হ্যাশট্যাগ ব্যবহারের নিয়ম: প্রশ্নটা এখন কয়টা নয়, কোন পাঁচটা
সীমাটা তিরিশ থেকে নেমে পাঁচ হয়েছে, আর পাঁচের পরের ট্যাগগুলো গোনাই হয় না। তাই বাছাইয়ের প্রশ্নটা পুরো বদলে গেছে, আর পুরোনো সব পরামর্শ অচল হয়ে গেছে।
Sarah Johnsonবাংলায় এই বিষয়ে যা খোঁজা হয় তাতে একটাই শব্দ দুবার আসে, নিয়ম। মানুষ ব্যাখ্যা চান না, একটা নিয়ম চান।
মজার ব্যাপার হলো, কয়টা দেব এই প্রশ্নটা বাংলা অক্ষরে কেউ লেখেন না, গুগল ওটাকে হ্যাশট্যাগ কী এই প্রশ্নে বদলে দেয়। প্রশ্নটা বাঁচে ইংরেজিতে, আর সেখানে এখন সবচেয়ে বেশি লেখা হয় limit five। কারণটা হলো সংখ্যাটা সত্যিই বদলে গেছে।
সীমাটা এখন পাঁচ, তিরিশ নয়
২০২৫ সালের ডিসেম্বরে ইনস্টাগ্রাম একটা ফিড পোস্টে গোনা ট্যাগের সংখ্যা তিরিশ থেকে নামিয়ে পাঁচে এনেছে। ছয় নম্বর থেকে যা লিখবেন সেগুলো আর হিসাবে আসে না।
পরের কথাটা আলাদা করে বলা দরকার, কারণ এই জায়গাতেই ভুল ছড়াচ্ছে সবচেয়ে বেশি। বেশি ট্যাগ দিলে পোস্ট আটকায় না। কোনো ভুলের বার্তা আসে না, কোনো সতর্কতা আসে না, পোস্ট আগের মতোই প্রকাশ হয়ে যায়। শুধু বাড়তি ট্যাগগুলো চুপচাপ কিছুই করে না।
আর এই নীরবতাই কারণ, কেন পুরোনো পরামর্শগুলো এখনো টিকে আছে। কেউ আপনাকে বলে না যে বারোটার মধ্যে সাতটা অপচয় হলো, তাই মানুষ বুঝতেই পারেন না। যে লেখায় দশটা, পনেরোটা বা তিরিশটা ট্যাগের কথা আছে, সেটা এই বদলের আগে লেখা।
স্টোরির ক্ষেত্রে সংখ্যাটা একই কি না, সেটা যাচাই করা যায়নি। তাই এখানে স্টোরির জন্য কোনো সংখ্যা দেওয়া হলো না। যেটুকু নিশ্চিত, ফিডের পোস্টে গোনা হয় পাঁচটা।
ক্যাপশন আর প্রথম মন্তব্য আলাদা নয়
ইংরেজিতে যাঁরা খোঁজেন তাঁরা দুটো ফাঁকফোকর খোঁজেন, ট্যাগ মন্তব্যে রাখলে কী হয় আর সীমাটা পাশ কাটানো যায় কি না। দুটোরই উত্তর একই জায়গায়।
ক্যাপশনে পাঁচটা আর প্রথম মন্তব্যে পাঁচটা দিলে দশটা হয় না। দুটো জায়গার ট্যাগ একসঙ্গে যোগ হয়ে ওই একই পাঁচটার বিপরীতে বসে। অর্থাৎ মন্তব্যের ঘরটা বাড়তি জায়গা নয়।
তাহলে মন্তব্যে রাখার কোনো মানে আছে কি। আছে, তবে সেটা সংখ্যার কারণে নয়, চেহারার কারণে। ক্যাপশনটা পরিষ্কার দেখায়, ট্যাগের সারিটা নিচে চলে যায়। যাঁরা ব্যবসার পাতা চালান তাঁদের অনেকে এই কারণেই ওটা করেন।
শর্ত একটাই। মন্তব্যটা পোস্ট দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দিতে হবে। পনেরো মিনিট পরে দিলে পোস্টটার শুরুর সময়টুকু ট্যাগ ছাড়াই কেটে যায়, আর ওই সময়টাই সবচেয়ে দামি।
