ইনস্টাগ্রাম থেকে ইনকাম: বাংলাদেশ থেকে কোন পথগুলো সত্যিই খোলা
ভিউ গুনে ইনস্টাগ্রাম টাকা দেয় না, আর নির্মাতাদের সরাসরি টাকা দেওয়ার ব্যবস্থাগুলো দেশভিত্তিক। বাংলাদেশ থেকে যে পথগুলো সত্যিই কাজ করে, আর টাকাটা আসে কীভাবে।
Avery Bennettবাংলায় এই বিষয়ে যা খোঁজা হয় তার একটা বড় অংশ কীভাবে নয়, আদৌ হয় কি না। ইনকাম করা যায়, ইনকাম হয়, টাকা ইনকাম করা যাই, এই ধরনের প্রশ্ন।
তাই সন্দেহটার উত্তর আগে। হ্যাঁ, হয়। কিন্তু যেভাবে বেশিরভাগ মানুষ ভাবেন সেভাবে নয়, আর এই ফারাকটাই এই লেখার মূল কথা।
ইনস্টাগ্রাম ভিউ গুনে টাকা দেয় না
ইউটিউবে ভিডিওর সঙ্গে বিজ্ঞাপন চলে আর তার একটা ভাগ নির্মাতা পান। ইনস্টাগ্রামে সেই ব্যবস্থাটা নেই।
ইনস্টাগ্রামের নিজের যে ব্যবস্থাগুলো আছে সেগুলো আলাদা ধরনের: দর্শকের পাঠানো উপহার, মাসিক চাঁদার সদস্যপদ, আর মাঝে মাঝে চালু হওয়া বোনাসের কর্মসূচি। এগুলোর কোনোটাই ভিউ গুনে টাকা দেয় না।
আর এখানেই আসল প্রশ্নটা: ওই ব্যবস্থাগুলো বাংলাদেশে চালু আছে কি না।
বাংলাদেশে ওগুলো চালু আছে কি না
সৎ উত্তরটা হলো, ইনস্টাগ্রামের নিজের নথি থেকে নিশ্চিত করা যায়নি যে ওগুলো বাংলাদেশে খোলা।
যা যাচাই করা গেছে তা হলো, এই ব্যবস্থাগুলো দেশভিত্তিকভাবে চালু হয়, আর যেসব দেশের তালিকা পাওয়া যায় সেখানে বাংলাদেশের নাম নেই। উপহার, সদস্যপদ আর বোনাস, প্রতিটার আলাদা দেশের তালিকা, আর সেগুলো সময়ের সঙ্গে বদলায়।
নিশ্চিত হওয়ার একটাই জায়গা আছে, আর সেটা কোনো ব্লগ নয়। আপনার নিজের পেশাদার একাউন্টের ভেতরে যে ড্যাশবোর্ডটা আছে, সেখানে টাকা আয়ের ঘরটা খুললে আপনার একাউন্টে কোনটা খোলা আর কোনটা নয় তা লেখা থাকে। ওখানে যা দেখাচ্ছে সেটাই আপনার জন্য সত্য।
যাঁরা বাংলাদেশ থেকে ইনস্টাগ্রামে সত্যিই আয় করছেন, তাঁদের প্রায় সবার আয়টা ইনস্টাগ্রামের কাছ থেকে আসে না, অন্য কারও কাছ থেকে আসে। সেই পথগুলোই বাকি লেখাটা।
কত ফলোয়ার লাগে, এই প্রশ্নটার আসল উত্তর
একটা নির্দিষ্ট সংখ্যা খোঁজা হয় বাংলায়, আর প্রশ্নটার ভিত্তিটাই ভুল।
যিনি আপনাকে টাকা দেবেন তিনি ফলোয়ারের সংখ্যা কিনছেন না, তিনি কিনছেন আপনার কথায় কতজন সাড়া দেন সেটা। তিন হাজার ফলোয়ারের একটা রান্নার পাতা, যেখানে প্রতিটা পোস্টে দুশোজন সাড়া দেন, একটা রান্নার সরঞ্জামের দোকানের কাছে পঞ্চাশ হাজার ফলোয়ারের সাধারণ পাতার চেয়ে দামি।
