HstockPlus এ ব্যালেন্সে টাকা জমা দেওয়ার নিয়ম
বিকাশ বা নগদ এখানে চলে না, আর সেটা আগে জেনে রাখা ভালো। কোন পদ্ধতিতে টাকা সঙ্গে সঙ্গে ওঠে, কোনটায় মানুষ দেখে অনুমোদন দেন, আর কত টাকা জমা দিলে বোনাস যোগ হয়।
Michael Chen
এখানে বেশির ভাগ কেনাকাটা আসলে ব্যালেন্স থেকেই হয়। এ পর্যন্ত হওয়া প্রায় ছিয়ানব্বই হাজার অর্ডারের মধ্যে ছয়টার মধ্যে পাঁচটাই ব্যালেন্স দিয়ে মেটানো হয়েছে, সরাসরি কোনো গেটওয়ে দিয়ে নয়। তাই ব্যালেন্সে টাকা রাখা এখানে বাড়তি সুবিধা নয়, বরং স্বাভাবিক পথ।
আগে একটা কথা পরিষ্কার করে নেওয়া যাক
বিকাশ, নগদ বা রকেট দিয়ে এখানে টাকা জমা দেওয়া যায় না। বাংলাদেশে অনলাইনে টাকা দেওয়ার কথা উঠলেই এই নামগুলো আসে, তাই কথাটা শুরুতেই বলে দেওয়া ভালো, নইলে পাতার শেষে গিয়ে হতাশ হতে হয়।
যা আছে তার সবটাই আন্তর্জাতিক পথ, আর তার মধ্যে ক্রিপ্টোই সবচেয়ে সোজা। যাঁরা ইতিমধ্যে বাইনান্স বা কোনো ওয়ালেট ব্যবহার করেন, তাঁদের জন্য কাজটা কয়েক মিনিটের। যাঁরা করেন না, তাঁদের জন্য এটা একটা বাড়তি ধাপ, আর সেটা মেনে নিয়েই এগোতে হবে।
ব্যালেন্স কেন, সরাসরি কিনলে হয় না
সরাসরিও কেনা যায়। তবু ব্যালেন্স রাখার তিনটে কারণ আছে:
- প্রতিবার গেটওয়ের ঝামেলা থাকে না। একবার টাকা রেখে দিলে পরের অর্ডারগুলো এক চাপে হয়ে যায়, আর ছোট ছোট অর্ডারে গেটওয়ের সর্বনিম্ন সীমার সমস্যায় পড়তে হয় না।
- টাকা ফেরত এলে ওখানেই আসে। কোনো অর্ডারে গোলমাল হয়ে ফেরত পেলে সেটা ব্যালেন্সে জমা হয়, কার্ডে বা ওয়ালেটে ফিরে যায় না। ব্যালেন্স ইতিমধ্যেই আপনার কাজের জায়গা হলে ওটা সমস্যা নয়।
- বোনাস আছে। নিচে সেটা আলাদা করে বলা আছে।
মনে রাখবেন, ব্যালেন্স দিয়ে টাকা দিতে হলে লগইন করা বাধ্যতামূলক। লগইন না করে কিনলে ব্যালেন্সের ঘরটা দেখা যায় ঠিকই, কিন্তু কাজ করে না।
টাকা জমা দেওয়ার পথ
ঢোকার পর ব্যালেন্সের পাতায় গিয়ে টাকার অঙ্ক লিখুন, পদ্ধতি বাছুন, তারপর টাকা দেওয়ার পাতায় যান। সর্বনিম্ন এক ডলার, তার কম হয় না।
পদ্ধতিগুলো তিন রকম, আর কোনটা বাছলেন তার ওপরেই নির্ভর করে টাকা কখন ব্যালেন্সে উঠবে:
- Cryptomus: ক্রিপ্টোর সরাসরি পথ। টাকা এলে নিজে থেকেই ব্যালেন্সে উঠে যায়, কারও দেখার দরকার হয় না।
- Payeer.online: এটা একটা মধ্যস্থ, আর এর ভেতরে কয়েকটা আলাদা বিকল্প থাকে। তালিকায় সেগুলো আলাদা আলাদা সারি হিসেবেই দেখবেন, তাই যেটা আপনার জন্য চলে সেটাই বাছুন। এটাও নিজে থেকে জমা হয়।
