আইডি কেনার বারোটা যাচাই, কখন করা যায় সেই অনুযায়ী সাজানো
বেশিরভাগ তালিকা এক জায়গায় মিশিয়ে ফেলে যেটা পাঁচ সেকেন্ডে দেখা যায় আর যেটা টাকা দেওয়ার আগে জানারই উপায় নেই। ভাগটাই এখানে আসল জিনিস।
Avery Bennettএই ধরনের তালিকাগুলো প্রায় সবসময় একইভাবে ব্যর্থ হয়। ফরম্যাট দেখে নিন কথাটার ঠিক পাশে বসিয়ে দেওয়া হয় আইডিটার কোনো খারাপ ইতিহাস নেই তা দেখে নিন।
দুটো কিন্তু এক ধরনের কাজ নয়। প্রথমটা তালিকার পাতা থেকেই পাঁচ সেকেন্ডে হয়ে যায়। দ্বিতীয়টা টাকা দেওয়ার আগে জানার কোনো উপায়ই নেই, আর বেশিরভাগ ক্ষেত্রে টাকা দেওয়ার পরেও নেই।
তাই নিচের বারোটা যাচাই সাজানো হয়েছে কাজটা কখন করা সম্ভব সেই অনুযায়ী। যাচাইগুলো নিজেরা সাধারণ, ভাগটাই কাজের জিনিস।
দল এক: টাকা দেওয়ার আগেই দেখে নেওয়া যায়
এই ছয়টা তালিকার নিজের ঘরে লেখা থাকে। ঘরগুলোর মানে সব বিক্রেতার কাছে এক, তাই এগুলো ধরে ছেঁকেও নেওয়া যায়, আর এগুলো বাদ দেওয়ার কোনো অজুহাত নেই।
- কীভাবে হাতে আসবে। পাসওয়ার্ড, কুকি, একটা ফাইল, না একটা ফোল্ডার। ভুল হলে আইডিটা ভালো হয়েও আপনার কাছে অচল, আর এটাই সবচেয়ে বেশি টাকা নষ্ট করে। অথচ এটা আগে থেকেই পুরোপুরি জানা যায়।
- দুই ধাপের যাচাই বসানো আছে কি না। বসানো থাকলে বদলাতে বিক্রেতার দেওয়া জিনিস লাগবে, না থাকলে আপনি নিজেরটা বসাতে পারবেন।
- উদ্ধারের ঠিকানা দেওয়া হচ্ছে কি না। এই একটা ঘরই ঠিক করে দেয় জিনিসটা টেকসইভাবে আপনার, নাকি গোলমাল হওয়া পর্যন্ত ধার করা।
- কোন দেশে খোলা। শুধু তখনই দরকার যখন যে সেবাটা ব্যবহার করবেন সেটা দেশ মিলিয়ে দেখে। না মিললে এটার জন্য বাড়তি দেওয়ার কোনো কারণ নেই।
- বছরটা সংখ্যায় লেখা আছে কি না। একটা সাল লেখা থাকলে সেটা হাতে পাওয়ার পরে মিলিয়ে দেখা যায়। শুধু পুরোনো লেখা থাকলে যায় না, আর এই দুটোর দামও প্রায়ই আলাদা, কখনও অপ্রত্যাশিত দিকে।
- সমস্যা জানানোর মেয়াদ। আইডিটার নয়, শর্তের ঘর। এটা তাকভেদে এত বদলায় যে এর জন্য আলাদা একটা অংশ নিচে আছে।
দল দুই: শুধু হাতে পাওয়ার পরে, মেয়াদের ভেতরে
এই চারটে তালিকা দেখে জানার উপায় নেই। এগুলো প্রথম কয়েক মিনিটে করা যায়, আর তখনই শুধু। অর্ডারের সময়টা এই চারটের কথা ভেবে ঠিক করতে হয়।
