সুরক্ষা বলতে এখানে ঠিক কী আছে, আর কী নেই
যেটা নিজে থেকে চলে সেটাই সুরক্ষা, বাকিটা প্রতিশ্রুতি। দুই দিকে কী কী ব্যবস্থা সত্যিই আছে, আর কোন কথাগুলো ভুলভাবে বলা হয়ে থাকে।
Sarah Johnsonবাংলায় নিরাপদ কেনাকাটা লিখে খুঁজলে গুগল যা ফিরিয়ে দেয় সেটা লক্ষ করার মতো। নিরাপত্তা শব্দটা সরিয়ে দিয়ে সে ফিরিয়ে দেয় নিয়ম। কেনাকাটার নিয়ম, কেনাকাটা করার নিয়ম।
এটা ঠিক প্রশ্নই। কারণ সুরক্ষা বলতে যা বোঝায় সেটা কারও ভালো ইচ্ছে নয়, কতগুলো নিয়ম যেগুলো আপনি না চাইলেও চলে। তাই এই লেখাটা প্রতিশ্রুতির তালিকা নয়, নিয়মের তালিকা। আর শেষে যা নিয়ম নয়, সেটাও বলা আছে।
কোনটা সুরক্ষা আর কোনটা নয়
একটা সহজ মাপকাঠি আছে। যেটা আপনার কিছু না করলেও ঘটে, সেটা ব্যবস্থা। আর যেটা পাওয়ার জন্য কারও সদিচ্ছার ওপর নির্ভর করতে হয়, সেটা প্রতিশ্রুতি।
এই মাপকাঠিতে ফেললে বেশিরভাগ জায়গার সুরক্ষার তালিকা ফাঁকা হয়ে যায়। দ্রুত সহায়তা, ন্যায্য বিচার, বিশ্বস্ত বিক্রেতা, এগুলোর একটাও নিজে থেকে ঘটে না।
এখানে যেগুলো নিজে থেকে ঘটে সেগুলোর সংখ্যা কম, কিন্তু ওগুলোই আসল। ক্রেতার দিকে সবচেয়ে শক্ত নিয়মটা হলো চব্বিশ ঘণ্টার নিয়ম, অর্থাৎ টাকা দেওয়ার পর ওই সময়ের মধ্যে পুরোটা না এলে টাকা ফেরত চাওয়ার অধিকারটা আপনার, বিক্রেতার সম্মতির ওপর সেটা নির্ভর করে না। কীভাবে কাজ করে সেটা আলাদা পাতায় লেখা।
সহায়তার ঘর কতটা কাজ করে, সংখ্যায়
প্রতিটা জায়গাই বলে তাদের সহায়তা ভালো। সংখ্যাটা বলে দিলে আপনি নিজেই বিচার করতে পারবেন।
এ পর্যন্ত প্রায় বারো হাজার সহায়তার ঘর খোলা হয়েছে। তার মধ্যে নিষ্পত্তি হয়ে বন্ধ হয়েছে প্রায় এগারো হাজার, অর্থাৎ প্রতি একশোটার তিরানব্বইটা। এই মুহূর্তে সাতশোর কাছাকাছি ঘরে কাজ চলছে, আর দেড়শোর মতো ঘর খোলা অবস্থায় অপেক্ষা করছে। নাকচ হয়েছে হাতে গোনা কয়েকটা।
এটা গতির হিসাব নয়, শেষ হওয়ার হিসাব। কিন্তু এটাই বেশি কাজের, কারণ যে জায়গায় ঘরগুলো খোলা অবস্থায় জমতে থাকে সেখানে দ্রুত উত্তর দিয়েও লাভ নেই।
আপত্তির সংখ্যাটা আলাদা করে দেখার মতো। ছিয়ানব্বই হাজারের বেশি অর্ডারের মধ্যে আপত্তি খোলা হয়েছে আড়াইশোর কিছু বেশি বার। অর্থাৎ প্রতি সাড়ে তিনশোটা অর্ডারে একটারও কম। বেশিরভাগ ব্যাপার আপত্তিতে পৌঁছানোর আগেই মিটে যায়।
বিক্রেতার দিকে যে ব্যবস্থাটার কথা কেউ বলে না
বিক্রেতার সুরক্ষা নিয়ে সাধারণত যা লেখা হয় সেটা টাকার কথা। কিন্তু একটা ব্যবস্থা আছে যেটা কোথাও লেখা থাকে না, আর যাঁরা সত্যিই বিক্রি করেন তাঁদের কাছে এটা সবচেয়ে কাজের।
একজন বিক্রেতা কোনো নির্দিষ্ট ক্রেতাকে নিজের কোনো নির্দিষ্ট পণ্য থেকে আটকে দিতে পারেন। গোটা দোকান থেকে নয়, ওই একটা পণ্য থেকে, আর ওই একজনের জন্য। সাধারণত এটা করা হয় কোনো একটা খারাপ অর্ডারের পরে, আর ব্যবস্থাটা কোন অর্ডার থেকে এসেছে সেটাও ধরে রাখে।
