কুকি দিয়ে ইনস্টাগ্রামে ঢোকা: কাজটা হয় কীভাবে, আর ভাঙে কেন
কুকি পাসওয়ার্ড নয়, ওটা একটা চলতি সেশনের প্রমাণ। এই একটা ফারাক বুঝলে কেন কাজ করে আর কেন হঠাৎ বন্ধ হয়ে যায়, দুটোই পরিষ্কার হয়ে যায়।
Avery Bennettএই বিষয়ে বাংলা ভাষায় লেখা কোনো প্রশ্ন কার্যত নেই। বাংলায় শুরু করলেও পরের শব্দ থেকেই সব ইংরেজি হয়ে যায়। তার মানে যাঁরা এটা খুঁজছেন তাঁরা কাজটা জানেন, কিন্তু কেন হয় সেটা জানেন না, আর ওই না জানাটাই সময় নষ্ট করে।
কুকি পাসওয়ার্ড নয়
এই একটা কথা বুঝলে বাকি সব ব্যাখ্যা নিজে থেকেই দাঁড়িয়ে যায়।
যখন কেউ ঠিকভাবে পাসওয়ার্ড দিয়ে ঢোকেন, ইনস্টাগ্রাম তাঁর ব্রাউজারে ছোট কয়েকটা লেখা রেখে দেয়। এর পরে প্রতিবার পাতা খোলার সময় ব্রাউজার ওই লেখাগুলো দেখায়, আর ইনস্টাগ্রাম বলে, হ্যাঁ, এই ঢোকাটা আগেই হয়ে গেছে।
অর্থাৎ কুকি কোনো তালা খোলে না। ওটা বলে যে তালাটা আগে একবার খোলা হয়েছিল আর এখনো বন্ধ হয়নি। ইনস্টাগ্রাম যেই ওই ঢোকাটা বাতিল করে দেয়, কুকিগুলো তখনই কাগজের টুকরো হয়ে যায়, যদিও লেখাগুলো হুবহু একই থাকে।
এই কারণেই কুকি নিয়ে সবচেয়ে সাধারণ অভিযোগটা হলো, কাল কাজ করছিল আজ করছে না। কুকি বদলায়নি, ওপাশের সিদ্ধান্তটা বদলেছে।
অ্যাপ খুঁজে লাভ নেই
খোঁজার তালিকায় app আর apk দুটোই আছে, তাই কথাটা বলে নেওয়া দরকার।
কুকি ব্রাউজারের জিনিস। ফোনের অ্যাপ নিজের ভেতরে ঢোকার হিসাব রাখে আর বাইরে থেকে সেখানে কিছু বসানোর কোনো স্বাভাবিক পথ নেই। তাই এই কাজটা কম্পিউটারের ব্রাউজারে হয়, আর যে অ্যাপগুলো এই কাজ করে দেওয়ার দাবি করে সেগুলো সাধারণত আপনার তথ্যটাই চায়।
কাজটার জন্য যা লাগে সেটা হলো একটা ব্রাউজার আর তার কুকি বদলানোর একটা ব্যবস্থা। ব্রাউজারের নিজের যন্ত্রপাতির ভেতরেও এটা আছে, আলাদা কিছু না বসিয়েও করা যায়। বাড়তি ব্যবস্থাগুলো শুধু ঠিকানা আর পথের ঘরগুলো নিজে থেকে ভরে দেয়, এর বেশি কিছু করে না। কোনো একটা নির্দিষ্ট জিনিসের নাম মুখস্থ রাখার দরকার নেই, কারণ ওগুলো আসে যায়।
কোন কুকিগুলো ছাড়া হয় না
একটা রপ্তানি করা তালিকায় বিশ পঁচিশটা নাম থাকতে পারে, কিন্তু ঢোকার কাজটা কয়েকটার ওপরেই দাঁড়িয়ে।
- সেশনের পরিচয়, অর্থাৎ যেটা আসলে বলে দেয় ঢোকাটা বৈধ। এটা না থাকলে বাকি কোনোটাই কাজে আসে না।
- ব্যবহারকারীর সংখ্যাগত পরিচয়, যেটা বলে কোন আইডি।
- নিরাপত্তার একটা টোকেন, যেটা ছাড়া লাইক বা মন্তব্যের মতো কাজগুলো আটকে যায়, যদিও পাতা খুলবে।
