AdsPower এ প্রক্সি কাজ করছে না: ছয়টা কারণ আর দেখার ক্রম
প্রক্সি পরীক্ষা করলে ব্যর্থ দেখায়, কিংবা পরীক্ষা পেরিয়ে গেলেও পাতা খোলে না। কারণ ছয়টার মধ্যেই থাকে, আর প্রথম তিনটা দেখতে কোনো টাকা লাগে না।
AdsPower এ প্রক্সি পরীক্ষা করলে ব্যর্থ দেখায়, অথবা পরীক্ষা পেরিয়ে যায় কিন্তু প্রোফাইল খুললে প্রতিটা পাতা ঘুরতেই থাকে। অভিযোগের প্রায় পুরোটাই এই দুই রকম, আর সফটওয়্যারের গোলমাল খুব কমই হয়। যেটা হয় তা হলো, কিনে আনা প্রক্সির কোনো একটা বৈশিষ্ট্য আপনার কাজের সঙ্গে মিলছে না।
শুরুতে দুটো ভুল ধারণা সরিয়ে নেওয়া দরকার
বাংলায় এই বিষয়ে যা খোঁজা হয় তার বেশির ভাগই দুই রকম: প্রক্সি সার্ভার কীভাবে খুলবো, আর কীভাবে ডাউনলোড করবো। দুটোর পেছনেই একটা ধারণা কাজ করে যে প্রক্সি বুঝি একটা অ্যাপ। সেটা ঠিক নয়। প্রক্সি হলো একটা ঠিকানা আর সেখানে ঢোকার অনুমতি, যেটা কিনে নিয়ে ব্রাউজারের ঘরে লিখে দিতে হয়। কিনলে কোনো ফাইল আসে না, আসে ঠিকানা, পোর্ট আর পরিচয় দেওয়ার তথ্য।
দ্বিতীয় ভুলটা ভিপিএনের সঙ্গে গুলিয়ে ফেলা। দুটোই আপনার ঠিকানা আড়াল করে, কিন্তু ভিপিএন গোটা যন্ত্রের সব যোগাযোগ একসঙ্গে ঘুরিয়ে দেয়, আর প্রক্সি শুধু যে জায়গায় বসিয়েছেন সেটুকুর। এই পার্থক্যটাই এখানে কাজে লাগে, কারণ একেকটা প্রোফাইলে একেকটা আলাদা ঠিকানা দরকার হয়, আর ভিপিএন দিয়ে সেটা হয় না।
আর একটা কথা। এই কাজের যন্ত্রপাতি আর বিক্রেতারা ইংরেজি নাম ব্যবহার করেন, খোঁজার সময়ও ইংরেজি বানানেই জিনিসটা মেলে। তাই নিচে কয়েকটা নাম ইংরেজিতেই রাখা হয়েছে আর ব্যাখ্যাটা বাংলায়।
এক নম্বর: প্রোটোকল ভুল বাছা হয়েছে
ধরনের ঘরে HTTP, HTTPS আর SOCKS5 থাকে। ভুল বাছলে সংযোগ হবেই না। সূত্রটা থাকে বিক্রেতার দেওয়া পোর্টের মধ্যে। একই ঠিকানার জন্য প্রায়ই দুটো পোর্ট দেওয়া হয়, একটা HTTP এর আর একটা SOCKS5 এর।
শুধু ঠিকানা আর পোর্ট লেখা থাকলে আগে SOCKS5 দেখুন, তারপর HTTP। দুটোতেই না হলে এই কারণটা বাদ দিয়ে এগোন।
দুই নম্বর: পরিচয় দেওয়ার তথ্য কীভাবে লিখেছেন
পরিচয় দেওয়ার দুটো চালু পদ্ধতি আছে, আর দুটোর জায়গা আলাদা:
- নাম আর গোপন শব্দ: ঠিকানা, পোর্ট, নাম আর গোপন শব্দ চারটে আলাদা ঘরে। নামের মধ্যে কোলন বা