এটা কেন গুরুত্বপূর্ণ। যে ক্রেতা একবার মিথ্যে অভিযোগ করেছেন তিনি আবার একই পণ্য কিনে একই কাজ করতে পারেন, আর বিক্রেতার হাতে তখন কিছু করার থাকে না। এই ব্যবস্থাটা ঠিক সেই ফাঁকটাই বন্ধ করে। এ পর্যন্ত এরকম ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে পঁচাত্তর বার।
দ্বিতীয় ব্যবস্থাটা নীরবতা নিয়ে। কোনো অর্ডারে আপত্তি উঠলে আর তারপর আলোচনার ঘরগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর তিন দিন কেউ কিছু না বললে, ব্যাপারটা নিজে থেকেই নিষ্পত্তি হয়ে যায়, আর সেটা বিক্রেতার দিকে যায়। অর্থাৎ ক্রেতার চুপ করে থাকা বিক্রেতার বিরুদ্ধে যায় না। এখন পর্যন্ত অবশ্য একটা ক্ষেত্রেও এই স্বয়ংক্রিয় নিষ্পত্তি লাগেনি, সবগুলোই তার আগেই মিটেছে।
টাকা তোলা নিয়ে দুটো কথা ভুলভাবে বলা হয়
এই দুটো সংশোধন করে দেওয়া দরকার, কারণ দুটোই বিক্রেতাকে ভুল হিসাব করায়।
এক, সর্বনিম্ন সীমা আছে, আর সেটা নেটওয়ার্ক অনুযায়ী আলাদা। কোথাও কোথাও লেখা থাকে যে এখানে টাকা তোলার কোনো ন্যূনতম অঙ্ক নেই। কথাটা ঠিক নয়। প্রতিটা পথের নিজস্ব সীমা আছে আর সেটাই আসলে যাচাই করা হয়, দুটো পথে দশ ডলার আর একটায় মাত্র তিন। সব পথের জন্য একটাই সীমা, এই কথাটাও ঠিক নয়। কোন পথে কত, সেটা টাকা তোলার পাতায় ভাগ করে লেখা আছে।
এর একটা ব্যবহারিক ফল আছে যেটা অনেকে মিস করেন। অনুরোধটা আপনার পুরো তোলার উপযুক্ত অঙ্কের জন্যই হয়, তাই অঙ্কটা ছোট হলে কোন নেটওয়ার্ক বাছছেন সেটাই ঠিক করে দেয় অনুরোধটা আদৌ জমা হবে কি না।
দুই, অনুরোধ সবসময় করা যায়, কিন্তু টাকা সবসময় আসে না। অনুরোধ জমা দেওয়ার ঘরটা দিনরাত খোলা, এটা সত্যি। কিন্তু তার পরে একজন মানুষ সেটা দেখে অনুমোদন দেন, আর ওই ধাপটা স্বয়ংক্রিয় নয়। এ পর্যন্ত হওয়া প্রায় দুই হাজার অনুরোধের মধ্যে নাকচ হয়েছে প্রতি কুড়িটার একটা, সাধারণত ঠিকানা বা তথ্যের গোলমালে।
ভালো খবরটাও আছে। শেষ হওয়া অনুরোধগুলোর মাঝামাঝি সময় চার ঘণ্টার সামান্য বেশি, আর প্রতি পাঁচটার চারটে বারো ঘণ্টার ভেতরেই শেষ হয়েছে। অর্থাৎ ধীরগতির অভিযোগটা এখানকার সংখ্যায় মেলে না। তবে লেজটাও আছে, দিনখানেকের বেশি লেগেছে এমন ঘটনা হাতে গোনা কিন্তু শূন্য নয়।
টাকাটা কোথা থেকে আসে, আর কোথায় কাটা যায়
এই দুটো একসঙ্গে বললেই কেবল কথাটা সত্যি হয়।
বিক্রির ওপর কোনো কমিশন নেই, আর ব্যবস্থার ভেতরে এমন কিছু বসানোই নেই যেটা অর্ডারের টাকা থেকে কেটে নেয়। প্ল্যাটফর্ম নিজে একজন বিক্রেতা হিসেবেও এখানে বিক্রি করে, আর আয়ের একটা বড় অংশ ওখান থেকেই আসে। এই কারণেই প্রতিটা লেনদেনে কর বসানোর দরকার হয় না।
কিন্তু বিক্রেতা যখন টাকা তোলেন তখন দশ শতাংশ কাটা হয়, ব্যতিক্রম ছাড়া, আর এ পর্যন্ত হওয়া প্রতিটা অনুরোধেই সেটা হয়েছে। টাকা বার করার আর কোনো পথ নেই। তাই তালিকায় লেখা দামের পুরোটা বিক্রেতা পান, এই কথাটা ভুল।
ক্রেতার দিক থেকে অবশ্য কথাটা অন্যরকম। ওই দশ শতাংশ আপনার দামের ওপর বসেনি, বসেছে বিক্রেতার আয়ের ওপর। বিস্তারিত এই পাতায়।
