ইনস্টাগ্রাম পাসওয়ার্ড: দেখা, বদলানো আর ভুলে গেলে কী করবেন
বাংলায় সবচেয়ে বেশি খোঁজা হয় পাসওয়ার্ড কীভাবে দেখবো। সোজা উত্তর হলো ইনস্টাগ্রাম কোথাও দেখায় না, তবে জমা থাকলে যেখানে পাওয়া যেতে পারে সেই জায়গাটা আছে।
Avery Bennettবাংলায় ইনস্টাগ্রামের পাসওয়ার্ড নিয়ে যা খোঁজা হয় তার প্রতিটাই বাংলা অক্ষরে লেখা, আর তার একটা বড় অংশ বদলানো নিয়ে নয়, দেখা নিয়ে। কিভাবে দেখবো, কিভাবে বের করব, চেক করব।
সেই প্রশ্নটা দিয়েই শুরু, কারণ ওটার উত্তর জানা না থাকলে বাকি সব ধাপ অর্থহীন।
পাসওয়ার্ড দেখা যায় না, আর কেন যায় না
ইনস্টাগ্রাম আপনার পাসওয়ার্ড আপনাকে দেখায় না। সেটিংসের কোথাও ওই ঘরটা নেই, আর ভবিষ্যতেও থাকবে না।
কারণটা কারিগরি আর এটা আপনার পক্ষে। ইনস্টাগ্রাম পাসওয়ার্ডটা পড়ার মতো করে জমা রাখেই না, একটা রূপান্তরিত চেহারা রাখে যেটা মিলিয়ে দেখা যায় কিন্তু ফেরত পড়া যায় না। অর্থাৎ ইনস্টাগ্রামের নিজের লোকেরাও ওটা দেখতে পান না। এই কারণেই তাদের সার্ভার থেকে তথ্য চুরি হলেও পাসওয়ার্ডগুলো সরাসরি হাতে চলে যায় না।
তাহলে জমানো কপিটা কোথায় থাকতে পারে। তিনটে জায়গায়, আর তিনটেই আপনার নিজের যন্ত্রে।
- ফোনের ব্রাউজারে। কম্পিউটার বা ফোনের ব্রাউজারে যদি একবার সংরক্ষণ করে থাকেন, ব্রাউজারের পাসওয়ার্ডের ঘরে সেটা দেখা যায়।
- গুগল বা অ্যাপলের পাসওয়ার্ড ম্যানেজারে। অ্যান্ড্রয়েডে গুগলের ঘরে, আইফোনে সেটিংসের পাসওয়ার্ডের ঘরে।
- ফোন যদি ইনস্টাগ্রামে লগইন করা থাকে, তাহলে পাসওয়ার্ড না জেনেও বদলানো যায়, আর সেটাই সবচেয়ে সহজ পথ।
এর বাইরে যেসব সাইট বা অ্যাপ পাসওয়ার্ড বের করে দেওয়ার দাবি করে, তারা একটাই কাজ করে: আপনার কাছ থেকে পাসওয়ার্ড চেয়ে নেয়।
অ্যাপের ইংরেজি কথাগুলোর মানে
একটা প্রশ্ন খোঁজার তালিকায় সরাসরি আছে: পাসওয়ার্ড রিসেট করার জন্য ট্যাপ করুন, এর মানে কী। অর্থাৎ অনেকে আটকে যান অ্যাপের ইংরেজি লেখাগুলোতেই।
- Forgot password? পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন। এখানে চাপ দিলে নতুন পাসওয়ার্ড বসানোর পথ খোলে।
- Change password. পাসওয়ার্ড বদলানো। পুরোনোটা জানা থাকলে এই পথ।
- Send login link. ঢোকার একটা লিংক পাঠানো হবে, পাসওয়ার্ড ছাড়াই একবার ঢোকা যাবে।
- Where you're logged in. কোন কোন যন্ত্রে এখন আপনার একাউন্ট খোলা আছে তার তালিকা।
- Two-factor authentication. দুই ধাপের যাচাই, পাসওয়ার্ডের পরে একটা কোড।
ভেতর থেকে বদলানো
