ইনস্টাগ্রাম ফলোয়ার বাড়ানো: অ্যাপ, বিনামূল্যে পাঁচ হাজার, আর আসল কাজ
বাংলাদেশ থেকে এই নিয়ে যা খোঁজা হয় তার তিনটে স্তম্ভ, একটা অ্যাপ, একটা বিনামূল্যের সংখ্যা আর একটা গোল লক্ষ্য। তিনটেরই সৎ উত্তর, তারপর যেটা সত্যিই কাজ করে।
Michael Chenবাংলাদেশ থেকে ইনস্টাগ্রামের ফলোয়ার নিয়ে যা খোঁজা হয়, তাতে তিনটে জিনিস বারবার ফেরে। একটা অ্যাপ, বিনামূল্যে পাঁচ হাজার, আর এক লাখ। তিনটেই আলাদা প্রশ্ন, আর তিনটেরই উত্তর দিয়ে শুরু করা দরকার, নইলে পরের কথাগুলো বিশ্বাসযোগ্য হবে না।
যে অ্যাপগুলো ফলোয়ার বাড়ায় বলে
ইনস্টাগ্রাম কাউকে বাইরে থেকে অন্যের একাউন্টে ফলোয়ার বসিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা দেয় না। তাই যে অ্যাপ ওটা করার দাবি করে, সেটা অন্য কিছু করছে।
সবচেয়ে সাধারণ কাজটা হলো বিনিময়। আপনি ঢোকেন, অ্যাপটা আপনাকে দিয়ে অন্য পঞ্চাশজনকে ফলো করায়, আর বিনিময়ে ওই পঞ্চাশজনের কেউ কেউ আপনাকে ফলো করেন। ফল দুরকম। আপনার ফলো করার সংখ্যাটা ফলোয়ারের চেয়ে অনেক বড় হয়ে যায়, যেটা দেখলেই যে কেউ বুঝে যান কী হয়েছে। আর যাঁরা যুক্ত হলেন তাঁরা আপনার বিষয়ে আগ্রহী নন, তাঁরা শুধু নিজের সংখ্যা বাড়াতে এসেছেন।
দ্বিতীয় কাজটা আরও খারাপ। অনেক অ্যাপ কাজ শুরুর আগে আপনার লগইনের তথ্য চায়। ওটা দেওয়ার পর একাউন্টটা আর শুধু আপনার থাকে না। ফলোয়ার এলো কি এলো না, সেটা তখন আর সবচেয়ে বড় প্রশ্ন নয়।
বিনামূল্যে পাঁচ হাজার, ওখানে আসলে কী আসে
এই প্রস্তাবগুলো সত্যিই কিছু পাঠায়। সংখ্যাটা বাড়ে, চোখেও দেখা যায়। কিন্তু যা আসে সেগুলো তিন ধরনের।
- খালি একাউন্ট, যেগুলোয় কোনো ছবি নেই আর কোনো মানুষ নেই।
- পয়েন্টের জন্য কাজ করা একাউন্ট, যাঁরা একটা পুরস্কারের বিনিময়ে ফলো করেছেন আর কালই সরে যাবেন।
- আর কিছু আসল কিন্তু সম্পূর্ণ অসংশ্লিষ্ট একাউন্ট, অন্য দেশের অন্য ভাষার।
ইনস্টাগ্রাম নিয়মিত এসব পরিষ্কার করে, তাই সংখ্যাটা কিছুদিন পরে নিজে থেকেই নামে। কিন্তু আসল ক্ষতিটা সংখ্যায় নয়, অনুপাতে।
ইনস্টাগ্রাম দেখে আপনার পোস্ট কতজনের কাছে গেল আর তার মধ্যে কতজন থামলেন। পাঁচ হাজার নিষ্ক্রিয় মানুষ যুক্ত হওয়ার পর ওই ভাগটা হঠাৎ অনেক নিচে নেমে যায়। ফল হলো আপনার পরের পোস্টটা আগের চেয়ে কম মানুষের কাছে যায়। অর্থাৎ বিনামূল্যের সংখ্যাটা আপনার আসল রিচ কমিয়ে দিয়ে যায়।
এক লাখের লক্ষ্যটা নিয়ে একটা কথা
গোল সংখ্যাগুলো টানে, কিন্তু ওগুলো কিছু ঠিক করে না।
দুটো একাউন্ট ভাবুন। একটায় এক লাখ ফলোয়ার, কিন্তু পোস্টে সাড়া দেন দুশো জন। আরেকটায় তিন হাজার ফলোয়ার, আর সাড়া দেন চারশো জন। বিজ্ঞাপনদাতা, ক্রেতা, বা যিনি কাজ দেবেন, তাঁরা দ্বিতীয়টাকেই বেছে নেবেন, আর সেটা সবাই জানেন।
তাই লক্ষ্যটা এক লাখ না রেখে অন্যভাবে রাখুন। এই মাসে কতজন নতুন মানুষ আপনার পোস্ট সেভ করলেন, বা কতজন প্রোফাইলে এসে ফলো করলেন। এই সংখ্যাগুলো ছোট, কিন্তু এগুলোই বাড়লে বাকিটা এমনিতেই আসে।
পোস্ট নয়, প্রোফাইলটাই আটকায়
এই জায়গায় সবচেয়ে বেশি সুযোগ নষ্ট হয়, আর সবচেয়ে কম সময় দেওয়া হয়।
