে ঢোকার পথ যদি মেইলে আসা কোড হয়, তাহলে আপনার একাউন্টের নিরাপত্তা পুরোপুরি ওই মেইলের নিরাপত্তার সমান, তার চেয়ে এক কণাও বেশি নয়। কেউ ওই মেইলে ঢুকতে পারলে সে এখানেও ঢুকতে পারে, আর এখানকার কোনো পাসওয়ার্ড তাকে আটকাবে না, কারণ পাসওয়ার্ডই নেই।
একই কথা গুগল দিয়ে ঢোকার ক্ষেত্রেও। আপনার গুগলের একাউন্টই এখানে আপনার পরিচয়।
তাই কাজটা এখানে নয়, ওখানে। যে মেইলের ঠিকানাটা এখানে ব্যবহার করছেন সেটায় দুই ধাপের যাচাই চালু আছে কি না দেখুন। না থাকলে আজই চালু করুন। এটাই এই গোটা পাতার সবচেয়ে দরকারি এক লাইন।
বাংলায় টু ফ্যাক্টর নিয়ে যা খোঁজা হয় তার মধ্যে দুটো প্রশ্ন সবচেয়ে বেশি: চালু করার নিয়ম কী, আর কোড না এলে কী করব। দ্বিতীয়টার সহজ উত্তর হলো, চালু করার সময়ই যে ব্যাকআপ কোডগুলো দেওয়া হয় সেগুলো আলাদা করে কোথাও লিখে রাখা। ফোন হারালে ওগুলোই একমাত্র পথ।
এই সাইটে আলাদা কোনো দুই ধাপের যাচাই নেই
এটা পরিষ্কার করে বলা দরকার, কারণ অনেকে সেটিংসে খুঁজতে যান আর পান না। HstockPlus এর নিজের একাউন্টে দুই ধাপের যাচাই বসানোর কোনো ঘর নেই।
এটাকে ঘাটতি না ভেবে বরং এভাবে ভাবুন: এখানকার সুরক্ষা আসলে গুগল বা টেলিগ্রামের সুরক্ষার ওপর বসানো। সেখানে যা করবেন সেটাই এখানে কাজ করবে।
বিক্রেতাদের জন্য একটা বাড়তি কথা আছে। টাকা তুলতে হলে টেলিগ্রাম যুক্ত করা বাধ্যতামূলক, আর সেটা মানে আপনার টেলিগ্রামের একাউন্টটা এখন আপনার টাকার সঙ্গে জড়িয়ে গেছে। ওটায় দুই ধাপের যাচাই থাকা এখানে সুবিধা নয়, প্রয়োজন।
দ্বিতীয় ঝুঁকি: যে আইডিগুলো আপনি কিনছেন
এখানে অনেকেই আইডি কেনেন, আর ওই কেনা আইডিগুলোই বেশির ভাগ ক্ষতির উৎস, এই সাইটের একাউন্ট নয়।
কারণটা সহজ। কেনা আইডির আগের মালিক ছিলেন কেউ একজন। তাঁর হাতে ফেরত নেওয়ার সূত্র থেকে থাকতে পারে, আর সেটা সাধারণত পুরোনো ফেরার মেইল বা পুরোনো দুই ধাপের ব্যবস্থা। গোপন শব্দ বদলানো এই সমস্যার সমাধান নয়, কারণ ফেরার মেইল দিয়ে গোপন শব্দ আবার বদলে ফেলা যায়।
হাতে পাওয়ার পর ক্রমটা এই, আর ক্রমটাই আসল:
- আগে ফেরার মেইলের ঠিকানা নিজের একটায় বদলান। এটাই সবচেয়ে জরুরি ধাপ।
- তারপর দুই ধাপের যাচাই বন্ধ করে নিজের ফোনে নতুন করে বসান। আগেরটা রেখে দেওয়া মানে আগের মালিকের কাছে কোড যেতে থাকা।
- তারপর গোপন শব্দ। এটা শেষে, কারণ আগের দুটো ছাড়া এটা একা কিছু করে না।
- শেষে চালু থাকা অন্য যন্ত্রগুলো দেখে নিয়ে অচেনাগুলো বের করে দিন।
