ইনস্টাগ্রাম রিল কিভাবে বানাবো
রেকর্ড থেকে প্রকাশ পর্যন্ত ধাপগুলো, আর যে ব্যাপারটা কেউ বলে না: বিজনেস একাউন্টে চলতি গানগুলোর বেশিরভাগ পাওয়াই যায় না।
Michael Chenরিল বানানোর কারিগরি অংশটা পাঁচ মিনিটের কাজ। সমস্যা হয় দুই জায়গায়: গান বাছতে গিয়ে, আর কত সেকেন্ডে রাখব ঠিক করতে গিয়ে।
ধাপগুলো আগে, তারপর ওই দুটো।
শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ধাপগুলো
- যোগ চিহ্নে চাপ দিয়ে রিল বাছুন।
- হয় অ্যাপের ক্যামেরায় সরাসরি রেকর্ড করুন, নয় গ্যালারি থেকে তৈরি ক্লিপ তুলে দিন।
- সম্পাদনার পর্দায় ক্লিপগুলো কেটে ক্রম সাজান।
- গান বা নিজের কণ্ঠ যোগ করুন।
- পর্দার লেখা আর সাবটাইটেল বসান।
- পরের পর্দায় কভার বাছুন, ক্যাপশন লিখুন, তারপর প্রকাশ করুন।
গ্যালারি থেকে তোলার আগে একটা কথা। ভিডিওটা আগে অন্য কোনো অ্যাপে বানিয়ে, রপ্তানি করে, তারপর আবার সম্পাদনা করলে প্রতিবার মান কমে। একবার সম্পাদনা করে একটা পরিষ্কার ফাইল বানিয়ে সেটাই তুলুন।
গান: এখানেই বিজনেস একাউন্ট আটকে যায়
এটা এমন একটা ব্যাপার যা প্রায় কোথাও লেখা থাকে না, অথচ অনেকে সপ্তাহের পর সপ্তাহ বুঝতে পারেন না তাঁদের অ্যাপে চলতি গানগুলো আসছে না কেন।
কারণটা একাউন্টের ধরন। ইনস্টাগ্রাম বিজনেস একাউন্টের প্রতিটা পোস্টকে বাণিজ্যিক ধরে, তাই ওই একাউন্টে জনপ্রিয় গানের বড় অংশটা দেখানোই হয় না। যা থাকে তা মেটার নিজের রয়্যালটিমুক্ত সংগ্রহ। ব্যক্তিগত আর ক্রিয়েটর একাউন্টে পুরো ভান্ডারটাই থাকে।
এর ফল দুই রকম। খুঁজলে গানটা পাবেন না, অথবা কোনোভাবে বসিয়ে দিলে পরে ইনস্টাগ্রাম ওই অংশটা নিঃশব্দ করে দিতে পারে।
তাই যিনি নিজেই বিষয়বস্তু বানান, তাঁর জন্য ক্রিয়েটর একাউন্ট বিজনেস একাউন্টের চেয়ে ভালো। ইনসাইটস আর যোগাযোগের বোতাম দুটোতেই থাকে, কিন্তু গানের ভান্ডার শুধু ক্রিয়েটরে পুরোটা থাকে। একাউন্টের ধরন কী কী খোলে তার বাকি হিসাবটা এই লেখায়।
কত সেকেন্ড, আর সংখ্যাটা কী কাজ করে
নির্দিষ্ট একটা সংখ্যা মুখস্থ করার দরকার নেই, কারণ সংখ্যাটা যা করে সেটাই আসল।
রিলের হিসাবটা দাঁড়িয়ে আছে দর্শক কতটা দেখলেন তার ওপর। দশ সেকেন্ডের ভিডিও যদি কেউ পুরোটা দেখেন, আর ষাট সেকেন্ডের ভিডিওর অর্ধেকে ছেড়ে দেন, তবু দ্বিতীয়টায় বেশি সময় গেছে।
তাই সিদ্ধান্তটা এভাবে নিন: আপনার কথাটা যত সেকেন্ডে শেষ হয়, ততটাই। টেনে লম্বা করলে মাঝপথে মানুষ চলে যান, আর জোর করে ছোট করলে কথাটাই অসম্পূর্ণ থাকে।
তিন মিনিটের একটা সীমা আছে যেটা ছাড়ালে ইনস্টাগ্রাম আর অচেনা মানুষের কাছে ভিডিওটা পাঠায় না, কিন্তু সেই সীমা ছুঁয়ে ফেলা বেশিরভাগ মানুষের সমস্যা নয়।
লেখা আর সাবটাইটেল
বাংলাদেশে বেশিরভাগ মানুষ ফোনের শব্দ বন্ধ রেখে ভিডিও দেখেন, বিশেষ করে বাইরে বা বাসে। তাই কথাটা শুধু কণ্ঠে থাকলে সেটা অর্ধেক দর্শকের কাছে পৌঁছায় না।
