ওয়েবসাইট ছাড়াই ইনস্টাগ্রামে বিক্রি করার ব্যবস্থা
ইনস্টাগ্রামের ভেতরে টাকা নেওয়ার কোনো ব্যবস্থা আর নেই, তাই সব বিক্রিই শেষ হয় বার্তায়। সেই ব্যবস্থাটা গুছিয়ে চালানোর নিয়ম, অর্ডার থেকে ডেলিভারি পর্যন্ত।
Avery Bennettএকটা কথা শুরুতেই পরিষ্কার করে নেওয়া দরকার, কারণ পুরোনো অনেক লেখায় এখনো উল্টোটা বলা আছে।
ইনস্টাগ্রামের ভেতরে টাকা নেওয়ার ব্যবস্থাটা আর নেই। মেটা ২০২৫ সালের মাঝামাঝি থেকে ওটা তুলে দিতে শুরু করে আর অগাস্টের মধ্যে পুরোপুরি বন্ধ করে দেয়। পণ্যের ট্যাগ এখনো আছে, কিন্তু কেনাকাটা শেষ হয় ইনস্টাগ্রামের বাইরে।
বাংলাদেশের বিক্রেতার জন্য এটা আসলে কোনো ক্ষতি নয়, কারণ ওই ব্যবস্থাটা এখানে কোনোদিন ছিলই না। এখানে বিক্রি বরাবরই বার্তায় হয়েছে। তাই প্রশ্নটা হলো ওই বার্তার ব্যবস্থাটা কীভাবে গুছিয়ে চালাবেন।
ওয়েবসাইটের বদলে যে চারটে জিনিস লাগে
একটা ওয়েবসাইট চারটে কাজ করে। ওই চারটে কাজ আলাদা আলাদা ভাবে ইনস্টাগ্রামেই করা যায়।
- পণ্য দেখানো। হাইলাইটে, প্রতিটা ধরনের জন্য একটা করে। এটাই আপনার ক্যাটালগ।
- দাম আর তথ্য। ক্যাপশনে বা হাইলাইটের ছবিতে লেখা, যাতে বার্তা না পাঠিয়েও জানা যায়।
- অর্ডার নেওয়া। বার্তায়, বা একটা সহজ ফর্মের লিংক দিয়ে।
- টাকা নেওয়া। মোবাইল ওয়ালেট বা হাতে হাতে, ইনস্টাগ্রামের বাইরে।
একটা ওয়েবসাইট এগুলো একসঙ্গে করে বলেই সুবিধাজনক, কিন্তু শুরু করার জন্য এর কোনোটার জন্য ওয়েবসাইট লাগে না।
দাম লিখে দেওয়া নাকি ইনবক্সে
এটা এখানকার সবচেয়ে পুরোনো বিতর্ক, আর একটা দিক স্পষ্টভাবে ভালো।
দাম লিখে দিন। ইনবক্সে বলা হবে লিখলে যা ঘটে তা হলো: যাঁরা দাম দেখে কিনতেন না তাঁরাও বার্তা পাঠান, আপনার সময় যায়, আর যাঁরা সত্যিই কিনতেন তাঁদের একটা অংশ বার্তা পাঠানোর ঝামেলা এড়াতে চলে যান।
দাম গোপন রাখার একটাই বাস্তব যুক্তি আছে, প্রতিযোগী দেখে ফেলবে। কিন্তু প্রতিযোগী এমনিতেও দেখে ফেলে, একটা বার্তা পাঠিয়ে।
যেটা সত্যিই কাজ করে সেটা হলো দামের সঙ্গে কারণটা লেখা। কোথা থেকে আনা, কী দিয়ে বানানো, কতদিন টেকে। তখন দামটা একা দাঁড়িয়ে থাকে না।
অর্ডারের বার্তাটা যেভাবে সামলাবেন
বার্তায় বিক্রির সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো একই কথা দিনে চল্লিশবার লিখতে হয়।
তিনটে অভ্যাসে এটা অনেকটা কমে।
- বারবার আসা উত্তরগুলো জমা করে রাখুন। পেশাদার একাউন্টে দ্রুত উত্তরের ব্যবস্থা আছে, যেখানে একটা ছোট শব্দ লিখলে পুরো লেখাটা বসে যায়। ডেলিভারি চার্জ, কতদিন লাগবে, ফেরত নেওয়া হয় কি না, এগুলো ওখানে রাখুন।
- অর্ডারের জন্য একটা নির্দিষ্ট ছক চান। নাম, ঠিকানা, মোবাইল নম্বর, পণ্যের নাম আর সংখ্যা। ছক ছাড়া নিলে অর্ধেক অর্ডারে কিছু না কিছু বাদ পড়ে।
