ইনস্টাগ্রাম রিল আসলে কী, আর সাধারণ ভিডিওর থেকে আলাদা কেন
রিল নিয়ে বাংলায় সবচেয়ে বেশি খোঁজা হয় ডাউনলোড, তার পরেই ইনকাম। দুটোরই সোজা উত্তর, সঙ্গে রিল কতক্ষণের হতে পারে আর সেটা কোথায় গিয়ে পৌঁছায়।
Sarah Johnsonবাংলায় রিলস লিখে খুঁজলে প্রথমেই যা আসে সেটা ডাউনলোড। দশটার মধ্যে চারটে সরাসরি ডাউনলোড নিয়ে, একটা ইনকাম নিয়ে, আর মাত্র একটা বানানো নিয়ে।
অর্থাৎ বেশিরভাগ মানুষ রিলের দর্শক, নির্মাতা নন। তাই এখানে জিনিসটা কী সেটা বলার সঙ্গে সঙ্গে ওই দুটো প্রশ্নেরও উত্তর আছে।
রিল আর সাধারণ ভিডিওর আসল ফারাক
দেখতে দুটোই ভিডিও, তাই ফারাকটা লম্বায় বা মানে নয়। ফারাকটা হলো কে দেখবেন তা কে ঠিক করে।
ফিডে দেওয়া একটা সাধারণ পোস্ট মূলত আপনার ফলোয়ারদের কাছে যায়। রিল তার উল্টো। রিল আলাদা একটা ঘরে যায়, যেখানে মানুষ কাউকে ফলো না করেই একটার পর একটা ভিডিও দেখে যান। ওখানে আপনার নাম কেউ চেনেন কি না তার কোনো ভূমিকা নেই।
এই কারণেই নতুন একাউন্টের জন্য রিল একমাত্র ঘর যেখান থেকে অচেনা মানুষ আসতে পারেন। একই ভিডিও ফিডে দিলে দুশোজন দেখতেন, রিল হিসেবে দিলে দশ হাজার দেখতে পারেন, বা দুশোই থাকতে পারে। সিদ্ধান্তটা আপনার নয়।
কতক্ষণের হতে পারে, আর সংখ্যাটা কেন বদলায়
এখানে একটা সংখ্যা মুখস্থ করে রাখা বিপজ্জনক, কারণ ইনস্টাগ্রাম এই সীমাটা বারবার বদলেছে।
অ্যাপের ক্যামেরায় সরাসরি রেকর্ড করলে সাধারণত তিন মিনিটের কাছাকাছি গিয়ে থেমে যায়। ফোনের গ্যালারি থেকে তৈরি ভিডিও তুলে দিলে অনেক বেশি লম্বা চলে, প্রতিবেদন অনুযায়ী কুড়ি মিনিট পর্যন্ত।
কিন্তু যে সংখ্যাটা আসলে কাজে লাগে সেটা সর্বোচ্চ সীমা নয়। সেটা হলো তিন মিনিটের লাইন। এর চেয়ে লম্বা ভিডিও ইনস্টাগ্রাম মূলত আপনার নিজের ফলোয়ারদেরই দেখায়, অচেনা মানুষের ঘরে ঠেলে দেয় না। অর্থাৎ লম্বা করলে রিলের একমাত্র সুবিধাটাই হারিয়ে যায়।
নিজের অ্যাপে সীমাটা কোথায় সেটা দেখার সহজ উপায় আছে: রিল বানাতে শুরু করে রেকর্ড চালু রাখুন আর দেখুন কোথায় থামে।
রিল কোথায় কোথায় গিয়ে পড়ে
একটা রিল প্রকাশ করলে সেটা একসঙ্গে কয়েক জায়গায় বসে, আর জায়গাগুলোর দর্শক আলাদা।
- আপনার প্রোফাইলে। রিলের নিজস্ব ঘরে, আর চাইলে ফিডের তাকেও।
- ফলোয়ারদের ফিডে। এখানে ব্যবহারটা প্রায় সাধারণ পোস্টের মতোই।
- রিলের ঘরে। এখানেই অচেনা মানুষ আসেন, আর এখানেই সংখ্যাটা বড় হতে পারে।
- খোঁজার ফলে আর এক্সপ্লোরে। ভিডিওর ভেতরের কথা আর লেখা ধরেও ইনস্টাগ্রাম এখন মেলায়।