@থাকলে একসঙ্গে বসাতে গেলে প্রায়ই কেটে যায়। তখন একটা একটা করে হাতে লিখুন। - ঠিকানার তালিকা: নাম আর গোপন শব্দ লাগে না, তবে এই মুহূর্তে আপনি যে সংযোগে আছেন তার ঠিকানাটা বিক্রেতার কাছে লেখানো থাকতে হয়। দৈনন্দিন সবচেয়ে সাধারণ সমস্যাটা এখানেই। বাড়িতে চলে, বাইরে গিয়ে চলে না। সংযোগ বদলেছে, লেখানো ঠিকানা পুরোনোই রয়ে গেছে।
আরও একটা ভুল সহজে চোখ এড়ায়। পুরো লাইনটা ip:port:user:pass এভাবে ঠিকানার ঘরে বসিয়ে দেওয়া। এই লেখার ধরন কেবল একসঙ্গে অনেকগুলো তোলার পথটাই বোঝে, একটা একটা করে বানানোর সময় ওটা ভাগ করে নেয় না।
তিন নম্বর: একসঙ্গে কতগুলো চলবে তার সীমা
ভাগাভাগি করা প্রক্সিতে একসঙ্গে কতগুলো সংযোগ খোলা যাবে তার সীমা থাকে, আর সেটা প্রায়ই খুব কম। একই প্রক্সিতে দশটা প্রোফাইল খুললে ছবিটা ঠিক এইরকম দাঁড়ায়: প্রথম কয়েকটা চলে, বাকিগুলো ব্যর্থ হয়।
দেখতে এক মিনিট লাগে। একটা রেখে বাকি সব বন্ধ করে আবার পরীক্ষা করুন। পেরিয়ে গেলে সীমাটাই কারণ ছিল, আর তখন হয় একসঙ্গে কম খুলুন, নয় আলাদা করে নিজের জন্য বরাদ্দ প্রক্সি নিন।
চার নম্বর: ঠিকানাটা ডেটা সেন্টারের বলে ধরা পড়েছে
এখান থেকে পুরোটাই নির্ভর করে আপনি কী কিনেছেন তার ওপর। পরীক্ষা পেরিয়ে যাচ্ছে অথচ যে সাইটে যেতে চান সেটা আটকে দিচ্ছে, যাচাই চাইছে বা অঞ্চল দেখিয়ে ফিরিয়ে দিচ্ছে, তার মানে সংযোগ ঠিক আছে। ঠিকানার ধরনটা চেনা হয়ে গেছে।
- ডেটা সেন্টার: ব্যবসায়িক কেন্দ্রের ঠিকানার ঘর থেকে আসে, যে কেউ দেখলেই বুঝে যায়। সবচেয়ে দ্রুত আর সস্তা, আর যেখানে কেউ দেখতেই যায় না সেখানে এটাই যথেষ্ট।
- রেসিডেনশিয়াল: সাধারণ ঘরের সংযোগের ঠিকানা। ঠিকানার ধরন দেখে যেখানে সিদ্ধান্ত হয়, সেখানে এটা ছাড়া উপায় নেই।
- মোবাইল: মোবাইল নেটওয়ার্কের ঠিকানা, যার পেছনে একসঙ্গে বহু সত্যিকারের ব্যবহারকারী থাকেন। কোনো একজনের সঙ্গে জুড়ে দেওয়া সবচেয়ে কঠিন, আর প্রতিটার দামও সবচেয়ে বেশি।
ব্রাউজারের চিহ্ন আর ঠিকানা দুটো আলাদা স্তর। ব্রাউজারের দিকটা যত যত্ন করেই সাজান, সঙ্গে যদি এমন ঠিকানা থাকে যেটা দেখলেই ব্যবসায়িক কেন্দ্রের বলে বোঝা যায়, তাহলে ওখানেই ধরা পড়বে।
পাঁচ নম্বর: অঞ্চল মিলছে না
