ফাইল হাতে পেলেন, এখন চব্বিশ ঘণ্টার হিসাবটা
অচেনা যন্ত্রগুলো বের করে দেওয়ার আগে টেলিগ্রাম চব্বিশ ঘণ্টা অপেক্ষা করায়। এখানকার সাতশো ঊনআশিটা তালিকার মধ্যে আটত্রিশটায় মেয়াদ ততক্ষণ থাকে।
Avery Bennettফাইলগুলো এসে গেছে। এখন প্রায় প্রতিটা লেখা আপনাকে একই কথা বলবে: ঢুকে পড়ুন, চালু যন্ত্রের তালিকা খুলুন, অচেনা সবগুলো বের করে দিন, আর এই কাজটা প্রথম কয়েক মিনিটেই সেরে ফেলুন।
পরামর্শটা যুক্তিসঙ্গত শোনায়। সমস্যা হলো, টেলিগ্রাম ওই কাজটা আপনাকে করতেই দেবে না।
চব্বিশ ঘণ্টার তালাটা
টেলিগ্রামের নিজের কারিগরি নথিতে এটা লেখা আছে, আর ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে সেখান থেকেই দেখে নেওয়া হয়েছে।
একটা লগইন থেকে অন্য কোনো লগইন বন্ধ করতে চাইলে টেলিগ্রাম একটা ভুলবার্তা ফিরিয়ে দেয়, যার বক্তব্য হলো: বর্তমান লগইনটা চব্বিশ ঘণ্টা পুরোনো না হলে আপনি অন্য লগইন বন্ধ করতে পারবেন না।
আর এই তালাটা এক জায়গায় নয়, তিন জায়গায় বসানো। একটা যন্ত্র বের করে দেওয়ার পথে, সব যন্ত্র একসঙ্গে বের করে দেওয়ার পথে, আর লগইনের মেয়াদ ছোট করে দেওয়ার পথে। তিনটেই একই বার্তা ফেরায়।
তৃতীয়টা বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ ওটাই স্বাভাবিক ঘুরপথ। কেউ ভাবতে পারেন, বের করে দিতে না পারলে মেয়াদটা ছোট করে দিই, বাকিরা আপনিই ঝরে যাবে। ওই দরজাটাও একই সময়ের জন্য বন্ধ।
বারো ঘণ্টা আর চব্বিশ ঘণ্টা, পাশাপাশি রাখলে
এবার এই ঘরটার সংখ্যাগুলো পাশে রাখুন।
১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে এখানে সাতশো ঊনআশিটা চালু তালিকা ছিল। তার মধ্যে চারশো একচল্লিশটায় সমস্যা জানানোর মেয়াদ বারো ঘণ্টা, একশো পঞ্চাশটায় সেটা প্রায় পাঁচ মিনিট, বাষট্টিটায় এক ঘণ্টা, একান্নটায় ছয় ঘণ্টা।
আর এক দিন বা তার বেশি মেয়াদ আছে মাত্র আটত্রিশটায়।
এই একটা সংখ্যাই পুরো পরিস্থিতিটা বলে দেয়। সাতশোর বেশি তালিকায় তালা খোলার মুহূর্তটা আসে অভিযোগ করার মুহূর্তটা পেরিয়ে যাওয়ার পরে। অর্থাৎ যে কাজটাকে সবচেয়ে জরুরি বলা হয়, সেটা আপনার মেয়াদের ভেতরে করা যায় না, আর দ্রুত হাত চালিয়ে এটা এড়ানোও যায় না।
তালার বাইরে যে দুটো কাজ আছে
এখানে হাল ছেড়ে দেওয়ার কিছু নেই, কারণ নিষেধটা শুধু বন্ধ করার উপর।
তালিকাটা পড়ায় কোনো বাধা নেই। ঢোকার সঙ্গে সঙ্গেই আপনি দেখতে পাবেন কে কে এখন এই আইডিতে ঢুকে আছে। ওটা আপনার কেনা জিনিসটা সম্পর্কে এমন একটা তথ্য যেটা আর কোনোভাবে জানার উপায় নেই, আর ওটা পড়তে এক মিনিট লাগে।
দ্বিতীয়ত, দুই ধাপের পাসওয়ার্ড বদলানোর পথে কোনো অপেক্ষা বসানো নেই। ওটা প্রথম দিনেই করা যায়। এটা ইতিমধ্যে ঢুকে থাকা কাউকে বের করবে না, কিন্তু নতুন করে আর কেউ যাতে ঢুকতে না পারে সেটা আটকাবে। সমস্যাটার যে অর্ধেকটা আপনি বন্ধ করতে পারেন, এটা সেটা।
তাহলে ওই বারো ঘণ্টায় ঠিক কী করবেন
কাজের ক্রমটা বদলে যায়, আর সেটাই এই লেখার মূল কথা।
