থ্রেডস কী, আর টাকা দেয় কি না: তারিখগুলো যা বলে
থ্রেডসে বিজ্ঞাপন দুই হাজার ছাব্বিশে নতুন নয়, আর যে বোনাসটার খোঁজে মানুষ আসেন সেটা দুই হাজার পঁচিশেই কোনো ঘোষণা ছাড়া বন্ধ হয়ে গেছে। সঙ্গে এখানকার তাক মেপে দেখা একটা সংখ্যা, যেটা প্রায় সব লেখা ভুলভাবে পড়ে।
Avery Bennettএই বিষয়ে দুই ধরনের মানুষ খোঁজেন, আর লেখাগুলো একজনের উত্তর দেয়।
যিনি বিজ্ঞাপন দেন তিনি জানতে চান কোথায় দেখানো যায় আর মাপ কত। বাকি সবাই জানতে চান জিনিসটা আসলে কী, আর ওটা তাঁদের টাকা দেয় কি না। বাংলায় এই দ্বিতীয় দলটাই কার্যত পুরোটা, তাই সেই ক্রমেই।
বাংলায় থ্রেডস মানে কী, এই প্রশ্নটাই আগে
বাংলা হরফে থ্রেডস লিখে খুঁজলে মোট সাতটা জিনিস আসে, আর তার পাঁচটাই এটা কী সেই প্রশ্ন। থ্রেডস অ্যাপ কি, থ্রেডস মানে কি, থ্রেডস কি। সপ্তমটা একটা সাপের নাম।
উত্তরটা সোজা। থ্রেডস মেটার একটা অ্যাপ যেখানে মানুষ ছোট ছোট লেখা পোস্ট করেন আর একে অন্যের লেখায় জবাব দেন। ওটা ইনস্টাগ্রামের পাশে বসানো, আর বেশিরভাগ জায়গায় ইনস্টাগ্রামের পরিচয় দিয়েই ওখানে ঢোকা হয়।
খোঁজার সময় দুটো জিনিস মাঝখানে এসে পড়ে, তাই বলে রাখা ভালো। ইংরেজিতে threads bangladesh লিখলে যা আসে তার প্রায় সবটা পোশাক শিল্পের প্রতিষ্ঠান আর একটা পুরোনো সিনেমা। আর threads earning লিখলে একটা সেমিকন্ডাক্টর কোম্পানির আর্থিক ফলাফল এসে পড়ে। শব্দটা ইংরেজিতে সুতো বোঝায়, তাই এই ধাক্কাগুলো স্বাভাবিক।
থ্রেডস পোস্ট করার জন্য টাকা দেয় না, আর যেটা দিত সেটা বন্ধ
এটা আগে বলে নেওয়া দরকার, কারণ উত্তরটা ছোট আর বেশিরভাগ লেখা এটা দেয় না।
মেটা থ্রেডসে একটা বোনাস ব্যবস্থা চালিয়েছিল যেটা বাছাই করা কিছু ক্রিয়েটরকে পোস্ট আর ভিউয়ের লক্ষ্য পূরণের জন্য টাকা দিত। জিনিসটা ছিল আমন্ত্রণে, অর্থাৎ আপনি চেষ্টা করে ওতে ঢুকতে পারতেন না, আর কোনো শর্ত কখনো প্রকাশ করা হয়নি যেটা ইচ্ছে করে পূরণ করা যায়।
ক্রিয়েটররা জানিয়েছেন যে টাকা আসা বন্ধ হয়ে যায় দুই হাজার পঁচিশের এপ্রিলের শেষ দিকে, ব্যবস্থাটা শুরু হওয়ার মোটামুটি এক বছর পরে, আর খবরটা প্রকাশ পায় ওই জুলাইয়ে। কোম্পানি কখনো ব্যাখ্যা দেয়নি। আর ইনস্টাগ্রামের যে সহায়তার পাতায় এই সুবিধাগুলোর কথা লেখা ছিল, সেখানে এখন থ্রেডসের নামই নেই।
অর্থাৎ এই মুহূর্তে থ্রেডসে ক্রিয়েটরদের জন্য খোলা কোনো টাকার ব্যবস্থা নেই। আয়ের ভাগ নেই, ভিউ পিছু হার নেই, আর যোগ্যতা অর্জন করার মতো কিছুও নেই। আপনি যদি শর্তগুলো খুঁজে থাকেন আর কেবল শর্তের তালিকা দেওয়া লেখা পেয়ে থাকেন, তার কারণ ওই তালিকাগুলো একটা বন্ধ হয়ে যাওয়া ব্যবস্থার বর্ণনা। আর কেউ যদি ওই ব্যবস্থায় ঢোকার সুযোগ বিক্রি করতে চান, তিনি এমন কিছু বিক্রি করছেন যেটার অস্তিত্ব নেই।
