ব্যবসার জন্য ইনস্টাগ্রাম: ফেসবুক পেজ থাকলে এটা কী যোগ করে
বাংলাদেশে অনলাইন ব্যবসা মানে সাধারণত ফেসবুক পেজ। ইনস্টাগ্রাম তার বদলি নয়, আলাদা একটা জিনিস। কী যোগ করে, আর বিজনেস একাউন্টে বদলালে কী হারায়।
Sarah Johnsonবাংলায় অনলাইন ব্যবসা নিয়ে যা খোঁজা হয় তার প্রতিটাতেই একটা শব্দ ফিরে আসে: পেজ। মানসিক ছবিটা ফেসবুকের, আর সেটাই স্বাভাবিক, কারণ এখানে বেশিরভাগ ছোট ব্যবসা ফেসবুক পেজ দিয়েই শুরু হয়।
তাই প্রশ্নটা ইনস্টাগ্রাম কীভাবে ব্যবহার করব, এটা নয়। প্রশ্নটা হলো ফেসবুক পেজ যখন আছেই, ইনস্টাগ্রাম তখন বাড়তি কী দেয়।
ইনস্টাগ্রাম যা যোগ করে
তিনটে জিনিস, আর তিনটেই ফেসবুকে ওভাবে পাওয়া যায় না।
- আলাদা একটা ভিড়। ফেসবুক আর ইনস্টাগ্রাম দুটোতেই একই মানুষ থাকেন না, আর যাঁরা দুটোতেই আছেন তাঁরা দুই জায়গায় আলাদা মেজাজে থাকেন। একই পণ্য দুই জায়গায় আলাদা ফল দেয়, আর সেটা নিজে পরীক্ষা করে দেখা ছাড়া জানার উপায় নেই।
- ছবির ওপর ভরসা। ইনস্টাগ্রামে গোটা জিনিসটাই দেখার ওপর দাঁড়ানো, তাই যেসব পণ্য দেখে কেনা হয় সেগুলোর জন্য জায়গাটা বেশি সহজ।
- রিলের ঘরটা। এখানে মানুষ কাউকে ফলো না করেই একটার পর একটা ভিডিও দেখেন, তাই আপনার নাম কেউ না চিনলেও পৌঁছানো সম্ভব।
যা যোগ করে না সেটাও বলা দরকার। এখানে বিক্রির আলাদা কোনো ব্যবস্থা নেই যা ফেসবুকে নেই। বিক্রি শেষ পর্যন্ত বার্তায় হয়, দুই জায়গাতেই।
পেশাদার একাউন্টে বদলানো, আর তার দাম
ব্যবসার জন্য একাউন্টটা পেশাদার করতে হয়, এতে কোনো তর্ক নেই। কিন্তু পেশাদার একাউন্ট দুই রকম, আর ফারাকটা কেউ বলে না।
দুটোতেই ইনসাইটস থাকে, যোগাযোগের বোতাম থাকে, আর বিজ্ঞাপন চালানো যায়। ফারাকটা গানে।
বিজনেস ধরনের একাউন্টের প্রতিটা পোস্টকে ইনস্টাগ্রাম বাণিজ্যিক ধরে, তাই ওই একাউন্টে জনপ্রিয় গানের বড় অংশটা আসেই না। ক্রিয়েটর ধরনের একাউন্টে পুরো ভান্ডার থাকে।
এর ব্যবহারিক ফল সোজা। যদি আপনার কাজের বড় অংশ রিল হয়, ক্রিয়েটর বেছে নিন। যদি ফেসবুক ক্যাটালগ, দোকানের ট্যাগ বা নিয়মিত বিজ্ঞাপন লাগে, তাহলে বিজনেস। ইনস্টাগ্রাম আপনাকে যেকোনো সময় বদলে নিতে দেয়, আর অনেকে বদলে ফিরেও যান।
ফেসবুক পেজের সঙ্গে জুড়ে নেওয়া
দুটো জুড়ে দিলে কিছু কাজ একবারে হয়ে যায়, আর কাজটা এখন অ্যাকাউন্টস সেন্টার নামের ঘর থেকে হয়।
সেটিংসে গিয়ে অ্যাকাউন্টস সেন্টার খুলুন, সেখানে ফেসবুকের একাউন্ট যোগ করুন, আর নিশ্চিত করুন। এরপর একটা পোস্ট বা স্টোরি একসঙ্গে দুই জায়গায় যেতে পারে, বিজ্ঞাপন এক জায়গা থেকে চালানো যায়, আর দুটো একাউন্টের লগইন এক ঘরে চলে আসে।
