অনেকগুলো আইডি চালাতে হলে: বিক্রেতা যাচাই করার তিনটে সংখ্যা
একটা আইডি ভুল হলে সামলে নেওয়া যায়। প্রতি সপ্তাহে পঞ্চাশটা কিনলে ওটা আর কেনাকাটা থাকে না, ব্যবসার নির্ভরতা হয়ে যায়। তালিকার পাতায় তিনটে সংখ্যা আছে যেগুলো সত্যিই কিছু বলে, আর দুটো জিনিস আছে যেগুলো কিছুই বলে না।

বাংলায় এই বিষয়ে যা খোঁজা হয় সেটা প্রায় পুরোটাই একটা শব্দের চারপাশে ঘোরে, আইডি। একাধিক ফেসবুক আইডি খোলার নিয়ম, একাধিক জিমেইল আইডি কীভাবে খুলব, একাধিক টিকটক আইডি। অর্থাৎ অনেকগুলো আইডি চালানোটা এখানে নতুন কিছু নয়, ওটা বহু মানুষের রোজকার কাজ।
যেটা খোঁজা হয় না সেটা হলো কার কাছ থেকে কিনবেন। অথচ একটার বদলে পঞ্চাশটা চালাতে গেলে ওই প্রশ্নটাই সবচেয়ে দামি হয়ে ওঠে, কারণ তখন একটা খারাপ ব্যাচ মানে এক সপ্তাহের কাজ নষ্ট।
এই লেখাটা সেই প্রশ্নের। কোন সংখ্যাগুলো দেখলে বিক্রেতা সম্পর্কে সত্যিই কিছু জানা যায়, আর কোনগুলো দেখতে তথ্যের মতো লাগে কিন্তু আসলে কিছুই নয়।
আগে দেখুন সমস্যাটা আসলে কী হয়
কেনার আগে কী নিয়ে সাবধান হবেন সেটা ঠিক করার সবচেয়ে সৎ উপায় হলো, যাঁরা আগে ঠকেছেন তাঁরা কী নিয়ে অভিযোগ করেছেন সেটা গুনে দেখা।
এই সাইটে জমা হওয়া প্রায় বারো হাজার সহায়তার অনুরোধের মধ্যে সবচেয়ে বড় চিহ্নিত দলটা একটাই কথা বলে: জিনিসটা কাজ করছে না। ঢুকতে দিচ্ছে না, অথবা ঢোকার সময় এমন একটা যাচাই চাইছে যেটা ক্রেতা পার করতে পারছেন না, অথবা আইডিটা আর বৈধ নেই। এই দলটা তিন হাজার দুশোর বেশি, মোটের এক চতুর্থাংশের চেয়েও বেশি।
আর যেটা নিয়ে কেনার গাইডগুলো সবচেয়ে বেশি ভয় দেখায়, অর্থাৎ যা কিনেছেন তার বদলে অন্য জিনিস পাওয়া, সেটা মাত্র দুশো ঊনসত্তরটা। শতকরা দুইয়েরও কম।
ফারাকটা বিরাট, আর এর মানেটাও পরিষ্কার। বিক্রেতার সততা এখানে প্রধান ঝুঁকি নয়। প্রধান ঝুঁকি হলো তাঁর মাল যে প্ল্যাটফর্মে বানানো, সেই প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে টিকছে কি না। বাকি পুরো লেখাটা সেটাই মাপার চেষ্টা।
সংখ্যা এক: তালিকায় লেখা ওয়ারেন্টির ঘণ্টা
এটাই সবচেয়ে সস্তা ছাঁকনি, আর বেশিরভাগ ক্রেতা এটা পড়েনই না।
এখানে ওয়ারেন্টি দিনে নয়, ঘণ্টায় লেখা হয়। প্রতিটা তালিকায় সংখ্যাটা আলাদা, আর সেটা বসান বিক্রেতা নিজে। কেউ তাঁকে বাধ্য করে না বেশি দিতে।
এখন ছড়ানোটা দেখুন। সাইটে এই মুহূর্তে দৃশ্যমান তালিকার সংখ্যা প্রায় সাড়ে ষোলো হাজার। তার মাঝামাঝি মানটা বারো ঘণ্টা, শুনতে যথেষ্ট মনে হয়। কিন্তু ওর মধ্যে সাড়ে পাঁচ হাজারেরও বেশি তালিকায় ওয়ারেন্টি চার ঘণ্টারও কম। আর দেড় হাজারের কাছাকাছি তালিকায় সেটা এত ছোট যে ব্যবস্থাটা ওই অর্ডারের জন্য কোনো বিক্রয়োত্তর সময়ই খোলে না।
