Hstock: কোনটা আসল আর সাইটটার কী হয়েছিল
কেউ একটা লিংক পাঠিয়েছে যেখানে Hstock নামটা আছে, আর আপনি জানতে চান ওটা আসল কি না। মূল সাইটটা ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে বন্ধ হয়ে গেছে, আর এখন যা যা আছে সেগুলো নাম ধার করা আলাদা জায়গা।
Avery BennettHstock লিখে খুঁজলে বাংলাদেশ থেকে যা আসে তার মধ্যে গোটা চারেক প্রায়-একই নামের ঠিকানা থাকে, আলাদা আলাদা শেষাংশ নিয়ে। কারও কারও ক্ষেত্রে গুগল পুরো লিংকটাই দেখায়, protocol সহ, কারণ মানুষ ওটা কোথাও থেকে কপি করে এনে খোঁজেন। আপনি যদি সেই কারণেই এখানে এসে থাকেন, উত্তরটা নিচে আছে।
মূল সাইটটার কী হয়েছিল
Hstock.org ২০২৫ সালের ৫ ডিসেম্বর নিজেরাই জানিয়ে দেয় যে তারা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। ওটা ছিল ডিজিটাল আইডি আর অনলাইন সেবার একটা বাজার। বিক্রেতারা পুরোনো মেইলের আইডি, সোশ্যাল মিডিয়ার আইডি, যাচাইয়ের সেবা আর মার্কেটিংয়ের জিনিস তুলতেন, আর ক্রেতারা যেদিন যা মজুত থাকত তার মধ্যে থেকে নিতেন।
বন্ধ হওয়াটা হঠাৎ ঘটেনি। মাসের পর মাস ধরে ব্যবহারকারীরা একই কথা বলছিলেন: ঢুকতে তিন চারবার চেষ্টা লাগে, পাতা একবারে খোলে না, তালিকায় থাকা সেবা টাকা নিয়ে আর কিছু দেয় না, আর সাহায্যের উত্তর ধীরে ধীরে বন্ধ হয়ে যায়।
এর যেকোনো একটা আলাদাভাবে দেখলে একটা খারাপ সপ্তাহ মনে হয়। একসঙ্গে দেখলে বোঝা যায় জায়গাটা আর রক্ষণাবেক্ষণ হচ্ছে না। যে বাজারের ওপর আপনার কাজ দাঁড়িয়ে আছে সেটা এই আচরণ শুরু করলে সেটাই সবচেয়ে বড় সতর্কতা।
একই নামের অন্য ঠিকানাগুলো নিয়ে কী করবেন
নাম নকল করা সাইট আর বন্ধ হয়ে যাওয়া সাইটের ধারাবাহিকতা, এই দুটো এক জিনিস নয়। যেগুলো এখন Hstock নামটা নিয়ে আছে সেগুলো মূল ব্যবসার চালু থাকা অংশ নয়, সেগুলো পুরোনো নামটার খোঁজ ধরার চেষ্টা।
এর মানে এই নয় যে প্রতিটাই প্রতারণা। মানে হলো নামটা আপনাকে কোনো তথ্য দিচ্ছে না, তাই নাম ছাড়া অন্য কিছু দেখে বিচার করতে হবে। বাংলায় যাঁরা "স্ক্যাম ওয়েবসাইট কিভাবে চেনা যায়" খোঁজেন তাঁদের জন্য এখানে তিনটে প্রশ্ন সবচেয়ে কাজে দেয়:
- রিভিউগুলো কীসের সঙ্গে বাঁধা। খোলা মন্তব্যের ঘর আর নির্দিষ্ট অর্ডারের সঙ্গে বাঁধা রিভিউ, এই দুটো আলাদা ব্যবস্থা। প্রথমটা যে কেউ ভরে দিতে পারেন, দ্বিতীয়টায় পেছনে একটা লেনদেন লাগে।
- টাকা ফেরত আর আপত্তির নিয়ম লেখা আছে কি না। লেখা না থাকলে সেটা যিনি দেখছেন তাঁর ইচ্ছার ওপর নির্ভর করে।
- একটা প্রশ্নের উত্তর কত দিনে আসে। টাকা রাখার আগে একটা ছোট প্রশ্ন করে দেখুন।
টাকা রাখার আগে ছোট একটা অর্ডার করে পুরো পথটা একবার দেখে নেওয়া, এটাই এখানে সবচেয়ে সস্তা বিমা।
ওখানে টাকা বা অসমাপ্ত অর্ডার থেকে গেলে
সোজা কথাটা আগে বলে নেওয়া ভালো। বন্ধ হয়ে যাওয়া কোনো জায়গার আটকে থাকা টাকা বাইরের কেউ ছাড়াতে পারে না, আর যে অর্ডার কখনও পৌঁছায়নি সেটা তৃতীয় কেউ সম্পূর্ণ করতে পারে না। আমরাও পারি না।
যা করা যায়:
- পাতা যতক্ষণ খুলছে ততক্ষণে অর্ডারের ইতিহাস, ব্যালেন্স আর সাহায্যের কথাবার্তার ছবি তুলে রাখুন।
