গোপন সংকেত থেকে ছয় সংখ্যার কোড: জিনিসটা আসলে কী
কোনো কোড কোথাও থেকে আনা হয় না, ওটা হিসাব করে বার করা হয়। কীসের ভিত্তিতে, কার সংকেত এখানে বসানো উচিত আর কারটা কখনোই নয়।
Michael Chen
বাংলায় এই বিষয়ে যা খোঁজা হয় তার প্রায় সবটাই একটা প্রশ্ন, জিনিসটা কী। কীভাবে কোড বানাব সেটা কেউ খোঁজেন না। তাই আগে ব্যাখ্যাটা, কাজের ধাপ তার পরে।
আর শুরুতেই একটা ভাগ করে নেওয়া দরকার, কারণ এই ভাগটা না বুঝলে বাকিটা বিপজ্জনক হয়ে যায়। সংকেতটা কার, সেটাই এখানে সবচেয়ে জরুরি প্রশ্ন।
সংকেত আর কোড দুটো আলাদা জিনিস
মানুষ প্রায়ই দুটোকে এক করে ফেলেন, অথচ এদের সম্পর্ক অনেকটা তালা আর চাবির নয়, বরং বীজ আর ফলের।
গোপন সংকেত হলো অক্ষর আর সংখ্যার একটা লম্বা লাইন, যেটা প্ল্যাটফর্ম আপনাকে একবারই দেয়, যখন আপনি দুই ধাপের যাচাই চালু করেন। এটা কখনো বদলায় না। এটা পাসওয়ার্ডের সমান দামি, কিছু ক্ষেত্রে তার চেয়েও বেশি।
ছয় সংখ্যার কোড হলো ওই সংকেত আর এই মুহূর্তের ঘড়ি, এই দুটো মিলিয়ে একটা হিসাব করে যা বেরোয়। ত্রিশ সেকেন্ড পরপর ঘড়ির ঘরটা বদলায়, তাই ফলও বদলায়।
এর মানে কোডটা কোথাও লেখা থাকে না, কেউ কোথাও থেকে আনে না, আর কোনো বার্তা কোথাও যায় না। যার কাছে সংকেত আছে আর যার ঘড়ি ঠিক আছে, তিনি ইন্টারনেট ছাড়াই যেকোনো সময়ের কোড বার করে ফেলতে পারেন। ঠিক এই কারণেই সংকেতটা এত দামি।
তাহলে অ্যাপটার দরকার কীসের
বাংলাদেশ থেকে এই বিষয়ে খোঁজার তালিকায় প্রথম তিনটে শব্দই free আর app। ধারণাটা হলো একটা অ্যাপ নামালেই কোড আসতে থাকবে।
অ্যাপটা কোড আনে না, অ্যাপটা সংকেত জমিয়ে রাখে আর প্রতি ত্রিশ সেকেন্ডে ওই হিসাবটা করে দেয়। কাজটা পুরোপুরি অঙ্কের, আর সেই অঙ্ক যেকোনো জায়গায় করা যায়। একটা অ্যাপে, একটা ওয়েব পাতায়, এমনকি কাগজে পেন্সিল দিয়েও, যদি ধৈর্য থাকে।
এই সাইটের যে পাতায় এই কাজটা হয়, সেখানে হিসাবটা আপনার নিজের ব্রাউজারেই হয়। সংকেতটা কোথাও জমা হয় না, কোনো সার্ভারে যায় না, পাতা বন্ধ করলেই ওটা আর নেই। কিন্তু এই কথাটা মেনে নিলেও পরের প্রশ্নটা থেকেই যায়, আর সেটা আরও গুরুত্বপূর্ণ।
কার সংকেত এখানে বসানো উচিত, আর কারটা কখনোই নয়
এই লেখার সবচেয়ে দরকারি অংশ এটাই।
যে আইডিটা আপনি কিনেছেন, তার সংকেত এখানে বসানোই স্বাভাবিক। কারণ ওই সংকেত আপনার হাতে এসেছে বিক্রেতার কাছ থেকে, আর ইতিমধ্যেই সেটা অন্তত দুজন মানুষের হাত ঘুরেছে। এখানে গোপনীয়তার আর কিছু বাকি নেই, আপনার দরকার শুধু ঢোকার একটা উপায়।
আপনার নিজের ব্যক্তিগত আইডি, যেমন যে মেইলে আপনার ব্যাংকের বার্তা আসে, তারটা কোনো ওয়েব পাতায় বসাবেন না। এই সাইটের পাতায়ও না, অন্য কোথাও তো নয়ই। কারণটা ওই পাতাটাকে অবিশ্বাস করা নয়, কারণটা অভ্যাস। যে মুহূর্তে ব্যক্তিগত সংকেত ব্রাউজারে বসানো একটা রুটিন হয়ে যায়, সেই মুহূর্তে ভুল ঠিকানায় বসিয়ে ফেলার দিনটাও তৈরি হয়ে যায়। আর ওই ভুলটা একবারই যথেষ্ট।
