ইনফ্লুয়েন্সার মানে কী, আর হতে গেলে কী কী লাগে
বাংলায় এই শব্দটা নিয়ে যা খোঁজা হয় তার প্রায় সবটাই মানে জানার জন্য। মানেটা, আকারের স্তরগুলো, আর কাজটা আসলে কী রকম, সোজা ভাষায়।
Sarah Johnsonবাংলায় ইনফ্লুয়েন্সার শব্দটা নিয়ে যা খোঁজা হয় তার বেশিরভাগ একটাই জিনিস চায়: মানেটা কী। কেউ কেউ নির্দিষ্ট মানুষের নাম খোঁজেন, আর একটা প্রশ্ন তো সরাসরি পরীক্ষার খাতার ভাষায়।
কীভাবে ইনফ্লুয়েন্সার হব, এই প্রশ্নটা বাংলা অক্ষরে কেউ লেখেন না। তাই এই লেখাটা মানে দিয়ে শুরু করছে, উপদেশ দিয়ে নয়।
শব্দটার মানে, আর যেটা এটা নয়
ইনফ্লুয়েন্সার মানে এমন একজন, যাঁর কথায় একদল মানুষ কিছু একটা করেন। কেনেন, দেখেন, যান, বা মত বদলান।
মূল শব্দটা প্রভাব, জনপ্রিয়তা নয়। একজন অভিনেতাকে দশ লাখ মানুষ চেনেন, কিন্তু তিনি একটা সাবানের কথা বললে কতজন সেটা কেনেন, সেটা আলাদা প্রশ্ন। আর একজন যিনি চুলের যত্ন নিয়ে তিন বছর ধরে লিখছেন, তাঁর পাঁচ হাজার পাঠকের একটা বড় অংশ তাঁর কথায় জিনিস কেনেন।
প্রতিষ্ঠানগুলো দ্বিতীয়জনকে টাকা দেয়, আর সেটাই ইনফ্লুয়েন্সার মার্কেটিং: বিজ্ঞাপন না দিয়ে এমন কারও মুখ দিয়ে বলানো যাঁকে মানুষ ইতিমধ্যে বিশ্বাস করেন।
এটা যা নয় সেটাও বলা দরকার। এটা কোনো পদ নয় যেটা কেউ দেয়, কোনো ব্যাজ নেই, আর কোনো সংখ্যা পেরোলে কেউ ঘোষণা করে না।
আকারের স্তরগুলো, আর ছোটরা কেন কাজ পান
বাজারে যাঁরা কাজ দেন তাঁরা মোটামুটি চারটে ভাগে ভাবেন, আর ভাগগুলো শুধু আকারের নয়, কাজের ধরনেরও।
- খুব ছোট, কয়েক হাজার পর্যন্ত। এঁদের দর্শকের সঙ্গে সম্পর্ক সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ। স্থানীয় দোকান আর ছোট ব্র্যান্ড এঁদের সঙ্গেই কাজ করে, প্রায়ই টাকার বদলে পণ্য দিয়ে।
- ছোট, কয়েক হাজার থেকে লাখের নিচে। এখানেই সবচেয়ে বেশি সত্যিকারের কাজ হয়, কারণ খরচ কম আর সাড়া এখনো ভালো।
- মাঝারি, লাখের ঘরে। এখানে কাজটা পেশা হয়ে ওঠে, আর চুক্তি আর সময়সীমা আসে।
- বড়, কয়েক লাখের ওপরে। এখানে কাজ আসে এজেন্সির মাধ্যমে, আর ব্যক্তিগত সম্পর্কের ভূমিকা কমে যায়।
সংখ্যাগুলো কোনো নিয়ম নয়, বাজারের চলতি ভাষা মাত্র। যেটা নিয়ম, সেটা হলো নিচের দুটো স্তরে সাড়ার হার সবচেয়ে ভালো থাকে, আর সেই কারণেই ছোট একাউন্টও কাজ পায়।
বিষয় বাছাটাই সবচেয়ে বড় সিদ্ধান্ত
যাঁরা থেমে যান তাঁদের বেশিরভাগের সমস্যা মানের নয়, বিষয়ের। প্রোফাইলে সব আছে, তাই কেউ বুঝতে পারেন না ফলো করলে কী পাবেন।
বিষয় বাছার একটা সহজ পরীক্ষা আছে। এক বাক্যে লিখুন: আমি ওই মানুষদের জন্য যাঁরা এই সমস্যাটায় আছেন। বাক্যটা লিখতে না পারলে বিষয়টা এখনো ঠিক হয়নি।
