কেনা জিমেইল আইডি কাজ করছে না: হাতে সময় কতটা আছে
কেনা মেইলবক্স নিয়ে যত অনুরোধ আসে তার প্রায় সবই একই কথা বলে, ঢুকতে দিচ্ছে না। কীভাবে শেষ হবে সেটা ঠিক করে অনুরোধের ভাষা নয়, হাতে কত সময় আছে সেটা, আর সংখ্যাটা কেনার আগেই তালিকায় ছাপা ছিল।
কেনা একটা জিমেইল নিয়ে যত অনুরোধ আসে তার প্রায় সবগুলোই একই অনুরোধ। ঢুকতে দিচ্ছে না, অথবা ঢুকতে দিচ্ছে কিন্তু সঙ্গে সঙ্গে এমন একটা যাচাই চাইছে যেটা ক্রেতা পার করতে পারছেন না।
কীভাবে ব্যাপারটা শেষ হবে সেটা ঠিক করে দেয় না আপনি অনুরোধটা কত সুন্দর করে লিখলেন। ঠিক করে দেয় আপনার হাতে কত সময় বাকি আছে, আর সেই সংখ্যাটা কেনার আগেই ওই তালিকার পাতায় লেখা ছিল।
এই লেখাটা লগইন কেন হচ্ছে না তার কারণ নিয়ে নয়। ওই দিকটা আলাদা করে আছে জিমেইল লগইন সমস্যার পাতায়। এখানে আছে তার পরের ধাপটা, অর্থাৎ কেনা জিনিস কাজ না করলে হাতে কী থাকে।
ওয়ারেন্টির সংখ্যাটা এখানে নিয়মরক্ষা নয়
এখানে ওয়ারেন্টি দিনে নয়, ঘণ্টায় গোনা হয়। ঘড়ি চালু হয় জিনিস হাতে পাওয়ার মুহূর্ত থেকে, টাকা দেওয়ার মুহূর্ত থেকে নয়। আর সংখ্যাটা প্রতিটা তালিকায় বিক্রেতা নিজে বসান।
জিমেইলের তাকে এই মুহূর্তে তালিকা আছে দেড় হাজারের কাছাকাছি, আর সেগুলো এসেছে প্রায় একশো পঁচাশি জন বিক্রেতার কাছ থেকে। মাঝামাঝি মান বারো ঘণ্টা, আর ওপরের দিকের দশ শতাংশে চব্বিশ ঘণ্টা। শুনতে স্বস্তির।
নিচের দিকের দশ শতাংশে সংখ্যাটা পাঁচ মিনিট।
ভাগ করে দেখলে ছবিটা এরকম। এক হাজারের বেশি তালিকায় বারো ঘণ্টা বা তার বেশি সময় আছে। চারশোর বেশি তালিকায় চার ঘণ্টারও কম। তিনশোর বেশিতে এক ঘণ্টারও কম। আর একশো সত্তরের বেশি তালিকায় সময়টা এত ছোট যে ব্যবস্থাটা ওই অর্ডারের জন্য কোনো বিক্রয়োত্তর সময়ই খোলে না, অর্থাৎ ক্রেডেনশিয়াল হাতে আসার মুহূর্ত থেকেই খোলার মতো কোনো অনুরোধ নেই আর কোনো আপত্তিও নেই।
সাইটে একটা সর্বনিম্ন ওয়ারেন্টির নিয়ম আছে ঠিকই, কিন্তু ওটা সব বিক্রেতার ওপর বসে না, তাই ওটাকে মেঝে ধরে নেওয়া যায় না। তালিকায় লেখা সংখ্যাটাই আসল সংখ্যা। কেনার আগে পড়ুন, পরে নয়।
প্রথম পাঁচ মিনিট, আর আসলে পুরো পরামর্শটাই এটুকু
