হটমেইল, আউটলুক আর লাইভ: একই ইনবক্সের তিনটে নাম
বাংলায় সবচেয়ে বেশি খোঁজা হয় হটমেইল কি আর হটমেইল জিমেইল। উত্তরটা দিয়ে শুরু করলে আটকে যাওয়ার সমস্যাটাও সহজ হয়ে যায়।
Avery Bennettবাংলায় হটমেইল লিখে খুঁজলে দ্বিতীয় যে প্রশ্নটা আসে সেটা হলো হটমেইল কি। আর পঞ্চম প্রশ্নটা হলো হটমেইল জিমেইল।
আউটলুক লিখলেও একই ধরন, ওখানে আসে আউটলুক মানে কি।
অর্থাৎ এখানে মানুষ প্রথমে জানতে চান জিনিসটা আসলে কী। তাই সেটা দিয়েই শুরু, কারণ ওই উত্তরটা পেলে আটকে যাওয়ার সমস্যাটাও অনেক সহজ হয়ে যায়।
তিনটে নাম, একটাই জিনিস
হটমেইল, আউটলুক আর লাইভ, এই তিনটে আলাদা কোনো সেবা নয়। তিনটেই মাইক্রোসফটের একই ব্যবস্থা, শুধু নামটা সময়ের সঙ্গে বদলেছে।
হটমেইল ছিল পুরোনো নাম, অনেক আগের। মাঝখানে কিছুদিন লাইভ নামে চলেছে। আর এখন নামটা আউটলুক।
এর ব্যবহারিক ফল দুটো, আর দুটোই কাজে লাগে।
প্রথমত, আপনার ঠিকানার শেষে যা লেখাই থাকুক, ঢোকার জায়গা একটাই। পুরোনো হটমেইল ঠিকানার মানুষ অনেক সময় হটমেইলের আলাদা কোনো লগইন পাতা খুঁজতে থাকেন। ওরকম কিছু নেই। আউটলুকের পাতাতেই পুরোনো ঠিকানা দিয়ে ঢোকা যায়।
দ্বিতীয়ত, পাসওয়ার্ড ফেরানো, নিরাপত্তা, সব নিয়ম তিনটের জন্যই এক। তাই কোথাও আউটলুকের জন্য কোনো সমাধান পড়লে সেটা আপনার পুরোনো হটমেইল ঠিকানার জন্যও খাটবে।
আর একটা কথা। আপনার পুরোনো হটমেইল ঠিকানাটা এখনো কাজ করে, ওটা বদলে ফেলার দরকার নেই। মাইক্রোসফট নাম বদলেছে, আপনার ঠিকানা নয়।
জিমেইলের সঙ্গে ফারাকটা কোথায়
এই তুলনাটা বাংলায় সরাসরি খোঁজা হয়, তাই সোজা করে বলা যাক।
দৈনন্দিন কাজে দুটোর মধ্যে বড় কোনো ফারাক নেই। বার্তা আসে, বার্তা যায়, দুটোই বিনামূল্যে, দুটোই ফোনে আর কম্পিউটারে চলে।
ফারাকটা বাইরের দিকে, ভেতরের দিকে নয়। একটা মেইল ঠিকানা আসলে অন্য অনেক কিছুর চাবি, আর দুটো চাবি দুটো আলাদা দরজা খোলে।
গুগলের ঠিকানাটা আপনাকে দেয় ফোনের অ্যাপের দোকান, ভিডিওর হিসাব, আর অন্যান্য গুগলের সেবা। মাইক্রোসফটেরটা দেয় অফিসের কাজের সরঞ্জাম, আর কিছু গেমিং সংক্রান্ত জিনিস।
বাংলাদেশে বেশিরভাগ মানুষের ফোন অ্যান্ড্রয়েড, আর সেটার জন্য গুগলের ঠিকানাটা এমনিতেই লাগে। তাই এখানে মাইক্রোসফটের ঠিকানাটা সাধারণত দ্বিতীয় ঠিকানা হিসেবে ব্যবহার হয়।
আর সেটাই আসলে এর সবচেয়ে ভালো ব্যবহার। মূল ঠিকানাটার উদ্ধারের ঠিকানা হিসেবে একটা আলাদা ব্যবস্থার ঠিকানা রাখা বুদ্ধিমানের কাজ, কারণ একটা ব্যবস্থায় আটকে গেলে অন্যটা তখনো আপনার হাতে থাকে। দুটো গুগলের ঠিকানা একে অপরের উদ্ধারের ঠিকানা হলে সেই সুবিধাটা পাওয়া যায় না।
