tdata, session আর json: বেছে নেওয়ার নয়, চেনার ব্যাপার
তিনটে আলাদা ফরম্যাট বেছে নেওয়ার কথা বলা হয়। বাস্তবে এই সাইটের টেলিগ্রাম তাকে তিনটের দুটো তালিকাতেই tdata আর json একসঙ্গেই আসে, তাই বাছাইয়ের প্রশ্নটাই বেশিরভাগ সময় ওঠে না।
Sarah Johnsonএকটা আইডি কিনলেন, আর সঙ্গে এলো একটা ফোল্ডার যেটার নাম tdata, আর তার পাশে একটা ছোট ফাইল যেটার নাম শেষ হচ্ছে json দিয়ে। কোনো নির্দেশ নেই।
এই জায়গায় বেশিরভাগ লেখা বলে, তিনটে ফরম্যাট আছে, আপনার দরকার অনুযায়ী একটা বেছে নিন। কিন্তু এই সাইটের ঘরটা গুনে দেখলে ছবিটা অন্যরকম।
টেলিগ্রাম আইডির ঘরে ছশো তিরানব্বইটা চালু তালিকা আছে। tdata শব্দটা আছে পাঁচশো চোদ্দোটায়, json আছে পাঁচশো তেরোটায়। আর দুটোই একসঙ্গে আছে চারশো ঊনচল্লিশটায়।
অর্থাৎ তিনটের দুটো ক্ষেত্রেই আপনি বেছে নিচ্ছেন না, আপনি একটা বান্ডিল পাচ্ছেন। তাই আসল প্রশ্নটা কোনটা কিনব নয়, আসল প্রশ্ন হলো হাতে যা আছে তার কোনটা আমার কাজে লাগবে।
কোন ফাইল কোন প্রোগ্রাম পড়ে
এই এক লাইনেই বেশিরভাগ বিভ্রান্তি মিটে যায়। তিনটে জিনিস তিনটে আলাদা জগতের।
tdata হলো কম্পিউটারের টেলিগ্রাম ডেস্কটপ অ্যাপ নিজের লগইন যেখানে জমা রাখে সেই ফোল্ডারটা। এটা একটা ফাইল নয়, একটা ফোল্ডার, আর ভেতরে যা আছে তা মানুষের পড়ার জন্য নয়। এটা পড়ে শুধু ডেস্কটপ অ্যাপ।
session ফাইল সম্পূর্ণ অন্য জগতের। ওটা পাইথনে লেখা কিছু লাইব্রেরির জিনিস, যেগুলো দিয়ে মানুষ স্বয়ংক্রিয় কাজ চালান। ওটা ডেস্কটপ অ্যাপে বসানোর জিনিস নয়, আর বসালে কিছুই হবে না।
json সবচেয়ে অনিশ্চিত। ওটা কোনো একটা প্রোগ্রামের তৈরি করা তথ্যের একটা ফাইল, আর ভেতরে ঠিক কী আছে সেটা নির্ভর করে কোন প্রোগ্রাম ওটা বানিয়েছে তার উপর। কোনো একটা নির্দিষ্ট অ্যাপ এটা খোলে না।
তাই কেনার আগে যে প্রশ্নটা করা উচিত সেটা ফরম্যাট নিয়ে নয়। প্রশ্নটা হলো, আমি কোন প্রোগ্রাম দিয়ে কাজটা করব। উত্তর যদি হয় কম্পিউটারের সাধারণ টেলিগ্রাম অ্যাপ, তাহলে আপনার tdata দরকার আর বাকিটা আপনার কোনো কাজে আসবে না।
tdata বসানো, আর যেখানে ভুলটা হয়
পদ্ধতিটা সহজ, কিন্তু একটা জায়গায় প্রায় সবাই আটকান।
আপনাকে টেলিগ্রাম ডেস্কটপের পোর্টেবল সংস্করণটা নামাতে হবে, অর্থাৎ যেটা কম্পিউটারে বসাতে হয় না, শুধু একটা ফোল্ডারে খুলে রাখলেই চলে। ওই ফোল্ডারের ভেতরে একটা খালি tdata ফোল্ডার থাকে। ওটার জায়গায় আপনার পাওয়া tdata ফোল্ডারটা বসিয়ে দিন, তারপর ওই ফোল্ডারের ভেতরের প্রোগ্রামটা চালু করুন।
ভুলটা হয় এখানে। মানুষ কম্পিউটারে আগে থেকে বসানো সাধারণ টেলিগ্রাম অ্যাপটার ভেতরে ওই ফোল্ডারটা বসাতে যান। ওটা কাজ করে না, আর তার চেয়ে খারাপ, ওতে আপনার নিজের চালু আইডিটার লগইন মুছে যেতে পারে।
নিয়মটা তাই সহজ। প্রতিটা tdata এর জন্য একটা আলাদা পোর্টেবল ফোল্ডার। নিজের ব্যক্তিগত টেলিগ্রামটা যেখানে আছে সেখানে হাত দেবেন না।
আর যদি চালু করার পরে পাসওয়ার্ড চায়, তাহলে ফাইলগুলোর সঙ্গে একটা ছোট লেখার ফাইল আছে কি না দেখুন। অনেক বিক্রেতা দুই ধাপের যাচাইয়ের পাসওয়ার্ডটা ওখানে আলাদা করে দেন। ওটা না থাকলে ফোল্ডারটা কার্যত অচল, আর এটা কেনার আগেই জিজ্ঞেস করে নেওয়ার জিনিস।
session ফাইল কাদের জন্য নয়
এটা পরিষ্কার করে বলে দেওয়া দরকার, কারণ এই ভুল ধারণাটা টাকা নষ্ট করে।
session ফাইল দিয়ে আপনি অ্যাপে ঢুকতে পারবেন না। ওটার জন্য পাইথন লাগবে, একটা লাইব্রেরি বসাতে হবে, আর ওই ফাইলটা যে পরিচয়ের অধীনে তