ভেরিফায়েড আর পুরোনো: তালিকায় এই শব্দ দুটো আসলে কী বোঝায়
বাংলায় পুরাতন আইডি মানে জাতীয় পরিচয়পত্র, আর ব্লু টিক মানে কপি করার একটা চিহ্ন। তালিকায় এই শব্দগুলো সম্পূর্ণ অন্য জিনিস বোঝায়।
Sarah Johnsonএই লেখাটা শব্দ নিয়ে, আর তার একটা কারণ আছে।
বাংলায় পুরাতন আইডি লিখে খুঁজলে যা আসে তার প্রায় সবটাই জাতীয় পরিচয়পত্র নিয়ে। আর ব্লু টিক লিখলে যা আসে তার প্রায় সবটাই ওই চিহ্নটা কপি করা নিয়ে।
অর্থাৎ এই বিষয়ের যে দুটো মূল শব্দ, বাংলায় তার দুটোরই মানে সম্পূর্ণ অন্য কিছু। অথচ তালিকায় এই শব্দগুলোই লেখা থাকে, ইংরেজিতে। এই ফাঁকটার কারণেই মানুষ ভুল জিনিস আশা করে কেনেন।
টেলিগ্রামের আসল চিহ্নটা কেনা যায় না
এটা দিয়ে শুরু করা দরকার, কারণ এটা নিয়ে সবচেয়ে বেশি ভুল আশা তৈরি হয়।
টেলিগ্রামে নামের পাশে যে নীল চিহ্নটা কিছু চ্যানেল বা পরিচিত মানুষের থাকে, সেটা টেলিগ্রাম নিজে বসায়। ওরা নিজেরা ঠিক করে কাকে দেবে, আর সাধারণত সেটা এমন কাউকে যাঁকে বাইরের জগতে অনেকে চেনেন।
ওটা টাকা দিয়ে পাওয়া যায় না। ওটা আইডি পুরোনো হলে আপনাআপনি আসে না। আর কোনো বিক্রেতা ওটা আপনার আইডিতে বসিয়ে দিতে পারেন না, কেউ পারবেন বললে সেটা সত্যি নয়।
এই কথাটা মেনে নিলে বাকি প্রশ্নটা পরিষ্কার হয়ে যায়। তাহলে তালিকায় ভেরিফায়েড লেখা থাকে কেন।
তাহলে তালিকায় শব্দটা কী বোঝাচ্ছে
এই সাইটে টেলিগ্রাম আইডির ঘরে আটশোটা তালিকা আছে, আর তার মধ্যে একশো পঁয়ত্রিশটায় ভেরিফায়েড শব্দটা কোথাও না কোথাও লেখা আছে। অর্থাৎ প্রতি ছয়টার একটার মতো।
এখন যেহেতু টেলিগ্রামের আসল চিহ্নটা এভাবে আসে না, শব্দটা এখানে অন্য কিছু বোঝাচ্ছে। আর এখানেই সমস্যা, কারণ বিক্রেতারা এটা এক অর্থে ব্যবহার করেন না।
সাধারণত এটা তিনটের কোনো একটা বোঝায়। এক, নম্বরটা যাচাই করা হয়েছে, অর্থাৎ আইডিটা একটা আসল ফোন নম্বর দিয়ে খোলা। দুই, একটা মেইল ঠিকানা জোড়া আছে আর সেটা যাচাই করা। তিন, দুই ধাপের যাচাই বসানো আছে।
এই তিনটে সম্পূর্ণ আলাদা জিনিস, আর তিনটের দাম আলাদা হওয়া উচিত। কিন্তু তিনটেকেই একই শব্দে লেখা হয়।
তাই এখানে করণীয় একটাই। শব্দটা দেখে ধরে নেবেন না, জিজ্ঞেস করুন ঠিক কী যাচাই করা। এই একটা প্রশ্ন করলে বেশিরভাগ হতাশা আগেই শেষ হয়ে যায়।
পুরোনো শব্দটারও কোনো স্থির মানে নেই
একই সমস্যা বয়সের ক্ষেত্রেও, আর সেখানে ফাঁকটা আরও বড়।
ওই আটশোটা তালিকার মধ্যে বছরের কথা লেখা আছে ঊনসত্তরটায়, ছয় মাসের কথা আটচল্লিশটায়, মাসের কথা পনেরোটায়, আর নতুন বা তাজা এই ধরনের শব্দ চব্বিশটায়। সব মিলিয়ে দেড়শোর মতো।
বাকি ছয়শোর বেশি তালিকায় বয়স নিয়ে কিছুই লেখা নেই।
আর যেখানে লেখা আছে সেখানেও শব্দ আর সংখ্যার মধ্যে ফারাক আছে। পুরোনো বা তৈরি করা এই ধরনের বিশেষণগুলো যিনি লিখছেন তিনি যা বোঝাতে চান তাই বোঝায়, কোনো মান নেই। একজনের কাছে তিন মাস পুরোনো, আরেকজনের কাছে তিন বছর।