যে দেশের নামগুলো ওই খোঁজে আসে, তাতে বাংলাদেশ নেই
এটা একটা ছোট কিন্তু কাজের পর্যবেক্ষণ, আর এটা মেপে দেখা।
ইংরেজিতে threads monetization লিখলে যে দশটা জিনিস আসে তার চারটেতে দেশের নাম থাকে। ভারত, পাকিস্তান, ফিলিপাইন। বাংলাদেশ ওখানে নেই।
এর মানে এই নয় যে বাংলাদেশে কিছু বন্ধ। এর মানে হলো, এই বিষয়ে যে ভাষায় প্রশ্নটা তৈরি হয়েছে, সেখানে এই বাজার এখনও ঢোকেনি। আর যেহেতু ব্যবস্থাটাই বন্ধ, তাই এই মুহূর্তে কোনো দেশের তালিকা খোঁজারও দরকার নেই।
এটা অবশ্য এই কথা নয় যে এখান থেকে থ্রেডসে টাকা হয় না। টাকা আসে ব্র্যান্ডের কাজ থেকে, অ্যাফিলিয়েট লিংক থেকে, আর নিজের জিনিস বিক্রি থেকে, আর ওগুলোর একটাও মেটার টাকা দেওয়া বা আপনি কোন দেশে আছেন তার ওপর নির্ভর করে না। বাংলাদেশ থেকে ঠিক কোন পথগুলো খোলা আর টাকাটা দেশে আসে কীভাবে, সেটা ইনস্টাগ্রামের ইনকাম নিয়ে লেখাটায় ধরে ধরে দেওয়া আছে, আর পথগুলো এখানেও প্রায় হুবহু একই।
বিজ্ঞাপনের সময়রেখা, কারণ আগে ঢোকার যুক্তিটা পুরোটাই তারিখের ওপর
থ্রেডসে বিজ্ঞাপন দুই হাজার ছাব্বিশে খোলেনি। ক্রমটা এরকম, আর এটা এসেছে বাণিজ্য সংবাদমাধ্যম থেকে, কারণ মেটার নিজের পাতাগুলো বাইরে থেকে পড়া যায় না।
- দুই হাজার পঁচিশের জানুয়ারি। হাতে গোনা কয়েকজন বিজ্ঞাপনদাতাকে নিয়ে বাছাই করা কয়েকটা বাজারে পরীক্ষা শুরু।
- দুই হাজার পঁচিশের এপ্রিল। সব যোগ্য বিজ্ঞাপনদাতার জন্য খুলে দেওয়া হয়, যদিও কোথায় দেখানো হবে সেটা তখনও অঞ্চল অনুযায়ী সীমিত ছিল। ওই সময়ের খবরগুলো একে বিশ্বব্যাপী চালু বলে লিখেছিল, আর গোলমালটা ওখান থেকেই। ওটা বিজ্ঞাপনদাতাদের জন্য বিশ্বব্যাপী ছিল, ব্যবহারকারীদের জন্য নয়।
- দুই হাজার ছাব্বিশের জানুয়ারির শেষ সপ্তাহ। বিজ্ঞাপন সব থ্রেডস ব্যবহারকারীর কাছে ছড়িয়ে যায়, আর মেটা বলে যে শুরুতে দেখানোর পরিমাণ কম থাকবে। ওই একই সময়ে তারা চল্লিশ কোটির বেশি মাসিক সক্রিয় ব্যবহারকারীর কথা বলে, যেখানে আগের এপ্রিলের খবরে সংখ্যাটা ছিল ত্রিশ কোটি।
এর বিপরীতে দাঁড় করালে আগে ঢুকে পড়ুন যুক্তিটা সাবধানে পড়তে হয়। বেশিরভাগ মানুষ যখন দুই হাজার ছাব্বিশে থ্রেডসের বিজ্ঞাপনের কথা পড়ছেন, তার আগেই বিজ্ঞাপনদাতাদের দিকটা প্রায় এক বছর খোলা। দুই হাজার ছাব্বিশে যা নতুন হয়েছে সেটা হলো প্রত্যেক ব্যবহারকারীকে বিজ্ঞাপন দেখানো যায়, আর ওটা জায়গা বাড়া, দরজা খোলা নয়।