চুপ করে থাকা ইনবক্স হঠাৎ যাচাই চায় কেন
একটা ইনবক্স কয়েক সপ্তাহ পড়ে ছিল, তারপর হঠাৎ একদিন ঢুকতে গেলেন, আর ইনবক্সের বদলে এলো একটা পর্দা যেটা প্রমাণ চাইছে।
এখানে কিছু নষ্ট হয়নি আর আইডি বন্ধও হয়নি। এটা একটা সাময়িক থামানো, আর যাচাইটা করলেই ওটা সরে যায়।
কারণটা হলো তুলনা। মাইক্রোসফটের ব্যবস্থা দেখে আপনি সাধারণত কোথা থেকে আর কোন যন্ত্র থেকে ঢোকেন। ইনবক্সটা অনেকদিন চুপ থাকলে তুলনা করার মতো সাম্প্রতিক কিছু থাকে না, আর তখন একটা নতুন জায়গা বা নতুন যন্ত্র থেকে ঢোকা বেশি আলাদা লাগে।
এই কারণেই দুটো জিনিস একসঙ্গে ঘটলে সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি। ইনবক্সটা অনেকদিন ব্যবহার হয়নি, আর ঢোকা হচ্ছে এমন জায়গা থেকে যেখান থেকে আগে হয়নি।
কেনা ইনবক্সের ক্ষেত্রে এই দুটোই একসঙ্গে ঘটে, প্রায় সবসময়। তাই প্রথম ঢোকার সময় যাচাই চাওয়াটা অস্বাভাবিক নয়, বরং এটাই স্বাভাবিক, আর এটাকে সমস্যা ভাবার দরকার নেই।
নম্বর দিয়ে খোলা, আর নম্বরটা কি জুড়ে যায়
পর্দাটা সাধারণত একটা ফোন নম্বর চায়, তারপর সেই নম্বরে একটা ছোট কোড পাঠায়। কোডটা বসালে ওই বসাতেই তালাটা সরে যায়।
এখানে সবচেয়ে বেশি যে প্রশ্নটা আসে, আর যেটার উত্তর জানা দরকার, সেটা হলো এই নম্বরটা কি এখন থেকে ইনবক্সের সঙ্গে জুড়ে গেল।
না, যায়নি। এই নম্বরটা ওই মুহূর্তের যাচাইয়ের জন্য, অর্থাৎ পেছনে একজন সত্যিকারের মানুষ আছেন কি না সেটা নিশ্চিত করার জন্য। ওটা উদ্ধারের পদ্ধতি হিসেবে যোগ হয়ে যায় না, যদি না আপনি আলাদাভাবে গিয়ে সেটা যোগ করেন।
এটা জানা দরকার দুই দিক থেকেই। যিনি নিজের নম্বর দিতে দ্বিধা করছেন, তিনি নিশ্চিন্তে দিতে পারেন। আর যিনি ভাবছেন এটা দিয়ে দিলেই ইনবক্সটা সুরক্ষিত হয়ে গেল, তিনি ভুল ভাবছেন, ওটা আলাদা কাজ।
কোড না এলে এক মিনিট অপেক্ষা করে আবার চান, আর দেখে নিন নম্বরটা দেশের কোড সহ ঠিকভাবে বসেছে কি না। এখানে সবচেয়ে সাধারণ ভুল হলো শুরুর শূন্যটা রেখে দেওয়া।
সাত দিনের পর্দাটা, আর যেটা এড়াবেন না
তালা খোলার পরপরই আরেকটা পর্দা আসে, যেখানে বলা হয় সাত দিনের মধ্যে একটা উদ্ধারের ঠিকানা যোগ করতে।
উদ্ধারের ঠিকানা মানে এমন একটা দ্বিতীয় মেইল ঠিকানা, যেখানে ভবিষ্যতে আপনি আটকে গেলে ফেরার লিংক পাঠানো হবে। এটা কোনো বিজ্ঞপ্তির ঠিকানা নয়।
এটা করবেন কি না সেটা নির্ভর করে আপনি ইনবক্সটা কতদিন রাখবেন তার উপর। যদি অনেকদিন ব্যবহার করবেন, তাহলে এখনই করে নিন যখন পর্দাটা সামনে আছে, কারণ পরে মনে থাকে না। আর যদি একটা মাত্র কাজের জন্য হয়, তাহলে এড়িয়ে যাওয়া যায়, পর্দাটা পরে আবার আসবে।
