টেলিগ্রাম এড মানে কাউকে যোগ করা নয়
বাংলায় টেলিগ্রাম এড লিখলে যা আসে তার মধ্যে আছে এড শিরান, আর আছে এড করে কিভাবে। বিজ্ঞাপনের ব্যাপারটা এর কোনোটাই নয়।
Sarah Johnsonবাংলায় টেলিগ্রাম এড লিখে খুঁজলে যা আসে, সেটা একটু অদ্ভুত। একজন গায়ক, একটা কার্টুন, আর তার মাঝে দুটো বাংলা প্রশ্ন, টেলিগ্রাম এড করে কিভাবে।
কারণটা ভাষার। বাংলায় এড বলতে আমরা বোঝাই কাউকে যোগ করা। আর বিজ্ঞাপনের ইংরেজি শব্দটাও উচ্চারণে প্রায় একই শোনায়।
তাই শুরুতেই বলে রাখি, এই লেখাটা কাউকে গ্রুপে যোগ করা নিয়ে নয়। এটা চ্যানেলে বিজ্ঞাপন আর তা থেকে আয়ের ব্যাপারটা নিয়ে।
দুটো আলাদা জিনিস, আর এটা গুলিয়ে যায়
টেলিগ্রামের বিজ্ঞাপনের ব্যাপারটার দুটো দিক আছে, আর দুটোর শর্ত আলাদা।
এক দিক হলো বিজ্ঞাপন দেওয়া। আপনি টাকা দিয়ে অন্যের চ্যানেলে নিজের কিছু দেখাতে চান। এখানে আপনার নিজের চ্যানেল থাকার দরকারই নেই, দরকার টাকা দেওয়ার একটা পথ।
অন্য দিক হলো বিজ্ঞাপন থেকে আয় করা। আপনার একটা চ্যানেল আছে, টেলিগ্রাম সেখানে বিজ্ঞাপন দেখায়, আর তার একটা অংশ আপনি পান।
মানুষ যখন বলেন আবেদন নাকচ হয়েছে, তাঁরা সাধারণত দ্বিতীয়টার কথা বলেন। আর এই দ্বিতীয়টার শর্ত অনেক বেশি কড়া, কারণ এখানে টেলিগ্রাম আপনাকে টাকা দেবে, নেবে না।
ন্যূনতম যেগুলো না থাকলে হবেই না
টেলিগ্রাম তাদের পুরো তালিকাটা প্রকাশ করে না, তাই এখানে যা বলা হচ্ছে তা হলো যেগুলো নিয়ে সন্দেহ নেই।
চ্যানেলটা প্রকাশ্য হতে হবে। প্রাইভেট চ্যানেল, অর্থাৎ যেটাতে শুধু লিংক দিয়ে ঢোকা যায়, সেটা এখানে চলে না। কারণ বিজ্ঞাপন দেখানো হয় এমন জায়গায় যেখানে যে কেউ যেতে পারেন।
চ্যানেলটার একটা অতীত থাকতে হবে। কাল খোলা একটা চ্যানেলে বিচার করার মতো কিছুই নেই। কত দিন লাগবে সেটা কোথাও লেখা নেই, তাই কোনো সংখ্যা এখানে দেওয়া হচ্ছে না, কিন্তু নিয়মিত পোস্টের একটা ধারা থাকতে হবে।
যে আইডি দিয়ে চ্যানেলটা চালাচ্ছেন সেটার গায়ে দাগ থাকা চলবে না। ওই আইডিতে সাম্প্রতিক কোনো সীমা বা অভিযোগ থাকলে সেটা চ্যানেলের আবেদনেও প্রভাব ফেলে।
টাকার তথ্যগুলো সঠিক হতে হবে। এটা সবচেয়ে সহজ ভুল আর সবচেয়ে সহজে এড়ানো যায়। নামের বানান, দেশ, আর হিসাবের তথ্য মিলিয়ে দেখুন।
নাকচ হওয়ার কারণ, আর যেটা কেউ বলে না