আর এই পুরো কাজটা করতে হবে ওয়ারেন্টির সময়ের মধ্যে। কারণ এই ধাপগুলোতেই ধরা পড়ে যে আইডিটা আসলে কাজ করছে কি না, আর সময় পেরিয়ে গেলে আর কিছু বলার থাকে না। অনেক তালিকায় সময়টা বারো ঘণ্টা।
নকল সাইট আর নকল বার্তা চেনা
বাংলায় "স্ক্যাম ওয়েবসাইট কিভাবে চেনা যায়" প্রশ্নটা যাঁরা করেন, তাঁদের জন্য এখানকার নির্দিষ্ট ঝুঁকিটা হলো নামের মিল। এই নামের কাছাকাছি আরও কয়েকটা ঠিকানা আছে, আর কেউ লিংক পাঠালে ওগুলোর একটা হতে পারে।
দুটো নিয়ম মেনে চললে এই ঝুঁকিটা প্রায় শূন্যে নামে:
- ঠিকানাটা নিজে টাইপ করুন বা নিজের বুকমার্ক থেকে খুলুন, কারও পাঠানো লিংক থেকে নয়। বিশেষ করে টাকা দেওয়ার আগে।
- মেইলে বা বার্তায় আসা লিংক থেকে ঢোকার পাতায় গিয়ে কোড বসাবেন না। আমরা কখনও লিংকে চাপ দিয়ে ঢুকতে বলি না।
আর একটা কথা যেটা সবসময় সত্যি: আমরা কখনও আপনার গোপন শব্দ, মেইলের কোড বা দুই ধাপের কোড চাই না। কোনো বার্তায়, কোনো চ্যাটে, কোনো সামাজিক মাধ্যমে নয়। কেউ চাইলে ধরে নিন সে আমরা নই।
বিক্রেতা আপনাকে বাইরে ডাকলে
এটা এই সাইটে সবচেয়ে চেনা ফাঁদ, আর এটা নিয়ম ভাঙাও বটে।
বিক্রেতারা তালিকার লেখায় নিজের টেলিগ্রামের নাম বা নম্বর দিতে পারেন না, আর সেটা নিয়মিত পরীক্ষা করা হয়। তবু কেউ কেউ চেষ্টা করেন, আর যুক্তিটা প্রায়ই লোভনীয়: বাইরে সস্তা পড়বে।
বাইরে সস্তা পড়ার কারণ একটাই, মাঝখানে আর কেউ টাকা ধরে রাখছে না। অর্থাৎ যা সস্তা হচ্ছে সেটা জিনিসের দাম নয়, সেটা আপনার সুরক্ষা। বাইরে গেলে অর্ডার নেই, ওয়ারেন্টি নেই, আপত্তি জানানোর জায়গা নেই, আর টাকা ফেরত পাওয়ার কোনো পথ নেই।
কেউ ডাকলে সেটা জানানোর ব্যবস্থা আছে, আর সেটার জন্য abuse@hstockplus.com ঠিকানাটা আছে।
ছোট কয়েকটা অভ্যাস
- লগইন না করে কিনলে যে গোপন শব্দটা ধন্যবাদের পাতায় দেখানো হয়, সেটা আপনার বাছা নয়, ব্যবস্থার তৈরি। ওটা দিয়ে একবার ঢুকে নিজের একটা বসিয়ে নিন, নয়তো মেইলের কোডেই চলুন।
- নিজের পরিচয় দেওয়ার তথ্য কারও সঙ্গে ভাগ করবেন না, এমনকি সাহায্য চাওয়ার সময়ও। অর্ডার নম্বর আর পর্দার ছবি দিয়েই সব কাজ হয়।
- শেয়ার করা যন্ত্র থেকে ঢুকলে কাজ শেষে বেরিয়ে আসুন। মেইলের ঘরটা খোলা রেখে গেলে ওখান থেকে কোড পাওয়া যায়।
- যে মেইলের ঠিকানাটা এখানে ব্যবহার করছেন সেটা যেন সচল থাকে। ওটা বন্ধ হয়ে গেলে বা হাতছাড়া হলে এখানে ঢোকার পথও বন্ধ।
ঢোকার পথগুলো নিয়ে বিস্তারিত এই পাতায়, আর সমস্যা হলে কোথায় যাবেন সেটা এখানে।


