বিদেশি আইপি বা ভিপিএন দিয়ে ইনস্টাগ্রামে ঢোকার নিয়ম
বাংলাদেশ থেকে ভিপিএন দিয়ে ঢুকতে গিয়ে যাচাইয়ের পর্দা এলে সমস্যাটা প্রায়ই দেশ নয়, বিনামূল্যের ভিপিএন। কেন, আর কী করলে ঝামেলা এড়ানো যায়।
Avery Bennettইনস্টাগ্রাম শুধু দেখে না আপনি কোন দেশ থেকে ঢুকছেন। দেখে আপনার সব তথ্য একসঙ্গে একটা সঙ্গতিপূর্ণ গল্প বলছে কি না।
এই কারণেই দেশ বদলানো একা কোনো সমস্যা নয়, আর এই কারণেই দেশ ঠিক রেখেও অনেকে যাচাইয়ের পর্দায় আটকে যান। বাংলাদেশ থেকে যাঁরা এই সমস্যায় পড়েন তাঁদের বেশিরভাগের কারণ একটাই, আর সেটা নিচে দ্বিতীয় ভাগে।
আইপির ধরনটাই সবচেয়ে বড় ভূমিকা নেয়
সব আইপি ঠিকানা ইনস্টাগ্রামের চোখে এক নয়, আর কোন দেশের তার চেয়ে কোন ধরনের সেটা বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
- বাড়ির ব্রডব্যান্ড বা মোবাইল ডেটা। এগুলো সাধারণ মানুষের সংযোগ, আর এখানে ঝুঁকি সবচেয়ে কম।
- ডেটা সেন্টারের ঠিকানা। সার্ভার আর হোস্টিং কোম্পানির ঠিকানা। এগুলো চেনা যায়, আর এখানেই বেশিরভাগ যাচাইয়ের পর্দা আসে।
একটা নিয়ম বাকি সবের চেয়ে বেশি কাজ করে: একটা একাউন্ট, একটা জায়গা। আজ যুক্তরাষ্ট্র, কাল যুক্তরাজ্য, পরশু সিঙ্গাপুর, এই ধরন যেকোনো একাউন্টে সন্দেহ তৈরি করে, বাকি সব যতই ঠিক থাকুক।
প্রক্সির ধরন নিয়ে বিস্তারিত হিসাব আলাদা লেখায় আছে, এখানে শুধু ফলটুকু ব্যবহার করা হয়েছে।
বিনামূল্যের ভিপিএন এখানে সবচেয়ে বড় সমস্যা
বাংলায় ইনস্টাগ্রাম আর ভিপিএন নিয়ে খোঁজার তালিকায় free শব্দটা তিনবার আসে। তাই এই ভাগটাই এই লেখার সবচেয়ে জরুরি অংশ।
বিনামূল্যের ভিপিএন অ্যাপগুলো প্রায় সবই ডেটা সেন্টারের ঠিকানা দেয়, আর সেই একই ঠিকানা একই সময়ে হাজার হাজার মানুষ ব্যবহার করেন। ইনস্টাগ্রামের দিক থেকে ব্যাপারটা দেখতে এই রকম: একটা ঠিকানা থেকে হাজারটা আলাদা একাউন্ট ঢুকছে।
তার ফল তিন রকম হয়। যাচাইয়ের পর্দা আসে। কোড চেয়ে বসে। অথবা একাউন্ট সাময়িকভাবে আটকে যায়।
আর একটা কথা সৎভাবে বলা দরকার। বিনামূল্যের ভিপিএন কোনো দাতব্য কাজ নয়, ওদের আয় হয় আপনার ব্যবহারের তথ্য বিক্রি করে বা বিজ্ঞাপন দিয়ে। ইনস্টাগ্রামের পাসওয়ার্ড ওই সংযোগের ভেতর দিয়ে যায়, তাই ঝুঁকিটা শুধু যাচাইয়ের পর্দায় সীমাবদ্ধ নয়।
ব্যবহারিক পরামর্শটা এক লাইনের: দেশে বসে দেশি একাউন্ট চালাতে ভিপিএন লাগে না, আর অকারণে চালু রাখলে সমস্যা বাড়ে ছাড়া কমে না।
আইপির সঙ্গে বাকি সব মেলানো
ঠিকানাটা গল্পের অর্ধেক। বাকি অর্ধেক আপনার ব্রাউজার আর যন্ত্র কী বলছে।
যদি ঠিকানা বলে আপনি যুক্তরাষ্ট্রে, অথচ ব্রাউজারের সময় অঞ্চল বাংলাদেশের আর ভাষা বাংলা, তাহলে অসঙ্গতিটা ধরা পড়ে। এটা মেলানোর মানে সময় অঞ্চল আর ভাষা ওই দেশের মতো করা।
