বিক্রেতার পাঁচটা স্তর, আর প্রতিটা আসলে কী বদলায়
স্তর বাড়লে "বেশি বিশ্বাস" বা "ভালো র্যাঙ্কিং" পাওয়া যায় না। যা বদলায় সেটা চারটে সংখ্যা আর দুটো সুইচ, আর সেগুলো মেপে দেখা যায়।
Michael Chen
বিক্রেতার স্তর বলতে বাংলাদেশ থেকে যা খোঁজা হয় তার প্রায় পুরোটাই ফাইভারের কথা মাথায় রেখে। ওখানে স্তর মানে ব্যাজ, আর ব্যাজ মানে ক্রেতার চোখে বিশ্বাস। এখানে জিনিসটা আলাদা, আর ফারাকটা কাজের।
এখানে স্তর ব্যাজ নয়, স্তর হলো কতগুলো নির্দিষ্ট সীমা। প্রতিটা স্তরে ঠিক চারটে সংখ্যা বদলায় আর দুটো সুইচ খোলে। এর বাইরে কিছু বদলায় না, আর সেটা জেনে রাখাই সবচেয়ে দরকারি।
স্তর কীসের ওপর ঠিক হয়
গত ৩৬৫ দিনে আপনার কত টাকার বিক্রি হয়েছে, সেটার ওপর। ফেরত দেওয়া টাকা বাদ যায়। অর্থাৎ এটা একটা চলমান হিসাব, একবার উঠে গেলে চিরকাল থেকে যাওয়ার জিনিস নয়। বিক্রি কমলে স্তরও নামে।
পাঁচটা ধাপ:
- প্রথম স্তর: শুরুর জায়গা, কোনো শর্ত নেই।
- দ্বিতীয় স্তর: এক হাজার ডলারের বিক্রি।
- তৃতীয় স্তর: দশ হাজার।
- চতুর্থ স্তর: কুড়ি হাজার।
- পঞ্চম স্তর: তিরিশ হাজার।
বাস্তবের ছবিটা বলে দেওয়া ভালো, কারণ এতে লক্ষ্যটা ঠিকভাবে বসে। এখানে দেড় হাজারের বেশি বিক্রেতার একাউন্ট আছে, কিন্তু কোনো বিক্রি হয়েছে এমন একাউন্ট তিনশোর কিছু বেশি। আর সব মিলিয়ে যত টাকার বিক্রি হয়েছে সেই হিসাবে প্রথম ধাপটা পেরিয়েছেন পঞ্চাশেরও কম জন। অর্থাৎ দ্বিতীয় স্তরে ওঠাটাই এখানে বড় ঘটনা, পঞ্চম স্তর নয়।
এক: টাকা কত দিন আটকে থাকে
এটাই সবচেয়ে বেশি কাজে লাগে। ক্রেতা নিজে অর্ডার কনফার্ম না করলে একটা সময় পরে ব্যবস্থাটা নিজে থেকে করে দেয়, আর তার আগে আপনার টাকা তোলার উপযুক্ত হয় না।
প্রথম আর দ্বিতীয় স্তরে সেই অপেক্ষা তিন দিন। তৃতীয় আর চতুর্থ স্তরে দুই দিন। পঞ্চম স্তরে এক দিন।
ঘড়িটা অর্ডার হওয়ার মুহূর্ত থেকে চলে, জিনিস পৌঁছানোর মুহূর্ত থেকে নয়। আর ক্রেতা আগেই কনফার্ম করে দিলে অপেক্ষা করতে হয় না, টাকা তখনই এগোয়। অর্থাৎ যে বিক্রেতা দ্রুত আর ঠিকঠাক দেন, তাঁর টাকা এমনিতেই আগে আসে, স্তর যাই হোক।
দুই: কতগুলো তালিকা রাখতে পারবেন
প্রথম স্তরে একশো, আর প্রতি স্তরে আরও একশো করে যোগ হয়। পঞ্চম স্তরে পাঁচশো।
