ইনস্টাগ্রামে পোস্ট আগে থেকে ঠিক করে রাখার উপায়
বাইরের অ্যাপ খোঁজার আগে জেনে নিন ইনস্টাগ্রাম নিজেই এখন বিনামূল্যে এই কাজটা করে। কোথায় করে, কী কী পারে না, আর বাইরের অ্যাপ কখন সত্যিই লাগে।
Avery Bennettবাংলা অক্ষরে এই বিষয়ে কেউ খোঁজেন না। বাংলাদেশ থেকে যা খোঁজা হয় তা ইংরেজিতে, আর তার প্রথম শব্দটাই free। দ্বিতীয় সবচেয়ে বেশি খোঁজা শব্দটা app।
তাহলে সোজা উত্তর দিয়েই শুরু করা যাক। বিনামূল্যের ব্যবস্থাটা আছে, আর সেটা কোনো বাইরের অ্যাপ নয়। ইনস্টাগ্রামের ভেতরেই।
ইনস্টাগ্রাম নিজেই এখন এটা করে
ছবি বা রিল তৈরি করে শেষ পর্দায় গিয়ে বাড়তি সেটিংসের ঘরটা খুললে সেখানে দিন আর সময় বসানোর জায়গা থাকে। বসিয়ে দিলে ইনস্টাগ্রাম নিজে ওই সময়ে প্রকাশ করে দেয়। কোনো টাকা লাগে না, কোনো অ্যাপ নামাতে হয় না, আর আপনার পাসওয়ার্ড কাউকে দিতে হয় না।
দুটো কথা এর সঙ্গে জুড়ে দেওয়া দরকার। প্রথমত, এই ঘরটা আগে শুধু পেশাদার একাউন্টে ছিল, ২০২৬ সালের মার্চ থেকে সব প্রকাশ্য একাউন্টে এসেছে। দ্বিতীয়ত, ইনস্টাগ্রাম এই ধরনের ঘর নীরবে সরায় আর ফেরায়, তাই আপনার অ্যাপে আছে কি না সেটা নিজের চোখে দেখে নেওয়াই একমাত্র নিশ্চিত পথ।
সীমাগুলোও জেনে রাখা ভালো: প্রায় আড়াই মাস পর্যন্ত আগাম সময় বসানো যায় আর দিনে পঁচিশটার মতো পোস্ট রাখা যায়। এই সংখ্যাগুলো সময়ের সঙ্গে বদলায়, তাই ভান্ডারে যা আছে তা দিয়ে নিজে পরীক্ষা করে নিন।
যেটা ইনস্টাগ্রামের নিজের ঘরে হয় না
একটা জিনিস এখানে নেই, আর সেটাই সবচেয়ে বেশি খোঁজা হয়: স্টোরি।
স্টোরি আগে থেকে ঠিক করে রাখা অ্যাপের ভেতর থেকে হয় না। এই কাজটার জন্য মেটার নিজের ডেস্কটপ টুল লাগে, যেটা কম্পিউটারের ব্রাউজারে চলে, বিনামূল্যে, আর ফেসবুক পেজের সঙ্গে জোড়া লাগানো একাউন্ট চায়।
তাহলে ছবিটা এই রকম দাঁড়ায়। ফোনের ভেতরের ব্যবস্থা: পোস্ট, ক্যারোসেল আর রিল, স্টোরি নয়। মেটার ডেস্কটপ টুল: সঙ্গে স্টোরিও, আর একসঙ্গে ফেসবুকেও পাঠানো যায়। বাইরের অ্যাপ: বাকি সব, তার জন্য টাকা লাগে।
বাইরের অ্যাপে ছবির সংখ্যা কেন আটকে যায়
এটা এমন একটা সীমা যেটা কোনো অ্যাপের বিজ্ঞাপনে লেখা থাকে না, অথচ ধরা পড়লে বিরক্তিকর।
ইনস্টাগ্রামের ভেতর থেকে একটা পোস্টে কুড়িটা পর্যন্ত ছবি বা ভিডিও দেওয়া যায়। কিন্তু বাইরের কোনো অ্যাপ দিয়ে পাঠালে দশটার বেশি যায় না। কারণটা ওই অ্যাপের দুর্বলতা নয়, মেটা বাইরের অ্যাপকে যে দরজা দিয়েছে সেই দরজাটাই দশে থেমে আছে।