কিছু সেবা আইডির নিবন্ধনের অঞ্চল আর ঠিকানার অঞ্চল মিলিয়ে দেখে, আর গরমিল পেলে বাড়তি যাচাই চায়। প্রক্সির পরীক্ষা এই ক্ষেত্রেও দিব্যি পেরিয়ে যায়, কারণ সেটা কেবল সংযোগ হচ্ছে কি না তাই দেখে।
তাই অঞ্চলটা আলাদা একটা বৈশিষ্ট্য, কেনার সময় আলাদা করে দেখে নিতে হয়। আমাদের তালিকায় ছয় ভাগের কাছাকাছি একটাতে মিশ্র ভান্ডারের বদলে নির্দিষ্ট দেশের নাম লেখা থাকে, আর তার দাম মাঝামাঝি হিসাবের চেয়ে ষাট শতাংশের মতো বেশি। এই বাড়তি টাকাটা তখনই দেওয়ার মানে হয়, যখন সামনের দিক সত্যিই দেখে অনুরোধটা কোথা থেকে এল।
ছয় নম্বর: বরাদ্দ শেষ হয়ে গেছে
এটাই সবচেয়ে বেশি চোখ এড়ায়, কারণ পর্দায় দেখতে এটা হুবহু সংযোগ ব্যর্থ হওয়ার মতোই লাগে। দাম নেওয়ার দুটো চালু ধরন আছে:
- পরিমাণ ধরে: বরাদ্দ শেষ হলেই সেবা বন্ধ, তারিখের সঙ্গে এর সম্পর্ক নেই। ভারী কাজ চালালে হিসাবের অনেক আগেই ফুরিয়ে যেতে পারে। মাসের কথা লেখা থাকলেও দশ দিনে ফুরোলে দশ দিনই।
- সময় ধরে: এক দিন, সাত দিন, ত্রিশ দিন। এগুলোয় সাধারণত পরিমাণের সীমা থাকে না, তারিখেই শেষ হয়।
দেখার একমাত্র জায়গা বিক্রেতার নিজের পাতা। কেনার সময় নামের মধ্যে যে সংখ্যাটা লেখা ছিল সেটা এখন কতটা বাকি আছে তা বলে না।
ক্রমটা এক লাইনে
আগে প্রোটোকল আর পরিচয় দেওয়ার ধরন দেখুন, তারপর বাড়তি জানালা বন্ধ করে সীমাটা পরীক্ষা করুন, তারপর বিক্রেতার পাতায় বাকি বরাদ্দ দেখুন। এই তিনটেতে কোনো টাকা লাগে না। এরপরেও যা থেকে যায় সেটা প্রক্সির ধরন আর অঞ্চলের ব্যাপার, আর সেটা ঘর বদলে নয়, অন্য জিনিস কিনে সমাধান হয়।
কেনার আগে তিনটে কথা ঠিক করে নিলে এসবের বেশির ভাগই আর ঘটে না। ডেটা সেন্টার না রেসিডেনশিয়াল, নির্দিষ্ট দেশ না মিশ্র ভান্ডার, আর দাম পরিমাণে না সময়ে। আমাদের প্রক্সির পাতায় এই তিনটে ধরেই ছেঁকে নেওয়া যায়। একশোটার মধ্যে মাত্র তিনটে তালিকায় যাচাইয়ের সময়টা এত কম যে কাজে লাগে না, আর এটা পুরো সাইটের সবচেয়ে ভালো সংখ্যা। অর্থাৎ হাতে পাওয়ার পরে একবার ঠিকঠাক চালিয়ে দেখে নেওয়ার সময়টুকু পাওয়া যায়।
জানিয়ে রাখা ভালো: এই লেখায় AdsPower এর দিকে যাওয়া লিংকগুলো বিজ্ঞাপনের, আর সেগুলো দিয়ে কেউ নিবন্ধন করলে আমরা ভাগ পাই। ওপরের ছয়টা কারণ আর তাদের ক্রমের সঙ্গে এর সম্পর্ক নেই, ওগুলো যে ব্রাউজারই ব্যবহার করুন একই থাকে।
