HstockPlus এ অর্ডার করার নিয়ম, আর ঠকা এড়ানোর ধাপ
বাংলায় অনলাইনে কেনার প্রশ্ন আর ঠকে যাওয়ার প্রশ্ন আসলে একই প্রশ্ন। তাই এখানে টাকা দেওয়ার আগে কী দেখবেন সেটা আগে, আর টাকা দেওয়ার ধাপ তার পরে।
Michael Chen
বাংলায় অনলাইনে কেনাকাটা নিয়ে যা খোঁজা হয়, তার মধ্যে দুটো খোঁজ সরাসরি ঠকে যাওয়া নিয়ে। এখানে প্রশ্ন দুটো আলাদা নয়, একই প্রশ্ন। তাই এই পাতাটা টাকা দেওয়ার বোতাম দিয়ে শুরু হচ্ছে না, শুরু হচ্ছে টাকা দেওয়ার আগে কী দেখে নেবেন তা দিয়ে।
টাকা দেওয়ার আগে তালিকায় যা দেখবেন
একটা তালিকার পাতায় গোটা দশেক জিনিস লেখা থাকে, কিন্তু সিদ্ধান্তটা আসলে চারটের ওপর দাঁড়ায়:
- ওয়ারেন্টির সময়। এটাই সবচেয়ে বেশি অবহেলিত সংখ্যা। অনেক তালিকায় এটা দিনের হিসাবে নয়, ঘণ্টার হিসাবে। সময়টা ছোট মানে হাতে পাওয়ার পর দেখে নেওয়ার সময়টাও ছোট।
- জিনিসটা কী চেহারায় হাতে আসবে। কেবল "কাজ করে" লেখা থাকলে সেটা যথেষ্ট নয়, আপনার কাজে ওই চেহারাটা লাগবে কি না সেটা আগে ভাবুন।
- মজুত। শূন্য থাকলে বোতামটা এমনিতেই বন্ধ থাকে, তাই ওটা নিয়ে ভাবার দরকার নেই। কিন্তু পরিমাণ অনেক নিলে মজুত পেরিয়ে যেতে পারে।
- বিক্রেতা কে। নামটার ওপর চাপ দিলে ওই বিক্রেতার নিজের পাতা খোলে, আর সেখানে তাঁর অন্য তালিকা আর তাঁর ইতিহাস দেখা যায়।
আর একটা পরামর্শ তালিকার পাতাতেই লেখা থাকে, আর সেটা মেনে চলাই সবচেয়ে কাজে দেয়: বেশি পরিমাণে নেওয়ার আগে অল্প করে নিয়ে দেখে নিন। কারণ সব বিক্রেতা তিনটের বেশি কেনার ক্ষেত্রে ফেরত বা বদল দেন না।
পরিমাণ আর বাড়তি ঘর
পরিমাণ ঠিক করে Buy Now চাপলে চেকআউটের পাতায় পৌঁছে যাবেন। কিছু তালিকায় তার আগে বাড়তি কয়েকটা ঘর ভরতে হয়, আর সোশ্যাল মিডিয়ার সেবার ক্ষেত্রে প্রায়ই আপনার নিজের প্রোফাইলের ঠিকানা চাওয়া হয়।
এই ঘরগুলো ভরার সময় একটা ভুল বারবার হয়। ঘরের সংখ্যা আর পরিমাণের সংখ্যা মিলতে হয়। পাঁচটা নিচ্ছেন অথচ একটা ঠিকানা দিয়েছেন, এরকম হলে বাকিগুলো নিয়ে গোলমাল হয়। আর ভুল ঠিকানা দিলে সেবা ভুল জায়গায় চলে যায়, আর সেটা ফেরানো যায় না।
লগইন করে কিনুন, ছাড়টা এমনিতেই বাদ যায়
লগইন না করেও কেনা যায়, কেবল মেইলের ঠিকানা দিলেই হয়। কিন্তু হিসাবটা এরকম:
- লগইন না থাকলে সদস্যের ছাড় শূন্য ধরা হয়। একই জিনিস, বেশি দাম।
- সাইটের ব্যালেন্স দিয়ে টাকা দেওয়া যায় না। অথচ এখানকার প্রায় সব অর্ডারই ব্যালেন্স দিয়েই হয়।
- Binance বা USDT সরাসরি পাঠানোর পথটাও লগইন ছাড়া খোলে না। তালিকায় বিকল্পটা দেখা যেতে পারে, কিন্তু চাপলে ঢুকতে বলা হবে।
অর্থাৎ লগইন না করে কেনার একমাত্র সুবিধা হলো এক মিনিট সময় বাঁচে, আর তার বদলে ছাড় আর কয়েকটা পদ্ধতি হারাতে হয়।
কুপনের একটা ফাঁদ আছে
