টেলিগ্রাম যুক্ত করা: এটা সুবিধা নয়, তিনটে দরজার চাবি
বিক্রেতার দিকে টেলিগ্রাম না জুড়লে দোকানের সেটিংসই সেভ হয় না। আর তিনটে বিশেষ খবরের ক্ষেত্রে একটা নীরব ফাঁক আছে, যেখানে বার্তাটা কোথাওই পৌঁছায় না।
Michael Chenএকটা কথা আগে বলে নেওয়া দরকার। বাংলায় টেলিগ্রাম নোটিফিকেশন লিখে খুঁজলে যা আসে তার প্রায় পুরোটাই রিংটোন নামানোর ব্যাপার। অর্থাৎ এই পাতায় কেউ খুঁজে আসেন না।
যিনি এখানে আসেন তিনি সাধারণত দোকানের সেটিংস সেভ করতে গিয়ে একটা লাল বার্তায় আটকে গেছেন। তাই লেখাটা তাঁর জন্যই, আর সবচেয়ে দরকারি কথাটা প্রথমেই।
এটা বাড়তি সুবিধা নয়, শর্ত
বিক্রেতার দিকে টেলিগ্রাম যুক্ত না থাকলে তিনটে কাজ আটকে যায়।
- দোকানের সেটিংস সেভ হয় না। নাম, বিবরণ, যোগাযোগ, কিছুই না। বোতাম টিপলে সরাসরি ফিরিয়ে দেওয়া হয় আর টেলিগ্রাম যুক্ত করতে বলা হয়।
- বিক্রেতা হওয়ার আবেদন জমা হয় না। আবেদনের ফর্মে টেলিগ্রামের নামটা বাধ্যতামূলক ঘর।
- টাকা তোলার অনুরোধ জমা হয় না। এই দিকটা আলাদা পাতায় বিস্তারিত লেখা আছে।
একটা ছাড়ের ব্যবস্থা আছে, তবে সেটা প্রশাসন নিজে থেকে দেয় আর চাওয়া যায় না। সংখ্যাটা বলে দিলে ছবিটা পরিষ্কার হয়, সাড়ে নয় হাজার একাউন্টের মধ্যে ওই ছাড় আছে ত্রিশেরও কম জনের। অর্থাৎ কার্যত সবার জন্যই এটা বাধ্যতামূলক।
ক্রেতার দিকে এর কিছুই লাগে না। শুধু কেনাকাটা করলে টেলিগ্রাম না জুড়েও সব কাজ চলে।
কাজটা কীভাবে হয়, আর কেন বট বসাতে হয় না
অনেকে ভাবেন এর জন্য কোনো বট খুঁজে বের করে তাকে কমান্ড পাঠাতে হবে। সেটা লাগে না।
দোকানের সেটিংসের পাতায় টেলিগ্রামের ঘরে একটা বোতাম আছে। সেটা টিপলে টেলিগ্রামের নিজস্ব ঢোকার জানালাটা খোলে, যেখানে আপনি আপনার ফোন নম্বর দেন। তারপর আপনার টেলিগ্রামে একটা বার্তা আসে, সেখানে অনুমোদন দিলেই কাজ শেষ।
ভেতরে যা ঘটে সেটা হলো, টেলিগ্রাম আপনার পরিচয়ের তথ্যে নিজের একটা স্বাক্ষর বসিয়ে পাঠায়, আর এই সাইট সেই স্বাক্ষরটা মিলিয়ে দেখে। এখানে দুটো কথা কাজে লাগে।
- ওই স্বাক্ষরের একটা মেয়াদ আছে, চব্বিশ ঘণ্টা। জানালাটা খুলে ফেলে রেখে পরের দিন অনুমোদন দিলে সেটা আর গ্রহণ করা হবে না। এক বসাতেই কাজটা শেষ করুন।
- আপনার যন্ত্রের ঘড়ি অনেকটা এগিয়ে থাকলেও স্বাক্ষরটা নাকচ হতে পারে। ঘড়ি নিজে থেকে মিলিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থাটা চালু রাখুন।
আপনার পাসওয়ার্ড এই পথে কোথাও যায় না, আর এই সাইট আপনার হয়ে টেলিগ্রামে কোনো বার্তা পাঠাতেও পারে না। যা হয় তা হলো, টেলিগ্রাম নিশ্চিত করে যে এই আইডিটা আপনার।
খবর কোথায় যায়, আর একটা নীরব ফাঁক
প্রথমে ভালো খবরটা। অর্ডার সংক্রান্ত খবরগুলো টেলিগ্রাম যুক্ত করার পরেও মেইলে আসতে থাকে। ব্যবস্থাটা টেলিগ্রামে পাঠায়, তারপর মেইলেও পাঠায়। অর্থাৎ দৈনন্দিন কাজে কিছু হারানোর ভয় নেই।
কিন্তু তিনটে বিশেষ খবর আলাদা পথে চলে, আর ওখানে একটা ফাঁক আছে যেটা কোথাও লেখা নেই। এই তিনটে হলো, বাইন্যান্সের টাকা জমা দেখার ফল, টেলিগ্রামের বিজ্ঞাপন অনুমোদনের ফল, আর কোনো পণ্য স্বয়ংক্রিয় পরীক্ষায় আটকে গিয়ে বন্ধ হয়ে যাওয়ার খবর।