Frequently Asked Questions
না। এটা একটা ঠিকানা আর সেখানে ঢোকার অনুমতি, যেটা কিনে নিয়ে ব্রাউজার বা যন্ত্রের ঘরে লিখে দিতে হয়। কিনলে কোনো ফাইল আসে না, আসে ঠিকানা, পোর্ট আর পরিচয় দেওয়ার তথ্য। এই ভুল ধারণাটাই এই বিষয়ে সবচেয়ে বেশি খোঁজা হয়।
দুটোই আপনার ঠিকানা আড়াল করে, কিন্তু এক নয়। ভিপিএন গোটা যন্ত্রের সব যোগাযোগ একসঙ্গে ঘুরিয়ে দেয়, আর প্রক্সি শুধু যেখানে বসিয়েছেন সেটুকুর। এই কাজে একেকটা প্রোফাইলে একেকটা আলাদা ঠিকানা লাগে, আর ভিপিএন দিয়ে সেটা করা যায় না।
পরীক্ষা কেবল দেখে প্রক্সি পর্যন্ত সংযোগ হচ্ছে কি না, সাইটটা ওই ঠিকানা মানছে কি না সেটা দেখে না। সবচেয়ে সাধারণ কারণ, ঠিকানাটা ডেটা সেন্টারের বলে ধরা পড়েছে। তখন রেসিডেনশিয়ালে যেতে হয়। দ্বিতীয় কারণ অঞ্চলের গরমিল, যাতে বাড়তি যাচাই চাওয়া হয়।
প্রায় সব ক্ষেত্রেই ঠিকানার তালিকার ব্যাপার। এই পদ্ধতিতে নাম আর গোপন শব্দ লাগে না, তার বদলে আপনি এখন যে সংযোগে আছেন তার ঠিকানা বিক্রেতার কাছে লেখানো থাকতে হয়। সংযোগ বদলালেই ওই লেখাটা আর কাজ করে না। হয় নতুন ঠিকানা লিখিয়ে নিন, নয় নাম আর গোপন শব্দের পদ্ধতিতে যান।
প্রশ্নটা হলো ঠিকানাটা কেউ দেখতে যাবে কি না। ডেটা সেন্টারের ঠিকানা ব্যবসায়িক কেন্দ্রের ঘর থেকে আসে আর সহজেই চেনা যায়, তবে দ্রুত ও সস্তা এবং কেউ না দেখলে যথেষ্ট। রেসিডেনশিয়াল সাধারণ ঘরের সংযোগ ব্যবহার করে। পরীক্ষা পেরোচ্ছে কিন্তু সাইট আটকাচ্ছে, এই অভিযোগটাই বদলানোর ইশারা।
আগে বিক্রেতার পাতায় বাকি পরিমাণ দেখুন। পরিমাণ ধরে দাম নেওয়া প্যাকেজ বরাদ্দ ফুরোলেই বন্ধ হয়ে যায়, তারিখের সঙ্গে সম্পর্ক নেই। পর্দায় দেখতে এটা হুবহু সংযোগ ব্যর্থ হওয়ার মতো, তাই একে ঘর ভুল ভরার সমস্যা ভেবে নেওয়া হয়।
প্যাকেজের ধরনের ওপর নির্ভর করে। ভাগাভাগি করা প্রক্সিতে একসঙ্গে সংযোগের সীমা থাকে আর সীমার বাইরের জানালাগুলো যুক্ত হয় না। দেখার উপায় সহজ, একটা রেখে বাকি সব বন্ধ করে আবার পরীক্ষা করুন। পেরিয়ে গেলে সীমাটাই কারণ। বেশি খুলতে হলে আলাদা বরাদ্দ নিন বা কয়েকটা প্রক্সিতে ভাগ করে দিন।


