হাতে শুধু ফেসবুক কুকি: কতদূর যাওয়া যায়, কোথায় থামে
মেইল নেই, পাসওয়ার্ড নেই, শুধু কয়েক লাইন কুকি। এটা অস্বাভাবিক নয়, কিন্তু এর সীমা আছে, আর চেকপয়েন্ট নামের দেয়ালটাই সবচেয়ে বেশি আটকায়।
Sarah Johnsonকেউ আপনাকে একটা ফেসবুক আইডিতে ঢুকতে বললেন, আর দিলেন কয়েক লাইন লেখা। কোনো মেইল নেই, কোনো পাসওয়ার্ড নেই, ফেরত পাওয়ার কোনো তথ্য নেই। প্রথমবার এটা অদ্ভুত লাগে।
এটা অদ্ভুত নয়, তবে এর সীমা আছে, আর সীমাটা না জেনে এগোলেই সমস্যা।
শুধু কুকি দেওয়া হয় কখন
কয়েকটা পরিস্থিতিতে এটাই স্বাভাবিক ব্যবস্থা।
- মালিক পাসওয়ার্ড দিতে চান না, কিন্তু আপনাকে কাজটা করতে দিতে চান।
- প্রবেশটা সাময়িক বা একটা নির্দিষ্ট কাজের জন্য।
- পাসওয়ার্ড বদলালে অন্য কোথাও কিছু ভেঙে যাবে, তাই কেউ ওটা ছুঁতে চান না।
- একসঙ্গে অনেকগুলো আইডি সামলানো হচ্ছে আর প্রতিটার জন্য আলাদা করে পাসওয়ার্ড রাখা অসম্ভব।
এই ক্ষেত্রগুলোয় কুকি কোনো ফাঁকফোকর নয়, ওটাই আপনাকে দেওয়া চাবি। কেউ যদি নিজে থেকে ওটা দিয়ে বলেন এভাবেই ঢুকবেন, তাহলে ওটাই ঢোকার নির্ধারিত পথ।
উল্টোদিকে, কেউ যদি ওটা না দিয়ে থাকেন, বা আপনি নিশ্চিত না হন কার আইডি, তাহলে সেটা অন্য প্রশ্ন আর সেখানে থেমে যাওয়াই ঠিক কাজ। কুকি হাতে থাকা মানে ব্যবহারের অধিকার থাকা নয়।
কোন কুকিগুলো ছাড়া চলে না
একটা রপ্তানি করা তালিকায় তিরিশটা নামও থাকতে পারে, কিন্তু ফেসবুকের ক্ষেত্রে কাজটা কয়েকটার ওপরেই দাঁড়িয়ে।
- ব্যবহারকারীর সংখ্যাগত পরিচয়। এটা শুধু বলে কোন আইডি, এতে কোনো ক্ষমতা নেই। এটা একা থাকলে ফেসবুক আপনাকে চিনবে কিন্তু ঢুকতে দেবে না।
- সেশনের গোপন অংশ। এটাই আসল, আর এটাই না থাকলে বা ভুল থাকলে কিছুই হয় না। বেশিরভাগ ব্যর্থতা এখানেই।
- ব্রাউজারের পরিচয় বহনকারী কুকিগুলো, যেগুলো ফেসবুককে বলে এই ব্রাউজারটা আগে দেখা হয়েছে। এগুলো ছাড়া ঢোকা যায়, কিন্তু ফেসবুকের কাছে ব্রাউজারটা একদম নতুন মনে হয়, আর তাতে সন্দেহ বাড়ে।
এই শেষ দলটাই বেশিরভাগ মানুষ বাদ দেন, আর তারপর অবাক হন যে ঢুকতে পারলেও সঙ্গে সঙ্গে যাচাই চাওয়া হলো। যদি পুরো সেটটা পান, পুরোটাই নিন, বাছাই করবেন না।
ঠিকানা আর পথের ঘর দুটো ঠিক না হলে কুকি বসে ঠিকই কিন্তু ফেসবুক সেটা দেখতেই পায় না। বসানোর সময় কোন ঘরে কী যায় আর না ঢুকলে কী কী দেখতে হয়, সেটা এই পাতায় ধাপে ধাপে লেখা আছে, ব্যবস্থাটা দুই জায়গায় একই।
চেকপয়েন্ট: ফেসবুকের আসল দেয়াল
এটা ফেসবুকের নিজস্ব ব্যাপার, আর এটাই সবচেয়ে বেশি কুকি নষ্ট করে।