পাশ কাটানোর কোনো উপায় নেই। মন্তব্যে নয়, পরে সম্পাদনা করেও নয়, ছবির ভেতরে লিখেও নয়।
পাঁচটার ভেতরে একটা ট্যাগ আসলে কী করে
ট্যাগ দুটো কাজ করত, আর নতুন সীমাটা দুটোর ওজন বদলে দিয়েছে।
প্রথম কাজ, ট্যাগের পাতায় জমা হওয়া। প্রতিটা ট্যাগের নিজের একটা পাতা আছে যেখানে সদ্য দেওয়া পোস্টগুলো পরপর বসে। আগে তিরিশটা ট্যাগ দিয়ে অনেকগুলো পাতায় একসঙ্গে ঢোকা যেত। এখন যায় না, তাই এই কাজটার দাম কমে গেছে।
দ্বিতীয় কাজ, পোস্টটাকে নাম দেওয়া। ট্যাগ দেখে ইনস্টাগ্রাম বোঝে জিনিসটা কী নিয়ে, আর তারপর ওই বিষয়ে আগ্রহী মানুষের সামনে রাখার কথা ভাবে। এই কাজটা এখন প্রায় পুরোটাই।
ইনস্টাগ্রাম নিজেও এই দিকেই ইঙ্গিত করেছে, ট্যাগের ভূমিকা খুঁজে পাওয়ার দিকে বেশি, বেশি মানুষের কাছে যাওয়ার দিকে কম। তাই ট্যাগ বাছার সময় প্রশ্নটা আর এই নয় যে ওই পাতায় কত লোক। প্রশ্নটা হলো, কেউ ঠিক এই জিনিসটা খুঁজলে সে কোন শব্দটা লিখবে।
কোন পাঁচটা: একটা ভাগ যেটা কাজ করে
পাঁচটা ঘর আছে, আর প্রতিটা ঘরের একটা দাম আছে। একটা নষ্ট করা মানে বাজেটের পাঁচ ভাগের এক ভাগ নষ্ট করা।
একটা ভাগ যেটা বেশিরভাগ পোস্টে খাটে।
- একটা বিষয়ের ট্যাগ। আপনি সাধারণভাবে কী নিয়ে কাজ করেন, যেমন রান্না বা ছবি তোলা। এটা ইনস্টাগ্রামকে খোপটা দেয়।
- দুই বা তিনটে নির্দিষ্ট ট্যাগ। শুধু এই একটা পোস্টের জন্য। কী রান্না, কোন ধরনের ছবি, কোন সমস্যার সমাধান। এগুলোই সবচেয়ে বেশি কাজ করে আর এগুলোই মানুষ সবচেয়ে বেশি বাদ দেন।
- একটা জায়গার বা নিজের ট্যাগ। আপনার এলাকা, অথবা আপনার নিজের নামের ট্যাগ যেটা দিয়ে পুরোনো কাজ এক জায়গায় পাওয়া যায়।
বাছাই করার একটা কড়া পরীক্ষা আছে, আর সেটা এক লাইনের। ট্যাগটা যদি আপনার বিষয়ের আর দশটা পোস্টেও ঠিক একইভাবে বসে যেত, তাহলে ওটা একটা ঘর নষ্ট করছে।
আর পাঁচটাই ভরতে হবে এমন কোনো কথা নেই। সত্যি সত্যি যতগুলো পোস্টটাকে বর্ণনা করে ততগুলোই দিন। তিনটে ঠিক ট্যাগ, দুটো মিথ্যে ট্যাগসহ পাঁচটার চেয়ে ভালো, কারণ মিথ্যে ট্যাগ দুটো নামটাই ঘেঁটে দেয়।
বাংলাদেশ থেকে লিখলে কয়টা ঘর স্থানীয় ট্যাগে
এই প্রশ্নটা এখানে আলাদা করে খোঁজা হয়, ইংরেজি অক্ষরে, আর নতুন সীমার পরে উত্তরটা বদলেছে।
আগে জায়গার ট্যাগ ঢালাওভাবে দেওয়া যেত, শহর, এলাকা, দেশ, ভাষা, সব একসঙ্গে। এখন প্রতিটা ঘরের দাম আছে, তাই একটা, বড়জোর দুটো।