এই শেষ দলটাকে বিক্রেতা ধরে ভাগ করলে আসল কথাটা বেরিয়ে আসে। ওই দেড় হাজার তালিকা ছড়িয়ে আছে মোটে ছয়জন বিক্রেতার মধ্যে, আর তার প্রায় পুরোটাই, চোদ্দশোর বেশি, একজনের। ওই একজনের গোটা দোকানেই ওয়ারেন্টি মিনিটের হিসাবে।
এখানেই পুরো কথাটা। সাইটে কোনো সাধারণ নিয়ম নেই যেটার ওপর ভরসা করা যায়। যে বিক্রেতা তাঁর তালিকায় বারো বা চব্বিশ ঘণ্টা লিখেছেন, তিনি নিজের মালের মান নিয়ে প্রকাশ্যে একটা কথা দিয়েছেন, কারণ ওটা ভাঙলে খরচটা তাঁরই। যে পাঁচ মিনিট লিখেছেন, তিনিও প্রকাশ্যেই উল্টো কথাটা বলে দিয়েছেন। দুজনের কথাই আপনি যে পাতাটা দেখছেন তাতেই ছাপা আছে।
একটা কথা মনে রাখা দরকার। ঘড়িটা চালু হয় জিনিস হাতে পাওয়ার মুহূর্ত থেকে, টাকা দেওয়ার মুহূর্ত থেকে নয়। অর্থাৎ অর্ডার প্রক্রিয়াধীন অবস্থায় যত সময়ই কাটাক, আপনার সময় তাতে কমে না।
সংখ্যা দুই: লেখা রিভিউয়ের সংখ্যা, মোট রিভিউ নয়
এই সাইটে রিভিউয়ের সংখ্যা তিরাশি হাজারের ওপরে। তার মধ্যে কোনো মানুষ বসে টাইপ করেছেন এমন রিভিউ তিনশোর একটু বেশি, আর তার মধ্যেও যেগুলোয় সত্যিকারের কিছু লেখা আছে সেগুলো দুশোরও কম।
বাকিটা কীভাবে তৈরি হয় সেটা ভাবার দরকার নেই, কারণ ওটা এখানে আলাদা করে ব্যাখ্যা করা আছে: সুরক্ষা বলতে এখানে ঠিক কী আছে। শুধু কাজের কথাটা নিন।
সাইট নিজেই বিভাগের পাতায় দুটো আলাদা সংখ্যা দেখায়, মোট রিভিউ আর তার পাশে শুধু লেখা রিভিউয়ের সংখ্যা ও তাদের নিজস্ব গড়। দ্বিতীয়টাই পড়ার জিনিস। কোনো তালিকায় হাজার খানেক রিভিউ থাকলেও লেখা রিভিউ দুটো হতে পারে, আর সেই দুটোই একমাত্র তথ্য।
আর যে কটা লেখা রিভিউ আছে সেগুলো পড়ার সময় একটা কথা মাথায় রাখুন। ওগুলোর অর্ধেকেরও বেশি একেবারে নিচের ঘরে। মানুষ এখানে লেখেন হয় কিছু ভেঙে গেলে, নয়তো কালেভদ্রে কিছু অস্বাভাবিক ভালো হলে। মাঝখানের কেউ লেখেন না। তাই ওগুলোকে মতামত না ভেবে দুর্ঘটনার রিপোর্ট হিসেবে পড়াই ঠিক।
আর যদি কোনো বিক্রেতার একটাও লেখা রিভিউ না থাকে, তাহলে আপনার হাতে ভালো তথ্য নেই, আপনার হাতে কোনো তথ্যই নেই। পর্দায় এই দুটো দেখতে হুবহু এক রকম, আর এটাই ফাঁদ।
সংখ্যা তিন: ক্যাটালগটা আসলে কার হাতে
সাড়ে ষোলো হাজার তালিকা এসেছে চারশো ছেষট্টি জন বিক্রেতার কাছ থেকে। শুনে মনে হয় বিরাট খোলা বাজার। ছড়ানোটা কিন্তু মোটেই সেরকম নয়।
সবচেয়ে বড় দশজন বিক্রেতার হাতেই আছে গোটা তাকের প্রায় সত্তর শতাংশ। মাঝামাঝি বিক্রেতার তালিকা সংখ্যা মোটে তিনটে, আর একশো তেত্রিশ জনের আছে ঠিক একটা করে।
এর থেকে দুটো কাজের কথা বেরোয়। এক, বেশিরভাগ সময় আপনি আসলে হাতে গোনা কয়েকটা বড় দোকানের মধ্যে বাছাই করছেন। ওদের ওয়ারেন্টির অভ্যাস আর ডেলিভারির ধরনটা একবার শিখে নিলে সেটা বহুদিন কাজে লাগে, তাই সময় দিয়ে শেখাই লাভ।