এর পরে আরও কয়েকটা পর্দা আসে যেগুলো এড়ানো যায়। কিন্তু একটা আছে যেটা মন দিয়ে পড়া দরকার, আর সেটা হলো ঢুকে থাকব কি না, এই প্রশ্নটা।
কম্পিউটারটা যদি আপনার নিজের না হয়, অর্থাৎ সাইবার ক্যাফে, অফিস বা কারও বাড়ির কম্পিউটার হয়, তাহলে ওখানে না বলুন। হ্যাঁ বললে ওই কম্পিউটারে আপনার ইনবক্স খোলা থেকে যায়, আর পরের যিনি বসবেন তিনি সেটা পাবেন।
বাস্তবে এই একটা পর্দাই মাইক্রোসফটের বাকি সব পরীক্ষার চেয়ে বেশি ইনবক্স হারানোর কারণ হয়। কারণ বাকি পরীক্ষাগুলো বাইরের লোককে আটকায়, আর এটা আপনি নিজেই দরজা খুলে রেখে আসেন।
আবার যাতে না আটকায়
কয়েকটা সহজ অভ্যাস, আর প্রতিটার পেছনে উপরের কোনো না কোনো কারণ আছে।
ইনবক্সটা একেবারে ফেলে রাখবেন না। মাসে অন্তত একবার ঢুকে দেখলে ব্যবস্থাটার কাছে সাম্প্রতিক একটা ইতিহাস থাকে, আর তখন পরেরবার ঢোকা কম আলাদা লাগে।
প্রথম কয়েকটা সেশনে জায়গা বদলাবেন না। বিশেষ করে নতুন হাতে পাওয়া ইনবক্সে, একই সংযোগ থেকে কয়েকবার ঢুকে নিলে একটা ধারা তৈরি হয়।
আর একের বেশি ইনবক্স চালালে প্রতিটার জন্য আলাদা ব্রাউজার প্রোফাইল রাখুন। একই প্রোফাইলে পালা করে ঢুকলে সেগুলো একে অপরের সঙ্গে জুড়ে যায়।
কেনা ইনবক্সে কী আলাদা
এই সাইটে হটমেইলের ঘরে ছয়শো ছিয়াশিটা তালিকা আছে চুয়াল্লিশটা দোকান থেকে, আর আউটলুকের ঘরে দুইশো আটাশিটা তালিকা একচল্লিশটা দোকান থেকে। দুটো মিলে নয়শোর বেশি।
একটা জিনিস এই ঘরটাকে আলাদা করে, আর সেটা জেনে রাখা ভালো। এখানে কার্যত কোনো ফাইল বা কুকির কারবার নেই। টেলিগ্রামের ঘরে ফাইল দেওয়া হয়, ফেসবুকের ঘরে কুকি, এক্সের ঘরে টোকেন। এখানে বেশিরভাগই সাধারণ ঠিকানা আর পাসওয়ার্ড, বসানোর মতো কিছু নেই।
এর মানে হাতে পাওয়ার পরে কাজটা সরল, কিন্তু দ্রুত করতে হয়। ঢুকুন, যাচাইয়ের পর্দা এলে সেটা সেরে ফেলুন, পাসওয়ার্ড বদলান, আর নিজের একটা উদ্ধারের ঠিকানা যোগ করুন।
সময়ের ব্যাপারটা এখানে কড়া। এখানকার প্রতিটা তালিকা সঙ্গে সঙ্গে হাতে আসে, কিন্তু হটমেইলের ঘরে ছয়শো ছিয়াশিটার মধ্যে পাঁচশো এগারোটায় সমস্যা জানানোর মেয়াদ আধা দিন, আর আউটলুকের ঘরে দুইশো আটাশিটার মধ্যে ছেচল্লিশটায় সেটা মাত্র কয়েক মিনিট।
তাই প্রথম কাজটা সুরক্ষা বসানো নয়, প্রথম কাজ হলো ঢুকে দেখা যে ঠিকানাটা সত্যিই খোলে। যাচাইয়ের পর্দা এলে সেটাও ওই মেয়াদের ভেতরেই সেরে ফেলা দরকার, কারণ পর্দাটা পেরোতে না পারলে সেটাও জানানোর মতো একটা বিষয়।


