স্টোরিতে ভিউ কম কেন, আর বাড়ানোর উপায় কী
বাংলায় স্টোরি নিয়ে যত খোঁজা হয় তার প্রায় সবটাই লুকিয়ে দেখা নিয়ে। সেটাই আপনার সংখ্যা কমার একটা কারণ। বাকি কারণগুলো আর সমাধানগুলো এখানে।
Michael Chenবাংলাদেশ থেকে স্টোরির ভিউ নিয়ে যা খোঁজা হয় তার দশটার মধ্যে নয়টা একই জিনিস নিয়ে: কীভাবে অন্যের স্টোরি দেখা যায় নাম না দেখিয়ে।
নিজের ভিউ বাড়ানোর কথা প্রায় কেউ খোঁজেন না। অথচ ওই দুটো প্রশ্ন একই মুদ্রার দুই পিঠ, কারণ যাঁরা লুকিয়ে দেখেন তাঁরা কারও না কারও সংখ্যা থেকে বাদ পড়ছেন।
আপনার স্টোরি আসলে কারা দেখতে পান
সংখ্যাটা কম মনে হওয়ার প্রথম কারণ হলো সীমাটা কোথায় সেটা না জানা।
স্টোরি মূলত আপনার ফলোয়ারদের কাছেই যায়। ফিডের পোস্ট বা রিলের মতো এটা অচেনা মানুষের সামনে যায় না। তাই আপনার ফলোয়ার যদি আটশো হয়, স্টোরির ভিউ কখনোই আটশো ছাড়াবে না, আর দুশো হলে সেটা খারাপ নয়।
একটা কাজের হিসাব আছে যেটা সংখ্যার চেয়ে ভালো: ভিউকে ফলোয়ার দিয়ে ভাগ করা। ওই অনুপাতটা যদি সময়ের সঙ্গে বাড়ে, আপনি ঠিক পথে আছেন, সংখ্যাটা যাই হোক।
ব্যতিক্রম দুটো। কেউ আপনার স্টোরি তাঁর নিজের স্টোরিতে ভাগ করে নিলে, বা আপনি কাউকে উল্লেখ করলে তিনি সেটা ভাগ করলে, তখন তাঁর ফলোয়াররাও দেখতে পান। এটাই একমাত্র পথ যেখান দিয়ে অচেনা মানুষ স্টোরিতে আসেন।
যাঁরা দেখেছেন তাঁদের তালিকা, আর তার সময়সীমা
স্টোরি চব্বিশ ঘণ্টায় মুছে যায়, কিন্তু কারা দেখেছেন তার তালিকাটা তার চেয়ে বেশি সময় থাকে, প্রায় আটচল্লিশ ঘণ্টা।
অর্থাৎ স্টোরিটা যখন আর কেউ দেখতে পাচ্ছেন না, তখনও আপনি তালিকাটা দেখতে পাচ্ছেন। এই ফাঁকটা কাজে লাগে, কারণ পরদিন সকালে বসে ধীরে ধীরে দেখা যায় কারা আসছেন।
তালিকার ক্রম নিয়ে একটা কথা খুব ছড়ায়: যিনি সবার ওপরে আছেন তিনি নাকি আপনাকে সবচেয়ে বেশি দেখেন। ইনস্টাগ্রাম কোথাও বলেনি ক্রমটা কীসের ওপর ঠিক হয়, তাই এই দাবিটার পেছনে কিছু নেই। শুরুর দিকে ক্রমটা মূলত সময়ের হয়, পরে বদলে যায়, আর তার বেশি কেউ জানে না।
লুকিয়ে দেখার সরঞ্জামগুলো আপনার সংখ্যায় কী করে
এখানে একটা ফারাক আছে যেটা বেশিরভাগ লেখায় গুলিয়ে ফেলা হয়।
আপনার একাউন্ট যদি প্রাইভেট হয়, বাইরের কোনো সরঞ্জাম আপনার স্টোরি টেনে নিতে পারে না। কিন্তু একাউন্ট প্রকাশ্য হলে পারে, কারণ প্রকাশ্য জিনিস লগইন ছাড়াই পাওয়া যায়। ওই দর্শকেরা আপনার তালিকায় কখনো আসেন না।
তার মানে প্রকাশ্য একাউন্টের আসল দর্শক সংখ্যাটা আপনার দেখা সংখ্যার চেয়ে বেশি, আর কতটা বেশি তা জানার কোনো উপায় নেই। যাঁরা ব্যবসার কাজে ব্যবহার করেন তাঁদের জন্য এটা জেনে রাখা দরকার, কারণ কম সংখ্যা দেখে হাল ছেড়ে দেওয়ার আগে এই অংশটা মাথায় রাখা উচিত।