- বার্তা না পড়া হিসেবে চিহ্নিত করে রাখুন। যেগুলোর উত্তর দেওয়া বাকি সেগুলোয় দাগ থাকলে একটাও হারায় না।
আর একটা কথা। যিনি বার্তা পাঠিয়েছেন তাঁকে অপেক্ষা করানোই সবচেয়ে বড় ক্ষতি। মানুষ ইনস্টাগ্রামে কেনার সিদ্ধান্ত মিনিটে নেন, আর ছয় ঘণ্টা পরে উত্তর পেলে ততক্ষণে অন্য কোথাও কিনে ফেলেছেন।
টাকা: অগ্রিম, না ক্যাশ অন ডেলিভারি
এটাই ছোট ব্যবসার সবচেয়ে কঠিন সিদ্ধান্ত, আর দুই দিকেরই দাম আছে।
ক্যাশ অন ডেলিভারিতে ক্রেতার ঝুঁকি নেই, তাই অর্ডার বেশি আসে। কিন্তু যাঁরা মজা করে অর্ডার দেন তাঁরাও আসেন, আর পণ্য ফেরত এলে কুরিয়ারের খরচটা আপনার। নতুন দোকানে এই খরচটাই সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করে।
অগ্রিমে ভুয়া অর্ডার প্রায় থাকে না, কিন্তু নতুন দোকানে অনেকে টাকা দিতে ভরসা পান না।
মাঝামাঝি ব্যবস্থাটা বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সবচেয়ে ভালো চলে: ডেলিভারি খরচটুকু অগ্রিম, বাকিটা হাতে পেয়ে। এতে যিনি সত্যিই কিনবেন তাঁর কোনো অসুবিধা হয় না, আর মজা করে অর্ডার দেওয়াটা বন্ধ হয়ে যায়।
মোবাইল ওয়ালেটে টাকা নেওয়ার সময় একটা কথা খেয়াল রাখুন: ব্যক্তিগত নম্বরে টাকা পাঠানো আর মার্চেন্ট নম্বরে পেমেন্ট করা এক জিনিস নয়, আর খরচ দুটোয় আলাদা। কোনটা কার জন্য সেটা আপনার ওয়ালেটের নিজের শর্তে দেখা দরকার, কারণ ওই খরচ আর সীমা সময়ের সঙ্গে বদলায়।
বিশ্বাস তৈরি করা, যখন ওয়েবসাইট নেই
ওয়েবসাইট না থাকলে ক্রেতার কাছে যাচাই করার কিছু থাকে না, তাই বিশ্বাসটা প্রোফাইল থেকেই আসতে হয়।
যা সবচেয়ে বেশি কাজ করে সেটা হলো ক্রেতাদের নিজের কথা। কেউ পণ্য পেয়ে ছবি দিলে বা বার্তায় ভালো কিছু লিখলে সেটা স্টোরিতে দিন আর একটা হাইলাইটে জমা করুন। নিজের দাবি করা দশ লাইনের চেয়ে ক্রেতার এক লাইন বেশি ওজন রাখে।
দ্বিতীয়ত, পাঠানোর প্রক্রিয়াটা দেখান। প্যাকেট করা, কুরিয়ারে দেওয়া, রসিদ। এতে বোঝা যায় দোকানটা সত্যি।
তৃতীয়ত, যেগুলো পারবেন না সেগুলো লিখে দিন। ফেরত নেওয়া হয় না, বা রঙ ছবির চেয়ে একটু আলাদা হতে পারে, এই কথাগুলো আগে লিখে দিলে পরে ঝগড়া কমে আর বিশ্বাস বাড়ে।
বিক্রি বাড়ানোর কাজটা আলাদা
ওপরের সবটাই ব্যবস্থার কথা, বিক্রির কথা নয়। বিক্রির জন্য মানুষ লাগে, আর মানুষ আসে পৌঁছানো থেকে।
যে জায়গা থেকে অচেনা মানুষ আসে সেটা রিল, আর সেটা এক দিনের কাজ নয়। কারও কাছে টাকা দিয়ে সংখ্যা বাড়ানো এখানে বিশেষ কাজে দেয় না, কারণ ব্যবসার হিসাবে যেটা লাগে সেটা ফলোয়ার নয়, বার্তা।
যে জিনিসটা তুলনায় কাজে দেয় সেটা হলো একটা নির্দিষ্ট ভালো পোস্টের ওপর অল্প খরচ, যাতে সেটা আরও কিছু মানুষের কাছে যায়। ইনস্টাগ্রামের নিজের বিজ্ঞাপনও একই কাজ করে, আর সেখানে অন্তত কারা দেখলেন তা আপনি ঠিক করতে পারেন।