যেটার একটা স্থির মানে আছে সেটা হলো সাল। কোন সালে খোলা, এই তথ্যটা যাচাই করা যায় আর ওটা নিয়ে দুই রকম বোঝার সুযোগ নেই।
তাই নিয়মটা সহজ। বিশেষণ পড়বেন না, সংখ্যা খুঁজবেন। সংখ্যা না থাকলে ধরে নিন বয়সটা জানা নেই, আর বয়সের জন্য বাড়তি টাকা দেবেন না।
নতুন আইডিতে ব্যবসার কাজে যা আটকায়
এবার আসল ব্যবহারিক দিকটা, কারণ বয়সের কথা উঠলই কেন সেটার একটা সত্যিকারের কারণ আছে।
একটা সদ্য খোলা আইডি দিয়ে যদি প্রথম দিনেই অনেকজনকে বার্তা পাঠাতে যান, বা একসঙ্গে অনেকগুলো গ্রুপে ঢোকেন, বা অনেককে আমন্ত্রণ পাঠান, তাহলে সীমা এসে পড়ে।
এটা কোনো শাস্তি নয়, আর আপনি কোনো নিয়ম ভাঙেননি। টেলিগ্রামের ব্যবস্থা নতুন আইডিকে কম ভরসা করে, কারণ ওর সম্পর্কে জানার মতো কিছু নেই।
ব্যক্তিগত ব্যবহারে এটা কেউ টেরই পান না, কারণ কেউ প্রথম দিনে দুশো মানুষকে বার্তা পাঠান না। কিন্তু কোনো দোকান যদি ক্রেতাদের উত্তর দেওয়ার জন্য একটা নতুন আইডি খুলে সেদিনই কাজ শুরু করে, তাহলে সেটা ঠিক ওই আচরণটাই করে যেটা দেখে ব্যবস্থাটা সতর্ক হয়।
আর ক্রেতার দিক থেকে ব্যাপারটা আরও খারাপ দেখায়, কারণ তিনি জানেন না আইডিটা নতুন। তিনি শুধু দেখেন উত্তর আসছে না, আর ভাবেন দোকানটা ভুয়া।
তাহলে বয়স কি সমাধান
আংশিক, আর এখানে সৎ থাকা দরকার।
একটা পুরোনো আইডি এই প্রথম দিনের ধাক্কাটা কম খায়, এটা সত্যি। কিন্তু ওটা কোনো ছাড়পত্র নয়। পুরোনো আইডি দিয়েও যদি হঠাৎ শত শত অচেনা মানুষকে বার্তা পাঠানো হয়, তাহলে একই জিনিস ঘটবে, শুধু একটু দেরিতে।
আর একটা কথা যেটা কম বলা হয়। কেনা পুরোনো আইডির ক্ষেত্রে হাতবদলটাই একটা নতুন ধাক্কা। আইডিটা এতদিন এক দেশে এক যন্ত্রে এক রকম ব্যবহারে ছিল, হঠাৎ সব বদলে গেল। তাই বয়স যতই হোক, প্রথম কয়েক দিন ধীরে চলতেই হয়।
যেটা সত্যিকারের সমাধান সেটা বয়স নয়, সেটা ক্রম। আইডিটা আগে খুলে রাখুন, সাধারণভাবে কিছুদিন ব্যবহার করুন, তারপর ব্যবসার কাজে লাগান। এটা বিনামূল্যে, আর এটাই সবচেয়ে ভালো কাজ করে। বয়স কেনা তখনই যুক্তিসঙ্গত যখন আপনার হাতে ওই কয়েকটা দিন নেই।
কেনার আগে যে চারটে প্রশ্ন
এই লেখার পুরোটা চারটে প্রশ্নে নেমে আসে, আর চারটেই বিক্রেতাকে সরাসরি করা যায়।
এক, ভেরিফায়েড বলতে ঠিক কী যাচাই করা, নম্বর, মেইল, নাকি দুই ধাপের যাচাই।
দুই, কোন সালে খোলা। বিশেষণ নয়, সাল।
তিন, দুই ধাপের যাচাইয়ের পাসওয়ার্ডটা আমি পাব কি না। এটা না পেলে বাকি সব অর্থহীন, কারণ আইডিটা আপনার হবে না।
চার, জোড়া থাকা মেইল ঠিকানাটা কার। ওটা যদি বিক্রেতার থাকে, তাহলে তিনি যেকোনো দিন ফিরে আসতে পারেন।
আর একটা কাজ কেনার পরে, প্রথম মিনিটেই। এখানকার তালিকা সঙ্গে সঙ্গে হাতে আসে, কিন্তু এই ঘরের আটশোটার মধ্যে চারশো সাতষট্টিটায় সমস্যা জানানোর মেয়াদ আধা দিন আর একশো পঞ্চাশটায় মাত্র কয়েক মিনিট। তাই তালিকায় যা লেখা ছিল সেটা সত্যিই আছে কি না, সেটা মেলানোর কাজটা এখনই, পরে নয়।