উল্টো দিকটাও পরিষ্কার করা যাক। কোনো সরঞ্জাম আপনার নিজের স্টোরি কারা দেখেছেন তা বের করে দিতে পারে না। ওটা শুধু ইনস্টাগ্রামের নিজের তালিকাতেই আছে।
যে কাজগুলো সত্যিই সংখ্যা বাড়ায়
এখানে দুটো ভাগ আছে: কতজন প্রথম ফ্রেমে আসেন, আর তাঁদের কতজন শেষ পর্যন্ত থাকেন।
- নিয়মিত দেওয়া। স্টোরির সারিতে আপনার জায়গা নির্ভর করে ওই মানুষটির সঙ্গে আপনার সাম্প্রতিক লেনদেনের ওপর। যিনি সপ্তাহে একদিন দেন, তিনি সারির পেছনে চলে যান।
- কম ফ্রেম। একবারে বারোটা ফ্রেম দিলে বেশিরভাগ মানুষ চার নম্বরেই ছেড়ে দেন, আর ইনস্টাগ্রাম সেটা দেখে। তিন থেকে পাঁচটা ফ্রেম রাখলে শেষ পর্যন্ত পৌঁছানোর হার অনেক ভালো থাকে।
- স্টিকারে সাড়া চাওয়া। ভোট, প্রশ্ন বা স্লাইডারে একটা চাপ দিতে কিছু লাগে না। যাঁরা চাপ দেন তাঁদের সঙ্গে আপনার লেনদেন বাড়ে, আর পরদিন আপনার স্টোরি তাঁদের সারির সামনে থাকে।
- বার্তার উত্তর দেওয়া। স্টোরির উত্তরে কেউ কিছু লিখলে তার জবাব দিন। বার্তা বিনিময় সবচেয়ে শক্ত সংকেত।
এর কোনোটাই ইনস্টাগ্রামের প্রকাশ করা নিয়ম নয়। এগুলো ব্যবহারিক পর্যবেক্ষণ, আর নিজের একাউন্টে পরীক্ষা করে দেখাই ঠিক পথ।
কখন দিলে বেশি চোখে পড়ে
স্টোরি চব্বিশ ঘণ্টা থাকে বটে, কিন্তু বেশিরভাগ ভিউ আসে প্রথম কয়েক ঘণ্টায়। তাই কখন দিচ্ছেন সেটা ফিডের পোস্টের চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
বাংলাদেশে সাধারণ ছন্দটা মোটামুটি অনুমান করা যায়, রাতের দিকে ফোনে সময় বেশি কাটে। কিন্তু অনুমানের দরকার নেই, কারণ আপনার নিজের সংখ্যাটা ইনসাইটসে আছে। শর্ত একটাই, ইনসাইটস শুধু পেশাদার একাউন্টে আসে।
একটা কাজের অভ্যাস: দিনে দুবার দিন, একবার দুপুরের দিকে আর একবার রাতে। এতে যাঁরা একবার ফোন খোলেন তাঁরাও ধরা পড়েন।
যে দুটো জিনিস কাজে দেয় না
প্রথমটা, ভিউ কিনে নেওয়া। স্টোরির ভিউ বাইরে থেকে যোগ করা যায়, কিন্তু ওই সংখ্যাটা আপনার একাউন্টের কোনো উপকার করে না, কারণ ওই দর্শকেরা কখনো উত্তর দেন না বা কিছু কেনেন না। ইনস্টাগ্রামের সাজানোর হিসাবটা যাঁরা সাড়া দেন তাঁদের নিয়ে, যাঁরা শুধু গোনা হন তাঁদের নিয়ে নয়।
দ্বিতীয়টা, ভুল ধরনের ট্যাগ বা অবস্থান বসিয়ে দেওয়া। স্টোরিতে ট্যাগ আর অবস্থান বসানো যায়, কিন্তু এখান থেকে অচেনা মানুষ আসার পরিমাণ এতই কম যে সময়টা অন্য কাজে দেওয়া ভালো।
যেটা সত্যিই অচেনা মানুষ আনে সেটা রিল, আর সেই ঘরটা আলাদা। স্টোরি হলো যাঁরা ইতিমধ্যেই আছেন তাঁদের ধরে রাখার জায়গা। স্টোরি বানানোর কৌশলগুলো এই লেখায় আছে।



