ফেক ফলোয়ার চেনার উপায়, আর real লেখাটার মানে
কোনো তালিকা নিজেকে বট বলে না। এখানকার চার হাজারের বেশি পরিষেবার মধ্যে বারোশোর বেশিতে real লেখা আছে, বট লেখা আছে দশটাতে। তাই শব্দটা দিয়ে কিছু বোঝা যায় না।
Michael Chenবাংলায় ফেক ফলোয়ার লিখে খুঁজলে প্রথমেই যেটা আসে সেটা অ্যাপ। অর্থাৎ বেশিরভাগ মানুষ এই কথাটা লেখেন ফেক ফলোয়ার এড়াতে নয়, বানাতে।
তাই এখানে নীতিকথা নেই। শুরুটা একটা মাপ দিয়ে, কারণ ওই মাপটাই আসল প্রশ্নের উত্তর দেয়: কোনো একাউন্টের ফলোয়ার আসল কি না, সেটা বাইরে থেকে বোঝা যায় কি না।
তালিকায় real লেখা থাকলে কী বোঝায়
প্রায় কিছুই না, আর এটা মেপে দেখা যায়।
৩১ অগাস্ট ২০২৬ তারিখে এখানকার ইনস্টাগ্রামের চালু পরিষেবার সংখ্যা চার হাজার চারশোর বেশি। তার মধ্যে বারোশোর বেশি তালিকার নামে real শব্দটা বসানো আছে। আর নামে bot শব্দটা আছে মাত্র দশটাতে।
কারণটা সোজা। নামটা লেখেন বিক্রেতা নিজে, আর কেউ নিজের জিনিসকে বট বলে বিক্রি করেন না। অর্থাৎ শব্দটার উপস্থিতি কোনো তথ্য দেয় না, শুধু অনুপস্থিতিটা একটা প্রশ্ন তোলে।
যেসব ঘর সত্যিই তথ্য দেয় সেগুলো আলাদা: ফেরত ভরার শর্ত আছে কি না, বাতিল করা যায় কি না, আর কোন দেশ লেখা আছে। ওগুলো মাপা যায়, real শব্দটা যায় না। এই চার হাজারের মধ্যে ফেরত ভরার চিহ্ন আছে প্রতি আটটার একটাতে, আর ঘরগুলো কীভাবে কাজ করে সেটা তালিকার পাতায় বিস্তারিত আছে।
একটা একাউন্ট যাচাই করার চারটে ধাপ
এটা নিজের একাউন্টেও কাজ করে, আর কাউকে টাকা দেওয়ার আগে তাঁর একাউন্টেও কাজ করে। কোনো সরঞ্জাম লাগে না।
- শেষ ছয়টা পোস্টের সাড়া গুনুন। একটাতে নয়, ছয়টাতে। একটা পোস্ট হঠাৎ চলতে পারে, ছয়টার গড় মিথ্যে বলে না।
- মন্তব্যগুলো পড়ুন। সংখ্যা নয়, লেখাগুলো। শুধু ইমোজি, শুধু nice, বা একই ধরনের ছোট ছোট কথা বারবার এলে ওগুলো মানুষের লেখা নয়।
- ফলোয়ারের তালিকায় ঢুকে বিশটা নাম দেখুন। ছবি নেই, পোস্ট নেই, নামে এলোমেলো সংখ্যা, আর হাজার হাজার মানুষকে ফলো করছেন, এমন একাউন্ট কতগুলো তা গুনে ফেলুন।
- স্টোরির ভিউয়ের সঙ্গে ফলোয়ার মেলান। এটাই সবচেয়ে কড়া পরীক্ষা, কারণ স্টোরি মূলত ফলোয়ারদের কাছেই যায়। পঞ্চাশ হাজার ফলোয়ার আর দুশো স্টোরি ভিউ, এই দুটো একসঙ্গে থাকতে পারে না।
চারটের মধ্যে অন্তত তিনটে মিললে ছবিটা পরিষ্কার হয়ে যায়। একটা মিললে সেটা প্রমাণ নয়।
ফেক ফলোয়ার আসলে কোথায় ধরা পড়ে
