ইনস্টাগ্রামে কতবার পোস্ট দেওয়া উচিত
বাংলায় এই প্রশ্নটা কেউ খোঁজেন না, খোঁজেন কীভাবে পোস্ট করতে হয়। তাই এখানে সংখ্যার আগে বলা হয়েছে আপনি আসলে সপ্তাহে কতটা বানাতে পারবেন, কারণ সীমাটা ওখানেই।
Sarah Johnsonবাংলায় এই বিষয়ে যা খোঁজা হয় তার সবটাই এক রকম: ছবি কীভাবে পোস্ট করে, ভিডিও কীভাবে পোস্ট করে, পোস্ট করার নিয়ম কী। কতবার দেওয়া উচিত, এই প্রশ্নটা বাংলা অক্ষরে কেউ লেখেন না।
তার মানে এই নয় যে প্রশ্নটা অপ্রয়োজনীয়। মানে হলো, বেশিরভাগ মানুষ এখনো ওই ধাপে পৌঁছাননি। তাই এখানে সংখ্যাটা শুরুতে বলা হয়নি। শুরু হয়েছে যে জিনিসটা আসলে সংখ্যাটা ঠিক করে দেয় সেটা দিয়ে।
সীমাটা পোস্টে নয়, বানানোয়
সপ্তাহে কয়টা পোস্ট দেবেন সেটা ইচ্ছার প্রশ্ন নয়, উৎপাদনের প্রশ্ন। একটা পোস্ট মানে একটা ছবি নয়। মানে ছবি তোলা, বেছে নেওয়া, সম্পাদনা, ক্যাপশন লেখা, আর পোস্টের পরে মন্তব্যের উত্তর দেওয়া।
তাই সংখ্যাটা ঠিক করার সহজ উপায় হলো একবার মেপে দেখা। এক শনিবার বিকেলে বসুন, ঘড়ি ধরুন, আর যতগুলো পোস্ট পুরোপুরি তৈরি করে ফেলতে পারেন করুন। যা বেরোল, সেটাই আপনার সপ্তাহের সংখ্যা।
বেশিরভাগ মানুষ এই পরীক্ষাটা করে অবাক হন, কারণ সংখ্যাটা তাঁরা যা ভেবেছিলেন তার চেয়ে কম হয়। কম হওয়াই ভালো। যে সংখ্যাটা মাপা, সেটা রাখা যায়।
এক বসায় অনেকগুলো, তারপর ছড়িয়ে দেওয়া
রোজ কিছু একটা বানাতে বসাই সবচেয়ে বড় ক্লান্তির কারণ, আর এখানেই বেশিরভাগ একাউন্ট থেমে যায়।
উল্টো পথটা সহজ। একদিন সব ছবি তুলে ফেলুন, একই আলোয়, একই জায়গায়। জামা বদলে নিলে আলাদা দিনের মতো দেখায়। তারপর সবগুলোর সম্পাদনা একসঙ্গে করুন, কারণ একই কাজ পরপর করলে অনেক দ্রুত হয়। ক্যাপশনগুলোও একসঙ্গে লিখে রাখুন।
এতে দুটো জিনিস হয়। আপনার সপ্তাহে পোস্টের জন্য আলাদা সময় লাগে না, আর অসুস্থ হলে বা পরীক্ষা পড়লে ভান্ডারে কিছু জমা থাকে।
তৈরি জিনিস জমিয়ে রাখার ঘরটা ইনস্টাগ্রামের ভেতরেই আছে, আর সেটা কোথায় লুকিয়ে থাকে তা এই লেখায় আলাদা করে বলা আছে। নির্দিষ্ট সময়ে নিজে থেকে প্রকাশ করার ব্যবস্থাটা অন্য লেখায়।
সংখ্যার বদলে একটা দিন বাছুন
সপ্তাহে তিনটা, এই কথাটা যত সহজ শোনায় তত সহজে ভাঙে, কারণ তিনটা কবে দিতে হবে তা কোথাও লেখা নেই।
বরং দিন বেছে নিন। মঙ্গল আর শুক্র, রাত নয়টা। এখন আর সিদ্ধান্ত নিতে হয় না, শুধু মনে রাখতে হয়। যাঁরা নিয়মিত থাকতে পারেন তাঁদের প্রায় সবাই এই কাজটাই করেন, সংখ্যা গোনার বদলে ঘর ভরার কাজ।
আর যে দিনটা রাখা যাচ্ছে না, সেটা তুলে দিন। তিনটার জায়গায় দুটো রাখা লজ্জার কিছু নয়। যেটা লজ্জার সেটা হলো তিন সপ্তাহ পর সব বন্ধ হয়ে যাওয়া।
তিনটে ঘরের তিনটে আলাদা হিসাব
ফিড, স্টোরি আর রিল একই মাপকাঠিতে চলে না, তাই একটা সংখ্যা তিনটার জন্য বসানো যায় না।