এই তিনটের ক্ষেত্রে ব্যবস্থাটা প্রোফাইলে খবরের পথ বেছে নেওয়ার ঘরটা দেখে। ওই ঘরে তিনটে অবস্থা, টেলিগ্রাম, মেইল, আর কিছু না বাছা। সাড়ে নয় হাজার একাউন্টের মধ্যে দুশোরও কম জন ওই ঘরে কখনো হাত দিয়েছেন, তাই কার্যত সবাই তৃতীয় অবস্থায়।
ঘরটা খালি থাকলে ব্যবস্থাটা টেলিগ্রামকেই বেছে নেয়। আর এখানেই সমস্যা। টেলিগ্রামে বার্তাটা পৌঁছাতে না পারলে, ওই তিনটের ক্ষেত্রে মেইলে পাঠানোর কোনো বিকল্প ব্যবস্থা চালু হয় না। অর্থাৎ খবরটা আপনি কোথাওই পাবেন না। আপনি যদি বটটাকে ব্লক করে দেন বা কথোপকথনটা মুছে ফেলেন, ঠিক এটাই ঘটবে, আর আপনি জানতেও পারবেন না যে একটা খবর এসেছিল।
এড়ানোর উপায় সহজ। প্রোফাইলের সেটিংসে খবরের পথটা স্পষ্ট করে মেইল বেছে দিন। তখন ওই তিনটে খবর মেইলেই যাবে, আর টেলিগ্রামে কিছু ঘটলেও সেটা হারাবে না।
একটা বিশেষ ক্ষেত্র আছে। যাঁরা প্রথম থেকেই টেলিগ্রাম দিয়ে একাউন্ট খুলেছেন, তাঁদের কোনো আসল মেইল ঠিকানাই নেই, ব্যবস্থাটা একটা সাজানো ঠিকানা বসিয়ে রাখে। এরকম একাউন্ট আছে একশোর কিছু বেশি, আর তাঁদের ক্ষেত্রে মেইল বেছে নিলেও কিছু যাবে না, কারণ পাঠানোর জায়গাই নেই। তাঁদের জন্য টেলিগ্রামের কথোপকথনটা খোলা রাখা ছাড়া উপায় নেই।
কতজন আসলে করেছেন
সৎ ছবিটা দিয়ে দিই, কারণ এতে বোঝা যায় ধাপটা কতটা সাধারণ।
সাইটে যত একাউন্ট আছে তার মধ্যে টেলিগ্রাম যুক্ত করেছেন প্রতি এগারো জনে একজনের মতো। কিন্তু এটা বিভ্রান্তিকর, কারণ বেশিরভাগ একাউন্টই শুধু কেনাকাটার, আর তাঁদের এটা লাগেই না।
যাঁদের বিক্রেতার ভূমিকা আছে, তাঁদের মধ্যে যুক্ত করেছেন প্রতি তিনজনে একজনের বেশি। বাকিরা হয় এখনো দোকান চালু করেননি, নয়তো ওই দেয়ালটায় এসে থেমে আছেন।
অর্থাৎ যদি আপনি সত্যিই বিক্রি শুরু করতে চান, এই ধাপটা এড়ানোর কোনো পথ নেই, আর যত আগে করবেন তত ভালো। পরে টাকা তোলার সময় এসে এটা আবিষ্কার করাটা সবচেয়ে বিরক্তিকর।
আটকে গেলে কোথায় দেখবেন
ক্রম অনুযায়ী, কারণ ওপরের কারণগুলোই বেশি ঘটে।
- নম্বরটা ঠিক ওটাই কি না, যেটা দিয়ে আপনার টেলিগ্রাম খোলা। অন্য নম্বর দিলে টেলিগ্রাম কোনো বার্তাই পাঠাবে না, আর পর্দায় কিছুই ঘটবে না।
- টেলিগ্রামের ভেতরে অনুমোদনটা দিয়েছেন কি না। বার্তাটা কখনো কখনো অন্য কথোপকথনের নিচে চাপা পড়ে যায়।
- জানালাটা কতক্ষণ খোলা ছিল। একদিন আগে খুলে রাখা জানালায় আজ অনুমোদন দিলে হবে না। বন্ধ করে নতুন করে শুরু করুন।
- ঘড়ি। যন্ত্রের সময় অনেকটা এগিয়ে থাকলে স্বাক্ষরটা নাকচ হয়।
- ব্রাউজারের বাড়তি ব্যবস্থাগুলো। বিজ্ঞাপন আটকানোর কিছু ব্যবস্থা টেলিগ্রামের ওই জানালাটাকেই আটকে দেয়, আর তখন বোতাম টিপলে কিছুই খোলে না। একবার সেগুলো বন্ধ করে দেখুন।
এতেও না হলে সহায়তার ঘরে জানান, আর সঙ্গে লিখুন কোন ধাপে থেমেছে। শেষে একটা কথা মনে রাখা দরকার, যুক্ত করার পর আপনার টেলিগ্রামের আইডিটা এখানকার টাকার সঙ্গে জড়িয়ে গেল। ওই আইডির নিরাপত্তা নিয়ে যা করণীয় সেটা আলাদা পাতায় লেখা আছে।