কী কী সুবিধা দেখাবে তা একাউন্টের ধরন আর অঞ্চল অনুযায়ী বদলায়, তাই ধরে না নিয়ে নিজের ঘরটা খুলে দেখাই ঠিক।
একটা সতর্কতা আছে যেটা বেশিরভাগ ব্যবসা দেরিতে শেখে। একই লেখা দুই জায়গায় পাঠানো সহজ, কিন্তু ফল ভালো হয় না। ফেসবুকে লম্বা লেখা চলে, ইনস্টাগ্রামে চলে না। ছবির মাপও আলাদা। এক লাইন বদলে দিলে দুই জায়গাতেই ভালো দেখায়।
কী ধরনের পোস্ট, আর কেন
শতাংশের কোনো জাদুর সূত্র নেই, আর যেসব তালিকা শতাংশ দেয় তার পেছনে কিছু নেই। যেটা কাজ করে সেটা একটা সহজ প্রশ্ন: এই পোস্টটা কার জন্য।
তিন রকম মানুষ আপনার প্রোফাইলে আসেন, আর তিনজনের জন্য তিন রকম পোস্ট লাগে।
- যিনি আপনাকে চেনেন না। তাঁর জন্য রিল, যেটা অচেনা মানুষের কাছে যায়। এখানে পণ্যের কথা নয়, কাজের কথা: কীভাবে বানানো হয়, কেমন দেখায়, কী সমস্যা মেটায়।
- যিনি ভাবছেন কিনবেন কি না। তাঁর জন্য পরিষ্কার ছবি, দাম, মাপ, আর অন্য ক্রেতাদের কথা। এই জিনিসগুলো হাইলাইটে রাখা উচিত, কারণ তিনি সেগুলোই খুঁজতে আসেন।
- যিনি ইতিমধ্যে কিনেছেন। তাঁর জন্য স্টোরি, কারণ ওখানে তিনিই থাকেন। নতুন কী এল, কবে বন্ধ, কোথায় পাওয়া যাবে।
এই ভাগটা মাথায় থাকলে কী পোস্ট করব এই প্রশ্নটা প্রায় নিজে থেকেই মিটে যায়।
প্রোফাইলটাই আসল দোকানের সাইনবোর্ড
একটা রিল ভালো চললে মানুষ প্রোফাইলে আসেন, আর ওখানে তিন সেকেন্ডে সিদ্ধান্ত নেন। বাংলাদেশে বেশিরভাগ ছোট ব্যবসার প্রোফাইল এই তিন সেকেন্ডে হেরে যায়।
যেগুলো থাকতেই হবে: নামের নিচের লাইনে আপনি কী বিক্রি করেন সেটা পরিষ্কার ভাষায়, কোথা থেকে পাঠান, আর কীভাবে যোগাযোগ করতে হয়। ইনস্টাগ্রাম নিজে খোঁজার সময় নামের ঘরটাও মেলায়, তাই নামের সঙ্গে পণ্যের কথাটা রাখা কাজে দেয়।
হাইলাইটের সারিটাকে দোকানের তাক হিসেবে ভাবুন: দাম, ডেলিভারি, ক্রেতাদের কথা, আর কীভাবে অর্ডার করবেন। যে প্রশ্নগুলোর উত্তর বারবার বার্তায় দিতে হয়, সেগুলোই হাইলাইটে যাওয়া উচিত।
কোন সংখ্যাগুলো দেখবেন
ইনসাইটসে অনেকগুলো সংখ্যা আছে, আর বেশিরভাগই সিদ্ধান্তে কোনো কাজে লাগে না। তিনটে লাগে।
- প্রোফাইলে আসা। কতজন পোস্ট দেখে প্রোফাইল পর্যন্ত এলেন। পোস্ট কাজ করছে কি না এটাই বলে।
- বার্তা। কতজন যোগাযোগ করলেন। ব্যবসার দিক থেকে এটাই আসল সংখ্যা, ফলোয়ার নয়।
- সংরক্ষণ। কতজন পোস্টটা রেখে দিলেন। দাম বা তালিকার পোস্টে এটা বেশি হলে মানুষ কেনার কথা ভাবছেন।
এই তিনটে মাসে একবার লিখে রাখুন। ফলোয়ারের সংখ্যা বাড়ল অথচ বার্তা বাড়ল না, এর মানে পোস্টগুলো ভুল মানুষের কাছে যাচ্ছে। অর্ডার নেওয়া আর টাকা আদায়ের পুরো ব্যবস্থাটা আলাদা লেখায় আছে।