- যাঁদের কাছ থেকে কিনতেন তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করুন। অনেকেই অন্য জায়গায় সরে গেছেন আর তাঁদের পুরোনো ক্রেতাদের মনে রাখেন।
- টাকা দেওয়ার সময় খুব বেশি দিন না হলে যে মাধ্যমে দিয়েছিলেন তাদের কাছে আপত্তি জানানোর কথা ভাবুন।
সবচেয়ে জরুরি কাজটা টাকার নয়
ওখান থেকে কেনা কোনো আইডি এখনও ব্যবহার করলে সেটাই এই মুহূর্তে সবচেয়ে বড় ঝুঁকি, টাকার চেয়েও বড়।
কারণ সহজ। কেনা আইডির আগের মালিক ছিলেন কেউ একজন, আর তাঁর হাতে ফেরত নেওয়ার সূত্রগুলো থেকে যেতে পারে। যতক্ষণ বাজারটা চালু ছিল ততক্ষণ অন্তত একটা অভিযোগ জানানোর জায়গা ছিল। এখন সেটাও নেই।
তাই ক্রমটা এই: আগে গোপন শব্দ বদলান, তারপর ফেরার মেইলের ঠিকানা নিজের একটায় বদলান, তারপর দুই ধাপের যাচাইটা নতুন করে বসান। শেষের দুটোই আসল, প্রথমটা একা কিছু করে না। কীভাবে করবেন সেটা নিরাপত্তার পাতায় ধাপে ধাপে আছে।
HstockPlus এখানে কোথায়
নামের মিলটা আকস্মিক নয়, আর সেটা লুকিয়ে রাখারও কিছু নেই। এটা একই ধরনের খোলা বাজার, আর যেসব জিনিস নিয়ে পুরোনো জায়গার ব্যবহারকারীরা অভিযোগ করতেন সেগুলো এখানে লেখা নিয়মে দাঁড়ানো:
- ক্রেতা দেখে নেওয়ার আগে বিক্রেতা টাকা পান না। ক্রেতা নিজে কিছু না করলেও একটা সময় পরে হয়ে যায়, আর সেই সময়টা বিক্রেতার স্তর অনুযায়ী তিন দিন থেকে এক দিন।
- টাকা দেওয়ার পর চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যে পুরোটা না এলে টাকা ফেরত চাওয়ার লিখিত অধিকার।
- টাকা ফেরত এলে সেটা সাইটের ভেতরের ব্যালেন্সে জমা হয়, কার্ডে ফিরে যায় না। এটা আগে জানা থাকা দরকার।
- রিভিউ লেখেন কেবল সেই ক্রেতা যিনি ওই জিনিসটার জন্য টাকা দিয়েছেন।
- বিক্রির ওপর বিক্রেতাদের কোনো কমিশন দিতে হয় না।
এই মুহূর্তে ঊনচল্লিশটা বিভাগ, চারশোর বেশি উপবিভাগ, পাঁচশোর বেশি সক্রিয় দোকান আর সোশ্যাল মিডিয়ার দিকে ত্রিশ হাজারের বেশি সেবা চালু আছে।
আমাদের নিজের ঠিকানাটাও একবার রেজিস্ট্রারের পর্যালোচনায় পড়ে কিছুক্ষণের জন্য অচল ছিল। ক্রেতাদের মতামত, রিভিউ, লেনদেন আর সরবরাহের নথি আর কমিশনহীন কাঠামোর ব্যাখ্যা জমা দেওয়ার পর ব্যবসাটা যাচাই হয় আর ঠিকানা ফিরে আসে। ক্রেতাদের আইডি, ব্যালেন্স আর অর্ডারের ইতিহাসে কিছু বদলায়নি।
একটা জায়গার ওপর আর নির্ভর করবেন না
Hstock বন্ধ হয়ে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে তাঁদের, যাঁদের দ্বিতীয় কোনো ব্যবস্থা তৈরি ছিল না। নিয়মিত কিনলে তিনটে অভ্যাস রাখুন।
দ্বিতীয় একটা জায়গায় চালু একটা একাউন্ট রাখুন, যেটা দরকার পড়লে সেদিনই কাজে লাগে। যে বিক্রেতাদের সঙ্গে কাজ করেন তাঁদের যোগাযোগ কোনো একটা সাইটের ভেতরে আটকে রাখবেন না। আর নতুন জায়গায় পরিমাণ সরানোর আগে ছোট একটা অর্ডার করুন।
শেষ কথাটা সবচেয়ে দরকারি। সব ঠিক থাকলে কী হয় সেটা পরীক্ষা করে লাভ নেই, ভুল হলে কী হয় সেটা পরীক্ষা করুন। সস্তা কিছু কিনুন, একটা প্রশ্ন করুন, আর উত্তর আসতে কত দিন লাগে সেটা দেখুন। যেকোনো বৈশিষ্ট্যের তালিকার চেয়ে ওই একটা পরীক্ষা বেশি বলে দেয়।
কোন ধরনের জায়গা কার জন্য, সেটা বিকল্পের পাতায় আলাদা করে আছে।



