বিক্রির টাকা তোলার নিয়ম, আর কোন পথে খরচ কম
বাংলাদেশ থেকে বেশির ভাগ মানুষ TRC20 এর কথা ভাবেন, অথচ এখানে BSC এর পথটাই সস্তা আর সর্বনিম্নও কম। টাকা কখন তোলার উপযুক্ত হয়, কী কী কাটা যায়, আর কী না থাকলে অনুরোধই জমা হয় না।
Avery Bennett
বাংলাদেশ থেকে যাঁরা এখানে বিক্রি করেন, তাঁদের মাথায় সাধারণত একটা নির্দিষ্ট পথ থাকে: টাকা তুলে USDT করে, তারপর সেটা কোথাও ভাঙিয়ে বিকাশে। ওই দ্বিতীয় অংশটা আপনার নিজের ব্যাপার। এই পাতা প্রথম অংশটা নিয়ে, আর সেখানেই একটা ব্যয়বহুল ভুল সবচেয়ে বেশি হয়।
নেটওয়ার্ক বাছার জায়গাটাই সবচেয়ে দামি সিদ্ধান্ত
USDT নিয়ে বাংলাদেশ থেকে যা খোঁজা হয় তার মধ্যে TRC20 নামটাই বেশি আসে, আর অনেকে ধরেই নেন ওটাই সস্তা পথ। এখানে সেটা ঠিক নয়।
এই মুহূর্তে টাকা তোলার জন্য যা যা খোলা আছে:
- USDT BSC: নেটওয়ার্কের খরচ দশ সেন্টের আশপাশে, আর সর্বনিম্ন মাত্র তিন ডলার। তিনটের মধ্যে সবচেয়ে সস্তা আর সবচেয়ে কম সর্বনিম্ন।
- USDT TRC20: নেটওয়ার্কের খরচ এক থেকে তিন ডলার, সর্বনিম্ন দশ ডলার।
- LTC: খরচ দশ সেন্টের আশপাশে, সর্বনিম্ন দশ ডলার।
খরচগুলো নেটওয়ার্কের, আমাদের নয়। কিন্তু ফারাকটা বাস্তব। ছোট অঙ্কে নিয়মিত তুললে TRC20 আর BSC এর মধ্যে ফারাকটা মাসের শেষে চোখে পড়ার মতো দাঁড়ায়।
একটা কথা পরিষ্কার করে বলা দরকার। কোনো পথেই টাকা সঙ্গে সঙ্গে চলে আসে না। প্রতিটা অনুরোধ প্রশাসনের দেখার পরেই ছাড়া হয়, আর এই ক্ষেত্রে কোনো পদ্ধতি অন্যটার চেয়ে দ্রুত নয়। BSC এর সুবিধাটা খরচে আর সর্বনিম্নে, গতিতে নয়।
Binance এর পথটা এখন বন্ধ
যাঁরা আগে এখানে টাকা তুলেছেন তাঁদের বড় অংশ Binance এর পথেই তুলেছেন। এ পর্যন্ত হওয়া অনুরোধের অর্ধেকেরও বেশি ওই পথে গেছে।
বর্তমানে ওই বিকল্পটা বন্ধ করে রাখা আছে। অর্থাৎ পুরোনো অভ্যাস ধরে গিয়ে ওটা খুঁজলে পাবেন না, আর সেটা কোনো ত্রুটি নয়। উপরের তিনটের একটা বেছে নিতে হবে। বাইনান্সে USDT রাখতে চাইলে সেটা এখনও করা যায়, শুধু BSC এর ঠিকানাটা বাইনান্স থেকে নিয়ে এখানে বসাতে হবে।
যা না থাকলে অনুরোধই জমা হয় না
দুটো জিনিস আটকায়, আর দুটোই আগে থেকে ঠিক করে রাখা যায়:
- টেলিগ্রাম যুক্ত করা। এটা বাধ্যতামূলক, আর ছাড় দেওয়ার কোনো ব্যবস্থা নেই। যুক্ত না থাকলে অনুরোধটা সাফ ফিরিয়ে দেওয়া হয় আর দোকানের সেটিংসে যেতে বলা হয়। টাকা তোলার খবরগুলো ওখানেই যায়।
- আগের অনুরোধ ঝুলে থাকা। একটা অনুরোধ অপেক্ষায় থাকলে দ্বিতীয়টা নেওয়া হয় না। আগেরটার নিষ্পত্তি হতে দিন।
আর একটা কথা: অনুরোধটা আপনার তখনকার পুরো Available অঙ্কের জন্য হয়, নিজের ইচ্ছেমতো অঙ্ক লেখা যায় না। তাই সর্বনিম্নটা এখানে পুরো অঙ্কের সঙ্গে মেলানো হয়, একটা অংশের সঙ্গে নয়।