আর ওই জায়গাটার দাম অন্য কিছুর তুলনায় কত, সেটা কেউ আপনাকে বলতে পারবে না। কোনো প্রকাশিত হার নেই, আর যেসব সংখ্যা ঘুরছে সেগুলো একে অন্যের থেকে তুলে নেওয়া অনুমান। এই লেখায় ওগুলোর একটাও নেই। যেটা করা যায় সেটা হলো, আপনি যে প্রচার এমনিতেই চালাচ্ছেন সেখানে থ্রেডসকে একটা জায়গা হিসেবে চালু করে নিজের সংখ্যাগুলো পড়া। ওটা কয়েক দিনের কাজ, আর তর্কের চেয়ে ভালো।
ইনস্টাগ্রাম ছাড়া থ্রেডস চলে কি
বেশিরভাগ জায়গায় চলে না, কিন্তু সবসময় নয়।
দুই হাজার পঁচিশের মে মাসে মেটা নিশ্চিত করেছিল যে তারা মেইল ঠিকানা বা ফোন নম্বর দিয়ে প্রোফাইল খোলার ব্যবস্থা পরীক্ষা করছে, ইনস্টাগ্রামের লগইন ছাড়াই, আর সেটা ইউরোপীয় অঞ্চলের কিছু ব্যবহারকারীর ক্ষেত্রে। ওটা ওই তারিখে একটা অঞ্চলে একটা পরীক্ষা ছিল, আর তারপরে বদলে থাকতে পারে।
বাস্তব সংস্করণটা হলো, ধরে নিন থ্রেডস ইনস্টাগ্রামের মধ্য দিয়ে চলে, যতক্ষণ না আপনার নিজের নিবন্ধনের পর্দা আপনাকে অন্য কিছু দেখাচ্ছে, আর কোনো লেখা নয়, পর্দাটাই দেখুন। একটার বেশি প্রোফাইল চালালে এই ধরে নেওয়াটাই সব ঠিক করে দেয়, কারণ তখন আপনি আসলে যেটার দেখাশোনা করছেন সেটা নিচের ইনস্টাগ্রাম আইডিটা।
এখানকার তাক মেপে দেখলে, আর যেখানে একটা তালিকাই পুরো ছবিটা বানায়
এই সাইট থ্রেডসের আইডি আর থ্রেডসের বৃদ্ধির সেবা দুটোই বিক্রি করে, তাই অনুভূতির বদলে সংখ্যা দিয়ে কিছু বলা যায়। আর এখানে যে সংখ্যাটা বেরোয় সেটা প্রায় সব লেখা ভুলভাবে পড়ে, তাই এটা মন দিয়ে পড়ার মতো।
দুই সেপ্টেম্বর দুই হাজার ছাব্বিশ তারিখে থ্রেডস আইডির ঘরে চারশো ষাটটা চালু তালিকা ছিল একশোজন বিক্রেতার কাছ থেকে, আর ইনস্টাগ্রাম আইডির ঘরে দুই হাজার একশো একত্রিশটা।
এখন বিক্রির দিক। চালু তালিকাগুলোর হিসাবে থ্রেডসের ঘর থেকে চল্লিশ হাজারের বেশি ইউনিট গেছে, আর ইনস্টাগ্রামের ঘর থেকে আঠাশ হাজারের কাছাকাছি। প্রতি চালু তালিকায় ভাগ করলে দাঁড়ায় প্রায় সাতাশি বনাম তেরো, অর্থাৎ ছোট তাকটা থেকে ছয় সাত গুণ বেশি যাচ্ছে।
ওই তুলনাটা এখানে করা হবে না, আর কেন সেটা বলে দেওয়াই সৎ কাজ। থ্রেডসের ওই চল্লিশ হাজার ইউনিটের মধ্যে একটা তালিকা থেকেই গেছে দশটার আটটারও বেশি, আর দুটো তালিকা মিলিয়ে গেছে একশোয় তিরানব্বইটা। ইনস্টাগ্রামের ঘরে সবচেয়ে বড় তালিকাটা মোটের এক চতুর্থাংশেরও কম।
সবচেয়ে বড় তালিকাটা সরিয়ে দিলে থ্রেডসের ঘরে প্রতি তালিকায় দাঁড়ায় ষোলোর কাছাকাছি, আর ইনস্টাগ্রামে তেরো। অর্থাৎ ছয় গুণের ব্যবধানটা একটা সারি সরালেই মিলিয়ে যায়। যে তুলনাটা একটা সারি সরালে টেকে না, সেটা তাকের বৈশিষ্ট্য নয়, ওই সারিটার বৈশিষ্ট্য।