কোনটা রাখবেন। সবচেয়ে সরু যেটা এখনো আপনার সঙ্গে সত্যি মেলে। দেশের নামের ট্যাগে প্রতিদিন যত পোস্ট পড়ে সেটা অনেক, কিন্তু শহর বা এলাকার নামে অনেক কম, তাই সেখানে আপনার পোস্ট অনেকক্ষণ দেখা যায়।
আর যে কারণে এই ঘরটা খরচ করার মতো, সেটা সংখ্যার নয়। যিনি এলাকার নাম দিয়ে খোঁজেন তিনি কাছাকাছিই আছেন। যদি আপনি কিছু বিক্রি করেন বা দেখা করে কাজ করেন, তাহলে দূরের দশ হাজার অচেনা মানুষের চেয়ে কাছের একশো জন অনেক বেশি কাজের।
বাংলা অক্ষরে লেখা ট্যাগ নিয়ে একটা কথা। ওগুলো কাজ করে, কিন্তু ওখানে যাঁরা আসেন তাঁরা প্রায় সবাই বাংলাভাষী, তাই ওটা একটা সিদ্ধান্ত, ভুল নয়। আপনার ক্রেতা যদি বাংলাতেই খোঁজেন, তাহলে ওটাই ঠিক ট্যাগ।
ট্রেন্ডিং ট্যাগের দাম এখন অনেক বেশি
বাংলায় এই বিষয়ে যে একটামাত্র নিজস্ব সুপারিশ আসে সেটা ট্রেন্ডিং নিয়ে, তাই প্রলোভনটা বাস্তব।
কিন্তু হিসাবটা পুরো উল্টে গেছে। আগে একটা বড় ট্যাগ দিলে খরচ হতো তিরিশ ভাগের এক ভাগ, তাই ঝুঁকিটা সস্তা ছিল। এখন খরচ পাঁচ ভাগের এক ভাগ।
আর জিনিসটা যা দেয় তা আগের মতোই সামান্য। যে ট্যাগে মিনিটে হাজারটা পোস্ট পড়ছে সেখানে আপনার পোস্ট এক সেকেন্ডেরও কম দেখা যায়। তার ওপর ভালোবাসা বা সুন্দর জাতীয় শব্দ দিয়ে কোনো বিষয় চেনা যায় না, তাই নাম দেওয়ার কাজটাও নষ্ট হয়।
সবচেয়ে খারাপ দিকটা এর পরে আসে। ভুল দর্শক এসে যদি না থেমে চলে যান, ইনস্টাগ্রাম সেটা দেখে ধরে নেয় পোস্টটা ভালো নয়। কম মানুষকে দেখানো ভালো, ভুল মানুষকে দেখানোর চেয়ে।
যা ট্যাগ দিয়ে হয় না
শেষে সৎ কথাটা, আর নতুন সীমার পরে এটা আরও বেশি সত্যি।
ট্যাগ পোস্টকে ঠিক জায়গায় রাখে, পোস্টটাকে ভালো করে না। যে ছবিতে কেউ থামেন না, সেটা পাঁচটা নিখুঁত ট্যাগ পেলেও একই জায়গায় গিয়ে থামে। উল্টোদিকে যে পোস্ট মানুষ রেখে দেন বা অন্যকে পাঠান, সেটা দুটো ট্যাগেও ছড়ায়।
দুটো জিনিস আলাদা করে জেনে রাখা ভালো। কিছু ট্যাগ ইনস্টাগ্রাম আটকে রাখে, আর ওই ধরনের একটা ট্যাগ থাকলে পোস্টটা ট্যাগের পাতায় নাও উঠতে পারে। তাই কোনো ট্যাগ বারবার ব্যবহার করার আগে অ্যাপের খোঁজার ঘরে লিখে দেখে নিন সেটা স্বাভাবিকভাবে খুলছে কি না।
আর ট্যাগ মানুষকে পোস্ট পর্যন্ত আনে, প্রোফাইলে ধরে রাখে না। ওই দ্বিতীয় কাজটা আলাদা, আর সেটা ফলোয়ার বাড়ানোর লেখায় বলা আছে।