এর মানে বড় ক্যারোসেল যাঁরা বানান তাঁদের ওই পোস্টটা ফোন থেকেই দিতে হবে, যত ভালো অ্যাপই কেনা হোক। সংখ্যাটা মিলিয়ে নেওয়ার সহজ পরীক্ষাটা এই লেখায় বলা আছে।
টাকা কখন সত্যিই লাগে
বিনামূল্যের ব্যবস্থা প্রায় সবার জন্য যথেষ্ট। যে তিনটে অবস্থায় সেটা আর যথেষ্ট থাকে না, সেগুলো নির্দিষ্ট।
- অনেকগুলো একাউন্ট। পাঁচটা ক্লায়েন্টের পাঁচটা একাউন্ট এক জায়গা থেকে চালাতে হলে বারবার লগইন করা অসম্ভব হয়ে ওঠে।
- দলে অনুমোদন লাগলে। কেউ বানাবেন আর কেউ দেখে ছাড়পত্র দেবেন, এই ধাপটা কোনো বিনামূল্যের ব্যবস্থায় নেই।
- একসঙ্গে অনেক জায়গায়। ইনস্টাগ্রামের সঙ্গে টিকটক, ইউটিউব বা লিংকডইনেও একই জিনিস গেলে তবেই বাইরের অ্যাপ টাকার মূল্য দেয়।
এর একটাও যদি আপনার ক্ষেত্রে না মেলে, তাহলে মাসিক টাকা দিয়ে যা কিনছেন সেটা ইতিমধ্যেই আপনার ফোনে আছে।
যে অ্যাপগুলো এই ছদ্মবেশে বিপজ্জনক
পোস্ট আগে থেকে ঠিক করে রাখা নিরাপদ কাজ। কিন্তু একই খোঁজার ফলে যা আসে তার একটা বড় অংশ এই কাজটা করে না, অন্য কাজ করে।
ফারাকটা একটা লাইনে ধরা যায়। যে অ্যাপ শুধু নির্দিষ্ট সময়ে আপনার বানানো পোস্ট প্রকাশ করে, সেটা ঠিক আছে। যে অ্যাপ আপনার হয়ে অন্যকে ফলো করে, লাইক দেয় বা মন্তব্য করে, সেটা আলাদা জিনিস আর সেটাই একাউন্টের বিপদ।
চেনার উপায়ও সোজা। আসল টুল আপনাকে ইনস্টাগ্রামের নিজের অনুমোদনের পর্দায় পাঠায়, যেখানে আপনি অনুমতি দেন। নকলটা তার নিজের ঘরে আপনার নাম আর পাসওয়ার্ড চায়। দ্বিতীয়টা দেখলেই থামুন, কারণ ওই পাসওয়ার্ড দেওয়ার পর একাউন্টটা আর শুধু আপনার থাকে না।
আর একটা কথা, যেটা প্রায়ই এড়িয়ে যাওয়া হয়। apk হিসেবে বাইরে থেকে নামানো অ্যাপগুলোর বেলায় এই ঝুঁকিটা সবচেয়ে বেশি, কারণ ওগুলো কোনো দোকানের যাচাই পেরিয়ে আসে না।
ঠিক করার আগে যে তিনটে প্রশ্ন
অ্যাপের তালিকা মুখস্থ করার দরকার নেই। এই তিনটে প্রশ্নের উত্তর দিলেই পথটা বেরিয়ে আসে।
- স্টোরি লাগবে কি? না হলে ফোনের ভেতরের ব্যবস্থাই যথেষ্ট। হলে মেটার ডেস্কটপ টুল।
- কয়টা একাউন্ট? একটা হলে টাকা দেওয়ার কোনো কারণ নেই।
- ওটা কি আমার হয়ে কিছু করে? শুধু প্রকাশ করলে ঠিক আছে, ফলো বা লাইক করলে নয়।
শেষে একটা কথা মনে রাখা ভালো। আগে থেকে ঠিক করে রাখা আপনাকে নিয়মিত রাখে, ভালো বানায় না। ছন্দ ঠিক করার হিসাবটা আলাদা লেখায় আছে।
ঠিক সময়ে গিয়ে যা যা আটকাতে পারে
নির্দিষ্ট সময়ে প্রকাশ করার ব্যবস্থা মাঝেমধ্যে কাজ করে না, আর কারণগুলো প্রায় সবসময় একই কয়েকটা।
- সংযোগ ছিল না। ফোনের ভেতরের ব্যবস্থায় নির্ধারিত সময়ে ফোনটা নেটওয়ার্কে না থাকলে প্রকাশ পিছিয়ে যেতে পারে। বাইরের টুল এই সমস্যায় পড়ে না, কারণ সেগুলো তাদের নিজের সার্ভার থেকে পাঠায়।
