স্পনসরের কাজ পাওয়ার উপায়, আর নিজের দাম ঠিক করা
ছোট একাউন্টেও কাজ আসে, কিন্তু নিজে থেকে খুঁজলে। কীভাবে প্রস্তাব পাঠাবেন, কত টাকা চাইবেন, কী কী লিখিত রাখবেন আর টাকা না পেলে কী হয়।
Michael Chenএই বিষয়ে বাংলাদেশ থেকে যা খোঁজা হয় তার দুটো জিনিস বারবার ফেরে: ছোট একাউন্টে হয় কি না, আর কত টাকা চাইব।
দুটোরই উত্তর আছে, আর দুটোই এই লেখায় আলাদা ভাগ পেয়েছে। বাকিটা কাজটা কীভাবে হয় তা নিয়ে।
ব্র্যান্ড আসলে কী দেখে
যিনি সিদ্ধান্ত নেন তিনি বেশিরভাগ সময় একজন কর্মী, যাঁকে পরে কাউকে জবাব দিতে হবে। এই একটা কথা মাথায় রাখলে বাকিটা বোঝা সহজ হয়।
তিনি যে ক্রমে দেখেন সেটা মোটামুটি এই রকম। প্রথমে আপনার দর্শক তাঁদের ক্রেতার সঙ্গে মেলে কি না। তারপর আপনার পোস্টে সাড়া আসে কি না, সংখ্যাটা যাই হোক। তারপর আপনার ছবি আর কথা তাঁদের প্রতিষ্ঠানের পাশে বসানোর মতো কি না। আর শেষে দাম।
ফলোয়ারের সংখ্যা এই তালিকায় কোথাও একা দাঁড়ায় না। বড় সংখ্যা শুধু প্রথম দুটোর কাজ সহজ করে, আর ছোট সংখ্যা ওই দুটো ভালো হলে বাধা হয় না।
যেটা সরাসরি বাদ দেয় সেটা হলো অসঙ্গতি। বেশি ফলোয়ার অথচ কম সাড়া দেখলে কথা ওখানেই শেষ, আর সাধারণত কারণটা কেউ বলেনও না।
ছোট একাউন্টে কাজ পাওয়ার পথ
ছোট একাউন্টে কাজ আসে, কিন্তু একটা ফারাক আছে: বড়দের কাছে কাজ আসে, ছোটদের কাছে যেতে হয়।
সবচেয়ে বেশি কাজ হয় স্থানীয় ছোট প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে, আর সেটাই শুরু করার সবচেয়ে সহজ জায়গা। এলাকার রেস্তোরাঁ, পোশাকের ছোট দোকান, ঘরে বানানো পণ্য, স্থানীয় সেবা।
একটা ব্যবহারিক ক্রম আছে যেটা কাজ করে। যে প্রতিষ্ঠানের জিনিস আপনি সত্যিই ব্যবহার করেন, তাদের নিয়ে আগে একটা পোস্ট দিন, কোনো চুক্তি ছাড়াই। তাদের ট্যাগ করুন। কয়েক সপ্তাহ পরে বার্তা পাঠান, আর ওই পোস্টটার কথা উল্লেখ করুন।
এতে দুটো জিনিস হয়। আপনি প্রমাণ দেখাতে পারেন কেমন কাজ হয়, আর প্রস্তাবটা অপরিচিত মনে হয় না।
প্রস্তাবের বার্তাটা
লম্বা বার্তা কেউ পড়েন না। যেটা কাজ করে সেটা ছোট আর নির্দিষ্ট।
চারটে জিনিস থাকা দরকার, এই ক্রমে। আপনি কে আর কী নিয়ে কাজ করেন, এক লাইনে। আপনার দর্শক কারা, এক লাইনে। তাদের জন্য একটা নির্দিষ্ট প্রস্তাব, যেমন কোন পণ্য নিয়ে কী ধরনের ভিডিও। আর একটা প্রশ্ন, যাতে উত্তর দেওয়া সহজ হয়।
যা রাখবেন না: নিজের প্রশংসা, লম্বা ভূমিকা, আর প্রথম বার্তাতেই দাম। দাম নিয়ে কথা শুরু হয় তাঁরা আগ্রহ দেখানোর পরে।
আর একটা কথা। একটা প্রতিষ্ঠানে দুবার বার্তা পাঠানো ঠিক আছে, তিনবার নয়। উত্তর না এলে সেটা প্রায়ই না বলা না, শুধু ব্যস্ততা, আর তিন মাস পরে আবার চেষ্টা করা যায়।
মিডিয়া কিট: জিনিসটা কী
শব্দটার মানে অনেকেই জানেন না, তাই আগে সেটা। মিডিয়া কিট হলো আপনার একাউন্টের একটা পরিচয়পত্র, এক বা দুই পাতার, যেটা প্রস্তাবের সঙ্গে পাঠানো হয়।
এতে যা থাকে: আপনি কী নিয়ে কাজ করেন, আপনার দর্শক কারা, কয়েকটা সংখ্যা, আগের কাজের উদাহরণ, আর যোগাযোগের উপায়।