টাকা কখন Available হয়
বিক্রি হলেই টাকা তোলার উপযুক্ত হয়ে যায় না। একটা অর্ডারের টাকা Available এ ঢোকার জন্য কয়েকটা শর্ত একসঙ্গে মিলতে হয়:
- টাকা মিটে গেছে। পুরো ফেরত হয়ে যাওয়া অর্ডার থেকে কিছু আসে না।
- ক্রেতা কনফার্ম করেছেন, অথবা আপনার স্তরের অপেক্ষার সময় পেরিয়ে গিয়ে ব্যবস্থাটা নিজে থেকে করে দিয়েছে।
- কোনো আপত্তি খোলা নেই আর টাকা আটকে রাখা নেই।
- ওই অর্ডারটা আগের কোনো অনুরোধের ভেতরে ঢোকেনি।
দ্বিতীয় শর্তটাই সবচেয়ে বেশি সময় নেয়, আর ওখানেই স্তরের কাজ। শুরুর স্তরে অপেক্ষা তিন দিন, আর ওপরের দিকে সেটা নেমে এক দিনে দাঁড়ায়। ঘড়িটা অর্ডার হওয়ার মুহূর্ত থেকে চলে।
আংশিক ফেরত হয়ে যাওয়া অর্ডারের হিসাব আলাদা। ওখানে ক্রেতার কনফার্মের অপেক্ষা করতে হয় না, ফেরতের ঘটনার এক দিন পরেই বাকি টাকাটা এগোতে পারে।
আপত্তি নিয়ে একটা কথা মনে রাখা দরকার। আপত্তির নিষ্পত্তি হলেই টাকা ছাড়া পায় না। বিক্রেতার পক্ষে গেলে বা আপত্তিটা ভুল বলে বাতিল হলে ছাড়া পায়। ক্রেতার পক্ষে গেলে ওই টাকা আর আপনার দিকে আসে না।
দশ শতাংশের লাইনটা আসলে কী
টাকা তোলার সময় Available অঙ্ক থেকে দশ শতাংশ কাটা যায়। এ পর্যন্ত হওয়া প্রতিটা অনুরোধেই এই হারটা এক থেকেছে, তাই এটা কোনো পরিবর্তনশীল ফি নয়।
এই টাকাটা প্ল্যাটফর্মের ঘরে যায় না। এটা যায় ক্রেতার দিকে, দুই ভাগে: ক্রেতাদের কুপনের খরচ, আর ব্যালেন্সে টাকা জমা দিলে যে বোনাস দেওয়া হয় তার খরচ। বিক্রির ওপর আলাদা কোনো কমিশন নেওয়া হয় না, আর এটাই এই জায়গার মূল কাঠামো।
তবে দশ শতাংশই একমাত্র কাটা নয়। আরও একটা লাইন থাকতে পারে:
- অনুমোদিত পুনর্বিক্রেতার ছাড়: তাঁরা আপনার তালিকা থেকে কিনলে যে ছাড় পান, সেটা আপনার দিক থেকেই যায়। শুরুতে সেটা পাঁচ শতাংশে বসানো থাকে, আর দোকানের সেটিংস থেকে শূন্যে নামানো যায়। বন্ধ করলে খরচ বাঁচে, কিন্তু ওই পথে আসা বিক্রিও বন্ধ হয়।
তাই হাতে যা আসবে সেটা Available অঙ্ক থেকে এই দুটো বাদ দিয়ে। কেবল দশ শতাংশ ধরে হিসাব করলে অঙ্কটা মিলবে না। অংশীদারের মাধ্যমে আসা অর্ডারের কমিশন ২০২৬ সালের ৭ অক্টোবর থেকে প্ল্যাটফর্ম নিজেই দেয়, ওটা আর আপনার টাকা থেকে কাটা হয় না।
অনুরোধ জমা দেওয়ার ধাপ
- বিক্রেতা হিসেবে ঢুকে Withdraw এর পাতায় যান।
- Available শূন্যের বেশি কি না দেখে নিন। কার্ডটায় চাপ দিলে কোন কোন অর্ডার এর মধ্যে আছে তার তালিকা খোলে।
- টেলিগ্রাম যুক্ত না থাকলে আগে সেটা করুন, নইলে পরের ধাপ খোলে না।
- পদ্ধতি বাছুন। সর্বনিম্ন আপনার পুরো Available এর সঙ্গে মিলতে হবে।
- ঠিকানাটা বসানোর আগে নেটওয়ার্কের নাম দুবার মিলিয়ে নিন। BSC বাছলে BSC এর ঠিকানা, TRC20 বাছলে TRC20 এর। ভুল নেটওয়ার্কে গেলে সেটা ফেরানো যায় না।