দুটো ঘর প্রায়ই ভুল হয়। ঠিকানার ঘরে ডটসহ ইনস্টাগ্রামের নাম লিখতে হয়, ডট ছাড়া নয়, নইলে ব্রাউজার ওটাকে অন্য জায়গার জিনিস ধরে নেয়। আর পথের ঘরে শুধু একটা স্ল্যাশ। এই দুটো ভুল হলে কুকি বসে ঠিকই, কিন্তু ইনস্টাগ্রাম সেটা কখনো দেখতেই পায় না।
বসিয়েছি, তবু ঢুকছে না
এই ক্রমে দেখুন, কারণ ওপরের কারণগুলোই বেশি ঘটে।
- আগেরগুলো মোছেননি। এটাই এক নম্বর কারণ। পুরোনো আর নতুন কুকি একসঙ্গে থাকলে ব্রাউজার কোনটা পাঠাবে সেটা অনিশ্চিত হয়ে যায়। বসানোর আগে ওই ঠিকানার সব কুকি মুছে ফেলুন।
- ঢুকে থাকা অবস্থায় বসাচ্ছেন। নিজের আইডিতে ঢোকা থাকলে আগে বেরিয়ে আসুন, বা একটা আলাদা পরিষ্কার ঘরে কাজটা করুন।
- ঠিকানা বা পথ ভুল। ওপরের দুটো ঘর আবার দেখুন।
- লেখাটা অসম্পূর্ণ। কপি করার সময় শেষ অক্ষরটা বাদ পড়া বা লাইন ভেঙে যাওয়া খুব সাধারণ। সেশনের পরিচয়টা লম্বা, আর ওখানে একটা অক্ষর কম হলেই পুরোটা অকেজো।
- সেশনটা এমনিতেই মরে গেছে। উপরের সবগুলো ঠিক থাকলে এটাই বাকি থাকে, আর তখন এখানে করার কিছু নেই।
ঢোকার পরে আবার ছয় সংখ্যার কোড চাইলে সেটা অস্বাভাবিক নয়। সঙ্গে যদি একটা গোপন সংকেত এসে থাকে তাহলে সেখান থেকেই কোড বার করা যায়, আর ওই হিসাবটা আলাদা পাতায় লেখা।
সেশন হঠাৎ মরে যায় কেন
এটা জানা থাকলে অনেক টাকা বাঁচে, কারণ বেশিরভাগ মানুষ নিজেরাই সেশনটা মেরে ফেলেন।
ইনস্টাগ্রাম দেখে ঢোকাটা কোথা থেকে হচ্ছে আর কোন যন্ত্র থেকে হচ্ছে। একটা সেশন যদি হঠাৎ এক দেশ থেকে অন্য দেশে লাফ দেয়, বা একই সময়ে দুটো আলাদা জায়গা থেকে চলে, তাহলে ওটা বাতিল হয়ে যায়। কেউ কিছু ভুল করেনি, ব্যবস্থাটা তার কাজ করেছে।
এর মানে কয়েকটা কাজ করা যাবে না।
- একই কুকি দুজনের হাতে বা দুটো যন্ত্রে একসঙ্গে চালানো। এটাই সবচেয়ে দ্রুত মেরে ফেলে।
- বসানোর পরেই সংযোগের ঠিকানা বদলে ফেলা। যে জায়গা থেকে সেশনটা তৈরি হয়েছিল, তার কাছাকাছি থাকাই ভালো।
- ঢুকেই পাসওয়ার্ড বা মেইল বদলাতে যাওয়া। এই কাজগুলো ইনস্টাগ্রামকে সব সেশন বাতিল করার কারণ দেয়, আর তখন আপনি নিজেই নিজের চাবি ভেঙে ফেললেন।
প্রথম কয়েক ঘণ্টা কিছু না করে শুধু স্বাভাবিকভাবে ব্যবহার করাটাই সবচেয়ে নিরাপদ।
কেনা আইডি হলে কুকিতে থামবেন না
এটাই সবচেয়ে দরকারি অংশ, আর সবচেয়ে কম লেখা হয়।
কুকি একটা সাময়িক জিনিস। ওটা দিয়ে যা পাওয়া যায় সেটা দখল নয়, প্রবেশ। যদি আইডিটা আপনি কিনে থাকেন, তাহলে কুকিতে থেমে যাওয়ার মানে হলো, যেদিন সেশনটা মরবে সেদিন আপনার হাতে কিছুই থাকবে না।