নাকচের বার্তায় সাধারণত নির্দিষ্ট কারণ লেখা থাকে না, আর এটাই মানুষকে সবচেয়ে বেশি বিরক্ত করে।
সবচেয়ে সাধারণ কারণগুলো হলো চ্যানেলটা খুব নতুন, পোস্টের ধারা অনিয়মিত, বিষয়টা এমন একটা শ্রেণির যেটা বিজ্ঞাপনের জন্য সীমিত, বা চালানোর আইডিটার অতীতে সমস্যা আছে।
কিন্তু যে কারণটা কেউ বলে না সেটা হলো অঞ্চল। এই ব্যবস্থাটা সব দেশে একইভাবে খোলা নেই, আর টাকা পাওয়ার পথটা দেশভেদে আলাদা। বাংলাদেশ থেকে আবেদন করলে বাধাটা অনেক সময় আপনার চ্যানেলে নয়, ওই জায়গাটায়।
এটা বলার কারণ হলো, মানুষ মাসের পর মাস চ্যানেল ঠিক করার চেষ্টা করেন অথচ সমস্যাটা চ্যানেলে ছিলই না। তাই আবেদন করার আগে দেখে নিন আপনার দেশের জন্য ব্যবস্থাটা আদৌ খোলা আছে কি না।
আবার আবেদন করার আগে
এখানে একটাই ভুল বারবার হয়। নাকচ হওয়ার পরের দিনই আবার একই জিনিস পাঠিয়ে দেওয়া।
একই চ্যানেল, একই অবস্থা, একই তথ্য নিয়ে আবার পাঠালে ফল বদলাবে না, কারণ যে বিচারটা হয়েছিল সেটার ভিত্তি বদলায়নি। বরং বারবার পাঠালে আবেদনটা সারিতে পেছনে চলে যায়।
তার বদলে একটা জিনিস বদলান, তারপর পাঠান। বদলানোর মতো জিনিস সাধারণত তিনটে। পোস্টের নিয়মিত ধারা, চ্যানেলের বিষয় কতটা স্পষ্ট, আর চালানোর আইডিটার অবস্থা।
আর সময় নিজেই একটা বদল। চ্যানেলটা যদি খুব নতুন হয়ে থাকে, তাহলে কিছুই না করে কয়েক সপ্তাহ নিয়মিত পোস্ট করে যাওয়াটাই সবচেয়ে কার্যকর পদক্ষেপ।
নিজের চ্যানেলটা মাপার সৎ উপায়
এখানে সাধারণত একটা শতাংশ বলে দেওয়া হয়, কত ভাগ মানুষ পোস্ট পড়লে চ্যানেলটা সুস্থ। এখানে সেটা বলা হচ্ছে না, কারণ ওই সংখ্যাটা টেলিগ্রাম প্রকাশ করে না আর ওটা যাচাই করা যায়নি।
এর বদলে একটা মাপ আছে যেটা আপনি নিজেই নিতে পারেন, আর যেটা বেশি কাজের। আপনার চ্যানেলকে অন্য কারও সঙ্গে নয়, নিজের অতীতের সঙ্গে মেলান।
টেলিগ্রামে প্রতিটা পোস্টের নিচে কতজন দেখেছেন সেটা লেখা থাকে। তিন মাস আগের দশটা পোস্টের সংখ্যা আর এই মাসের দশটা পোস্টের সংখ্যা পাশাপাশি রাখুন।
যদি সদস্য বাড়ছে কিন্তু দেখার সংখ্যা বাড়ছে না, তাহলে যাঁরা যোগ দিচ্ছেন তাঁরা পড়ছেন না। এটাই আসল সমস্যা, আর এটা সদস্য আরও বাড়িয়ে ঠিক হয় না।
