প্রোফাইল, বায়ো আর বার্তা: রোজকার ঘরগুলো কোথায়
বাংলায় ইনস্টাগ্রাম নিয়ে সবচেয়ে বেশি খোঁজা হয় প্রোফাইল পিক আর বায়ো। দুটোরই ব্যবহারিক নিয়ম, সঙ্গে কম্পিউটার থেকে পোস্ট, বার্তার ঘর আর অ্যাপ বন্ধ হয়ে গেলে কী।
Sarah Johnsonবাংলায় ইনস্টাগ্রাম নিয়ে যা খোঁজা হয় তার সবচেয়ে বড় দুটো ভাগ প্রোফাইল ছবি আর বায়ো নিয়ে। দুটোতেই দশটার দশটা প্রশ্নই বাংলায় লেখা।
তাই ওই দুটো দিয়েই শুরু, তারপর বাকি রোজকার ঘরগুলো।
প্রোফাইল ছবি বদলানো, আর ঠিক ছবি বাছা
বদলানোর পথটা ছোট। প্রোফাইলে গিয়ে সম্পাদনার ঘরে ঢুকুন, বর্তমান ছবিটায় চাপ দিন, নতুন ছবি বাছুন, কেটে নিন, আর সংরক্ষণ করুন। কম্পিউটারের ব্রাউজারেও একই পথ।
বদলালে কারও কাছে কোনো খবর যায় না, তাই ইচ্ছেমতো বদলানো যায়।
বাছার নিয়মটা বেশি জরুরি, কারণ ছবিটা যেখানে দেখা যায় সেটা খুব ছোট একটা বৃত্ত। ভিড় করা ছবি ওখানে কাদা হয়ে যায়।
- মুখ থাকলে কাছ থেকে। পুরো শরীরের ছবি ছোট বৃত্তে কিছুই দেখায় না।
- পেছনটা সাদামাটা। দেয়াল, আকাশ বা এক রঙ। রাস্তা বা ভিড়ের ছবি কাজ করে না।
- দোকানের ক্ষেত্রে লোগো, তবে লেখা বড় করে। ছোট লেখাওয়ালা লোগো পড়া যায় না, তাই দরকার হলে শুধু প্রথম অক্ষরটা রাখুন।
- বর্গাকার ছবি। কারণ কাটার সময় কোণগুলো বাদ যায়।
একটা ব্যবহারিক পরীক্ষা: ছবিটা ফোনে রেখে হাত দূরে সরিয়ে দেখুন। ওখানে যা বোঝা যায় না, প্রোফাইলেও বোঝা যাবে না।
বায়ো: বাংলায় না ইংরেজিতে
বাংলায় বায়ো নিয়ে খোঁজার তালিকায় ভাষার প্রশ্নটা সরাসরি আছে, বাংলা আর ইংরেজি দুটোই।
উত্তরটা নির্ভর করে কাদের জন্য লিখছেন তার ওপর। যদি আপনার দর্শক বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ হন, বাংলায় লিখলে কথাটা পৌঁছায় বেশি। যদি বিদেশি ক্রেতা বা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজ করতে চান, ইংরেজি লাগবে।
দুটো একসঙ্গে করা যায়, আর সেটাই বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ভালো: প্রথম লাইনটা যে ভাষায় আপনার বেশিরভাগ দর্শক পড়েন, আর দ্বিতীয় লাইনে দরকারি তথ্যটুকু।
বায়ো নিয়ে যেটা প্রায় কেউ বলে না: ইনস্টাগ্রামের খোঁজার ঘরে বায়োর লেখা মেলানো হয় না, কিন্তু নামের ঘরটা মেলানো হয়। তাই আপনি কী করেন সেটা নামের ঘরে লিখলে কাজে দেয়, শুধু বায়োতে লিখলে ততটা নয়।
সাজানো অক্ষর নিয়ে একটা সতর্কতা। যেসব সাইট থেকে অদ্ভুত ধাঁচের অক্ষর কপি করে বসানো হয়, ওগুলো সব ফোনে ঠিকভাবে দেখায় না, আর কারও কারও ফোনে বাক্সের মতো চিহ্ন দেখায়। ব্যবসার একাউন্টে ওগুলো এড়ানোই ভালো।
কম্পিউটার থেকে পোস্ট করা