তাই এখান থেকে যে কথাটা সত্যি সেটা আলাদা, আর সেটা বেশি কাজের। এটা ব্যস্ত একটা তাক নয়। এটা একটা শান্ত তাক যার ওপরে একটা খুব বড় তালিকা বসে আছে। চারশো ষাটজন বিক্রেতা সবাই ভালো করছেন, এটা এখান থেকে পড়া যায় না।
এনগেজমেন্টের দিকটা এখানে কার্যত কেউ কেনে না
ছবিটার অন্য অর্ধেকটা অনেক পরিষ্কার, আর সেটা কোনো ঘনত্বের যুক্তিতে ভাঙে না, কারণ এটা দুটো তালিকার তুলনা নয়, দুটো তাকের।
থ্রেডসের বৃদ্ধির সেবার ঘরে দেড়শোটা চালু সেবা আছে। ওই গোটা ঘর থেকে আজ পর্যন্ত সম্পূর্ণ হওয়া অর্ডারের লাইন মোটে পনেরোটা। বিপরীতে আইডির ঘর থেকে চল্লিশ হাজারের বেশি ইউনিট।
অর্থাৎ এই বাজারে থ্রেডস নিয়ে মানুষ যা করছেন সেটা উপস্থিতি দাঁড় করানো, উপস্থিতি সাজানো নয়। এটা জেনে রাখলে টাকা কোথায় দেবেন সেই সিদ্ধান্তটা সহজ হয়ে যায়। দামের কোনো তুলনা এখানে দেওয়া হচ্ছে না, কারণ সেটা এই লেখার জন্য নতুন করে মাপা হয়নি, আর না মাপা সংখ্যা এখানে ছাপা হয় না।
তাকটা ইনস্টাগ্রাম নিয়ে আশ্চর্য রকম চুপ, আর এটাই কেনার পরামর্শ
যেহেতু বেশিরভাগ জায়গায় থ্রেডসে ঢোকা হয় ইনস্টাগ্রামের পরিচয় দিয়ে, তাই আশা করা যায় তালিকাগুলো বলবে নিচের ইনস্টাগ্রাম আইডিটার কী হবে।
বলে না। চারশো ষাটটা চালু তালিকার মধ্যে ইনস্টাগ্রামের নাম আছে আটচল্লিশটায়, আর শিরোনামে মাত্র সাতটায়। মেইলের কথা আছে একান্নটায়।
এটাই এই লেখার কেনার পরামর্শ, আর এটার কোনো খরচ নেই। একটা থ্রেডস উপস্থিতি টিকবে কি না সেটা ঠিক করে দেয় নিচের ইনস্টাগ্রাম লগইনটা আর তার সঙ্গে জোড়া উদ্ধারের পথটা। বাজার ওই কথাটা লেখার জন্য বাড়তি দাম নিচ্ছে না, অর্থাৎ জিজ্ঞেস করতে আপনার কিছু খরচ হবে না, কিন্তু জিজ্ঞেস না করলে আইডিটা হারাতে পারে।
কেনার আগে ঠিক কী কী নিশ্চিত করতে হয় সেটা কেনার আগের তালিকায় আছে, আর একসঙ্গে অনেকগুলো নেওয়ার আগে বিক্রেতা যাচাই করার পদ্ধতিটা পাইকারি বাছাইয়ের লেখাটায়। চলতি তালিকাগুলো থ্রেডসের তাকে, আর নিচের স্তরটা ইনস্টাগ্রামের তাকে।
যাচাইয়ের কোডের ঘরে থ্রেডস কোথায় বসে
ছোট একটা কথা, কিন্তু নতুন প্রোফাইল খুলতে গেলে এটাই প্রথমে লাগে।
ভাড়ার নম্বরের ঘরে থ্রেডসের নিজের কোনো সেবা নেই। ওটা ইনস্টাগ্রামের ঘরের সঙ্গে একসঙ্গে বসানো, আর নামটাতেই থ্রেডস জোড়া আছে। এটা নিজেই একটা ছোট তথ্য: ব্যবস্থাটার চোখেও দুটো একই দরজা।