যা এখানে সুরক্ষা নয়
এটুকু বলে রাখা দরকার, কারণ এই জিনিসগুলোর ওপর ভরসা করলে ঠকতে হয়।
- তারার গড় কোনো সুরক্ষা নয়। এখানে বিরাশি হাজারের বেশি রিভিউ আছে আর তার কার্যত সবগুলোই পূর্ণ পাঁচ তারা। যে সংখ্যা সবার ক্ষেত্রে এক, সেটা দিয়ে কাউকে বাছাই করা যায় না। এটা তথ্য নয়, সাজসজ্জা।
- বিক্রেতার স্তরও সুরক্ষা নয়। ওটা গত এক বছরের বিক্রির পরিমাণ মাপে, ভরসাযোগ্যতা নয়। বেশি বিক্রি করা আর ভালো সেবা দেওয়া এক জিনিস নয়।
- যাচাই করা বিক্রেতা বলে আলাদা কোনো ব্যবস্থা নেই। এই কথাটা কোথাও কোথাও লেখা থাকে, কিন্তু এরকম কোনো কর্মসূচি এখানে নেই।
তাহলে ক্রেতার হাতে কী থাকে। থাকে সময়ের নিয়মগুলো আর নথি। চব্বিশ ঘণ্টার নিয়মটা আপনার পক্ষে চলে, তালিকার লেখাটা পরে প্রমাণ হিসেবে থেকে যায়, আর সহায়তার ঘরের কথাবার্তা কেউ মুছতে পারে না। এই তিনটেই আপনার কিছু না করলেও কাজ করে, আর ঠিক এই কারণেই এগুলোই আসল সুরক্ষা।
Frequently Asked Questions
আছে, আর যেখানে লেখা নেই সেটা ভুল। তবে সব পথের জন্য একটাই সীমা নয়, সীমাটা নেটওয়ার্ক ধরে আলাদা। দুটো পথে দশ ডলার আর একটায় মাত্র তিন। অঙ্কটা ছোট হলে কোন নেটওয়ার্ক বাছছেন সেটাই ঠিক করে দেয় অনুরোধটা জমা হবে কি না।
অনুরোধ জমা দেওয়ার ঘরটা দিনরাত খোলা, কিন্তু তার পরে একজন মানুষ সেটা দেখে অনুমোদন দেন, আর ওই ধাপটা স্বয়ংক্রিয় নয়। এ পর্যন্ত হওয়া প্রায় দুই হাজার অনুরোধের প্রতি কুড়িটার একটা নাকচ হয়েছে, সাধারণত ঠিকানা বা তথ্যের গোলমালে।
একটা নির্দিষ্ট ক্রেতাকে নিজের একটা নির্দিষ্ট পণ্য থেকে আটকে দেওয়া যায়, গোটা দোকান থেকে নয়। সাধারণত কোনো খারাপ অর্ডারের পরে এটা করা হয়, আর ব্যবস্থাটা কোন অর্ডার থেকে এসেছে সেটাও ধরে রাখে। এ পর্যন্ত এরকম হয়েছে পঁচাত্তর বার।
খুব কম। ছিয়ানব্বই হাজারের বেশি অর্ডারের মধ্যে আপত্তি খোলা হয়েছে আড়াইশোর কিছু বেশি বার, অর্থাৎ প্রতি সাড়ে তিনশোটা অর্ডারে একটারও কম। বেশিরভাগ ব্যাপার সহায়তার ঘরেই মিটে যায়, আর সেখানে খোলা প্রায় বারো হাজার ঘরের তিরানব্বই শতাংশ নিষ্পত্তি হয়ে বন্ধ হয়েছে।
এই সাইটে সেটা দিয়ে কিছু বোঝা যায় না। এখানে বিরাশি হাজারের বেশি রিভিউয়ের কার্যত সবগুলোই পূর্ণ পাঁচ তারা, তাই সবার গড়ই এক। যে সংখ্যা সবার ক্ষেত্রে সমান, সেটা তথ্য নয়। বিক্রেতার স্তরও সাহায্য করে না, কারণ ওটা বিক্রির পরিমাণ মাপে, ভরসাযোগ্যতা নয়।
তিনটে জিনিস, আর তিনটেই আপনার কিছু না করলেও কাজ করে। টাকা দেওয়ার পর চব্বিশ ঘণ্টার নিয়মটা আপনার পক্ষে চলে, তালিকায় ঠিক কী লেখা ছিল সেটা পরে প্রমাণ হিসেবে থেকে যায়, আর সহায়তার ঘরের কথাবার্তা কেউ মুছতে পারে না।

Sarah Johnson
ডিজিটাল মার্কেটিং বিশেষজ্ঞ, সামাজিক মাধ্যম কৌশলে ১০+ বছরের অভিজ্ঞতা। কার্যকরী মার্কেটিং কৌশলের মাধ্যমে ব্যবসার অনলাইন উপস্থিতি বাড়াতে সাহায্য করতে আগ্রহী।