তাই সংখ্যার লক্ষ্য না বেঁধে অন্য একটা লক্ষ্য বাঁধুন: এই মাসে কতজন নতুন মানুষ বার্তা পাঠালেন বা মন্তব্য করলেন। ওটা বাড়লে আয়ের সম্ভাবনা বাড়ে, ফলোয়ারের সংখ্যা যাই হোক।
বাংলাদেশ থেকে যে চারটে পথ সত্যিই কাজ করে
- নিজের কিছু বিক্রি করা। এটাই সবচেয়ে সোজা আর সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত পথ, কারণ এখানে কোনো তৃতীয় পক্ষের অনুমতি লাগে না। পণ্য, খাবার, পোশাক, বা নিজের সময়। ব্যবস্থাটা এই লেখায়।
- ব্র্যান্ডের কাজ। কোনো প্রতিষ্ঠান আপনাকে টাকা বা পণ্য দিয়ে তাদের জিনিসের কথা বলতে বলে। দেশি ব্র্যান্ডের জন্য কোনো দেশের তালিকার দরকার নেই, তাই এই পথটা সবার জন্য খোলা।
- সেবা বিক্রি। আপনি যা পারেন সেটাই। ছবি তোলা, লেখা, ডিজাইন, পড়ানো, বা অন্যের পাতা চালানো। ইনস্টাগ্রাম এখানে বিজ্ঞাপনের বোর্ড, দোকান নয়।
- অন্যের পণ্যের সুপারিশ। কমিশনের ভিত্তিতে। বাংলাদেশে যেসব বড় দোকানের নিজস্ব কর্মসূচি আছে সেগুলোয় যোগ দেওয়া যায়, তবে কমিশন কীভাবে আর কখন দেওয়া হয় সেটা যোগ দেওয়ার আগে পড়ে নেওয়া দরকার।
এই চারটের মধ্যে প্রথমটা সবচেয়ে তাড়াতাড়ি শুরু হয় আর দ্বিতীয়টা সবচেয়ে বেশি বড় হয়।
টাকাটা দেশে আসে কীভাবে
এই অংশটা প্রায় কোনো লেখায় থাকে না, অথচ এখানেই বেশিরভাগ মানুষ আটকান।
দেশি ক্রেতা বা দেশি ব্র্যান্ডের ক্ষেত্রে সমস্যা নেই, মোবাইল ওয়ালেট বা ব্যাংকেই হয়ে যায়।
বিদেশি টাকার ক্ষেত্রে প্রথম কথাটা হলো, পেপ্যাল বাংলাদেশে চলে না। বাংলাদেশে বসে পেপ্যালের একাউন্ট খোলা যায় না, আর যেসব লেখায় পেপ্যাল দিয়ে টাকা নেওয়ার কথা বলা আছে সেগুলো এখানকার জন্য নয়।
যা ব্যবহার হয় তা হলো পেওনিয়ারের মতো ব্যবস্থা, সরাসরি ব্যাংকে পাঠানো, বা ফ্রিল্যান্সাররা যেসব পথে টাকা আনেন সেগুলো। যেটাই বাছুন, দুটো জিনিস আগে জেনে নিন: কত টাকা কাটবে, আর টাকাটা হাতে আসতে কত দিন লাগবে। দুটোই সময়ের সঙ্গে বদলায়, তাই কাজ শুরু করার আগে নিজের ব্যবস্থাটার চলতি শর্তগুলো দেখে নেওয়া দরকার।
আর একটা কথা যেটা প্রথম কাজেই শেখা ভালো: টাকাটা কোন পথে আসবে সেটা কাজ শুরু করার আগে ঠিক করে নিন, কাজ শেষ হওয়ার পরে নয়।
যেগুলো এখানে প্রতারণা
খোঁজার তালিকায় একটা প্রস্তাব সরাসরি বসে আছে: রিলস দেখে টাকা ইনকাম। এটাই সবচেয়ে বড় ফাঁদ, তাই নাম ধরে বলা দরকার।