দুটো ব্যতিক্রম আছে। সোশ্যাল মিডিয়ার সেবা এই গণনায় ঢোকেই না, তাই ওদিকে কোনো ছাদ নেই। আর শেয়ার করে বাড়তি জায়গা পাওয়া যায়, প্রতি অনুমোদিত শেয়ারে কুড়িটা করে, আর রিভিউয়ের শেয়ারে তিরিশটা। সপ্তাহে তিনটের বেশি জমা দেওয়া যায় না, আর অব্যবহৃত সুযোগ পরের সপ্তাহে যায় না।
শেয়ারগুলো সাত দিন পরে আবার দেখা হয়। ততক্ষণে লিংকটা মুছে গেলে বা লুকিয়ে ফেললে বাড়তি জায়গাটা ফিরিয়ে নেওয়া হয়, আর এক সপ্তাহ সময় দিয়ে অতিরিক্ত তালিকাগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়। জমা পড়া শেয়ারের প্রায় অর্ধেকই নাকচ হয়েছে, তাই এটাকে সহজ পথ ভাবার কারণ নেই।
তিন আর চার: মজুতের দুটো সীমা
একটা প্রতিটা পণ্যের জন্য, আরেকটা গোটা দোকানের জন্য। শুরুর স্তরে পণ্যপ্রতি দশ হাজার আর দোকানে পঞ্চাশ হাজার। ধাপে ধাপে বাড়ে, আর চতুর্থ স্তরে গিয়ে দাঁড়ায় পণ্যপ্রতি এক লাখ আর দোকানে পাঁচ লাখ।
পঞ্চম স্তরে একটা জিনিস লক্ষ করার মতো। পণ্যপ্রতি সীমা দ্বিগুণ হয়ে দুই লাখ হয়, কিন্তু দোকানের সীমা পাঁচ লাখেই থেকে যায়, বাড়ে না। অর্থাৎ সবচেয়ে ওপরের স্তরের সুবিধা হলো একটা তালিকায় অনেক বেশি রাখা যায়, গোটা দোকানে নয়।
এই হিসাবে কেবল বিক্রি হয়নি এমন সারিগুলো ধরা হয়। বিক্রি হয়ে যাওয়া মাল জায়গা দখল করে না। আর সীমাটা তালিকা বানানোর সময় দেখা হয় না, দেখা হয় মাল তোলার সময়।
প্রথম সুইচ: আপত্তির জরিমানা
ক্রেতা কোনো অর্ডারে আপত্তি জানালে বিক্রেতার দিকে একটা ছোট জরিমানা বসে, ওই অর্ডারের আয়ের এক শতাংশ।
তৃতীয় স্তর থেকে এটা মকুব। এটা টাকার অঙ্কে বড় নয়, কিন্তু এটাই একমাত্র জায়গা যেখানে স্তর সরাসরি ঝুঁকি কমায়। যিনি অনেক অর্ডার সামলান তাঁর কাছে তৃতীয় স্তরে ওঠার সবচেয়ে বড় কারণ এটাই।
দ্বিতীয় সুইচ: প্রচারের সুযোগ
দুটো প্রচারের ব্যবস্থা আছে, তালিকার ওপরে জায়গা পাওয়া আর টেলিগ্রামের চ্যানেলে বিজ্ঞাপন। এগুলোর দরজা স্তর অনুযায়ী আলাদাভাবে খোলে।
নিচের তিনটে স্তরে এগুলো সরাসরি পাওয়া যায় না, শেয়ারের কর্মসূচি দিয়ে খুলে নিতে হয়। প্রথম অনুমোদিত শেয়ারে ওপরে জায়গা পাওয়ার একটা সুযোগ খোলে, আর দ্বিতীয়টায় একটা বিজ্ঞাপনের সুযোগ। ওপরে জায়গা পেলে সেটা সাত দিন থাকে।
চতুর্থ আর পঞ্চম স্তরে শেয়ার করার দরকার নেই, দুটোই এমনিতেই খোলা।
যা স্তরের সঙ্গে বদলায় না