স্থায়ী দখল মানে দুটো জিনিস, যে মেইলে ফেরত পাওয়ার বার্তা যায় সেটা আপনার হওয়া, আর দুই ধাপের যাচাইটা আপনার নিজের করা। এই দুটো না হলে বিক্রেতার হাতেও চিরকাল একটা কাজের পথ থেকে যায়।
আর সময়ের কথাটা মনে রাখুন। এখানকার প্রতিটা তালিকা সঙ্গে সঙ্গে হাতে আসে, আর সমস্যা জানানোর মেয়াদ বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ঘণ্টায় মাপা হয়, দিনে নয়। কুকি কাজ করছে কি না সেটা পরে দেখব বলে ফেলে রাখলে, ওই মেয়াদটা চুপচাপ শেষ হয়ে যায়। ইনস্টাগ্রামের ঘরে এখানে আড়াই হাজারের বেশি তালিকা আছে দুশোর বেশি দোকান থেকে, তাই বেছে নেওয়ার সুযোগ যথেষ্ট, কিন্তু যাচাইয়ের সময়টা কম।
Frequently Asked Questions
না, আর এটাই মূল ভুল ধারণা। কুকি কোনো তালা খোলে না, ওটা শুধু বলে যে তালাটা আগে একবার খোলা হয়েছিল আর সেই ঢোকাটা এখনো বাতিল হয়নি। ওপাশ থেকে ঢোকাটা বাতিল করলেই কুকিগুলো অকেজো হয়ে যায়, যদিও লেখাগুলো হুবহু একই থাকে।
স্বাভাবিক কোনো পথে যায় না। কুকি ব্রাউজারের জিনিস, আর অ্যাপ নিজের ভেতরে ঢোকার হিসাব আলাদাভাবে রাখে। কাজটা কম্পিউটারের ব্রাউজারে হয়। যেসব অ্যাপ এটা করে দেওয়ার দাবি করে, সেগুলো সাধারণত আপনার তথ্যটাই নিতে চায়।
ক্রম অনুযায়ী দেখুন। আগের কুকিগুলো মোছা হয়েছে কি না, নিজের আইডি থেকে বেরোনো হয়েছে কি না, ঠিকানার ঘরে ডটসহ নামটা আছে কি না, আর কপি করার সময় লেখাটা পুরো এসেছে কি না। এই চারটে ঠিক থাকলে বাকি থাকে একটাই সম্ভাবনা, সেশনটা এমনিতেই মরে গেছে।
যাবে না, আর এটাই সেশন মেরে ফেলার সবচেয়ে দ্রুত উপায়। একই সময়ে দুটো আলাদা জায়গা থেকে একটা সেশন চললে সেটা বাতিল হয়ে যায়। এক দেশ থেকে অন্য দেশে লাফ দিলেও একই ঘটনা ঘটে।
সঙ্গে সঙ্গে নয়। পাসওয়ার্ড বা মেইল বদলানোর কাজগুলো সব চলতি সেশন বাতিল করার কারণ দেয়, আর তাতে আপনি নিজের চাবিটাই ভেঙে ফেলতে পারেন। প্রথম কয়েক ঘণ্টা স্বাভাবিকভাবে ব্যবহার করে থিতু হতে দিন।
না। কুকি প্রবেশ দেয়, দখল দেয় না। যেদিন সেশনটা মরবে সেদিন হাতে কিছু থাকবে না। স্থায়ী দখল মানে ফেরত পাওয়ার মেইলটা আপনার হওয়া আর দুই ধাপের যাচাইটা নিজের নামে বসানো। এই দুটো না হলে বিক্রেতার হাতেও একটা কাজের পথ থেকে যায়।

Avery Bennett
সোশ্যাল মিডিয়া কনসালট্যান্ট এবং গ্রোথ হ্যাকার। সব আকারের ব্র্যান্ডের জন্য ভাইরাল কন্টেন্ট তৈরি এবং ইনফ্লুয়েন্সার মার্কেটিং কৌশলে বিশেষজ্ঞ।