- জমা দিন, তারপর অনুমোদনের অপেক্ষা করুন। এই সময়ে ওই অর্ডারগুলো আলাদা একটা ঘরে দেখা যায়।
বাস্তবে অনুরোধের একটা বড় অংশই অনুমোদিত হয়, বিশটার মধ্যে একটার মতো বাতিল হয়। বাতিলের সবচেয়ে সহজ কারণ ভুল ঠিকানা, তাই ওই ধাপে তাড়াহুড়ো করবেন না।
যা এখানে নেই
পেওনিয়ার নেই, ব্যাংকে সরাসরি পাঠানোর ব্যবস্থা নেই, আর বিকাশ বা নগদে সরাসরি কিছু আসে না। বাংলাদেশে ফ্রিল্যান্সিংয়ের চেনা পথটা এখানে খাটে না, আর সেটা আগে জেনে রাখা ভালো।
যা আছে সেটা ক্রিপ্টো, আর সেখান থেকে টাকায় নামানোর অংশটা আপনার নিজের ব্যবস্থা। ওই অংশে আমরা কোনো পরামর্শ দিচ্ছি না, আর কোনো নির্দিষ্ট জায়গার নামও বলছি না।
স্তরগুলো আর কী কী খোলে সেটা এই পাতায়, আর তালিকা বানানোর নিয়ম এখানে।
Frequently Asked Questions
USDT BSC। নেটওয়ার্কের খরচ দশ সেন্টের আশপাশে আর সর্বনিম্ন মাত্র তিন ডলার। TRC20 এ খরচ এক থেকে তিন ডলার আর সর্বনিম্ন দশ। বাংলাদেশ থেকে বেশির ভাগ মানুষ TRC20 এর কথাই ভাবেন, কিন্তু এখানে সেটাই দামি পথ।
না। প্রতিটা অনুরোধ প্রশাসনের দেখার পরেই ছাড়া হয়, আর এই ব্যাপারে কোনো পদ্ধতি অন্যটার চেয়ে দ্রুত নয়। BSC এর সুবিধাটা খরচে আর সর্বনিম্নে, গতিতে নয়।
ওটা বর্তমানে বন্ধ করে রাখা আছে, যদিও আগে এটাই সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত পথ ছিল। USDT BSC, USDT TRC20 বা LTC থেকে বাছতে হবে। বাইনান্সেই টাকা রাখতে চাইলে সেখান থেকে BSC এর ঠিকানাটা নিয়ে এখানে বসান।
যাবে না। এটা বাধ্যতামূলক আর কোনো ছাড় নেই। যুক্ত না থাকলে অনুরোধটা সাফ ফিরিয়ে দেওয়া হয়। দোকানের সেটিংস থেকে একবার যুক্ত করে নিলে আর করতে হয় না, আর টাকা তোলার খবরগুলোও ওখানেই যায়।
সাধারণত ক্রেতার কনফার্মের অপেক্ষা চলছে। ক্রেতা নিজে না করলে আপনার স্তর অনুযায়ী তিন থেকে এক দিন পরে ব্যবস্থাটা নিজে করে দেয়, আর ঘড়িটা অর্ডার হওয়ার মুহূর্ত থেকে চলে। এ ছাড়া খোলা আপত্তি বা আটকে রাখা টাকা থাকলেও আসে না।
হ্যাঁ, দুটো লাইন থাকতে পারে। অনুমোদিত পুনর্বিক্রেতারা আপনার তালিকা থেকে কিনলে তাঁদের ছাড়টা আপনার দিক থেকে যায়, শুরুতে সেটা পাঁচ শতাংশে বসানো থাকে। আর কোনো অংশীদারের মাধ্যমে আসা অর্ডারে একটা কমিশন কাটা যায়। কেবল দশ শতাংশ ধরে হিসাব করলে মিলবে না।
না। এখানে কেবল ক্রিপ্টোর পথ আছে। বাংলাদেশে ফ্রিল্যান্সিংয়ের চেনা পথটা এখানে খাটে না। ক্রিপ্টো থেকে টাকায় নামানোর অংশটা আপনার নিজের ব্যবস্থা, আর সেই নিয়ে আমরা কোনো পরামর্শ দিই না।

Avery Bennett
সোশ্যাল মিডিয়া কনসালট্যান্ট এবং গ্রোথ হ্যাকার। সব আকারের ব্র্যান্ডের জন্য ভাইরাল কন্টেন্ট তৈরি এবং ইনফ্লুয়েন্সার মার্কেটিং কৌশলে বিশেষজ্ঞ।