একটা রিল দ্বিতীয়বার জেগে উঠতে পারে। কয়েক সপ্তাহ চুপচাপ থাকার পর হঠাৎ ভিউ বাড়া অস্বাভাবিক কিছু নয়, কারণ রিলের ঘরে পুরোনো ভিডিওও ফিরে আসে। ফিডের পোস্টে এটা প্রায় ঘটে না।
রিলের নিচের সংখ্যাগুলো কী বলে
একটা রিলের নিচে যে সংখ্যাগুলো দেখা যায় সেগুলো এক জিনিস নয়, আর গুলিয়ে ফেললে ভুল সিদ্ধান্ত হয়।
- ভিউ। কতবার ভিডিওটা চলেছে। এক জনই দুবার দেখলে দুবারই গোনা হয়, তাই এটা মানুষের সংখ্যা নয়।
- পৌঁছানো। কতজন আলাদা মানুষ দেখেছেন। এটাই আসল সংখ্যা, আর এটা সবসময় ভিউয়ের চেয়ে কম।
- ফলোয়ার নন এমন দর্শক। এর মধ্যে কতজন আপনাকে চিনতেন না। রিলের ক্ষেত্রে এই ভাগটাই সবচেয়ে বেশি বলে দেয়।
- কতটা দেখা হয়েছে। গড়ে দর্শক কতক্ষণ থেকেছেন। এটা কম হলে বাকি সব সংখ্যা বাড়েনি, বাড়বেও না।
এগুলোর একটা বড় অংশ ইনসাইটসে থাকে, আর ইনসাইটসের জন্য একাউন্টটা পেশাদার হতে হয়। একটা কথা মনে রাখা ভালো: ইনস্টাগ্রাম এই নামগুলো মাঝেমধ্যে বদলায়, তাই নামের বদলে সংজ্ঞাটা মনে রাখাই নিরাপদ।
রিল ডাউনলোড করার ব্যাপারটা
যেহেতু বাংলায় এই প্রশ্নটাই সবচেয়ে বেশি, সোজা উত্তর দেওয়া যাক।
ইনস্টাগ্রামের ভেতরে অন্যের রিল নামানোর কোনো বোতাম নেই। নিজের বানানো রিল নামানো যায়, কারণ সেটা আপনার। অন্যেরটার জন্য ভেতরের একমাত্র পথ হলো ফিতের চিহ্নে চেপে সংরক্ষণ করে রাখা।
বাইরের সাইট আর অ্যাপ দিয়ে প্রকাশ্য রিল নামানো যায়, আর ওগুলো নিয়েই বাংলা খোঁজার তালিকাটা ভরা, জলছাপ ছাড়া নামানোর কথা সমেত। দুটো কথা সঙ্গে থাকা দরকার। ওই সাইটগুলোর কোনোটাতেই ইনস্টাগ্রামের নাম আর পাসওয়ার্ড দেবেন না, কারণ নামানোর জন্য ওগুলোর দরকার নেই আর চাওয়ার একটাই কারণ থাকে। আর নামানো ভিডিও নিজের নামে আবার পোস্ট করা আলাদা ব্যাপার, ওটা অন্যের বানানো জিনিস নিজের বলে চালানো।
দশ হাজার ভিউ মানে টাকা নয়
খোঁজার তালিকায় ভিউয়ের সংখ্যা আর ইনকাম প্রায় গায়ে গায়ে বসে থাকে, তাই এই সম্পর্কটা পরিষ্কার করা দরকার।
ইনস্টাগ্রাম ভিউয়ের সংখ্যা দেখে সরাসরি টাকা দেয় না, ইউটিউব যেভাবে দেয় সেভাবে তো নয়ই। আর যেসব ব্যবস্থার মাধ্যমে নির্মাতারা ইনস্টাগ্রাম থেকে সরাসরি টাকা পান, সেগুলো নির্দিষ্ট কিছু দেশে চালু আর বাংলাদেশ ওই তালিকায় আছে বলে নিশ্চিত করা যায়নি।
তার মানে রিলের ভিউ কোনো কাজে লাগে না, তা নয়। ভিউ মানে নতুন মানুষ, আর নতুন মানুষ থেকে ফলোয়ার, ফলোয়ার থেকে বিক্রি বা কাজ। পথটা লম্বা কিন্তু বাস্তব। কোন পথে টাকাটা আসলে আসে তার হিসাব আলাদা লেখায় আছে, আর বানানোর ধাপগুলো এখানে।