- উপকরণটা সত্যিই কাজ করছে কি না, আর সেটা ঠিক যে প্রোগ্রামে চালাবেন সেটাতেই। ব্রাউজারে খুলে গেল অথচ আপনার প্রোগ্রামে খুলল না, এটাও ব্যর্থতা।
- লেখা প্রতিটা সংখ্যা সত্যি কি না। ফলোয়ার, পুরোনো লেখার সংখ্যা, কোনো জমা থাকা পরিমাণ, কোনো চিহ্ন। এগুলো সাধারণত বিক্রেতার নিজের লেখা, ঘরে বসানো নয়, আর মেয়াদ শেষ হলে এগুলো নিয়ে আর কিছু বলার থাকে না।
- হস্তান্তরটা সম্পূর্ণ কি না। নিরাপত্তার ঘরে পৌঁছানো যাচ্ছে? উদ্ধারের ঠিকানা বদলানো যাচ্ছে? ডাকবাক্স দেওয়ার কথা থাকলে সেটা খুলছে? এখনই বদলাতে হবে না, শুধু নিশ্চিত হয়ে নিন যে পারতেন।
- আইডিটা একটানা এক জিনিস মনে হচ্ছে কি না। পুরোনো কাজকর্ম দেখে বোঝা যায় জিনিসটা একটানা চলেছে নাকি হঠাৎ চরিত্র বদলেছে। কেউ এটা আগে থেকে বলতে পারেন না, কিন্তু দেখতে এক মিনিট লাগে।
দল তিন: কেউ যাচাই করতে পারেন না, বিক্রেতাও নন
এই দুটো আলাদা করে লেখার কারণ হলো, তালিকায় মাঝে মাঝে এগুলোর দাবি করা হয়, আর দাবিটাই একটা সংকেত।
- আইডিটা পরে বন্ধ হবে না। এটা ঠিক করে প্ল্যাটফর্ম, আর সে দেখে হাত বদলের পরে আইডিটা দিয়ে কী করা হয়েছে। বিক্রেতার সেখানে কোনো ভূমিকা নেই। বিক্রির মুহূর্তের অবস্থা বলা সৎ, চলমান প্রতিশ্রুতি হিসেবে লেখা হলে সেটা কম নয়, বেশি সাবধান হওয়ার কারণ।
- আগের মালিক ফিরে আসবেন না। এই বাজারে এমন কোনো ব্যবস্থা নেই যেটা এই প্রশ্নটার নিষ্পত্তি করে। সবচেয়ে শক্ত অবস্থানটা হলো উদ্ধারের ঠিকানা আপনার হাতে থাকা, আর সেই কারণেই তিন নম্বর যাচাইটা প্রথম দলে বসে। ওটা একটা অবস্থান, প্রতিশ্রুতি নয়।
মেয়াদের ঘরটা তাক ভেদে যতটা বদলায়
ছয় নম্বর যাচাইটার আলাদা অংশ পাওনা, কারণ এটাই একমাত্র ঘর যেটা বিনামূল্যে ছেঁকে নেওয়া যায় অথচ ফলাফলে বিরাট তফাত করে।
ঘড়িটা চালু হয় জিনিস হাতে পাওয়ার মুহূর্ত থেকে, টাকা দেওয়ার মুহূর্ত থেকে নয়। আর মেয়াদটা প্রতিটা তালিকার নিজের, বিক্রেতা নিজে বসান, সাইটের কোনো একটা সাধারণ নিয়ম নয়।
প্রায় প্রতিটা তাকে মাঝামাঝি তালিকার মেয়াদ বারো ঘণ্টা। কিন্তু কাজে লাগে না এমন ছোট মেয়াদের তালিকা কত ভাগ, সেটা তাক ভেদে এতটাই বদলায় যে গড়টা কার্যত অর্থহীন। ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে মাপা:
- সবচেয়ে ভালো ঘরে ওই অনুপাত একশোতে দেড়টা, আর তার পরেরগুলোয় বিশটার একটার কম।
