ইনস্টাগ্রাম ডিলিট, ডিএক্টিভেট আর প্রাইভেট: কোনটা কী করে
বাংলায় এই বিষয়ে সবচেয়ে বেশি খোঁজা হয় মুছে ফেলার উপায়, আর ইংরেজিতে খোঁজা হয় অন্যের প্রাইভেট একাউন্ট দেখার উপায়। দুটোরই সোজা উত্তর।
Sarah Johnsonএই বিষয়ে বাংলায় যা খোঁজা হয় তার একটা স্পষ্ট চেহারা আছে। বাংলা অক্ষরে লেখা প্রশ্নগুলোর বেশিরভাগই একটা জিনিস নিয়ে, একাউন্টটা কীভাবে মুছে ফেলা যায়। আর ইংরেজিতে লেখা প্রশ্নগুলোর বেশিরভাগ একটাই জিনিস নিয়ে, অন্যের প্রাইভেট একাউন্ট কীভাবে দেখা যায়।
দুটোই এখানে আছে, আর দুটোরই সোজা উত্তর দেওয়া হয়েছে। সেটিংসের ঘরগুলো তার পরে।
ডিলিট আর ডিএক্টিভেট: ফারাকটা ফেরার পথে
এই দুটো এক করে ফেলাটাই সবচেয়ে ব্যয়বহুল ভুল, কারণ একটা ফিরিয়ে আনা যায় আর অন্যটা যায় না।
ডিএক্টিভেট মানে সাময়িকভাবে লুকিয়ে ফেলা। আপনার প্রোফাইল, ছবি, মন্তব্য, লাইক, সব অদৃশ্য হয়ে যায়, কেউ খুঁজে পান না। কিন্তু কিছুই মোছে না। যেদিন আবার ঢুকবেন, সব ফিরে আসবে, ফলোয়ারসহ। এটা যতবার খুশি করা যায়, তবে ইনস্টাগ্রাম সপ্তাহে একবারের বেশি করতে দেয় না।
ডিলিট মানে চিরতরে। এখানে একটা অপেক্ষার সময় থাকে, ওই সময়ের মধ্যে ঢুকলে সিদ্ধান্তটা বাতিল হয়ে যায়। কিন্তু সময়টা পেরিয়ে গেলে ছবি, ভিডিও, মন্তব্য, ফলোয়ার, সব চলে যায়, আর ফেরানোর কোনো উপায় নেই। ব্যবহারকারীর নামটাও হারাতে পারেন।
বাস্তব পরামর্শটা সহজ। আপনি যদি বিরক্ত হয়ে বা ক্লান্ত হয়ে সরে যেতে চান, ডিএক্টিভেট করুন। ডিলিটটা তখনই, যখন আপনি নিশ্চিত যে ওই নামটা বা ওই ছবিগুলো আপনার আর কখনো লাগবে না।
আর একটা কথা। দুটোর কোনোটাই অ্যাপের ভেতর থেকে সবসময় পাওয়া যায় না। ইনস্টাগ্রাম এই ঘরগুলো ব্রাউজারের দিকে রাখে, তাই অ্যাপে খুঁজে না পেলে সেটা আপনার দোষ নয়।
অন্যের প্রাইভেট একাউন্ট দেখার সরঞ্জামগুলো
ইংরেজিতে এই বিষয়ে যত খোঁজা হয় তার অর্ধেকেরও বেশি এই একটা জিনিস নিয়ে, তাই সোজাসুজি বলা দরকার।
কাজ করে না। একটাও না।
কারণটা কারিগরি আর সরল। কোনো একাউন্ট প্রাইভেট হলে ইনস্টাগ্রামের সার্ভার ওই ছবিগুলো অননুমোদিত কাউকে পাঠায়ই না। বাইরের কোনো সাইট বা অ্যাপের কাছে ওগুলো নেই, আর নেওয়ার কোনো পথও নেই। যেটা নেই সেটা দেখানো যায় না।
তাহলে ওই সাইটগুলো কী করে। সাধারণত তিনটের একটা।
- আপনাকে দিয়ে অনেকগুলো সমীক্ষা বা বিজ্ঞাপন দেখায়, তারপর কিছুই দেখায় না।
- আপনার নিজের ইনস্টাগ্রামের নাম আর পাসওয়ার্ড চায়, আর তারপর সেটা আপনার আর থাকে না।
- এলোমেলো কোনো প্রকাশ্য প্রোফাইলের ছবি দেখিয়ে দেয়, যেটা আপনি যাঁকে খুঁজছেন তাঁর নয়।
একটা পথই সত্যিকারের কাজ করে, আর সেটা হলো অনুরোধ পাঠানো। বাকি সবটুকু হয় সময়ের অপচয়, নয়তো আপনার নিজের একাউন্ট হারানোর একটা উপায়।
প্রাইভেট করলে যা হয়, আর যা হয় না