- চালু যন্ত্রের তালিকাটা খুলে দেখুন, আর যা দেখছেন তার একটা ছবি তুলে রাখুন। এটা পরিষ্কার করার কাজ নয়, এটা প্রমাণ রাখার কাজ। মেয়াদ থাকতে থাকতে এই প্রমাণটাই আপনার একমাত্র হাতিয়ার।
- যে প্রোগ্রামে আসলে চালাবেন ঠিক সেটাতেই খুলে দেখুন, ব্রাউজারে নয়। অন্য কোথাও খুললেও আপনার কাজে না লাগলে সেটা খোলার মধ্যে পড়ে না।
- দুই ধাপের পাসওয়ার্ডটা নিজের হাতে আনুন, কারণ ওটাতে অপেক্ষা নেই।
- অচেনা যন্ত্র বের করে দেওয়ার কাজটা পরের দিনের জন্য তুলে রাখুন, আর ওটা যে করতে হবে সেটা লিখে রাখুন। ওই দিন আর কেউ আপনাকে মনে করিয়ে দেবে না।
ফাইলগুলো আদৌ সম্পূর্ণ কি না
এই যাচাইটা এক মিনিটের, আর এটা না করলে বাকি সব যাচাই অর্থহীন।
যে ফোল্ডারটা এসেছে সেটার ভেতরে কয়েকটা ছাড়া ছাড়া ফাইল থাকার কথা নয়। আর যে ছোট ফাইলগুলো এসেছে সেগুলোর কোনোটার আকার শূন্য হওয়ার কথা নয়। শূন্য আকারের ফাইল মানে কিছুই আসেনি, শুধু নামটা এসেছে।
json ফাইলটা যেকোনো লেখার প্রোগ্রামে খুলে দেখা যায়, আর ভেতরে যে দুটো পরিচয়সংখ্যা থাকার কথা সেগুলো সত্যিই আছে কি না দেখে নেওয়া যায়। ঘরগুলো ফাঁকা থাকলে ওটা কোনো কাজে আসবে না, আর এটাই সবচেয়ে সহজে ধরা পড়া গোলমাল।
রূপান্তরের প্রলোভনটা
খোঁজার তালিকায় converter শব্দটা উপরের দিকেই আসে, তাই এটা নিয়ে সরাসরি বলা দরকার।
দুটো কথা যন্ত্রপাতির চেয়ে বেশি জরুরি। প্রথম, এই ধরনের প্রোগ্রামে আপনাকে আপনার লগইনটা ঢেলে দিতে হয়। অর্থাৎ অচেনা একটা প্রোগ্রামের হাতে পুরো আইডিটা তুলে দেওয়া হচ্ছে, আর সেই সিদ্ধান্তটা পাসওয়ার্ড দিয়ে দেওয়ার মতোই ভারী।
দ্বিতীয়, রূপান্তর করলে আগের অনুলিপিটা অচল হয়ে যায় না। একটা আইডিতে একসঙ্গে কয়েকটা লগইন থাকতে পারে, তাই আপনি নতুন একটা বানালেন মানে পুরোনোটা মুছে গেল না। যাঁর কাছে অনুলিপি ছিল, তাঁর কাছে এখনও আছে।
পাসওয়ার্ড নেই কেন, আর নম্বরের ঘরটা
টাইপ করার মতো কিছু নেই কারণ ঢোকার কাজটা আগেই হয়ে গেছে। আপনি লগইন করার উপকরণ পাননি, আপনি একটা সম্পন্ন লগইন পেয়েছেন। এই কারণেই ফাইল বসানোর সময় কোনো ফোনে কোনো সংকেত যায় না।
এর একটা পার্শ্বফল আছে যেটা পরে ভোগায়। ফোন নম্বরটা তবু একটা আলাদা প্রশ্ন হয়ে থেকে যায়। তিন ভাগের এক ভাগ তালিকায় খুদে বার্তায় যাচাই করা বলে চিহ্ন বসানো আছে, আর সেটা শুধু বলে নিবন্ধনের সময় একটা নম্বর ছিল। টেলিগ্রাম আবার কখনও সংকেত চাইলে ওই নম্বরটাই ঠিক করে দেয় আপনি সাড়া দিতে পারবেন কি না।
দুই ধাপের পাসওয়ার্ড বসানো আছে ছয়টার সাড়ে তিনটেতে, আর সেটা বসানো থাকলে বিক্রেতা যা দেন তা ছাড়া ওটা বদলানো যাবে না। এই দুটো ঘর কেনার আগে পড়ে নেওয়াই সবচেয়ে সস্তা যাচাই।
ফোনে বসানোর প্রশ্নটা
এটা আলাদা করে বলা দরকার কারণ বাংলাদেশে অনেকের কাজটাই ফোনে হয়।
এই ফাইলগুলো ফোনের অ্যাপে বসানোর কোনো স্বীকৃত পথ নেই। কোনোটারই নেই। তাই আপনার পুরো কাজটা যদি ফোনে হয়, এই কেনাকাটাটা করার আগেই সেটা জেনে রাখা দরকার, পরে নয়, কারণ পরে জানলে টাকাটা ফেরানোর মতো কোনো ঘর থাকে না।
চলতি তালিকাটা এই পাতায়, আর কোন ফাইল কোন প্রোগ্রাম পড়ে সেটা এই লেখায় আছে।