- সঙ্গে সঙ্গে ঢুকে দেখুন, আর যে পরিবেশে সত্যিই চালাবেন সেখানেই। যে মেইলবক্স আপনার সাধারণ ব্রাউজারে খোলে অথচ যে প্রোফাইলে ওটা থাকবে সেখানে খোলে না, সেটা ব্যর্থই। আর কালকে সেটা জানা মানে দেরি করে জানা।
- ব্যর্থতার ছবি তুলুন, ঠিক যখন পর্দায় আছে। বর্ণনা নয়, ছবি। আপত্তি জমা দিতে অন্তত একটা ছবি লাগেই, আর আবার চেষ্টা করলে বা বিক্রেতা মজুতে হাত দিলে ঠিক যে পর্দাটা দরকার ছিল সেটা মুছে যেতে পারে।
- এখনই কিছু বদলাবেন না। যে আইডি ইতিমধ্যেই যাচাই চাইছে তার পাসওয়ার্ড বা ফেরার তথ্য বদলানো সবচেয়ে নিশ্চিত উপায় একটা ফেরানো যেত এমন আইডিকে স্থায়ীভাবে তালাবন্ধ করে দেওয়ার। আর তাতে বিক্রেতার পক্ষে বদলে দেওয়ার যুক্তিটাও দুর্বল হয়ে যায়।
- আপত্তি নয়, আগে সহায়তার অনুরোধ খুলুন। কারণটা নিচে, তবে ছোট করে বললে বদলে দেওয়ার ফল ওই পথ দিয়েই আসে।
অনুরোধটা কাজের হয় কীসে
এখানে একটা অনুরোধ আমাদের পাঠানো চিঠি নয়। ওটা একটাই সুতো, যেখানে আপনি, বিক্রেতা আর সহায়তা তিন পক্ষই দেখতে আর লিখতে পারেন, আর ওটা খোলা থাকলে অর্ডারের টাকাটা নড়ে না।
কাজের হয় কীসে, সেটা হলো ব্যর্থতার ধরনটা নির্দিষ্ট করে বলা, কারণ প্রতিটার সমাধান আলাদা:
- পাসওয়ার্ড মিলছে না, বা সঙ্গে সঙ্গে তালা। কোনটা হয়েছে বলুন, আর গুগল হুবহু যে কথাটা লিখেছে সেটা তুলে দিন।
- এমন একটা যাচাই যেটা আপনি পার করতে পারছেন না। এটাই সবচেয়ে সাধারণ, আর এখানেই সবচেয়ে বেশি সময় নষ্ট হয়। ঠিক কী চাওয়া হয়েছে সেটা লিখুন: একটা ফোন নম্বর, ফেরার ঠিকানায় পাঠানো একটা কোড, নাকি আগে থেকে ঢুকে থাকা কোনো যন্ত্র। এই তিনটে সম্পূর্ণ আলাদা তিনটে সমস্যা।
- ঢোকে, তারপর মরে যায়। কতক্ষণ টিকল আর মাঝখানে আপনি কী করলেন সেটা লিখুন। এটা সাধারণত আইডির নয়, পরিবেশের সমস্যা, আর শুরুতেই বলে দিলে একটা দফা বাঁচে।
- কিছুই আসেনি। এটা একেবারে অন্য পথ। যে অর্ডারে কিছু ডেলিভারিই হয়নি, সেখানে কাউকে না বলেই টাকা ফেরত নেওয়া যায় অনেক সময়।
একটা কথা যেটা যা-ই লিখুন তাতে রাখবেন না: সাইটের বাইরে যোগাযোগ করার অনুরোধ। লেখাটা পরীক্ষা করা হয়, আর ধরা পড়লে জমাটা কেটে দেওয়া হয় না, পুরো বাতিল হয়ে যায়, আর তার ওপর কিছুক্ষণের জন্য নতুন কিছু লেখার পথও বন্ধ হয়ে যায়। কেন এই নিয়ম, সেটা আছে বাইরে গিয়ে ঠকলে হাতে কী থাকে পাতায়।
