অ্যাপল আইডি শুধু একটা লগইন নয়, এটা ফোনটার উপর দাবি
বাংলাদেশ থেকে আইক্লাউড নিয়ে যা খোঁজা হয় তার অর্ধেকই লক নিয়ে, আর তার মধ্যে আছে খুলতে কত টাকা লাগে। প্রশ্নটার উত্তরটা সুখকর নয়, কিন্তু জানা দরকার।
Avery Bennettবাংলাদেশ থেকে আইক্লাউড লিখে খুঁজলে দশটা প্রস্তাবের মধ্যে পাঁচটাই আসে লক নিয়ে। আইক্লাউড লক, লক কি, লক মানে কি, লক খোলার উপায়, আর লক খুলতে কত টাকা লাগে।
এটা কাকতালীয় নয়। এটা পুরোনো আইফোনের একটা বড় বাজারের শব্দ, যেখানে মানুষ ফোন কিনে ফেলার পরে আবিষ্কার করছেন ওটা চালু করা যাচ্ছে না।
তাই এই লেখাটা নিরাপত্তার সাধারণ পরামর্শ দিয়ে শুরু হচ্ছে না। শুরু হচ্ছে ওই লকটা দিয়ে, কারণ অ্যাপল আইডিকে বাকি সব আইডির চেয়ে আলাদা করে দেয় ঠিক এই জিনিসটাই।
অ্যাপল আইডি যন্ত্রের সঙ্গে জোড়া লাগে
এখানে একটা ফারাক বোঝা দরকার, যেটা অন্য কোনো আইডির ক্ষেত্রে খাটে না।
আপনি যদি ফেসবুক বা টেলিগ্রামের পাসওয়ার্ড হারান, তাহলে আপনি ওই আইডিটা হারান। আপনার ফোনটা ঠিকঠাক চলতে থাকে, শুধু ওই একটা অ্যাপে আপনি ঢুকতে পারেন না।
অ্যাপলে ব্যাপারটা অন্যরকম। একটা আইফোন যখন কোনো অ্যাপল আইডিতে সাইন ইন করা থাকে, তখন ওই যন্ত্রটা ওই আইডির নামে নিবন্ধিত হয়ে যায়। ফোনটা মুছে ফেললেও, নতুন করে চালু করতে গেলে ওই আইডির পাসওয়ার্ডটাই চাওয়া হয়।
এটাই সেই লক। এটার আসল উদ্দেশ্য চুরি ঠেকানো, আর সেই কাজে এটা খুব ভালো কাজ করে। ফোন চুরি হয়ে গেলে চোর ওটা মুছে বিক্রি করতে পারে না, কারণ মুছলেও ওটা আগের মালিকের আইডি চায়।
কিন্তু এই একই ব্যবস্থা সৎ ক্রেতার জন্যও একইভাবে কাজ করে। ফোনটা যদি আগের মালিক ঠিকমতো নিজের আইডি থেকে সরিয়ে না দিয়ে থাকেন, তাহলে আপনি একটা তালাবন্ধ যন্ত্র কিনেছেন।
খুলতে কত টাকা লাগে, এই প্রশ্নের উত্তর
প্রশ্নটা বাংলায় সরাসরি খোঁজা হয়, তাই সরাসরি উত্তর দেওয়া দরকার।
কোনো টাকা দিয়ে এটা খোলার বৈধ কোনো পথ নেই। অ্যাপলের কাছেও নেই, কোনো দোকানের কাছেও নেই।
অ্যাপল নিজে এটা খুলতে পারে, কিন্তু শুধু তখনই যখন আপনি প্রমাণ করতে পারেন যন্ত্রটা আপনার। তার জন্য দরকার আসল কেনার রসিদ, যেখানে যন্ত্রের নম্বর লেখা আছে আর নামটা আপনার। পুরোনো ফোন কিনলে সেটা সাধারণত থাকে না।
যাঁরা টাকার বিনিময়ে খুলে দেওয়ার কথা বলেন, তাঁরা সাধারণত তিনটের একটা করেন। কেউ শুধু টাকা নিয়ে চলে যান। কেউ এমন কিছু করেন যাতে ফোনটা সাময়িকভাবে চলে কিন্তু হালনাগাদ করলেই আবার আটকে যায়। আর কেউ ফোনটার এমন অংশ বদলে দেন যাতে ওটা আর অ্যাপলের সঙ্গে ঠিকমতো কথা বলতে পারে না, ফলে অনেক কিছু কাজ করে না।
তাই কড়া কিন্তু সৎ কথাটা হলো, লক করা একটা ফোনের দাম যন্ত্রাংশের দাম। ওটা কিনে খুলিয়ে নেওয়া যাবে এই ভরসায় দাম দেওয়া ঠিক নয়।