ফোনে যদি একাউন্টটা খোলা থাকে, পুরোনো পাসওয়ার্ড মনে না থাকলেও চলে যেতে পারে, কারণ ইনস্টাগ্রাম প্রায়ই এখানে ভুলে যাওয়ার পথটাও দেখায়।
- প্রোফাইলে গিয়ে কোণার মেনু খুলুন।
- সেটিংসে ঢুকে অ্যাকাউন্টস সেন্টারে যান।
- পাসওয়ার্ড আর নিরাপত্তার ঘরে ঢুকে পাসওয়ার্ড বদলানোর ঘরটা বাছুন।
- একের বেশি একাউন্ট থাকলে কোনটা তা বেছে নিন, তারপর পুরোনোটা আর নতুনটা দুবার লিখুন।
নতুন পাসওয়ার্ড নিয়ে দুটো ব্যবহারিক কথা। বারোটা অক্ষরের কম রাখবেন না, আর অন্য কোনো সাইটে ব্যবহার করা পাসওয়ার্ড এখানে বসাবেন না। দ্বিতীয়টা প্রথমটার চেয়ে বেশি জরুরি, কারণ ইনস্টাগ্রামের একাউন্ট বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ইনস্টাগ্রামের দুর্বলতায় হারায় না, অন্য কোথাও ফাঁস হওয়া একই পাসওয়ার্ডে হারায়।
ঢুকতে না পারলে
এটাই সবচেয়ে বেশি খোঁজা অবস্থা, আর এখানে ক্রমটা মেনে চলা দরকার।
লগইনের পর্দায় Forgot password লেখাটায় চাপ দিন। ব্যবহারকারীর নাম, মেইল বা ফোন নম্বর, যেটা মনে আছে বসান। এরপর কোড কোথায় পাঠানো হবে তা বেছে নিন, খুদে বার্তায় নাকি মেইলে। কোড বসিয়ে নতুন পাসওয়ার্ড দুবার লিখলেই হয়ে যায়।
বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি যেখানে আটকায় সেটা হলো নম্বর বদলে যাওয়া। পুরোনো সিম আর নেই, তাই কোড আসে না। এই অবস্থায় মেইলের পথটা চেষ্টা করুন, আর মেইলটাও যদি হাতে না থাকে তাহলে আগে ওই মেইলটা ফেরত পাওয়ার কাজ করুন, কারণ ইনস্টাগ্রামের চাবিটা আসলে ওখানেই।
ফেসবুক দিয়ে যদি একাউন্টটা জোড়া থাকে, ওই পথে ঢোকা প্রায়ই সবচেয়ে দ্রুত, কারণ তখন কোডের জন্য অপেক্ষা করতে হয় না।
দুই ধাপের যাচাই, আর ব্যাকআপ কোড
পাসওয়ার্ড ঠিক করার পরের কাজটা এটাই, আর এটাই আসল সুরক্ষা।
একই নিরাপত্তার ঘরে দুই ধাপের যাচাইয়ের ব্যবস্থা আছে। চালু করলে পরের বার ঢোকার সময় পাসওয়ার্ডের সঙ্গে ছয় সংখ্যার একটা কোডও লাগবে।
কোডটা দুই উপায়ে পাওয়া যায়, খুদে বার্তায় বা একটা অথেনটিকেটর অ্যাপে। বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে অ্যাপটাই ভালো, আর কারণটা ব্যবহারিক: নম্বর বদলালে খুদে বার্তার পথ বন্ধ হয়ে যায়, অ্যাপ বদলায় না।
সবচেয়ে জরুরি কাজটা এখানে: চালু করার সময় ইনস্টাগ্রাম কয়েকটা ব্যাকআপ কোড দেয়। ওগুলো কোথাও লিখে রাখুন, স্ক্রিনশট নয়, কারণ ফোন হারালে স্ক্রিনশটও যায়। ফোন হারিয়ে গেলে ওই কোডগুলোই একমাত্র পথ।
কোন কোন যন্ত্রে খোলা আছে
পাসওয়ার্ড বদলানোর পর একটা কাজ বাকি থাকে, আর সেটা অনেকে করেন না।