ইনস্টাগ্রামের ওয়েবসাইট থেকে পোস্ট দেওয়া যায়, আর যাঁরা কম্পিউটারে ছবি বা ভিডিও সম্পাদনা করেন তাঁদের জন্য এটা অনেক সময় বাঁচায়।
ব্রাউজারে ইনস্টাগ্রাম খুলে লগইন করুন, ওপরের যোগ চিহ্নে চাপ দিন, কম্পিউটার থেকে ফাইল বাছুন, কেটে নিয়ে ক্যাপশন লিখুন, আর প্রকাশ করুন। ছবি, একাধিক ছবির পোস্ট আর রিল, তিনটেই এভাবে যায়। বার্তাও পড়া আর পাঠানো যায়।
যেটা ওয়েবসাইট থেকে ভালো চলে না সেটা স্টোরি। ওটার জন্য ফোন বা মেটার ডেস্কটপ টুল লাগে, আর সেই ব্যবস্থাটার হিসাব আলাদা লেখায় আছে।
ডিএম মানে কী, আর ঘরটা কীভাবে চালাবেন
বাংলায় এই শব্দটা নিয়ে দুটো প্রশ্ন খোঁজা হয়: মানে কী, আর কীভাবে দেখব।
ডিএম মানে সরাসরি বার্তা, অর্থাৎ প্রকাশ্য মন্তব্যের বদলে ব্যক্তিগত বার্তা। ঘরটা ইনস্টাগ্রামের ওপরের ডান কোণে, কাগজের উড়োজাহাজের মতো চিহ্নটায়।
ভেতরে কয়েকটা জিনিস কাজের।
- বার্তার অনুরোধ। যাঁরা আপনাকে ফলো করেন না তাঁদের বার্তা আলাদা একটা ঘরে জমা হয়, মূল তালিকায় আসে না। অনেক দোকান এখানেই ক্রেতার বার্তা হারান, কারণ ওই ঘরটা খুলে দেখা হয় না।
- ইমোজিতে উত্তর। বার্তার ওপর দুবার চাপ দিলে বা চেপে ধরলে ইমোজি বসানো যায়। পুরো উত্তর না লিখেও বোঝানো যায় যে দেখা হয়েছে।
- না পড়া হিসেবে দাগ দেওয়া। তালিকায় কোনো কথোপকথনে চেপে ধরে এই ঘরটা বাছলে ওটায় আবার দাগ পড়ে। এটা নিজের কাজের তালিকা হিসেবে ভালো চলে।
শেষেরটার একটা সীমা আছে যা অনেকে জানেন না: আপনি একবার বার্তাটা খুলে ফেললে যিনি পাঠিয়েছেন তাঁর কাছে সেটা দেখা হয়েছে বলেই থাকবে। না পড়া হিসেবে দাগ দিলে শুধু আপনার নিজের তালিকা বদলায়, তাঁর দিকের চিহ্নটা বদলায় না।
কে দেখল, কে সংরক্ষণ করল, কে ভোট দিল
কোন তথ্য পাওয়া যায় আর কোনটা যায় না, সেটা এক জায়গায় থাকলে সুবিধা।
নতুন ফলোয়ার। তালিকার ক্রম এখন শুধু তারিখ ধরে নয়, আপনার সঙ্গে ওই মানুষটার সম্পর্কও ওতে ঢোকে। তাই তালিকার ওপরে যাঁরা আছেন তাঁরাই সবচেয়ে নতুন নন। কে কখন ফলো করলেন তা ঠিকভাবে বলে একমাত্র নোটিফিকেশনের ঘরটা।
সংরক্ষণ। কারা আপনার পোস্ট সংরক্ষণ করলেন সেটা কেউ জানতে পারেন না, আপনিও না। শুধু সংখ্যাটা দেখা যায়, পোস্টের ইনসাইটসে, আর সেটার জন্য একাউন্টটা পেশাদার হতে হবে। উল্টোটাও সত্যি, আপনি কী সংরক্ষণ করছেন তা কেউ দেখেন না।
ভোট। এখানে নিয়মটা উল্টো। স্টোরির ভোটে কে কোন দিকে ভোট দিলেন তা আপনি নাম ধরে দেখতে পান। নিজের স্টোরিটা খুললেই তালিকাটা আসে। ভোটদাতারা এটা জানেন না, তাই সংবেদনশীল প্রশ্ন করবেন না।
প্রোফাইল লক আর অ্যাপ বন্ধ হয়ে যাওয়া
প্রোফাইল লক করা মানে একাউন্টটা প্রাইভেট করা, আর সেটা সেটিংসের গোপনীয়তার ঘরে একটা সুইচ। প্রাইভেট করলে কী হয় আর কী হয় না, সেটা আলাদা লেখায় বিস্তারিত আছে।