ফেসবুক যখন কোনো ঢোকাকে সন্দেহ করে, তখন সে শুধু ঢুকতে দেয় না এমন নয়, সে আইডিটাকেই একটা যাচাইয়ের ঘরে আটকে দেয়। ছবি চেনানো, বন্ধু চেনানো, ফোন নম্বর, বা পরিচয়পত্র। আর গুরুত্বপূর্ণ কথাটা হলো, চেকপয়েন্ট বসে গেলে আপনার সব সেশন একসঙ্গে অকেজো হয়ে যায়। কুকিটা তখন আর কাজ করবে না, নতুন কুকি নিলেও না।
সন্দেহ কখন হয়, সেটা মোটামুটি জানা।
- সেশনটা যেখান থেকে তৈরি হয়েছিল, তার থেকে অনেক দূরের একটা জায়গা থেকে হঠাৎ ঢোকা।
- একই সময়ে দুটো আলাদা জায়গা থেকে একই আইডি চলা।
- ঢোকার সঙ্গে সঙ্গেই অনেকগুলো কাজ করা, যেমন পরপর অনুরোধ পাঠানো বা অনেকগুলো দলে ঢোকা।
- নাম, জন্মতারিখ বা মেইল বদলানোর চেষ্টা করা।
এর মধ্যে প্রথমটা সবচেয়ে বেশি ঘটে আর সবচেয়ে সহজে এড়ানো যায়। যিনি কুকি দিয়েছেন, তাঁকে জিজ্ঞেস করুন সেশনটা কোথা থেকে তৈরি। কাছাকাছি জায়গা থেকে ঢুকলে ব্যাপারটা অনেক শান্ত থাকে।
অ্যাপ দিয়ে কেন হয় না
খোঁজার তালিকায় login app আর login apk দুটোই আছে, তাই কথাটা বলে নেওয়া দরকার।
কুকি ব্রাউজারের জিনিস, আর ফোনের অ্যাপ নিজের ভেতরে ঢোকার হিসাব সম্পূর্ণ আলাদাভাবে রাখে। বাইরে থেকে সেখানে কিছু বসানোর স্বাভাবিক কোনো পথ নেই। তাই যে অ্যাপগুলো এই কাজ করে দেওয়ার দাবি করে, সেগুলোর প্রায় সবগুলোই আপনার কুকিটাই নিজেদের কাছে পাঠায়, আর তারপর ওই আইডিতে তাদেরও প্রবেশ থাকে।
একইভাবে, কুকি বেঁচে আছে কি না পরীক্ষা করে দেওয়ার যে সরঞ্জামগুলো পাওয়া যায়, সেগুলোতেও কুকিটা তুলে দিতে হয়। পরীক্ষা করার সবচেয়ে নিরাপদ উপায় হলো নিজের ব্রাউজারে বসিয়ে পাতাটা খুলে দেখা। এর বেশি কিছু দরকার নেই।
প্রথম দিনে যা করবেন না
ঢুকে গেলে সবচেয়ে বড় বিপদ হলো উৎসাহ। এই কাজগুলো প্রথম দিনে নয়।
- নাম, জন্মতারিখ বা প্রোফাইলের ছবি বদলানো।
- মেইল বা ফোন নম্বর যোগ করা বা সরানো।
- পরপর অনেকজনকে বন্ধুত্বের অনুরোধ পাঠানো বা অনেকগুলো দলে ঢোকা।
- বিজ্ঞাপনের অংশে গিয়ে কার্ড যোগ করা বা প্রচার চালু করা।
এর প্রতিটাই ফেসবুকের চোখে একটা করে সংকেত, আর একসঙ্গে কয়েকটা হলে চেকপয়েন্ট প্রায় নিশ্চিত। প্রথম দিন কিছু না করে শুধু দেখা, দ্বিতীয় দিন সামান্য কিছু, এভাবেই এগোনো ভালো।
আর সময়ের হিসাবটা মাথায় রাখুন। এখানকার তালিকা সঙ্গে সঙ্গে হাতে আসে, কিন্তু সমস্যা জানানোর মেয়াদ বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ঘণ্টায় মাপা। তাই কুকিটা আদৌ কাজ করে কি না, সেটা প্রথম আধঘণ্টাতেই দেখে নিতে হবে। ওটুকু করার পরে ধীরে চলার সময় পাওয়া যাবে।
কুকি দিয়ে যা কখনোই হবে না
এই অংশটা আগে জানা থাকলে ভুল প্রত্যাশা তৈরি হয় না।
