ইনস্টাগ্রাম স্টোরি: বানানোর কৌশল আর সাধারণ সমস্যার সমাধান
এক রঙের পটভূমি, এক ফ্রেমে কয়েকটা ছবি, লিংক বসানো, ঝাপসা হওয়া বন্ধ করা আর হাইলাইটের কভার সাজানো। প্রতিটার ধাপ ধরে ধরে।
Avery Bennettইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে আপনাকে একটা লম্বা ফ্রেম আর কয়েকটা ছোট চিহ্ন দেয়, আর কোনো নির্দেশিকা দেয় না। স্টোরি নিয়ে প্রায় সব প্রশ্ন এখান থেকেই আসে।
আর একটা কথা মাথায় রাখা ভালো। ইনস্টাগ্রাম অ্যাপের সংস্করণে সংস্করণে চিহ্নগুলোর জায়গা বদলায়, আর নতুন জিনিস সবার কাছে একসঙ্গে পৌঁছায় না। কোনো চিহ্ন খুঁজে না পেলে আগে স্টিকারের ঘরটা আর ওপরের সারিটা দেখুন, তারপর অ্যাপ হালনাগাদ করুন।
পুরো ফ্রেমে এক রঙ
কোনো আলাদা রঙের বোতাম নেই। কাজটা হয় আঁকার কলমটা দিয়ে, আর এটাই সবচেয়ে বেশি খোঁজা কৌশল।
- স্টোরির ক্যামেরায় যেকোনো একটা ছবি তুলুন বা গ্যালারি থেকে বাছুন।
- ওপরের কলমের চিহ্নে চাপ দিন।
- নিচের সারি থেকে একটা রঙ বাছুন।
- পর্দার যেকোনো জায়গায় এক সেকেন্ড চেপে ধরে রাখুন।
রঙটা পুরো পর্দা ঢেকে দেবে, আর নিচের ছবিটা আর দেখা যাবে না। ফাঁকা পর্দা চাইলে ক্যামেরায় আঙুল চেপে ধরে একটা অন্ধকার ছবি তুলে তার ওপরে রঙ বসিয়ে দিন।
ছবির একটা অংশ দেখাতে চাইলে রঙ বসানোর পর রবারটা বেছে নিয়ে ওই জায়গাটায় ঘষুন। রঙের ভেতর দিয়ে একটা জানালা তৈরি হবে।
শুধু লেখার পেছনে রঙ চাইলে আরও সহজ পথ আছে: লেখা টাইপ করে ওপরের হাইলাইটের চিহ্নে চাপ দিলে শব্দগুলোর পেছনে একটা রঙিন ব্লক বসে যায়।
এক ফ্রেমে কয়েকটা ছবি
তিনটে আলাদা পথ আছে আর তিনটেয় তিন রকম চেহারা হয়।
- লেআউট। স্টোরির ক্যামেরার বাঁ পাশের সারিতে থাকে। ছক বেছে নিয়ে ঘরগুলো ভরলে সমান মাপের একটা কোলাজ হয়।
- ছবির স্টিকার। একটা ছবি পটভূমি করে স্টিকারের ঘর থেকে ছবির স্টিকার বেছে আরও ছবি বসানো যায়, আর সেগুলো ঘোরানো, ছোট বড় করা আর একটার ওপর আরেকটা রাখা যায়। ভিডিওর ওপরেও বসে।
- গ্যালারিতে একসঙ্গে বাছা। এতে ছবিগুলো এক ফ্রেমে বসে না, পরপর আলাদা ফ্রেম হয়ে যায়। অনেকে এখানেই ভুল করেন।
আর একটা কথা যেটা দেরিতে জানলে বিরক্তি বাড়ে: প্রকাশ করার পর ফ্রেমগুলোর ক্রম বদলানো যায় না। যেটা আগে দিয়েছেন সেটা আগেই থাকবে, তাই ক্রমটা আগে ঠিক করে নিন।
লিংক বসানো, আর দশ হাজারের গুজবটা
আগে লিংক দিতে হলে দশ হাজার ফলোয়ার লাগত। ওই নিয়মটা আর নেই, কিন্তু কথাটা এখনো ঘুরে বেড়ায়।
এখন লিংক স্টিকার সব একাউন্টে আছে। স্টোরিটা বানিয়ে স্টিকারের ঘর খুলুন, লিংকের স্টিকারটা বাছুন, ঠিকানা বসান, আর চাইলে লেখাটা বদলে দিন যাতে কাঁচা ঠিকানার বদলে একটা কথা দেখায়।