ইনস্টাগ্রাম কাউকে ভিডিও দেখার জন্য টাকা দেয় না, কোনো দেশে নয়। যে অ্যাপ বা যে ওয়েবসাইট এটা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয় তারা সাধারণত তিনটের একটা করে: শুরুতে ছোট অঙ্ক দিয়ে বিশ্বাস তৈরি করে তারপর বড় টাকা জমা করতে বলে, অথবা আপনার ইনস্টাগ্রামের পাসওয়ার্ড চায়, অথবা আপনাকে দিয়ে আরও মানুষ জোগাড় করায়।
দ্বিতীয় ফাঁদটা মনিটাইজেশন চালু করে দেওয়ার প্রস্তাব। যেহেতু ব্যবস্থাটা দেশভিত্তিক, বাইরের কেউ ওটা চালু করে দিতে পারে না। যাঁরা পারেন বলে দাবি করেন তাঁরা সাধারণত অন্য দেশের ঠিকানা ব্যবহার করার কথা বলেন, আর সেটা করলে একাউন্ট আর টাকা দুটোই ঝুঁকিতে পড়ে।
একটা সহজ নিয়ম: ইনস্টাগ্রাম থেকে আয় শুরু করতে আপনাকে কখনো আগে টাকা জমা দিতে হয় না।
Frequently Asked Questions
না। ইউটিউবের মতো বিজ্ঞাপনের ভাগ দেওয়ার ব্যবস্থা ইনস্টাগ্রামে নেই। যা আছে তা হলো দর্শকের পাঠানো উপহার, মাসিক সদস্যপদ আর মাঝে মাঝে চালু হওয়া বোনাস, আর এগুলোর কোনোটাই ভিউ গুনে দেওয়া হয় না।
ইনস্টাগ্রামের নিজের নথি থেকে নিশ্চিত করা যায়নি, আর যেসব দেশের তালিকা পাওয়া যায় সেখানে বাংলাদেশের নাম নেই। প্রতিটা ব্যবস্থার আলাদা দেশের তালিকা আর সেগুলো বদলায়। নিশ্চিত হওয়ার একমাত্র জায়গা আপনার নিজের পেশাদার ড্যাশবোর্ডের আয়ের ঘরটা।
কোনো সংখ্যা নেই, আর প্রশ্নটার ভিত্তিটাই ভুল। যিনি টাকা দেবেন তিনি সংখ্যা কিনছেন না, কিনছেন আপনার কথায় কতজন সাড়া দেন সেটা। তিন হাজার ফলোয়ারের একটা নির্দিষ্ট বিষয়ের পাতা প্রায়ই পঞ্চাশ হাজার ফলোয়ারের সাধারণ পাতার চেয়ে দামি।
প্রথম কথা, পেপ্যাল বাংলাদেশে চলে না, তাই পেপ্যালের কথা বলা লেখাগুলো এখানকার জন্য নয়। যা ব্যবহার হয় তা হলো পেওনিয়ারের মতো ব্যবস্থা বা সরাসরি ব্যাংকে পাঠানো। কত কাটবে আর কত দিন লাগবে, এই দুটো কাজ শুরু করার আগেই জেনে নিন।
না, একটাও না। ইনস্টাগ্রাম কাউকে ভিডিও দেখার জন্য টাকা দেয় না, কোনো দেশে নয়। ওই অ্যাপগুলো হয় শুরুতে সামান্য দিয়ে পরে বড় টাকা জমা করতে বলে, নয় আপনার পাসওয়ার্ড চায়, নয় আপনাকে দিয়ে আরও মানুষ জোগাড় করায়।
সম্ভব নয়, কারণ ব্যবস্থাটা দেশভিত্তিক আর বাইরের কেউ সেটা বদলাতে পারে না। যাঁরা পারেন বলে দাবি করেন তাঁরা সাধারণত অন্য দেশের ঠিকানা ব্যবহারের কথা বলেন, আর তাতে একাউন্ট আর টাকা দুটোই ঝুঁকিতে পড়ে। আয় শুরু করতে আগে টাকা জমা দিতে হয় না।

Avery Bennett
সোশ্যাল মিডিয়া কনসালট্যান্ট এবং গ্রোথ হ্যাকার। সব আকারের ব্র্যান্ডের জন্য ভাইরাল কন্টেন্ট তৈরি এবং ইনফ্লুয়েন্সার মার্কেটিং কৌশলে বিশেষজ্ঞ।