সংখ্যাগুলোর ক্ষেত্রে একটা কথা। শুধু ফলোয়ার লিখবেন না। ইনসাইটস থেকে নিন গড়ে কতজনের কাছে পোস্ট পৌঁছায়, কতজন সাড়া দেন, আর দর্শকদের বেশিরভাগ কোথাকার। শেষেরটা স্থানীয় ব্র্যান্ডের কাছে সবচেয়ে দামি, কারণ ঢাকার একটা দোকানের কাছে বিদেশি দর্শকের কোনো মূল্য নেই।
আলাদা কোনো ফাইল বানাতে না চাইলে একটা হাইলাইট দিয়েও কাজ চলে, যেখানে এই তথ্যগুলো কয়েকটা ছবিতে সাজানো থাকে।
নিজের দাম ঠিক করা
এটাই সবচেয়ে বেশি খোঁজা প্রশ্ন, আর এর কোনো তালিকা নেই। যেসব হিসাবের যন্ত্র অনলাইনে আছে সেগুলো বিদেশি বাজারের সংখ্যা দেয়, আর এখানে সেগুলো অর্থহীন।
যেটা কাজ করে সেটা হিসাব, তালিকা নয়। তিনটে জিনিস যোগ করুন।
- আপনার সময়। ভিডিওটা বানাতে কত ঘণ্টা লাগবে, ভাবনা থেকে সম্পাদনা পর্যন্ত। ওই ঘণ্টাগুলোর একটা দাম আছে।
- খরচ। যাতায়াত, জিনিসপত্র, কারও সাহায্য লাগলে তার খরচ।
- জায়গার দাম। আপনার প্রোফাইলে ওই পোস্টটা থেকে যাবে, আর সেই জায়গাটা আপনি অন্য কাউকে দিতে পারতেন না।
প্রথম দুটো মিলে আপনার সর্বনিম্ন দাম। তৃতীয়টা যোগ করলে যেটা হয় সেটাই বলার মতো দাম। শুরুতে সংখ্যাটা ছোট হবে, আর সেটা ঠিক আছে।
দুটো ব্যবহারিক নিয়ম। বিনামূল্যে কাজ করবেন না, এমনকি প্রথমবারও নয়, কারণ যে প্রতিষ্ঠান একবার বিনামূল্যে পায় তারা পরেও তাই চায়। আর পণ্যের বিনিময়ে কাজ তখনই নিন যখন পণ্যটার দাম আপনার সময়ের চেয়ে বেশি।
লিখিত রাখার জিনিসগুলো
বাংলাদেশে বেশিরভাগ কাজ হয় বার্তায়, আর কোনো আনুষ্ঠানিক চুক্তি হয় না। সেটা সমস্যা নয়, যদি কয়েকটা জিনিস বার্তাতেই লেখা থাকে।
- কী দেবেন। কয়টা পোস্ট, কয়টা স্টোরি, রিল না ছবি। সংখ্যা লিখুন।
- কবে দেবেন। তারিখ।
- কতদিন থাকবে। পোস্টটা কি চিরকাল প্রোফাইলে থাকবে, না তিন মাস পরে সরানো যাবে।
- টাকা কখন। আগে কত, পরে কত।
- তাঁরা এটা অন্যত্র ব্যবহার করতে পারবেন কি না। আপনার বানানো ভিডিও তাঁদের বিজ্ঞাপনে চললে সেটা আলাদা কাজ আর আলাদা দাম।
শেষেরটা সবচেয়ে বেশি অগ্রাহ্য করা হয় আর সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করে। একবার বানানো ভিডিও কেউ ছয় মাস ধরে বিজ্ঞাপনে চালালে সেটা এক পোস্টের কাজ ছিল না।
টাকা নিয়ে একটা নিয়ম: প্রথমবারের কাজে অন্তত অর্ধেক আগে নিন। যিনি অগ্রিম দিতে রাজি নন, তাঁর সঙ্গে পরেও সমস্যা হয়।
বিজ্ঞাপন বলে চিহ্নিত করা
ইনস্টাগ্রামে একটা ঘর আছে যেটা পোস্টের ওপরে লিখে দেয় এটা কারও সঙ্গে যৌথ কাজ। ওটা ব্যবহার করা ভালো, আর কারণটা শুধু নিয়মের নয়।
দর্শক এমনিতেই বুঝে ফেলেন কোনটা বিজ্ঞাপন। লুকোতে গেলে যেটা হারায় সেটা বিশ্বাস, আর ওটাই আপনার একমাত্র সম্পদ। বরং স্পষ্ট করে বলে দিলে মানুষ পরেও আপনার সুপারিশ বিশ্বাস করেন।
আর যেটা কখনো করবেন না: এমন কিছুর সুপারিশ যেটা আপনি নিজে ব্যবহার করেননি। একটা কাজের টাকা আর দর্শকের বিশ্বাস, এই দুটোর মধ্যে দ্বিতীয়টা অনেক বেশি দামি। টাকাটা দেশে কোন পথে আসবে তার হিসাব আলাদা লেখায় আছে।