দুটো আলাদা জিনিস আছে আর দুটোই দরকার। সাবটাইটেল, অর্থাৎ আপনি যা বলছেন তার লেখা রূপ, যেটা ইনস্টাগ্রাম নিজে তৈরি করে দিতে পারে আর আপনি ঠিক করে নিতে পারেন। আর পর্দার লেখা, অর্থাৎ যে এক লাইনটা প্রথমেই দেখলে মানুষ বুঝবেন ভিডিওটা কী নিয়ে।
একটা ব্যবহারিক সতর্কতা। পর্দার নিচের দিকে আর একদম ওপরে ইনস্টাগ্রামের নিজের বোতাম আর লেখা বসে, তাই সেখানে আপনার লেখা দিলে ঢাকা পড়ে যায়। মাঝখানে রাখুন।
কভারটা প্রোফাইলের জন্য, ভিডিওর জন্য নয়
কভার হলো রিলের সেই ছবিটা যেটা আপনার প্রোফাইলের তাকে বসে থাকে। রিলের ঘরে যাঁরা ভিডিওটা দেখেন তাঁরা কভার দেখেনই না, ভিডিও সরাসরি চলতে শুরু করে।
তাহলে কভারের কাজ কী। কেউ আপনার প্রোফাইলে এসে যখন কুড়িটা রিল একসঙ্গে দেখেন, তখন কোনটায় চাপ দেবেন সেটা কভার ঠিক করে।
তাই কভারে ভিডিওর কোনো ঝাপসা ফ্রেম না রেখে একটা পরিষ্কার ছবি আর দুই তিন শব্দের একটা লেখা রাখুন। পুরো তাকে একই ধাঁচের কভার রাখলে প্রোফাইলটা গোছানো দেখায়, আর নতুন কেউ এলে বুঝতে পারেন আপনি কী নিয়ে কাজ করেন।
ভাইরাল ট্রিক নিয়ে সোজা কথা
বাংলায় রিল নিয়ে খোঁজার তালিকায় ভাইরাল ট্রিক কথাটা সরাসরি বসে আছে, তাই এটা এড়িয়ে যাওয়া অসৎ হবে।
যে জিনিসগুলো ট্রিক বলে বিক্রি হয় সেগুলো সাধারণত তিনটের একটা: নির্দিষ্ট কিছু ট্যাগের তালিকা, নির্দিষ্ট সময়ে পোস্ট দেওয়া, বা কোনো অ্যাপ দিয়ে ভিউ বাড়ানো। প্রথম দুটোর প্রভাব সামান্য, আর তৃতীয়টা আপনার একাউন্টের ক্ষতি করে।
যেটা সত্যিই কাজ করে সেটা কম আকর্ষণীয়: একটা বিষয়ে থাকা, আর যে ভিডিওটা চলল সেটার মতো আরও কয়েকটা বানানো। ইনস্টাগ্রাম আপনার একটা ভিডিও যাঁদের দেখিয়ে ভালো ফল পেয়েছে, তাঁদেরই পরেরটা দেখাতে চায়। বিষয় বদলে ফেললে সেই সুবিধাটা হারায়।
ভিডিওর প্রথম মুহূর্ত নিয়ে যা করার আছে তা ফলোয়ার বাড়ানোর লেখায় আলাদা করে বলা আছে, এখানে সেটা আর ফিরে বলা হয়নি।
প্রকাশ করার আগে শেষ পর্দাটা
শেষ পর্দায় কয়েকটা ঘর থাকে যেগুলো বেশিরভাগ মানুষ না দেখে পেরিয়ে যান, অথচ দুটোর ফল বাস্তব।
- ফিডেও দেখাবেন কি না। চালু রাখলে রিলটা আপনার প্রোফাইলের ছবির তাকেও বসে, আর ফলোয়াররা ফিডে পান। পৌঁছানোয় ফারাক হয় না, শুধু প্রোফাইলের চেহারা বদলায়।
- কভার আর কভারের লেখা। এটা পরে বদলানো যায়, কিন্তু বদলাতে গিয়ে অনেকে ঝামেলায় পড়েন, তাই প্রথমেই ঠিক করে নেওয়া ভালো।
- কাউকে যোগ করা। কোনো রিল দুজনের নামে একসঙ্গে প্রকাশ করা যায়, আর তখন সেটা দুজনের দর্শকের কাছেই যায়। ছোট একাউন্টের জন্য এটাই সবচেয়ে সস্তা পৌঁছানোর উপায়।
- ট্যাগ আর অবস্থান। স্থানীয় ব্যবসার ক্ষেত্রে জায়গার নামটা বসানো কাজে দেয়, কারণ মানুষ এলাকা ধরে খোঁজেন।
প্রকাশ করার পর প্রথম কয়েক ঘণ্টা মন্তব্যের ঘরে থাকুন। যে রিলে নির্মাতা নিজে উত্তর দেন, সেখানে কথা এগোয়, আর কথা এগোনোটাই ইনস্টাগ্রামের কাছে সবচেয়ে জোরালো সংকেত।