নিরাপত্তার ঘরেই কোথায় কোথায় লগইন করা আছে তার তালিকা আছে। প্রতিটা সারিতে যন্ত্রের ধরন, শহর আর শেষ কবে সক্রিয় ছিল তা লেখা থাকে।
এই তালিকাটা একবার পড়ুন। যে যন্ত্রটা আপনি চেনেন না, বা যে শহরে আপনি কখনো যাননি, ওই সারিটা থেকে বেরিয়ে আসুন। এতে ওই জায়গা থেকে ঢোকা বন্ধ হয়ে যায়।
একটা কথা মনে রাখা দরকার: শহরের নামটা প্রায়ই ভুল হয়, কারণ মোবাইল অপারেটরের ঠিকানা অনুযায়ী দেখানো হয়। ঢাকার বদলে অন্য শহর দেখালে সেটা একা কোনো প্রমাণ নয়, যন্ত্রের ধরন আর সময়টাও মিলিয়ে দেখুন।
আর কারও কাছ থেকে নেওয়া একাউন্ট হলে এই ধাপটা বাদ দেওয়া চলে না, কারণ পুরোনো ফোনটা তালিকায় থেকে গেলে পাসওয়ার্ড বদলেও লাভ কম। কেনা আইডি হাতে পেয়ে ঠিক কোন ক্রমে কী করবেন তা আলাদা লেখায় আছে।
Frequently Asked Questions
ইনস্টাগ্রামে দেখার কোনো ঘর নেই, আর থাকবেও না, কারণ ইনস্টাগ্রাম পাসওয়ার্ডটা পড়ার মতো করে জমাই রাখে না। জমানো কপি থাকলে সেটা আপনার নিজের যন্ত্রে, ব্রাউজারের পাসওয়ার্ডের ঘরে বা গুগল ও অ্যাপলের পাসওয়ার্ড ম্যানেজারে।
সেটিংস থেকে অ্যাকাউন্টস সেন্টারে গিয়ে পাসওয়ার্ড আর নিরাপত্তার ঘরে ঢুকুন। পুরোনোটা মনে না থাকলেও প্রায়ই ওখানে ভুলে যাওয়ার পথটা দেখানো হয়, আর তাতে মেইল বা নম্বরে কোড পাঠিয়ে নতুন পাসওয়ার্ড বসানো যায়।
মেইলের পথটা বেছে নিন, কারণ ইনস্টাগ্রামের আসল চাবি ওই মেইলটাই। মেইলটাও হাতে না থাকলে আগে ওটা ফেরত পাওয়ার কাজ করুন, তার আগে ইনস্টাগ্রামের কাজ এগোবে না। ফেসবুকের সঙ্গে জোড়া থাকলে ওই পথে ঢোকাটা প্রায়ই দ্রুততম।
অ্যাপ, বিশেষ করে বাংলাদেশে, কারণ নম্বর বদলে গেলে খুদে বার্তার পথটা বন্ধ হয়ে যায় আর অ্যাপ বদলায় না। চালু করার সময় যে কয়েকটা ব্যাকআপ কোড দেওয়া হয় সেগুলো কোথাও লিখে রাখুন, স্ক্রিনশট নয়, কারণ ফোন হারালে স্ক্রিনশটও যায়।
কিছুই হয় না। পাসওয়ার্ড শুধু ঢোকার অনুমতি নিয়ন্ত্রণ করে। ফলোয়ার, পোস্ট, স্টোরি আর সংরক্ষিত সব আগের মতোই থাকে, আর ব্যবহারকারীর নাম বা মেইলও বদলায় না যতক্ষণ না আপনি আলাদা করে বদলান।
একা এটা প্রমাণ নয়। শহরের নামটা মোবাইল অপারেটরের ঠিকানা ধরে দেখানো হয়, তাই ঢাকায় বসেও অন্য শহর দেখাতে পারে। যন্ত্রের ধরন আর শেষ সক্রিয় থাকার সময়টাও মিলিয়ে দেখুন, আর অচেনা মনে হলে ওই সারিটা থেকে বেরিয়ে আসুন।

Avery Bennett
সোশ্যাল মিডিয়া কনসালট্যান্ট এবং গ্রোথ হ্যাকার। সব আকারের ব্র্যান্ডের জন্য ভাইরাল কন্টেন্ট তৈরি এবং ইনফ্লুয়েন্সার মার্কেটিং কৌশলে বিশেষজ্ঞ।