কুপন বসানোর ঘরটা মোট হিসাবের পাশে থাকে। কুপন বসালে দাম কমে, আর ঠিক এখানেই একটা জিনিস ঘটে যেটা অপ্রত্যাশিত।
প্রতিটা গেটওয়ের নিজের একটা সর্বনিম্ন অঙ্ক থাকে। কুপন বসানোর পরে মোট অঙ্কটা যদি ওই সর্বনিম্নের নিচে নেমে যায়, তাহলে ওই পদ্ধতিতে আর টাকা দেওয়া যায় না। সীমাটা কুপনের পরে মেলানো হয়, আগে নয়। লগইন করা থাকলে ব্যবস্থাটা তখন নিজে থেকেই ব্যালেন্সে সরিয়ে নেয় আর আপনাকে জানিয়ে দেয়। লগইন করা না থাকলে আপনাকে হয় কুপনটা তুলে নিতে হবে, নয় অন্য পদ্ধতি বাছতে হবে।
তাই ছোট অঙ্কের অর্ডারে কুপন বসানোর আগে ব্যালেন্সে কিছু টাকা রেখে দেওয়াই সহজ পথ।
টাকা দেওয়ার পর কতক্ষণে হাতে আসে
এটা নির্ভর করে জিনিসটা আগে থেকে জমা করা আছে কি না তার ওপর, আর ফারাকটা বিশাল।
যেখানে মাল আগে থেকেই তোলা আছে, সেখানে টাকা মেটার পর গড়ে এক সেকেন্ডের মধ্যেই কাজ শেষ। যেসব ক্ষেত্রে ব্যবস্থাটা বাইরে থেকে এনে দেয়, সেখানে গড়ে মিনিটখানেকের কম। আর যেখানে বিক্রেতাকে হাতে করে দিতে হয়, সেখানে অর্ধেক ক্ষেত্রে সেটাও প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই হয়ে যায়, কিন্তু দশটার মধ্যে একটায় আট ঘণ্টার বেশি লেগে যায়।
ওই লম্বা লেজটাই আসল কথা। দেরি হচ্ছে মানে গোলমাল হয়েছে, এমন নয়। কিন্তু চব্বিশ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলে সেটা আর অপেক্ষার বিষয় নয়, তখন আপনার টাকা ফেরত চাওয়ার অধিকার তৈরি হয়ে যায়।
কনফার্ম করাটা এখানে উল্টো জিনিস
বাংলায় "অর্ডার কনফার্ম" মানে সাধারণত দোকান আপনার অর্ডার গ্রহণ করেছে। এখানে ব্যাপারটা ঠিক উল্টো। কনফার্ম করেন আপনি, আর সেটা করার মানে আপনি বলছেন যে জিনিসটা ঠিক আছে।
এটা করলে দুটো জিনিস ঘটে। টাকা বিক্রেতার দিকে ছাড়া পেয়ে যায়, আর রিভিউ লেখার ঘরটা খুলে যায়। তাই দেখে নেওয়ার আগে কনফার্ম করবেন না। দেখেই বুঝেছেন গোলমাল আছে, তখন কনফার্ম নয়, বরং আপত্তি জানানোর পথে যান।
না করলে কী হয়? একটা সময় পরে ব্যবস্থাটা নিজে থেকেই কনফার্ম করে দেয়, আর সেই অপেক্ষার সময়টা বিক্রেতার স্তর অনুযায়ী তিন দিন থেকে এক দিন। একটা কথা এখানে ভুল বোঝা হয়: এই ঘড়িটা চালু হয় অর্ডার করার মুহূর্ত থেকে, জিনিস হাতে পাওয়ার মুহূর্ত থেকে নয়। তাই দেরিতে পেলে দেখে নেওয়ার সময়টা কমে আসে।
বাস্তবে বেশির ভাগ মানুষ কনফার্ম করেনই না। এ পর্যন্ত কনফার্ম হওয়া অর্ডারের মধ্যে ছয়টার মধ্যে পাঁচটাই ঘড়ির হিসাবে নিজে থেকে হয়েছে, ক্রেতার চাপে নয়। অর্থাৎ যিনি হাতে পাওয়ার পরদিন সময় করে দেখবেন ভাবছেন, তাঁর সময়টা ইতিমধ্যেই ফুরিয়ে যাচ্ছে।
ধাপে ধাপে কী ঘটে সেটা এই পাতায়, আর অবস্থা দেখার জায়গাটা এই পাতায় আছে। গোলমাল হলে আপত্তি জানানোর নিয়ম দেখুন।