নিজের জিনিসের জন্য একটা অ্যাপ ব্যবহার করুন, যেটা সংকেতটা ফোনের ভেতরেই রাখে। ওটা এই কাজের জন্যই বানানো।
কেনা আইডির সঙ্গে সংকেত এলে
এখানকার তালিকায় পরিচয়পত্র একটা লাইনে আসে, আর সেই লাইনে মেইল, পাসওয়ার্ড আর সংকেত পাশাপাশি বসানো থাকে, মাঝখানে একটা করে দাঁড়ি চিহ্ন দিয়ে। সংকেতের অংশটা প্রায়ই চার অক্ষর পরপর ফাঁক দিয়ে লেখা হয়, দেখার সুবিধার জন্য। ওই ফাঁকগুলো হিসাবের অংশ নয়, কিন্তু বসানোর সময় নিয়ে গেলেও সাধারণত অসুবিধা হয় না।
তালিকায় এই সংকেত আছে কি না সেটা আলাদা করে চিহ্ন দিয়ে বোঝানো থাকে, আর সেটা এসএমএসে যাচাই হওয়ার চিহ্ন থেকে আলাদা। দুটো এক ভেবে নেওয়া এখানকার সবচেয়ে সাধারণ ভুল। এসএমএসে যাচাই মানে একবার একটা নম্বর দিয়ে খোলা হয়েছিল। সংকেত থাকা মানে আপনি ভবিষ্যতে প্রতিবার নিজেই কোড বার করতে পারবেন। দ্বিতীয়টা অনেক বেশি কাজের, আর প্রথমটা থাকলে দ্বিতীয়টা এমনিতে আসে না।
কাজটার ক্রম সহজ। সংকেতটা বসান, কোডটা তুলুন, আর সেটা ব্যবহার করুন। ঘড়ির যে ঘরে কোডটা বেরিয়েছে, সেই ঘরেই সেটা ব্যবহার করতে হবে, তাই দেখে দেখে টাইপ করার চেয়ে কপি করে বসিয়ে দেওয়াই ভালো।
সময়টা এখানে সবচেয়ে বড় শত্রু
একটা কথা মনে রাখা দরকার, আর এটা টাকার প্রশ্ন। এই সাইটের প্রতিটা তালিকা সঙ্গে সঙ্গে হাতে আসে, আর সমস্যা জানানোর মেয়াদ সাধারণত আধ দিন, কোথাও কোথাও তার চেয়েও অনেক কম।
তাই সংকেতটা কাজ করে কি না, সেটা পরে দেখব বলে ফেলে রাখার জিনিস নয়। হাতে পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে একবার কোড বার করুন আর একবার ঢুকে দেখুন। কাজ না করলে ওই মেয়াদের ভেতরেই বলতে হবে, নইলে বলার জায়গাটাই বন্ধ হয়ে যায়।
আর ঢুকে যাওয়ার পরে প্রথম কাজটা হলো ওই দুই ধাপের যাচাই নিজের নামে নতুন করে বসানো, যাতে পুরোনো সংকেতটা অকেজো হয়ে যায়। এটা না করলে যিনি বিক্রি করেছেন তাঁর কাছেও চিরকাল একটা কাজের চাবি থেকে গেল।
কোড মিলছে না, তখন কোথায় দেখবেন
প্রায় সব ক্ষেত্রেই কারণ তিনটের একটা।
- যন্ত্রের ঘড়ি পিছিয়ে আছে। এটাই সবচেয়ে বেশি হয়। হিসাবটা ঘড়ির ওপর দাঁড়িয়ে, তাই কয়েক সেকেন্ডের এদিক ওদিকে ভুল কোড বেরোয়। ফোন বা কম্পিউটারের সময় নিজে থেকে মেলানোর ব্যবস্থাটা চালু করে দিন।
- সংকেতে অন্য কিছু ঢুকে গেছে। কপি করার সময় শেষে একটা ফাঁকা জায়গা বা দাঁড়ি চিহ্নের পরের অংশটা সঙ্গে চলে এসেছে। সংকেতে ইংরেজি বড় হাতের অক্ষর আর দুই থেকে সাত সংখ্যাই থাকে, এর বাইরে কিছু দেখলে সেটা সংকেতের অংশ নয়।
- ঘরটা পেরিয়ে গেছে। কোড তুলে নিয়ে দেরিতে বসালে ততক্ষণে ত্রিশ সেকেন্ডের ঘরটা বদলে গেছে। নতুন কোড নিয়ে সঙ্গে সঙ্গে বসান।
তিনটেই মিলিয়ে দেখার পরেও না হলে সংকেতটাই ভুল বা বাতিল। তখন এটা আর হিসাবের সমস্যা নয়, তালিকার সমস্যা, আর সেটা মেয়াদ থাকতে থাকতেই জানানো দরকার।