সংখ্যায় ব্যাপারটা কেমন দাঁড়ায়
গোটা সাইট ধরে প্রায় বারো হাজার অনুরোধের মধ্যে সবচেয়ে বড় চিহ্নিত দলটা ঠিক এই সমস্যাটাই: ঢুকতে না পারা, পার করা যায় না এমন যাচাই, আর আইডি বাতিল হয়ে যাওয়া। এই দলটায় তিন হাজার দুশোর বেশি, মোটের এক চতুর্থাংশেরও বেশি।
তুলনায়, যা কিনেছেন তার বদলে অন্য জিনিস পাওয়ার অভিযোগ দুশো ঊনসত্তরটা।
অর্থাৎ কাজ না করা আইডি ঠিক সেই সমস্যাটা যেটার উত্তর দেওয়ার জন্যই ব্যবস্থাটা বানানো, আর ফলের খাতাটা স্পষ্টভাবে ক্রেতার দিকে ঝোঁকা। গোটা ইতিহাসে ছয় হাজারের বেশি ক্ষেত্রে জিনিস বদলে দেওয়া হয়েছে আর দুই হাজারের বেশি ক্ষেত্রে টাকা ফেরত, আর নাকচ হয়েছে মোটে আঠারোটা।
সময়ের দিক থেকে অর্ধেক অনুরোধ মোটামুটি এক দিনের মধ্যে মিটে যায়, সবচেয়ে দ্রুত দশ শতাংশ মেটে দুই ঘণ্টার ভেতর, আর সবচেয়ে ধীর দশ শতাংশ তিন থেকে চার দিন নেয়।
অনুরোধ না আপত্তি
প্রায় সব ক্ষেত্রেই আগে অনুরোধ। কারণ আপত্তি থেকে বদলে দেওয়ার ফল আসতেই পারে না, ওটা একটা ডেলিভারি হওয়া জিনিসের ওপর বিক্রেতার নেওয়া পদক্ষেপ, আপত্তির কোনো ফলাফল নয়।
আপত্তিটা তুলে রাখুন সেই অবস্থার জন্য যেখানে অনুরোধ আটকে গেছে। আর ওয়ারেন্টির সময় ফুরোনোর আগেই খুলুন, কারণ মেয়াদ পেরোনো অর্ডারে পথটাই বন্ধ হয়ে যায়। ফর্মটা কেমন আর কোথায় আটকায় সেটা আছে আপত্তি জানানোর পাতায়, আর খোলা থাকা অবস্থায় টাকা কোথায় আটকে থাকে সেটা আছে সুরক্ষার পাতায়।
তালিকা পড়ার নিয়ম, যাতে পরের বার এই পাতাটা কম লাগে
এই তাক নিয়ে দুটো কথা আগে থেকে জানা থাকলে অনেক ঝামেলা বাঁচে, আর দুটোই গোনা যায়।
ফোন শব্দটা এখানে দুটো উল্টো জিনিস বোঝায়। দেড় হাজার তালিকার মধ্যে চারশোর বেশির শিরোনামে ফোন, এসএমএস বা নম্বর কথাটা আছে। কিন্তু তার মধ্যে অর্ধেকেরও বেশি আসলে বিজ্ঞাপন দিচ্ছে যে নম্বরটা সরিয়ে ফেলা হয়েছে, খুলে দেওয়া হয়েছে বা মুছে দেওয়া হয়েছে।
এই তাকে নম্বর না থাকাটা প্রায়ই ত্রুটি নয়, ওটাই বিক্রির যুক্তি, কারণ ওটাই আগের মালিককে আইডি ফিরিয়ে নেওয়া থেকে আটকায়। ফলে শিরোনামের একটা শব্দ কোনো বৈশিষ্ট্যের তালিকা নয়। ওই শব্দটা যে বাক্যে বসে আছে সেই গোটা বাক্যটা পড়ুন।