- গানটা আটকে গেছে। কোনো গানের অনুমতি বদলে গেলে বা আপনার একাউন্টের ধরনে ওটা না চললে পোস্টটা যেতে পারে না।
- ফাইলের মাপ বা দৈর্ঘ্য। খুব বড় ফাইল বা খুব লম্বা ভিডিও বাইরের টুল থেকে যায় না।
- জোড়াটা খুলে গেছে। বাইরের টুলের অনুমতি মেয়াদ শেষে বাতিল হয়, আর তখন কিউয়ে থাকা সব পোস্ট চুপচাপ থেমে থাকে।
শেষেরটাই সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করে, কারণ কোনো বার্তা আসে না। যাঁরা বাইরের টুল ব্যবহার করেন তাঁদের সপ্তাহে একবার নিজের প্রোফাইলটা খুলে দেখে নেওয়া উচিত পোস্টগুলো সত্যিই গেছে কি না।
Frequently Asked Questions
না। ইনস্টাগ্রামের ভেতরেই ব্যবস্থাটা আছে, শেষ পর্দার বাড়তি সেটিংসের ঘরে। ছবি, ক্যারোসেল আর রিলের জন্য এটা বিনামূল্যে কাজ করে এবং কোনো অ্যাপ নামাতে হয় না। ঘরটা আপনার অ্যাপে আছে কি না নিজে দেখে নিন, কারণ ইনস্টাগ্রাম এসব নীরবে বদলায়।
ফোনের অ্যাপের ভেতর থেকে যায় না, এটাই সবচেয়ে বড় ফাঁক। স্টোরির জন্য মেটার ডেস্কটপ টুল লাগে, যেটা কম্পিউটারের ব্রাউজারে চলে আর বিনামূল্যে। ওই টুলের জন্য একাউন্টটা একটা ফেসবুক পেজের সঙ্গে জোড়া থাকা দরকার।
কারণ বাইরের অ্যাপের দরজাটা দশটাতে থেমে আছে। ইনস্টাগ্রামের ভেতর থেকে কুড়িটা পর্যন্ত দেওয়া যায়, কিন্তু কোনো টুল দিয়ে পাঠালে দশের বেশি যায় না। এটা অ্যাপের দোষ নয়, আর টাকা দিলেও বদলায় না। বড় পোস্ট ফোন থেকেই দিতে হবে।
যেটা আপনাকে ইনস্টাগ্রামের নিজের অনুমোদনের পর্দায় পাঠায় সেটা নিরাপদ। যেটা নিজের ঘরে আপনার নাম আর পাসওয়ার্ড চায় সেটা নয়। বাইরে থেকে ফাইল আকারে নামানো অ্যাপগুলোতে ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি, কারণ ওগুলো কোনো দোকানের যাচাই পেরোয় না।
ওটা আর শিডিউল করার টুল নয়, ওটা অটোমেশন, আর একাউন্টের ঝুঁকিটা ওখানেই। নির্দিষ্ট সময়ে আপনার নিজের বানানো পোস্ট প্রকাশ করা আর আপনার হয়ে অন্যের ঘরে গিয়ে কাজ করা এক জিনিস নয়। প্রথমটা স্বাভাবিক, দ্বিতীয়টা এড়িয়ে চলুন।
তিনটে অবস্থায়। একাধিক একাউন্ট এক জায়গা থেকে চালাতে হলে, দলে কারও অনুমোদন লাগলে, বা ইনস্টাগ্রামের পাশাপাশি অন্য প্ল্যাটফর্মেও একই জিনিস পাঠাতে হলে। একটা একাউন্টের জন্য মাসিক টাকা দেওয়ার কোনো কারণ নেই।

Avery Bennett
সোশ্যাল মিডিয়া কনসালট্যান্ট এবং গ্রোথ হ্যাকার। সব আকারের ব্র্যান্ডের জন্য ভাইরাল কন্টেন্ট তৈরি এবং ইনফ্লুয়েন্সার মার্কেটিং কৌশলে বিশেষজ্ঞ।