ক্ষতিটা শুধু এক জায়গায় নয়, কয়েক জায়গায় ছড়ানো, আর জায়গাগুলো একে অপরের থেকে আলাদা।
যিনি কাজ দেবেন তাঁর কাছে। ব্র্যান্ড বা এজেন্সি প্রথমেই ফলোয়ারের সংখ্যা দেখে না, দেখে সাড়ার সঙ্গে সংখ্যার সম্পর্ক। ফাঁক থাকলে কথাটা আর এগোয় না, আর সাধারণত কেউ বলেও না কেন এগোল না।
বিক্রির সময়। যাঁরা পণ্য বিক্রি করেন তাঁদের ক্ষেত্রে ব্যাপারটা আরও নির্মম। বিশ হাজার ফলোয়ার থেকে যদি সপ্তাহে দুটো বার্তা আসে, তাহলে সংখ্যাটা কোনো কাজেই লাগছে না।
নিজের সিদ্ধান্তে। এটা সবচেয়ে কম বলা হয়। ভুয়া সংখ্যা থাকলে আপনি বুঝতেই পারেন না কোন পোস্টটা সত্যিই ভালো হয়েছিল, কারণ সব পোস্টেই একই রকম ফাঁপা সংখ্যা আসে। তখন শেখার পথটাই বন্ধ হয়ে যায়।
যাঁরা ইতিমধ্যেই কিনে ফেলেছেন
এটা শেষ নয়, আর আতঙ্কিত হওয়ারও কিছু নেই।
ইনস্টাগ্রাম সাধারণত এই কারণে একাউন্ট বন্ধ করে না। যা করে তা হলো ওই একাউন্টগুলো নিজেই সরিয়ে দেয়, তাই কয়েক মাস পরে সংখ্যাটা এমনিতেই নামে। অনেকে ভাবেন কেউ আনফলো করেছেন, আসলে তা নয়।
করণীয়টা তিন ধাপের। এক, নতুন করে আর কিছু কিনবেন না। দুই, যেগুলো স্পষ্ট ভুয়া সেগুলো ধীরে ধীরে সরান, আর তার নিয়মগুলো আলাদা লেখায় আছে। তিন, সংখ্যা নামতে দিন। ছোট সংখ্যা নিয়ে চলা যায়, ফাঁপা সংখ্যা নিয়ে যায় না।
টাকা খরচের যে জায়গাটা তুলনায় যুক্তিসঙ্গত
সব ধরনের কেনা এক রকম নয়, আর এই ফারাকটা বলা দরকার।
ফলোয়ার কেনা আপনার প্রোফাইলের স্থায়ী চেহারা বদলে দেয়, আর ওই সংখ্যাটা আপনার সঙ্গে থেকে যায়। একটা নির্দিষ্ট পোস্টের ওপর কাজ, যেমন ভিউ, আলাদা, কারণ ওটা ওই পোস্টের সঙ্গেই শেষ হয়ে যায় আর আপনার একাউন্টের অনুপাতে বসে থাকে না।
তবু এটা কোনো ভিত্তি নয়। যে পোস্টটা নিজে থেকে কাউকে থামাতে পারে না, তার ওপর টাকা খরচ করলে শুধু সংখ্যাটাই বাড়ে।
আর যা কখনোই কেনার মতো নয় সেটা হলো বিশ্বাস। একজন মানুষ যখন আপনার কথা শুনে কিছু কেনেন, সেটা কোনো তালিকায় বিক্রি হয় না।
কার জন্য সংখ্যাটা তবু কাজে লাগে
সৎভাবে বললে, একটা অবস্থায় বড় সংখ্যা সত্যিই কিছু করে, আর সেটা লুকোনোর দরকার নেই।
একদম নতুন একটা প্রোফাইলে কেউ এসে দশজন ফলোয়ার দেখলে দ্বিধা করেন। এটা মনস্তত্ত্ব, আর এটা বাস্তব।
কিন্তু ওই সমস্যার সমাধান হাজার হাজার ভুয়া ফলোয়ার নয়। সমাধান হলো প্রোফাইলটা ভরা দেখানো: নয়টা ভালো পোস্ট, পরিষ্কার পরিচয়ের লাইন, আর কয়েকটা হাইলাইট। খালি প্রোফাইলে বিশ হাজার ফলোয়ার দেখলে মানুষ যা ভাবেন, সেটা আপনি চান না।