IMAP লেখা থাকে ভাবার চেয়ে অনেক কম। দেড় হাজার তালিকার মধ্যে মোটে আঠারোটার শিরোনামে IMAP আছে। দুশোর বেশিতে অ্যাপ পাসওয়ার্ডের কথা আছে, আর সাতশোর বেশিতে দুই ধাপের যাচাইয়ের কথা।
এই তিনটে সম্পর্কযুক্ত কিন্তু এক জিনিস নয়। অ্যাপ পাসওয়ার্ড হলো সেই ক্রেডেনশিয়াল যেটা কোনো মেইল ক্লায়েন্ট বা স্ক্রিপ্ট ব্যবহার করে, আর সেটা দুই ধাপের যাচাই চালু না থাকলে তৈরিই হয় না। আর IMAP হলো প্রোটোকল, যেটা আলাদা করে চালু করতে হয়। কোনো স্ক্রিপ্ট দিয়ে মেইলবক্সে পৌঁছাতে চাইলে এই ফারাকটাই পুরো কেনার সিদ্ধান্ত, তাই কেনার আগে দুটোই মিলিয়ে নিন।
আর একশোর কাছাকাছি তালিকায় ফেরার মেইল ঠিকানার কথা আছে। যেখানে ওটা সঙ্গে আসে সেখানে ওটাই আইডিটাকে টেকসই করে, তাই যা এসেছে আর যা লেখা ছিল সেটা মিলিয়ে দেখাটা ঘড়ি ফুরোনোর আগেই সেরে ফেলুন।
সহায়তা যা পারে না
- গুগলের আইডি ফিরিয়ে আনা। ফেরানোর প্রক্রিয়াটা গুগলের নিজের আর সেটা চলে গুগলের চাওয়া প্রমাণের ওপর। এখান থেকে যা করা যায় সেটা হলো ওয়ারেন্টির সময়ের ভেতর বদলে দেওয়া বা টাকা ফেরত দেওয়া, আর এই কারণেই আবেদন করার চেয়ে প্রথম কয়েক মিনিট বেশি দামি।
- বদলে দেওয়ার নিশ্চয়তা। ফর্মে আপনি যেটা বাছেন সেটা সমস্যার ধরন, ফলাফল নয়। বদলে দেওয়া মানে ওই একই পণ্যের আর একটা অবিক্রীত জিনিস তুলে দেওয়া, আর বিক্রেতার হাতে সেটা না থাকলে ওটা সম্ভব নয়। তখন টাকা ফেরত হয়।
- টাকাটা নিজে থেকে কার্ডে ফিরিয়ে দেওয়া। নিজে থেকে টাকা যায় এই সাইটে আপনার নিজের জমার ঘরে, আর সেটা সঙ্গে সঙ্গে খরচ করা যায়। যে কার্ড বা মানিব্যাগ থেকে টাকা দিয়েছিলেন সেখানে ফিরিয়ে নিতে হলে আলাদা অনুরোধ আর হাতে করা একটা লেনদেন লাগে, আর তার জন্য কোনো নির্দিষ্ট সময় কথা দেওয়া নেই।
- আপনার ব্যবহার গুগলের শর্ত মানছে কি না সেই পরামর্শ। এই পাতার আগের একটা সংস্করণে এমন ইঙ্গিত ছিল। ওটা ঠিক নয়। আমরা কারও ব্যবহার যাচাই করি না, কখনও করিনি।
অনুরোধ খুলতে সহায়তার পাতা ব্যবহার করুন, বা আরও ভালো, অর্ডারটার ভেতর থেকেই খুলুন, কারণ তাতে অনুরোধটা অর্ডারের সঙ্গে জোড়া লাগে আর ঠিক সেটাই টাকার ঘড়িটা থামায়। আর কেনার আগে জিমেইলের তাকে প্রতিটা তালিকার গায়েই ওয়ারেন্টির ঘণ্টা লেখা আছে।