একটাই আসল সমাধান আছে, আর সেটা হলো আগের মালিককে খুঁজে বের করা। তিনি যেকোনো জায়গা থেকে, নিজের অন্য কোনো যন্ত্র বা ব্রাউজার থেকে, তাঁর আইডির যন্ত্রের তালিকা থেকে ফোনটা সরিয়ে দিতে পারেন। ওটা এক মিনিটের কাজ। তাই ফোনটা বিক্রি করা লোকটির সঙ্গে যোগাযোগ থাকলে সেটাই সবচেয়ে মূল্যবান জিনিস।
পুরোনো আইফোন কেনার আগে এক মিনিটের পরীক্ষা
এটা কেনার পরে করার জিনিস নয়, টাকা দেওয়ার আগে করার জিনিস।
ফোনটা হাতে নিয়ে সেটিংসে যান আর একেবারে উপরে দেখুন। ওখানে যদি কারও নাম দেখায়, তাহলে ফোনটা এখনো তাঁর আইডিতে বসানো।
বিক্রেতাকে বলুন ওখান থেকে সাইন আউট করে দিতে, আপনার সামনে। এটা করতে তাঁর পাসওয়ার্ড লাগবে, আর সেখানেই আসল পরীক্ষাটা হয়ে যায়। তিনি যদি পাসওয়ার্ড না জানেন, তাহলে ফোনটা তাঁরও পুরোপুরি নিজের নয়।
তারপর একটা কাজ করতে বলুন যেটা অনেকে বাদ দেন। ফোনটা সম্পূর্ণ মুছে দিয়ে নতুনের মতো চালু করতে বলুন, আপনার সামনে। যদি চালু হওয়ার সময় কোনো অ্যাপল আইডির পাসওয়ার্ড চায়, তাহলে ওটা লক করা আর আপনি বেঁচে গেলেন।
আর যদি চালু হওয়ার সময় ভাষা বাছার পর্দা এসে সোজা এগিয়ে যায়, কোনো পুরোনো আইডি না চেয়ে, তাহলে ফোনটা পরিষ্কার।
শুধু বন্ধ থাকা ফোন দেখে বা বিক্রেতার কথায় ভরসা করে কিনবেন না। এই পরীক্ষাটায় দুই মিনিট লাগে আর এটাই একমাত্র পরীক্ষা যেটা নিশ্চিত।
নিজের আইডিটা যাতে হাতছাড়া না হয়
এবার উল্টো দিকটা, কারণ বাংলায় সবচেয়ে বেশি খোঁজা হয় পাসওয়ার্ড ভুলে যাওয়া নিয়ে।
অ্যাপলে পাসওয়ার্ড ফেরানোর পথটা অন্য অনেক জায়গার চেয়ে কড়া, আর সেটার কারণ ওই লকটাই। যেহেতু আইডিটা যন্ত্রের উপর দাবি রাখে, তাই অ্যাপল সহজে কাউকে ওটার নিয়ন্ত্রণ দিয়ে দিতে পারে না।
তাই আগে থেকে তিনটে জিনিস ঠিক রাখা দরকার, আর এই তিনটেই পরে কাজে লাগে।
- একের বেশি বিশ্বস্ত নম্বর। একটার বেশি দেওয়া যায়, আর এখানে সিম বদলানো সাধারণ ব্যাপার বলে এটা বিশেষভাবে কাজে লাগে। পরিবারের কারও নম্বরও দেওয়া যায়।
- একটা উদ্ধারের মেইল ঠিকানা যেটা আপনার অ্যাপল আইডির ঠিকানা নয়। মানুষ এখানে ভুল করে একই ঠিকানা দিয়ে দেন, আর তাতে জিনিসটার কোনো মানে থাকে না।
- যন্ত্রের তালিকাটা মাঝে মাঝে দেখা। পুরোনো যে ফোনটা আপনি বিক্রি করে দিয়েছেন, সেটা তালিকায় থেকে গেলে সেটা যিনি কিনেছেন তাঁর সমস্যা, আর আপনার নিরাপত্তারও ফাঁক।
দুই ধাপের যাচাই নিয়ে একটা কথা। অ্যাপলে এটা এখন কার্যত বাধ্যতামূলক, আর এটার ভালো দিক হলো কোডটা আপনার নিজের অন্য যন্ত্রেই আসে, কোনো বার্তার উপর নির্ভর করে না। কিন্তু তার মানে হলো আপনার হাতে অন্তত একটা অ্যাপল যন্ত্র থাকতে হবে, নইলে বিশ্বস্ত নম্বরটাই একমাত্র ভরসা। এই কারণেই একের বেশি নম্বর দেওয়াটা এখানে বেশি জরুরি।