একটা রিল ভালো চললে মানুষ প্রোফাইলে আসেন। এসে তিন সেকেন্ডের মধ্যে একটা সিদ্ধান্ত নেন। ওই তিন সেকেন্ডে তাঁরা যা দেখেন সেটা হলো নামের নিচের এক লাইন আর ওপরের ছয়টা পোস্টের ছবি।
ওই এক লাইনে নিজের পরিচয় লিখে লাভ নেই। ওখানে লিখতে হয় পাঠক কী পাবেন। কোন বিষয়, কার জন্য, আর কেন। কেউ যদি ওই লাইনটা পড়ে বুঝতে না পারেন আপনার পরের পোস্টটা কী নিয়ে হবে, তিনি ফলো করবেন না।
আর ওপরের ছয়টা পোস্ট যদি ছয়টা আলাদা বিষয়ের হয়, তাহলেও একই ঘটনা। মানুষ ফলো করেন একটা প্রতিশ্রুতিতে, একটা ছবিতে নয়।
রিলের প্রথম সেকেন্ড
নতুন মানুষ প্রায় সবসময়ই রিল দিয়ে আসেন, আর রিলের পুরো হিসাবটা দাঁড়িয়ে আছে একটা প্রশ্নে, মানুষ থামলেন না চলে গেলেন।
তাই শুরুটা যেন গোছানো ভূমিকা না হয়। সালাম, পরিচয়, আজ আমরা কথা বলব, এই তিনটে লাইনে দর্শক চলে যান। যেটা কাজ করে সেটা হলো একদম প্রথম মুহূর্তেই ফলাফল বা প্রশ্নটা দেখিয়ে দেওয়া, আর ব্যাখ্যাটা তার পরে।
দ্বিতীয় কাজটা হলো শেষটা যেন থেমে না যায়। যে ভিডিও শেষ হয়ে আবার শুরু হয় আর দর্শক টের পান না, সেটা দুবার দেখা হয়ে যায়, আর হিসাবে ওটা দুবারই গোনা হয়।
ট্যাগ এখানে সাহায্য করে, কিন্তু দরজা পর্যন্ত। ট্যাগ বাছার কাজটা আলাদা পাতায় লেখা আছে।
ছন্দটা এক বছর ধরে রাখতে হয়
সপ্তাহে সাতটা পোস্ট দিয়ে শুরু করে তিন সপ্তাহে থেমে যাওয়ার চেয়ে সপ্তাহে দুটো পোস্ট এক বছর ধরে চালানো অনেক বেশি ফল দেয়।
কারণটা দুই দিকে কাজ করে। মানুষ নিয়মিত দেখলে চিনতে শুরু করেন, আর ইনস্টাগ্রামও নিয়মিত পোস্ট আসা একাউন্টকে বেশি ভরসা করে। মাঝখানে দুই মাসের ফাঁক পড়লে দুটোই নষ্ট হয়।
তাই সংখ্যাটা ঠিক করার সময় নিজের সবচেয়ে ব্যস্ত সপ্তাহটা মাথায় রাখুন, সবচেয়ে অবসর সপ্তাহটা নয়।
টাকা দিয়ে কেনার জায়গাটা কোথায়
সৎভাবে বললে, একটা জায়গা আছে, আর সেটা ফলোয়ার নয়।
ফলোয়ার কিনলে ওই অনুপাতের সমস্যাটা তৈরি হয়, যেটা ওপরে বলা হয়েছে, আর সেটা বিনামূল্যে হোক বা টাকা দিয়ে, একই। যেটা তুলনায় কম ক্ষতিকর সেটা হলো একটা নির্দিষ্ট পোস্টের ওপর কাজ, যেমন ভিউ বা সংরক্ষণ, যেখানে লক্ষ্যটা হলো ইনস্টাগ্রামের চোখে পোস্টটার শুরুর গতি তৈরি করা।
তবু এটা কোনো ভিত্তি নয়, একটা ধাক্কা। যে পোস্ট নিজে থেকে কাউকে থামাতে পারে না, তাকে ধাক্কা দিয়ে চালানো যায় না। এখানকার সোশ্যাল মিডিয়ার তালিকায় কোন মেট্রিকে কী শর্ত, সেটা ওই পাতায় আলাদা করে লেখা আছে।
কোন সংখ্যাগুলো দেখলে বোঝা যায় কাজ হচ্ছে
ফলোয়ারের সংখ্যাটা সবচেয়ে দেরিতে নড়ে, তাই ওটা দেখে বসে থাকলে হাল ছেড়ে দিতে ইচ্ছে করবে। এই তিনটে আগে নড়ে।
- সংরক্ষণ। কতজন পোস্টটা রেখে দিলেন। এটাই সবচেয়ে ভালো সংকেত, কারণ মানুষ যা কাজে লাগবে সেটাই রাখেন।
- অন্যকে পাঠানো। কতজন বন্ধুকে পাঠালেন। এটা সংরক্ষণের চেয়েও দামি আর অনেক বিরল।
- প্রোফাইলে আসা। কতজন পোস্ট দেখে প্রোফাইল খুললেন। এই সংখ্যাটা বাড়ছে অথচ ফলোয়ার বাড়ছে না মানে পোস্ট কাজ করছে কিন্তু প্রোফাইলটা করছে না।
এই শেষ তুলনাটাই সবচেয়ে কাজের, কারণ ওটা বলে দেয় সমস্যা কোন দিকে, আর কোথায় সময় দিতে হবে।