- Binance বা USDT সরাসরি পাঠানো: এটা হাতে করা লেনদেন। টাকা পাঠানোর পর লেনদেনের নম্বরটা জমা দিতে হয়, আর তারপর মানুষ দেখে অনুমোদন দেন। পর্দায় সাফ লেখা থাকে যে পর্যালোচনার অপেক্ষায় আছে। তাই তাড়া থাকলে এটা বাছবেন না।
বাস্তবে কোনটা কতটা ব্যবহৃত হয় তার হিসাবও এই ছবিটাই দেখায়। সরাসরি গেটওয়ে দিয়ে হওয়া অর্ডারের মধ্যে Payeer সবচেয়ে বেশি, তারপর Cryptomus, আর হাতে করা পথটা তুলনায় অনেক কম।
বেশি জমা দিলে বোনাস যোগ হয়
এটা ইংরেজি পাতায় নেই, অথচ এটাই একবারে বেশি টাকা রাখার একমাত্র যুক্তিসঙ্গত কারণ।
দুশো ডলারের বেশি এক দফায় জমা দিলে দুই শতাংশ বোনাস যোগ হয়। এক হাজার ডলার ছাড়ালে সেটা তিন শতাংশ। বোনাসটা ব্যালেন্সেই জমা হয়, আলাদা করে কিছু চাইতে হয় না।
এর সঙ্গে ক্রেতার স্তরের ছাড় আলাদাভাবে কাজ করে। মোট কেনাকাটা বাড়লে ছাড়ের হার বাড়ে, আর সবচেয়ে ওপরের স্তরে গিয়ে সেটা চার শতাংশে পৌঁছায়। দুটো একসঙ্গে মিললে যিনি নিয়মিত কেনেন তাঁর খরচ লক্ষণীয়ভাবে কমে।
টাকা কেটেছে কিন্তু ব্যালেন্সে ওঠেনি
এই অভিযোগটা প্রায় সব ক্ষেত্রেই কোনো একটা কারণে পড়ে:
- হাতে করা পথে গিয়েছিলেন। Binance বা USDT সরাসরি পাঠালে অনুমোদনের অপেক্ষা করতে হয়। এটা সমস্যা নয়, এটাই নিয়ম।
- গেটওয়ে থেকে ফেরার পাতাটা বন্ধ করে দিয়েছেন। টাকা দিয়ে ফিরে আসার সময় ব্যালেন্সের পাতা নিজে থেকেই কয়েকবার মিলিয়ে দেখে। ওই পাতায় ফিরে না এলে দেরি হতে পারে।
- যে অঙ্ক পাঠিয়েছেন সেটা যা লিখেছিলেন তার সঙ্গে মেলেনি। ক্রিপ্টোতে নেটওয়ার্কের খরচ বাদ যায়, তাই ঠিক ততটাই পাঠান যতটা লেখা আছে।
যা জমা দিয়েছেন তার প্রমাণ রেখে দিন, বিশেষ করে লেনদেনের নম্বরটা। হাতে করা পথে ওটাই একমাত্র সূত্র।
বাংলাদেশ থেকে যাঁরা প্রথমবার করছেন
বাইনান্স বাংলাদেশে বৈধ কি না, এই প্রশ্নটা এখানে খুব বেশি খোঁজা হয়। এটা আমাদের বলার জায়গা নয়, আর এই পাতা সেই পরামর্শ দিচ্ছে না। যেটা বলা দরকার সেটা হলো, আমাদের দিক থেকে কোনো নির্দিষ্ট ওয়ালেট বা এক্সচেঞ্জ ব্যবহার করা বাধ্যতামূলক নয়। যে কোনো জায়গা থেকে পাঠানো যায়।
প্রথমবার হলে ছোট অঙ্ক দিয়ে দেখুন, এক ডলার হলেও চলে। পুরো পথটা একবার চোখে দেখে নেওয়ার পরে বড় অঙ্কে যান। তাড়াহুড়ো করে বড় অঙ্ক পাঠিয়ে ভুল নেটওয়ার্কে চলে গেলে সেটা ফেরানো কঠিন।
টাকা রাখা হয়ে গেলে অর্ডার করার নিয়ম দেখুন। কেনার পর কী হয় সেটা এই পাতায়।