কেনা অ্যাপল আইডি নিয়ে যেটা আলাদা
এই সাইটে অ্যাপল আইডির ঘরে এই মুহূর্তে একশো একষট্টিটা তালিকা আছে আঠারোটা দোকান থেকে। তার মধ্যে পঁয়তাল্লিশটায় সঙ্গে একটা মেইল ঠিকানা দেওয়ার কথা লেখা আছে, আর একচল্লিশটায় দুই ধাপের যাচাইয়ের কথা।
একটা জিনিস এখানে অন্য সব ঘরের থেকে আলাদা, আর সেটা লক্ষ করার মতো। এই একশো একষট্টিটা তালিকার একটাতেও কোনো ফাইল বা কুকি বা টোকেনের কথা নেই। টেলিগ্রামের ঘরে ফাইল দেওয়া হয়, এক্সের ঘরে টোকেন, ফেসবুকের ঘরে কুকি। অ্যাপলের ঘরে শুধু সাধারণ লগইন, বসানোর মতো কিছু নেই।
আর এখানেই সবচেয়ে জরুরি সতর্কতাটা, যেটা ইংরেজি লেখাটায় নেই।
কেনা একটা অ্যাপল আইডি আপনার ফোনের প্রধান আইডি হিসেবে বসাবেন না। অ্যাপ নামানোর জন্য বা কোনো নির্দিষ্ট কাজের জন্য ওটা ব্যবহার করা এক জিনিস, আর ফোনটাকে ওই আইডির নামে নিবন্ধিত করে ফেলা সম্পূর্ণ অন্য জিনিস।
কারণটা এতক্ষণে পরিষ্কার। একবার ফোনটা ওই আইডির নামে বসে গেলে, ওই আইডিটা যদি কোনো দিন আগের মালিক ফিরিয়ে নেন, তাহলে আপনার নিজের ফোনটাই তালাবন্ধ হয়ে যেতে পারে। অন্য কোনো প্ল্যাটফর্মে একটা কেনা আইডি হারালে আপনি শুধু আইডিটা হারান। এখানে আপনি যন্ত্রটাও হারাতে পারেন।
তাই ক্রমটা এখানে অন্যরকম। প্রথমে ব্রাউজার থেকে বা এমন কোনো যন্ত্র থেকে ঢুকে দেখুন যেটা আপনার প্রধান ফোন নয়। পাসওয়ার্ড বদলান, নিজের নম্বর আর উদ্ধারের মেইল বসান, যন্ত্রের তালিকা থেকে অচেনা সব সরান। এসব হয়ে যাওয়ার পরে তবেই ভাববেন ওটা কোনো যন্ত্রে বসাবেন কি না।
আর এটা দেরি করার জিনিস নয়। এখানকার প্রতিটা তালিকা সঙ্গে সঙ্গে হাতে আসে, কিন্তু এই ঘরের একশো একষট্টিটার মধ্যে ছিয়াত্তরটায় সমস্যা জানানোর মেয়াদ আধা দিন, একষট্টিটায় প্রায় আধা ঘণ্টা, আর বারোটায় মাত্র কয়েক মিনিট।
আমেরিকার নম্বর বা ঠিকানার প্রশ্নটা
খোঁজার তালিকায় আরও দুটো জিনিস আছে, আইক্লাউডের জন্য আমেরিকার নম্বর আর মার্কিন ঠিকানা। এটার একটা আসল কারণ আছে, তাই এড়িয়ে যাওয়ার মানে হয় না।
কারণটা হলো অ্যাপ স্টোরে সব দেশে সব জিনিস থাকে না, আর কিছু অ্যাপ বা সেবা নির্দিষ্ট দেশের হিসাব ছাড়া পাওয়া যায় না।
এখানে যেটা বলার আছে সেটা হলো অ্যাপল আইডির দেশ বদলানো যায়, কিন্তু শর্ত আছে। আপনার হিসাবে কোনো টাকা জমা থাকলে দেশ বদলানো যায় না, আর চালু কোনো সদস্যপদ থাকলেও আটকায়। আর নতুন দেশে টাকা দেওয়ার একটা পথ লাগে, যেটা সাধারণত ওই দেশেরই।
এটাই মূল ফাঁদটা। একটা বিদেশি দেশের আইডি খুলে ফেলা সহজ, কিন্তু ওখানে টাকা দেওয়ার পথটা না থাকলে আইডিটা অর্ধেক অকেজো। তাই আইডি খোলার আগে ভেবে নিন ওখানে টাকা দেবেন কীভাবে, নইলে পরে আটকে যাবেন আর দেশও বদলাতে পারবেন না।