একটা কথা এখানে উল্টো, আর ইংরেজি লেখাগুলো প্রায়ই ভুল বলে। ফোনের অবস্থান বা লোকেশনের অনুমতি চালু রাখলে ফোন তার আসল অবস্থান বলে দেয়, অর্থাৎ বাংলাদেশ, আর তখন ঠিকানার সঙ্গে সেটা মেলে না। ভিন্ন দেশের ঠিকানা ব্যবহার করলে ওই অনুমতিটা বন্ধ রাখাই ঠিক।
যাঁরা একের বেশি একাউন্ট আলাদা রাখতে চান, তাঁদের জন্য আলাদা প্রোফাইল রাখার ব্রাউজারগুলো এই কাজটা নিজে থেকে সামলায়। একটা মাত্র একাউন্টের জন্য ওর দরকার নেই।
ঢোকার পরের প্রথম সময়টা
নতুন জায়গা থেকে ঢুকে সঙ্গে সঙ্গে লাইক, ফলো বা পোস্ট শুরু করাটাই সবচেয়ে সাধারণ ভুল।
করণীয়টা প্রায় হাস্যকর রকমের সহজ: কিছুক্ষণ শুধু দেখুন। ফিড নামান, দুটো স্টোরি দেখুন, একটা রিল দেখুন, তারপর অ্যাপটা বন্ধ করে দিন।
নির্দিষ্ট কত মিনিট, তার কোনো প্রকাশিত সংখ্যা নেই, আর যাঁরা সংখ্যা বলেন তাঁরা অনুমান করছেন। যেটা বলা যায় তা হলো প্রথম বসাটা ছোট আর নিষ্ক্রিয় রাখুন, আর দ্বিতীয় বা তৃতীয় বসা থেকে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক কাজ শুরু করুন।
বিশেষ করে যেগুলো এড়াবেন: একসঙ্গে অনেক মানুষকে ফলো করা, একই কথা অনেকগুলো পোস্টে মন্তব্য করা, আর পরপর অনেক বার্তা পাঠানো।
যাচাইয়ের পর্দা এসে গেলে
এটা শাস্তি নয়, একটা প্রশ্ন। উত্তর দেওয়ার ধরনটাই ফল ঠিক করে।
এটা কি আপনি, এই ধরনের প্রশ্ন এলে হ্যাঁ বলুন, যদি সত্যিই আপনি হন। উপেক্ষা করে বারবার চেষ্টা করলে অবস্থা খারাপ হয়।
কোড চাইলে মেইল বা নম্বর যেটা কাজ করে সেটা দিয়ে এগোন। এখানেই বেশিরভাগ মানুষ আটকান, আর তাই আগে থেকে দুই ধাপের যাচাইটা এমন কিছুর সঙ্গে বেঁধে রাখা দরকার যেটা আপনার হাতে আছে। ওই ব্যবস্থাটার হিসাব পাসওয়ার্ডের লেখায় আছে।
পেরিয়ে যাওয়ার পর কয়েক দিন স্বাভাবিকের চেয়ে কম কাজ করুন। একই দিনে আবার আগের গতিতে ফিরে গেলে দ্বিতীয়বার একই পর্দা আসে।
বাংলাদেশ থেকে সবচেয়ে বেশি যেসব ভুল হয়
- প্রয়োজন ছাড়া ভিপিএন চালু রাখা। গান খোলার জন্য বা কোনো একটা ভিডিও দেখার জন্য চালু করে ভুলে যাওয়া, তারপর ইনস্টাগ্রাম খোলা।
- ওয়াইফাই আর মোবাইল ডেটার মধ্যে বারবার বদল। একবারে অনেকগুলো বদল হলে ইনস্টাগ্রাম কয়েকটা আলাদা জায়গা দেখে।
- একই ফোনে অনেকগুলো একাউন্ট পরপর খোলা আর বন্ধ করা। এতে একাউন্টগুলো একে অপরের সঙ্গে জুড়ে যায়।
- নতুন কেনা একাউন্টে প্রথম দিনেই কাজ শুরু করা। এখানে ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি, কারণ একাউন্টটা আগে অন্য দেশে চলছিল আর এখন হঠাৎ বাংলাদেশে।
শেষেরটা নিয়ে একটা কথা। যে একাউন্টের পুরোনো ইতিহাস পরিষ্কার, সে এই ধাক্কাটা সামলায়। যেটার কোনো ইতিহাসই নেই, সেটা সামলায় না। কেনার আগে কী দেখবেন তা আলাদা লেখায় আছে।