এটা বলাও দরকার, কারণ প্রত্যাশাটা প্রায়ই ভুল জায়গায় থাকে।
- কমিশন বদলায় না, কারণ বিক্রির ওপর কোনো কমিশনই নেই। টাকা তোলার সময় যে দশ শতাংশ কাটা হয় সেটা প্রতিটা স্তরে সমান, আর সেটা ক্রেতাদের কুপন ও বোনাসের খরচে যায়।
- সাহায্যের গতি বদলায় না। কোথাও স্তর দেখে অগ্রাধিকার দেওয়ার কোনো ব্যবস্থা নেই।
- তালিকার ক্রম স্তর দেখে ঠিক হয় না। ওটা আলাদা হিসাবে চলে, আর সেখানে বিক্রি, রিভিউ, নতুনত্ব আর মজুত মিলিয়ে ওজন করা হয়। সেই হিসাবটা আলাদা পাতায় আছে।
নিজের বর্তমান স্তর আর সীমাগুলো সরাসরি দেখতে চাইলে বিক্রেতার পাতাগুলোর মধ্যে স্তরের তুলনার পাতাটা খুলুন। টাকা কখন তোলা যাবে সেটা এই পাতায়।
Frequently Asked Questions
না। হিসাবটা গত ৩৬৫ দিনের বিক্রির ওপর, আর সেটা চলমান। বিক্রি কমলে স্তরও নামে, আর সঙ্গে সীমাগুলোও নেমে আসে। ফেরত দেওয়া টাকা এই হিসাব থেকে বাদ যায়।
এক বছরে এক হাজার ডলারের বিক্রি। এখানে দেড় হাজারের বেশি বিক্রেতার একাউন্ট আছে, কিন্তু সব মিলিয়ে যত বিক্রি হয়েছে সেই হিসাবে এই ধাপটা পেরিয়েছেন পঞ্চাশেরও কম জন। তাই এটাই এখানকার আসল লক্ষ্য, ওপরের স্তরগুলো নয়।
সরাসরি নয়। তালিকার ক্রম স্তর দেখে ঠিক হয় না, ওটা বিক্রি, রিভিউ, নতুনত্ব আর মজুত মিলিয়ে আলাদা হিসাবে হয়। স্তর যা দেয় সেটা হলো বেশি তালিকা, বেশি মজুত, কম অপেক্ষা আর দুটো সুইচ।
আপত্তির জরিমানা মকুব হয়ে যায়। ক্রেতা আপত্তি জানালে বিক্রেতার দিকে ওই অর্ডারের আয়ের এক শতাংশ কাটা যায়, আর তৃতীয় স্তর থেকে সেটা আর কাটা হয় না। অনেক অর্ডার সামলালে এটাই সবচেয়ে বড় কারণ।
প্রতি অনুমোদিত শেয়ারে কুড়িটা তালিকা, আর রিভিউয়ের শেয়ারে তিরিশটা। সপ্তাহে তিনটের বেশি জমা দেওয়া যায় না আর অব্যবহৃত সুযোগ পরের সপ্তাহে যায় না। জমা পড়া শেয়ারের প্রায় অর্ধেকই নাকচ হয়েছে, আর সাত দিন পরে আবার দেখা হয়।
পণ্যপ্রতি সীমা দ্বিগুণ হয়ে দুই লাখ হয়, কিন্তু গোটা দোকানের সীমা পাঁচ লাখেই থেকে যায়, চতুর্থ স্তরের সমান। অর্থাৎ সুবিধাটা একটা তালিকায় অনেক বেশি রাখার, গোটা দোকানে নয়।

Michael Chen
প্রযুক্তি উৎসাহী এবং কন্টেন্ট কৌশলবিদ, যিনি Instagram ও Facebook মার্কেটিং-এ বিশেষজ্ঞ। নতুন ট্রেন্ড অন্বেষণ করতে এবং কমিউনিটির সাথে অন্তর্দৃষ্টি শেয়ার করতে ভালোবাসেন।