আর এখান থেকেই একটা কথা বেরিয়ে আসে যেটা বলে রাখা দরকার। বাইরে থেকে সদস্য বাড়িয়ে নিলে এই অনুপাতটা খারাপ হয়, ভালো হয় না। সংখ্যা বাড়ে কিন্তু পড়ার সংখ্যা বাড়ে না, ফলে চ্যানেলটা আগের চেয়ে বেশি নিষ্প্রাণ দেখায়। যে পরীক্ষাটা পেরোতে চাইছেন, এটা তার উল্টো দিকে কাজ করে।
বিজ্ঞাপনই একমাত্র পথ নয়
বাংলায় টেলিগ্রাম চ্যানেল থেকে আয় লিখে খুঁজলে কিছুই আসে না, অথচ বট থেকে ইনকাম লিখলে আসে। অর্থাৎ এই দিকটা এখানে এখনো অচেনা।
তিনটে আলাদা পথ আছে, আর টেলিগ্রামের নিজের বিজ্ঞাপন ব্যবস্থাটা তার একটামাত্র।
প্রথমটা সেটাই, টেলিগ্রাম আপনার চ্যানেলে বিজ্ঞাপন দেখায় আর আপনি একটা ভাগ পান। এটার শর্ত সবচেয়ে কড়া আর এটা আপনার হাতে সবচেয়ে কম।
দ্বিতীয়টা হলো স্পনসর করা পোস্ট। কোনো ব্র্যান্ড সরাসরি আপনাকে টাকা দেয় তাদের কথা আপনার চ্যানেলে লেখার জন্য। এটা টেলিগ্রামের কোনো ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে যায় না, এটা আপনার আর ব্র্যান্ডের মধ্যেকার ব্যাপার। ছোট চ্যানেলের জন্য এটাই বাস্তবে সবচেয়ে সম্ভব পথ, কারণ এখানে কোনো অনুমোদন লাগে না।
তৃতীয়টা হলো টাকার বিনিময়ে সদস্যপদ, অর্থাৎ পাঠক সরাসরি আপনাকে দিয়ে ভেতরের লেখা পড়েন। এটার জন্য টেলিগ্রামের নিজের ব্যবস্থা আছে, আর এটার শর্ত প্রথমটার চেয়ে আলাদা।
অর্থাৎ প্রথমটায় নাকচ হওয়া মানে সব পথ বন্ধ নয়। অনেকে প্রথমটায় আটকে গিয়ে থেমে যান, অথচ দ্বিতীয়টা তাঁদের জন্য খোলাই ছিল।
এই সাইটে এই ব্যাপারে কী আছে
এটা পরিষ্কার করে বলে দেওয়া দরকার, কারণ ইংরেজি লেখাটা এখানে বাড়িয়ে বলেছে।
ইংরেজিতে লেখা আছে এখানে অনেক বিক্রেতা টেলিগ্রামের বৃদ্ধির সেবা রাখেন। বাস্তবে টেলিগ্রামের বৃদ্ধির সেবার ঘরে এই মুহূর্তে একুশটা তালিকা আছে, তিনটে দোকান থেকে। তিনটে দোকানকে অনেক বলা যায় না।
আর তার চেয়ে বড় কথা, উপরের অংশে যা বলা হলো তার সঙ্গে এই পরামর্শটা মেলে না। সদস্য বাড়ানো অনুপাতটাকে খারাপ করে, আর অনুপাতটাই বিচারের জিনিস। তাই অনুমোদন পাওয়ার উপায় হিসেবে এটা কাজ করে না, আর সেটা বলে দেওয়াই ঠিক।
যেটা এখানে সত্যিই আছে সেটা হলো টেলিগ্রামের আইডির ঘর, আটশোটা তালিকা বিয়াল্লিশটা দোকান থেকে। কিন্তু একটা আইডি কেনা আর একটা চ্যানেল অনুমোদন পাওয়া, এই দুটো আলাদা সমস্যা, আর প্রথমটা দ্বিতীয়টার সমাধান নয়।