- বড় তাকগুলোয়, যেমন জিমেইল, টেলিগ্রাম, টুইটার আর ইনস্টাগ্রাম, সেটা পাঁচটার একটা থেকে চারটার একটার মধ্যে।
- আর সবচেয়ে খারাপ ঘরে সেটা অর্ধেকেরও বেশি, অর্থাৎ ওখানে দুটোর একটা তালিকায় যাচাই করার কোনো সুযোগই নেই।
এর কাজের অর্থ হলো, আপনি কোন তাকে কিনছেন সেটাই এই ঘরে আপনার সম্ভাবনা ঠিক করে দেয়। কোনো কোনো তাকে ছেঁকে না নিলেও চলে, আর কোনো কোনো তাকে না ছেঁকে কিনলে সম্ভাবনার নিয়মেই আপনি মেয়াদহীন জিনিস পাবেন।
কী কিনছেন তার উপর ওজনটা বদলায়
বারোটার সবগুলোয় সমান মনোযোগ দেওয়ার দরকার নেই, আর দিলে বরং জরুরিগুলোয় কম পড়ে।
- কোনো প্রোগ্রামে ঢোকানোর জন্য। এক আর সাত নম্বরই কার্যত সবটা। ফরম্যাট ভুল হলে ক্ষতিটা আংশিক নয়, পুরো। বাকিগুলো প্রায় অপ্রাসঙ্গিক।
- দীর্ঘদিন ধরে দেখা যায় এমন কিছু চালানোর জন্য। তিন, পাঁচ আর দশ নম্বর। এখানে আপনার টেকসই নিয়ন্ত্রণ আর একটা সঙ্গতিপূর্ণ ইতিহাস দুটোই দরকার, আর দুটোরই দাম আছে।
- একটা যাচাই একবার পেরোনোর জন্য। এক, চার আর ছয় নম্বর। আইডিটার অতীত এখানে অপ্রাসঙ্গিক, শুধু এখন কাজ করছে কি না আর অভিযোগ করার সময় আছে কি না, এটুকুই।
একটা অভ্যাস, যেটা পুরো তালিকাটার চেয়ে বেশি কাজে দেয়
অর্ডারটা এমন সময়ে দিন যখন পরের দশ মিনিট আপনি বসতে পারবেন।
কারণটা যান্ত্রিক। দল দুইয়ের চারটে যাচাই শুধু ওই সময়টুকুতেই সম্ভব, আর পরে কখনও নয়। ঘুমোনোর আগে অর্ডার দিলে যাচাই করা যেত এমন একটা কেনাকাটাকে আপনি নিজের হাতেই যাচাইহীন করে ফেলছেন।
আর আগে থেকে যত সাবধানতাই নিন, ওই হারানো সময়টা কোনো কিছু দিয়ে পুষিয়ে নেওয়া যায় না। এটাই এই লেখার একমাত্র পরামর্শ যেটা কোনো ঘর না পড়েই কাজে লাগানো যায়।
খেলার আইডির ক্ষেত্রে ভাগটা টেকে, বিষয়গুলো টেকে না
এই কথাটা বাংলাদেশের পাঠকের জন্য আলাদা করে দরকার, কারণ এখান থেকে আইডি বেচাকেনা লিখে খুঁজলে যা আসে তার বেশিরভাগই খেলার আইডি।
উপরের কাঠামোটা ওখানেও খাটে। কোনটা আগে জানা যায় আর কোনটা পরে, সেই প্রশ্নটা সব জায়গাতেই একই।
কিন্তু ঘরগুলো এক নয়। খেলার আইডির ক্ষেত্রে যে কোম্পানি খেলাটা বানিয়েছে তারা নিজেরাই হস্তান্তর আর মালিকানার নিয়ম ঠিক করে দেয়, আর ওই নিয়মগুলো তালিকার যেকোনো ঘরের চেয়ে বেশি জোরালো। এখানে ওরকম কিছু নেই। তাই ভাগটা সঙ্গে নিয়ে যান, বিষয়গুলো নয়, আর ওখানকার নিয়মটা আলাদা করে পড়ে নিন।