নিজের একাউন্ট প্রাইভেট করা কাজে দেয়, কিন্তু এর সীমা আছে আর সেটা জানা দরকার।
যা হয়: নতুন কেউ আপনার পোস্ট, রিল বা স্টোরি দেখতে পান না, অনুরোধ পাঠিয়ে অনুমতি নিতে হয়। আপনার পোস্ট ট্যাগের পাতায় বা এক্সপ্লোরে যায় না।
যা হয় না: যাঁরা ইতিমধ্যেই আপনাকে ফলো করেন, তাঁরা সবাই আগের মতোই সব দেখতে পান। প্রাইভেট করা মানে সবাইকে সরিয়ে দেওয়া নয়। যাঁদের দেখাতে চান না, তাঁদের আলাদা করে সরাতে হবে।
আর আপনার নাম, ছবি আর পরিচয়ের লাইনটা প্রাইভেট অবস্থাতেও সবাই দেখেন। ওই তিনটে কখনো লুকোয় না।
একটা বাড়তি কথা। যাঁরা ইতিমধ্যেই আপনার ছবি নিজেদের কাছে রেখে দিয়েছেন, প্রাইভেট করলে ওগুলো ফেরত আসে না। প্রাইভেট ভবিষ্যৎ আটকায়, অতীত নয়।
সেটিংসের যে ঘরগুলো সত্যিই কাজে লাগে
এগুলো নিয়ে বাংলায় প্রায় কেউ খোঁজেন না, কিন্তু এগুলোই আসলে দৈনন্দিন সমস্যাগুলো মেটায়।
- সবুজ বিন্দুটা বন্ধ করা। নামের পাশের ওই বিন্দু সবাইকে বলে দেয় আপনি এখন অনলাইনে, আর তাতেই বার্তা আসতে থাকে। এটা বন্ধ করলে কারও কাছে কোনো খবর যায় না, তবে বিনিময়ে আপনিও আর কারও অবস্থা দেখতে পাবেন না।
- ফলোয়ারের তালিকা লুকোনো। প্রকাশ্য একাউন্টেও এটা করা যায়, আর যাঁরা ব্যবসার কাজে ব্যবহার করেন তাঁদের জন্য এটা কাজের।
- মিউট করা। কাউকে আনফলো না করে তাঁর পোস্ট বা স্টোরি দেখা বন্ধ করা যায়, আর তিনি কিছুই টের পান না। পরিবারের ক্ষেত্রে এটাই সবচেয়ে ব্যবহারিক সমাধান।
- মন্তব্য বন্ধ করা। একটা নির্দিষ্ট পোস্টে বন্ধ করা যায়, আবার গোটা একাউন্টে কিছু শব্দ আগে থেকেই আটকে দেওয়া যায়। দ্বিতীয়টা বেশি কাজে দেয়, কারণ তখন প্রতিটা পোস্টে আলাদা করে ভাবতে হয় না।
- খোঁজার ঘরের ইতিহাস মোছা। ওই তালিকাটা আপনার ফোনে নয়, ইনস্টাগ্রামের কাছে থাকে, তাই ফোন বদলালেও থেকে যায়।
এর একটাও কাউকে কোনো খবর পাঠায় না। ইনস্টাগ্রাম এই ধরনের কোনো বদলের কথা কাউকে জানায় না।
ইনস্টাগ্রাম যা কখনো বলে না
কিছু প্রশ্নের উত্তর সেটিংসে খুঁজে লাভ নেই, কারণ উত্তরটা কোথাও নেই।
- কে আপনার প্রোফাইল দেখেছেন, এই তথ্য ব্যক্তিগত একাউন্টের জন্য ইনস্টাগ্রাম কোথাও দেয় না। যে অ্যাপ এটা দেখানোর দাবি করে সেটা অনুমান করছে বা বানাচ্ছে।
- কে আপনাকে ব্লক করেছেন, এটাও কোথাও লেখা থাকে না। প্রোফাইল খুঁজে না পাওয়া মানে ব্লক হতে পারে, আবার একাউন্টটা ডিএক্টিভেট বা ডিলিট হওয়াও হতে পারে। এই দুটোর ফারাক বাইরে থেকে বোঝার উপায় নেই।
- কে আপনাকে রেস্ট্রিক্ট করেছেন, এটার কোনো চিহ্নই নেই, আর ব্যবস্থাটা ইচ্ছে করেই এভাবে বানানো।
স্টোরির ক্ষেত্রে অবশ্য উল্টোটা সত্যি। কে দেখেছেন সেটা আপনি জানতে পারেন, আর সেই তালিকাটা চব্বিশ ঘণ্টা পরেও কিছুদিন থাকে। অর্থাৎ স্টোরি দেখলে দাগ থেকে যায়, প্রোফাইল দেখলে থাকে না।