ওই ঘরে আজ পর্যন্ত একশো পঁয়তাল্লিশটা নম্বর ভাড়া নেওয়া হয়েছে আর তার চৌত্রিশটায় কোড এসেছে। সাইটের সব সেবা মিলিয়ে হারটা প্রায় চার ভাগের একভাগ, তাই এটা মোটামুটি গড়ের কাছাকাছি। ভাড়ার নম্বরের ঘরটা এই নির্দিষ্ট ধাপটার জন্য, আর একবারের বেশি চেষ্টার হিসাব রেখে এগোনোই বাস্তবসম্মত।
কয়েকটা প্রোফাইল একসঙ্গে চালালে
এই অংশে কোনো সংখ্যা দেওয়া হবে না, আর সেটা ইচ্ছাকৃত।
যে প্রোফাইলগুলো একই বাইরের ঠিকানা ভাগ করে সেগুলো সহজেই একসূত্রে বাঁধা যায়, তাই ঠিকানাগুলো আলাদা রাখাই প্রথম কাজ আর এটাই সবচেয়ে বেশি বাদ পড়ে। ওই দিকটার ব্যবহারিক অংশ বাংলায় এই তালিকায় আর এই লেখায় আছে। দ্বিতীয় স্পষ্ট ধরনটা হলো একই লেখা কয়েকটা প্রোফাইলে বসিয়ে দেওয়া, আর ওটা সত্যিকারের আলাদা করতে যত পরিশ্রম লাগে তা কোনো সরঞ্জাম বাঁচায় না।
কটা প্রোফাইল চালাবেন বা হাতে কটা রাখবেন, এই লেখা সেটা বলবে না। ওই সংখ্যাগুলোর কোনো উৎস নেই, ওগুলো কারও অনুমান যেটা পরামর্শের চেহারায় সাজানো। আপনি যতটা সত্যিই দেখাশোনা করতে পারবেন, ওটাই একমাত্র মাপা যায় এমন সীমা।
আর যেটা বলার মতো সেটা হলো, আইডি কেনাটাই সস্তা অংশ, রেখে দেওয়াটা নয়।
Frequently Asked Questions
মেটার একটা অ্যাপ যেখানে মানুষ ছোট ছোট লেখা পোস্ট করেন আর একে অন্যের লেখায় জবাব দেন। এটা ইনস্টাগ্রামের পাশে বসানো, আর বেশিরভাগ জায়গায় ইনস্টাগ্রামের পরিচয় দিয়েই এখানে ঢোকা হয়। ইংরেজিতে শব্দটা সুতো বোঝায় বলে খুঁজতে গেলে পোশাক শিল্পের প্রতিষ্ঠান আর একটা পুরোনো সিনেমাও এসে পড়ে।
এই মুহূর্তে দেয় না। মেটা বাছাই করা কিছু ক্রিয়েটরকে পোস্ট আর ভিউয়ের লক্ষ্য পূরণের জন্য বোনাস দিত, জিনিসটা ছিল আমন্ত্রণে আর কোনো শর্ত কখনো প্রকাশ করা হয়নি যেটা ইচ্ছে করে পূরণ করা যায়। ক্রিয়েটররা জানিয়েছেন টাকা আসা বন্ধ হয় দুই হাজার পঁচিশের এপ্রিলের শেষ দিকে আর খবরটা প্রকাশ পায় ওই জুলাইয়ে। মেটা কখনো ব্যাখ্যা দেয়নি, আর ইনস্টাগ্রামের যে পাতায় এই সুবিধাগুলোর কথা ছিল সেখানে এখন থ্রেডসের নাম নেই।
কোথাওই চালু নেই, তাই দেশের তালিকা খোঁজার দরকার নেই। ইংরেজিতে এই বিষয়ে যা খোঁজা হয় তার চারটেতে দেশের নাম থাকে, ভারত পাকিস্তান ফিলিপাইন, আর বাংলাদেশ ওখানে নেই। এর মানে এই নয় যে এখানে কিছু বন্ধ, এর মানে হলো ব্যবস্থাটাই বন্ধ। টাকা আসে ব্র্যান্ডের কাজ, অ্যাফিলিয়েট লিংক আর নিজের জিনিস বিক্রি থেকে, আর ওগুলোর একটাও মেটার টাকা দেওয়ার ওপর নির্ভর করে না।