অ্যাপ বারবার বন্ধ হয়ে গেলে ক্রমটা সহজ থেকে কঠিনের দিকে।
- আগে দেখুন সমস্যাটা সবার হচ্ছে কি না, কারণ ইনস্টাগ্রাম বসে গেলে অপেক্ষা ছাড়া কিছু করার নেই।
- অ্যাপটা বন্ধ করে আবার খুলুন, তারপর ফোন একবার বন্ধ করে চালু করুন।
- অ্যাপ হালনাগাদ করুন, কারণ পুরোনো সংস্করণে জানা সমস্যা থাকে।
- অ্যান্ড্রয়েডে ফোনের সেটিংস থেকে ইনস্টাগ্রামের ক্যাশ মুছে দিন।
- ফোনে জায়গা খালি করুন, কারণ জায়গা ফুরিয়ে গেলে অ্যাপ বন্ধ হওয়াটা খুব সাধারণ।
- শেষে অ্যাপটা মুছে আবার নামান।
শেষ ধাপটা নিয়ে ভয় পাওয়ার কিছু নেই। আপনার একাউন্ট আর সব ছবি ইনস্টাগ্রামের সার্ভারে থাকে, ফোনে নয়, তাই আবার লগইন করলেই সব ফিরে আসে। শুধু আগে দেখে নিন পাসওয়ার্ডটা আপনার কাছে আছে কি না।
Frequently Asked Questions
না, কোনো খবর যায় না, তাই ইচ্ছেমতো বদলানো যায়। পথটা প্রোফাইলের সম্পাদনার ঘরে, আর কম্পিউটারের ব্রাউজারেও একই। বর্গাকার আর পরিষ্কার ছবি বাছুন, কারণ ছবিটা ছোট বৃত্তে কাটা হয় আর ভিড় করা ছবি ওখানে কিছুই দেখায় না।
নির্ভর করে কারা পড়বেন তার ওপর। দেশের সাধারণ দর্শকের জন্য বাংলায় কথাটা বেশি পৌঁছায়, আর বিদেশি ক্রেতা বা প্রতিষ্ঠানের জন্য ইংরেজি লাগে। দুটো লাইনে দুটো ভাষা রাখা যায়। আর মনে রাখুন, খোঁজার ঘরে বায়ো মেলানো হয় না, নামের ঘরটা মেলানো হয়।
সরাসরি বার্তা, অর্থাৎ প্রকাশ্য মন্তব্যের বদলে ব্যক্তিগত বার্তা। ঘরটা ওপরের ডান কোণে কাগজের উড়োজাহাজের চিহ্নে। যাঁরা আপনাকে ফলো করেন না তাঁদের বার্তা আলাদা একটা অনুরোধের ঘরে জমা হয়, আর সেটা খুলে না দেখলে ক্রেতার বার্তা হারিয়ে যায়।
জানবেন। একবার খুলে ফেললে তাঁর কাছে সেটা দেখা হয়েছে বলেই থাকবে। না পড়া হিসেবে দাগ দিলে শুধু আপনার নিজের তালিকা বদলায়, তাঁর দিকের চিহ্নটা বদলায় না। নিজের কাজের তালিকা হিসেবে এটা কাজে লাগে।
না, নাম কেউ দেখতে পান না, আপনিও না। শুধু সংখ্যাটা দেখা যায় পোস্টের ইনসাইটসে, আর তার জন্য একাউন্টটা পেশাদার হতে হবে। স্টোরির ভোটে অবশ্য উল্টো, ওখানে কে কোন দিকে ভোট দিলেন তা নাম ধরে দেখা যায়।
সহজ থেকে কঠিনের দিকে যান: অ্যাপ বন্ধ করে খুলুন, ফোন রিস্টার্ট করুন, অ্যাপ হালনাগাদ করুন, অ্যান্ড্রয়েডে ক্যাশ মুছুন, ফোনে জায়গা খালি করুন, শেষে মুছে আবার নামান। শেষ ধাপে ভয়ের কিছু নেই, একাউন্ট সার্ভারে থাকে, তবে পাসওয়ার্ডটা হাতে আছে কি না দেখে নিন।

Sarah Johnson
ডিজিটাল মার্কেটিং বিশেষজ্ঞ, সামাজিক মাধ্যম কৌশলে ১০+ বছরের অভিজ্ঞতা। কার্যকরী মার্কেটিং কৌশলের মাধ্যমে ব্যবসার অনলাইন উপস্থিতি বাড়াতে সাহায্য করতে আগ্রহী।