কুকি আপনাকে ভেতরে নিয়ে যায়, কিন্তু মালিক বানায় না। ফেসবুক গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলোর সময় আলাদা করে পাসওয়ার্ড চায়, আর সেখানে চলতি সেশন যথেষ্ট নয়। পাসওয়ার্ড বদলানো, মেইল সরানো, দুই ধাপের যাচাই বসানো, এগুলোর জন্য পুরোনো পাসওয়ার্ডটা লাগবেই।
একইভাবে, বিজ্ঞাপনের ব্যবস্থাপনার অংশটা আলাদা দেয়াল দিয়ে ঘেরা। ওখানে ঢুকতে গেলে প্রায়ই বাড়তি যাচাই লাগে, আর শুধু সেশন কুকি দিয়ে ওই দিকটা সাধারণত খোলে না। যাঁরা বিজ্ঞাপনের কাজে আইডি খুঁজছেন, তাঁদের জন্য আলাদা ধরনের তালিকা আছে, আর সেখানে কুকির বাইরেও জিনিস দেওয়া হয়।
তাই সিদ্ধান্তটা সহজ। যদি কাজটা সাময়িক হয়, কুকিই যথেষ্ট। যদি আইডিটা দীর্ঘদিন আপনার লাগে, তাহলে শুরুতেই মেইল আর পাসওয়ার্ডসহ জিনিস নেওয়া উচিত, কুকি নয়। ফেসবুক আইডির তালিকায় চোদ্দশোর বেশি জিনিস আছে একশোর বেশি দোকান থেকে, আর কোন তালিকায় কী কী ঘর ভরা আছে সেটা আলাদা করে দেখানো থাকে।
Frequently Asked Questions
কয়েকটা পরিস্থিতিতে হ্যাঁ। মালিক পাসওয়ার্ড দিতে না চাইলে, প্রবেশটা সাময়িক হলে, বা পাসওয়ার্ড বদলালে অন্য কিছু ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা থাকলে এটাই নির্ধারিত পথ। তবে কুকি হাতে থাকা আর ব্যবহারের অধিকার থাকা এক জিনিস নয়, আর নিশ্চিত না হলে থেমে যাওয়াই ঠিক।
সম্ভবত ব্রাউজারের পরিচয় বহনকারী কুকিগুলো বাদ পড়েছে। ওগুলো ছাড়াও ঢোকা যায়, কিন্তু ফেসবুকের কাছে ব্রাউজারটা একদম নতুন মনে হয় আর তাতে সন্দেহ বাড়ে। পুরো সেটটা পেলে পুরোটাই বসান, বাছাই করবেন না।
হবে না। চেকপয়েন্ট বসে আইডির ওপর, সেশনের ওপর নয়, আর তখন সব সেশন একসঙ্গে অকেজো হয়ে যায়। নতুন কুকি নিলেও একই দেয়ালে গিয়ে আটকাবে। যাচাইটা শেষ না হওয়া পর্যন্ত ওই আইডিতে কিছুই করা যাবে না।
নিজের ব্রাউজারে বসিয়ে পাতাটা খুলে দেখেই। বাইরের যেসব সরঞ্জাম এটা পরীক্ষা করে দেয় বলে দাবি করে, সেগুলোতে কুকিটা তুলে দিতে হয়, আর তার পরে ওই আইডিতে তাদেরও প্রবেশ থেকে যায়। ফোনের অ্যাপগুলোর ক্ষেত্রেও কথাটা একই।
যাবে না। ফেসবুক গুরুত্বপূর্ণ কাজের সময় আলাদা করে পাসওয়ার্ড চায় আর সেখানে চলতি সেশন যথেষ্ট নয়। পাসওয়ার্ড বদলানো, মেইল সরানো বা দুই ধাপের যাচাই বসানো, তিনটের জন্যই পুরোনো পাসওয়ার্ডটা লাগবে।
সাধারণত না। বিজ্ঞাপনের ব্যবস্থাপনার অংশটা আলাদা যাচাইয়ের দেয়াল দিয়ে ঘেরা, আর শুধু সেশন কুকি দিয়ে ওই দিকটা খোলে না। ওই কাজের জন্য আলাদা ধরনের তালিকা থাকে যেখানে কুকির বাইরেও জিনিস দেওয়া হয়।

Sarah Johnson
ডিজিটাল মার্কেটিং বিশেষজ্ঞ, সামাজিক মাধ্যম কৌশলে ১০+ বছরের অভিজ্ঞতা। কার্যকরী মার্কেটিং কৌশলের মাধ্যমে ব্যবসার অনলাইন উপস্থিতি বাড়াতে সাহায্য করতে আগ্রহী।