- স্টোরি সবচেয়ে সস্তা। এখানে মান নিয়ে ভাবার দরকার নেই, খরচ প্রায় শূন্য, আর চব্বিশ ঘণ্টা পরে মুছে যায়। রোজ দুই তিনটা দেওয়া যায়।
- রিল সবচেয়ে দামি, কারণ এটাই একমাত্র ঘর যেটা আপনার ফলোয়ারের বাইরে যায়। তাই দুর্বল রিল দেওয়ার চেয়ে না দেওয়া ভালো।
- ফিডের পোস্ট মাঝামাঝি। এটা আপনার প্রোফাইলে থেকে যায়, তাই কেউ নতুন এসে যা দেখবেন সেটাই। ফিড হলো আপনার দোকানের সাজানো তাক।
বাস্তব একটা ভাগ হতে পারে এই রকম: স্টোরি রোজ, ফিড সপ্তাহে দুই, রিল সপ্তাহে এক। এটা নিয়ম নয়, শুরু করার একটা জায়গা। ছয় সপ্তাহ চালিয়ে নিজের সংখ্যাগুলো দেখে বদলে নিন।
ফাঁক পড়ে গেলে
এটা সবার হয়, আর এখানেই বেশিরভাগ মানুষ ভুল করেন। দুই মাস চুপ থাকার পর মানুষ হয় হাল ছেড়ে দেন, নয় ক্ষতিপূরণের জন্য একদিনে সাতটা পোস্ট দিয়ে দেন।
দুটোই কাজ করে না। ফিরে আসার সময় স্বাভাবিক ছন্দেই ফিরুন, একটা পোস্ট দিয়ে। প্রথম কয়েকটা পোস্টে সাড়া কম আসবে, কারণ আপনার ফলোয়াররা এতদিন আপনাকে দেখেননি বলে ইনস্টাগ্রামও আপনাকে তাঁদের সামনে কম আনে। এটা শাস্তি নয়, কয়েক সপ্তাহে ফিরে আসে।
আর একটা কথা। ফাঁক পড়ার ভয়ে একাউন্ট বন্ধ বা ডিএক্টিভেট করার দরকার নেই, ওতে কিছুই ভালো হয় না। চুপ থাকা আর অদৃশ্য হওয়া এক জিনিস নয়।
সময় বাছার কাজটা, আর তার সীমা
ঠিক সময়ে দিলে পোস্টের শুরুর গতি ভালো হয়, এটা সত্যি। কিন্তু ওই সময়টা কারও পক্ষে অনুমান করা সম্ভব নয়, কারণ সেটা আপনার নিজের ফলোয়ারদের ওপর নির্ভর করে।
নিজের সংখ্যাটা দেখার একটাই জায়গা, আর সেটা ইনসাইটস। এখানে একটা শর্ত আছে যা প্রায়ই বলা হয় না: ব্যক্তিগত একাউন্টে ইনসাইটস থাকে না। পেশাদার একাউন্টে বদলে নিলে তবেই ফলোয়াররা কোন সময়ে সক্রিয় থাকেন তা দেখা যায়, আর সেটা বিনামূল্যে।
এর বেশি সময় নিয়ে ভাবার দরকার নেই। ভালো সময়ে দেওয়া দুর্বল পোস্ট দুর্বলই থাকে, আর ভুল সময়ে দেওয়া ভালো পোস্ট কয়েক ঘণ্টা দেরিতে হলেও চলে।
ছয় সপ্তাহ পরে সংখ্যাটা আবার দেখুন
প্রথমে যে সংখ্যাটা ঠিক করেছিলেন সেটা অনুমান, আর অনুমান বদলানোর জন্যই থাকে।
ছয় সপ্তাহ চালিয়ে তিনটে প্রশ্নের উত্তর দিন। ছন্দটা কি রাখতে পেরেছেন, নাকি কয়েকবার ভেঙেছে। পোস্টগুলোর মান কি একই ছিল, নাকি শেষের দিকে ভরাট করার মতো হয়ে গিয়েছিল। আর প্রোফাইলে আসা বা বার্তার সংখ্যা কি নড়েছে।
প্রথম দুটোর উত্তর খারাপ হলে সংখ্যা কমান। তিনটেই ভালো হলে একটা বাড়িয়ে দেখুন, আর আরও ছয় সপ্তাহ চালান।
যে ভুলটা সবচেয়ে বেশি হয় সেটা হলো এক সপ্তাহ দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া। একটা পোস্ট ভালো চলল বা খারাপ চলল, তাতে কিছুই প্রমাণ হয় না। ছন্দের ফল দেখতে অন্তত ছয় সপ্তাহ লাগে, আর সেটাই এই কাজের সবচেয়ে কঠিন অংশ।