দুই, যখন কোনো তালিকা লম্বা লেজের দিক থেকে আসে, তখন বুঝতে হবে আপনি এমন কারও কাছ থেকে কিনছেন যাঁর হারানোর মতো ব্যবসা নেই। এটা খারাপ নয়, ভালোও নয়, কিন্তু এটা অন্য রকম ঝুঁকি, আর সেটা জেনে নেওয়া দরকার।
যে দুটো জিনিস কিছুই বলে না
তারার গড়। ওটা কার্যত নিশ্চিত হওয়া অর্ডারের একটা গোনা, যেটার গায়ে একটা রেটিং লাগানো আছে। ওটা দিয়ে বিক্রেতা তুলনা করা যায় না, আর দুজন বিক্রেতার গড় প্রায় সব সময়েই এক দেখাবে।
মান বোঝানো বিশেষণ। প্রিমিয়াম, হাই কোয়ালিটি, ভেরিফায়েড, বেস্ট। এগুলো বিক্রেতার নিজের লেখা, আর যা বোঝাতে চান তা-ই বোঝায়। এমনকি সাইটের নিজের মানসূচক ট্যাগটাও তার নিজের ব্যাখ্যায় বলে দেয় যে ওটা একটা দাবির বর্ণনা, দাবিটা যাচাই করার ফল নয়। ওটা কোনো টাকা দিয়ে কেনা ধাপ নয়, কোনো পরীক্ষার সার্টিফিকেটও নয়।
নিয়মটা সহজ। শিরোনামের একটা শব্দের দাম শূন্য, আর কোনো ঘরে বসানো একটা সংখ্যার দাম আছে।
পঞ্চাশটা কেনার আগে যে অভ্যাসটা
ছাঁকনি যতই ভালো হোক, ঘড়িটা চালু হয়ে যায় ডেলিভারির সঙ্গে সঙ্গে। তাই বিক্রেতা বাছাইয়ের সঙ্গে দুটো অভ্যাস জুড়ে না দিলে বাছাইটার দাম কমে যায়।
- নতুন বিক্রেতার কাছ থেকে পঞ্চাশটার আগে একটা কিনুন। একটা পরীক্ষার খরচ পুরো ব্যাচ নষ্ট হওয়ার পাশে কিছুই নয়, আর এটাই ওয়ারেন্টির সংখ্যাটার চেয়েও বেশি কথা বলে, কারণ এটা আপনার নিজের মাপা।
- পরীক্ষাটা করুন সেখানেই যেখানে জিনিসটা সত্যিই চলবে। আপনার নিজের ব্রাউজারে খোলে অথচ যে প্রোফাইলে ওটা থাকবে সেখানে খোলে না, এমন আইডি ব্যর্থই। নিজের সাধারণ ব্রাউজারে দেখে নিশ্চিন্ত হওয়ার কোনো মানে নেই।
- ভালো হলেও রিভিউ লিখুন। লেখা রিভিউয়ের অর্ধেকের বেশি নিচের ঘরে থাকার একমাত্র কারণ হলো, সন্তুষ্ট ক্রেতা ট্যাব বন্ধ করে চলে যান। আপনি না লিখলে পরের ক্রেতার হাতে পড়ার মতো কিছু থাকে না।
আর যদি কিছু কাজ না করে, তখন কী করতে হয় সেটা আলাদা করে লেখা আছে। ধাপগুলো আর ঘড়িটা আছে কেনা আইডি কাজ না করলে পাতায়, আর ফর্মটা আছে আপত্তি জানানোর পাতায়।
আইডিগুলো আলাদা রাখার দিকটা
বিক্রেতা বাছাই একটা দিক। অন্য দিকটা হলো, কেনার পর অনেকগুলো আইডি একসঙ্গে চালাতে গিয়ে নিজেই সেগুলো নষ্ট না করা। এই দিকটার নিয়ম মোটামুটি জানা: নেটওয়ার্ক আলাদা, ব্রাউজারের প্রোফাইল আলাদা, পরিচয় আলাদা আর ব্যবহারের ধরন আলাদা। চারটের একটা বাদ দিলে বাকি তিনটের কাজ নষ্ট হয়।
এটা এই লেখার বিষয় নয়, আর এখানে আলাদা করে বলাও আছে। নেটওয়ার্কের স্তরটা আছে প্রক্সির বিভাগে, আর নিজের আইডি সুরক্ষিত রাখার সাধারণ অভ্যাসগুলো আছে আইডি নিরাপদ রাখার পাতায়।
যদি ছাঁকনি দিয়ে না খুঁজে বরং বাছাই করা তালিকা থেকে শুরু করতে চান, তাহলে বাছাই করা তাক আছে। আর আইডি, ইমেইল আর যাচাইয়ের বিভাগগুলোর প্রতিটা তালিকাতেই ওপরে বলা ওয়ারেন্টি আর রিভিউয়ের ঘরগুলো বসানো আছে।