পরীক্ষা শুরু হয় দুই হাজার পঁচিশের জানুয়ারিতে অল্প কিছু বিজ্ঞাপনদাতাকে নিয়ে। ওই বছরের এপ্রিলে সব যোগ্য বিজ্ঞাপনদাতার জন্য খুলে যায়, যদিও কোথায় দেখানো হবে সেটা তখনও অঞ্চল অনুযায়ী সীমিত ছিল, আর ওই সময়ের খবরগুলো একে বিশ্বব্যাপী বলেছিল বলেই গোলমালটা তৈরি হয়েছে। সব ব্যবহারকারীর কাছে বিজ্ঞাপন পৌঁছায় দুই হাজার ছাব্বিশের জানুয়ারির শেষ সপ্তাহে। অর্থাৎ দুই হাজার ছাব্বিশ ছিল জায়গা বাড়ার বছর, দরজা খোলার নয়।
বেশিরভাগ জায়গায় যায় না, তবে এটা আর সর্বজনীন নয়। দুই হাজার পঁচিশের মে মাসে মেটা নিশ্চিত করেছিল যে তারা মেইল বা ফোন নম্বর দিয়ে প্রোফাইল খোলার ব্যবস্থা পরীক্ষা করছে, ইউরোপীয় অঞ্চলের কিছু ব্যবহারকারীর ক্ষেত্রে। ওটা ওই তারিখে একটা অঞ্চলের পরীক্ষা ছিল। ধরে নিন ইনস্টাগ্রাম লাগবে, যতক্ষণ না আপনার নিজের নিবন্ধনের পর্দা অন্য কিছু দেখাচ্ছে।
সংখ্যাটা তাই বলে, কিন্তু সংখ্যাটা একটা তালিকার। চালু তালিকার হিসাবে থ্রেডসের ঘর থেকে চল্লিশ হাজারের বেশি ইউনিট গেছে আর ইনস্টাগ্রাম থেকে আঠাশ হাজারের কাছাকাছি, অথচ থ্রেডসের ওই মোটের দশটার আটটারও বেশি গেছে একটামাত্র তালিকা থেকে আর দুটো তালিকা মিলিয়ে একশোয় তিরানব্বইটা। সবচেয়ে বড় তালিকাটা সরালে দুই তাকের প্রতি তালিকার হিসাব প্রায় সমান হয়ে যায়। তাই এটা ব্যস্ত তাক নয়, এটা শান্ত তাকের ওপর বসা একটা খুব বড় তালিকা।
এখানে কার্যত কেউ কেনেন না, আর সেটাই সবচেয়ে বড় সংকেত। থ্রেডসের বৃদ্ধির সেবার ঘরে দেড়শোটা চালু সেবা আছে আর ওই গোটা ঘর থেকে আজ পর্যন্ত সম্পূর্ণ হওয়া অর্ডারের লাইন মোটে পনেরোটা, বিপরীতে আইডির ঘর থেকে চল্লিশ হাজারের বেশি ইউনিট। দামের কোনো তুলনা এখানে দেওয়া হচ্ছে না, কারণ সেটা এই লেখার জন্য নতুন করে মাপা হয়নি।
নিচের ইনস্টাগ্রাম আইডিটার কী হবে, কারণ বেশিরভাগ অঞ্চলে থ্রেডস উপস্থিতি আসলে ওটাই। বাজার এই ব্যাপারে অদ্ভুত রকম চুপ: এখানকার চারশো ষাটটা চালু থ্রেডস তালিকার মধ্যে ইনস্টাগ্রামের নাম আছে আটচল্লিশটায় আর শিরোনামে মাত্র সাতটায়, আর মেইলের কথা আছে একান্নটায়। কথাটা লেখার জন্য কেউ বাড়তি দাম নিচ্ছে না, তাই জিজ্ঞেস করতে কিছু খরচ হবে না আর না করলে আইডিটা হারাতে পারে।
যায়, তবে থ্রেডসের নিজের কোনো ঘর নেই, ওটা ইনস্টাগ্রামের ঘরের সঙ্গেই বসানো আর নামেই থ্রেডস জোড়া আছে। ওই ঘরে আজ পর্যন্ত একশো পঁয়তাল্লিশটা নম্বর ভাড়া নেওয়া হয়েছে আর চৌত্রিশটায় কোড এসেছে, যেটা সাইটের গড়ের কাছাকাছি। একবারের বেশি চেষ্টার হিসাব রেখে এগোনোই বাস্তবসম্মত।

Avery Bennett
সোশ্যাল মিডিয়া কনসালট্যান্ট এবং গ্রোথ হ্যাকার। সব আকারের ব্র্যান্ডের জন্য ভাইরাল কন্টেন্ট তৈরি এবং ইনফ্লুয়েন্সার মার্কেটিং কৌশলে বিশেষজ্ঞ।