ব্যবহারিক দুটো কথা। ছোট স্টিকার কোণে বসিয়ে রাখলে কেউ চাপ দেন না, তাই লেখাটা বড় রাখুন আর তার দিকে একটা তির আঁকুন। আর প্রকাশ করার পর নিজে একবার চাপ দিয়ে দেখুন ঠিকানাটা সত্যিই খুলছে কি না।
ঝাপসা দেখানোর আসল কারণ
বাংলায় এই সমস্যাটা নিয়ে কেউ খোঁজেন না, অথচ প্রায় সবার হয়। কারণটা প্রায় সবসময় চারটের একটা।
- মাপ মিলছে না। ১০৮০ বাই ১৯২০ মাপে, অর্থাৎ ৯ঃ১৬ অনুপাতে রপ্তানি করুন। অন্য মাপে দিলে ইনস্টাগ্রাম নিজে ছোট বড় করে, আর সেখানেই মান যায়।
- ডেটা সাশ্রয়ের ঘরটা চালু। এটা চালু থাকলে অ্যাপ ইচ্ছে করেই কম মানের ফাইল পাঠায়। সেটিংসে বন্ধ করে দিন।
- দুর্বল সংযোগ। মোবাইল ডেটায় ধাক্কা খেলে অ্যাপ মান নামিয়ে দেয় যাতে ফাইলটা যেতে পারে। ভালো সংযোগে থাকা অবস্থায় দিন।
- বারবার সম্পাদনা। একই ফাইল তিন চারটে অ্যাপে ঘুরে এলে প্রতিবার সংকুচিত হয়। শেষ ফাইলটা একবারেই বানান।
পর্দার ছবি তুলে সেটাকে আবার স্টোরিতে দিলে ফল সবচেয়ে খারাপ হয়, কারণ ওটা ইতিমধ্যেই একবার সংকুচিত হওয়া ছবি।
হাইলাইটের সারিটা আসলে আপনার পরিচয়পত্র
বাংলায় হাইলাইট নিয়ে যা খোঁজা হয় তার প্রায় সবটাই কভার নিয়ে, আর কারণটা বোঝা যায়। নামের নিচের ওই গোল ছবিগুলোই নতুন কারও চোখে পড়া প্রথম জিনিস।
কভার বদলানোর পথটা হাইলাইট সম্পাদনার ঘরে। ওখানে একটা আলাদা ছবি বসানো যায়, আর ওই ছবিটা স্টোরিতে দেওয়া লাগে না, গ্যালারি থেকে সরাসরি নেওয়া যায়। ফাঁকা কালো বা সাদা কভারের চাহিদা এখান থেকেই আসে, আর সেটা বানানোর জন্য শুধু এক রঙের একটা ছবি ফোনে রাখলেই হয়।
সাজানোর কয়েকটা ব্যবহারিক কথা। সব কভার এক ধাঁচে রাখলে সারিটা গোছানো দেখায়। নামগুলো ছোট রাখুন, কারণ লম্বা নাম কেটে যায়। আর যে হাইলাইটে কেউ ঢোকেন না সেটা তুলে দিন, চার পাঁচটা কাজের হাইলাইট বারোটা অকেজো হাইলাইটের চেয়ে ভালো।
একটা শর্ত জেনে রাখা দরকার। হাইলাইট তখনই টেকে যখন স্টোরির ভান্ডার রাখার ঘরটা সেটিংসে চালু থাকে। ওটা বন্ধ থাকলে চব্বিশ ঘণ্টা পরে মূল স্টোরিটা আর থাকে না, আর হাইলাইট ভেঙে যেতে পারে। হাইলাইট মুছে ফেললে অবশ্য ভেতরের স্টোরিগুলো ভান্ডারেই থেকে যায়, তাই পরে আবার গড়া যায়।
প্রকাশ করার আগে চারটে জিনিস
- ফোনটা হাত দূরে ধরে লেখাটা পড়ুন, পটভূমির সঙ্গে লড়ে যাচ্ছে কি না বোঝা যাবে।
- ফাইলটা ১০৮০ বাই ১৯২০ কি না আর ডেটা সাশ্রয় বন্ধ কি না দেখে নিন।
- প্রকাশের পর নিজের লিংকে একবার চাপ দিন।
- নিজের প্রোফাইলটা দর্শকের চোখে দেখুন, সম্পাদনার পর্দায় নয়।
স্টোরিতে কতজন দেখলেন, কারা দেখলেন আর সংখ্যাটা বাড়ানোর কাজ কীভাবে হয়, সেটা আলাদা লেখায় আছে।