দ্বিতীয় পরীক্ষাটা আরও নির্মম: আপনি কি এই বিষয়ে একশোটা পোস্টের তালিকা এখনই বানাতে পারবেন। না পারলে তিন মাসেই ফুরিয়ে যাবে।
বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে একটা বাড়তি সুবিধা আছে। স্থানীয় বিষয়ে প্রতিযোগিতা অনেক কম। ঢাকার কোন এলাকায় কী পাওয়া যায়, দেশের কোথায় কী দামে, স্থানীয় রান্না, স্থানীয় ভ্রমণ, এসবে বাংলায় ভালো পাতা কম।
কত সময় লাগে
এখানে সৎ থাকা দরকার, কারণ এই একটা জায়গাতেই বেশিরভাগ মানুষ হাল ছাড়েন।
প্রথম কয়েক মাসে প্রায় কিছুই হয় না। এটা ব্যর্থতা নয়, এটাই স্বাভাবিক। ইনস্টাগ্রাম নতুন একাউন্টকে চেনে না, আর চেনার একমাত্র উপায় হলো কয়েক ডজন পোস্ট দেখে বোঝা আপনি কী নিয়ে কাজ করেন।
যেটা বদলায় সেটা হঠাৎ। একটা রিল হঠাৎ অনেক মানুষের কাছে যায়, আর তার আগে ষাটটা রিল কিছুই করেনি। যাঁরা ষাটটার জায়গায় দশটা বানিয়ে থেমে গেছেন, তাঁরা কোনোদিন জানতেই পারেননি ওই একষট্টি নম্বরটা কী করত।
তাই সময়ের হিসাবটা মাস দিয়ে নয়, সংখ্যা দিয়ে করুন। একশোটা পোস্ট বা একশোটা রিল বানানোর পর যদি কিছুই না হয়, তখন বিষয় বদলানোর কথা ভাবুন। তার আগে নয়।
যে ভুলগুলো সবচেয়ে বেশি হয়
- সবার মতো হওয়ার চেষ্টা। যাঁরা চলছেন তাঁদের নকল করলে দর্শক আসল জিনিসটাই দেখেন, নকলটা নয়।
- বিষয় বারবার বদলানো। এটা সবচেয়ে নীরব ক্ষতিটা করে, কারণ যাঁরা এক কারণে ফলো করেছিলেন তাঁরা চুপ হয়ে যান।
- সংখ্যা কিনে নেওয়া। কাজ দেওয়ার আগে প্রথমেই যেটা দেখা হয় সেটা সংখ্যা আর সাড়ার সম্পর্ক, আর ওখানেই ধরা পড়ে যায়।
- মুখ না দেখানো। ইনফ্লুয়েন্সারের কাজটা বিশ্বাসের, আর বিশ্বাস মুখ দেখলে দ্রুত তৈরি হয়। যাঁরা পারেন না তাঁদের জন্য কণ্ঠ পরের সেরা পথ।
- শুধু ইনস্টাগ্রামে থাকা। একটা একাউন্ট হারালে সব শেষ। যাঁরা দীর্ঘদিন টেকেন তাঁদের প্রায় সবার আরও একটা জায়গা থাকে।
কাজ আসতে শুরু করলে
প্রথম প্রস্তাবটা প্রায় সবসময় ছোট আর প্রায়ই টাকার বদলে পণ্য। এটা নেওয়া যায়, তবে একটা শর্তে: জিনিসটা আপনি নিজে ব্যবহার করবেন।
কারণটা হিসাবের। আপনার একমাত্র সম্পদ হলো দর্শকের বিশ্বাস, আর একটা খারাপ পণ্যের সুপারিশ ওই সম্পদটার একটা অংশ চিরতরে খরচ করে ফেলে। ওই বিশ্বাস আবার গড়তে যা সময় লাগে, তার তুলনায় একটা কাজের টাকা কিছুই নয়।
প্রস্তাব আসার পর কীভাবে দর কষবেন, কী কী লিখিত থাকা দরকার আর টাকাটা কীভাবে আসবে, সেসব আলাদা লেখায় আছে। আয়ের কোন পথগুলো বাংলাদেশ থেকে খোলা তা এই লেখায়।



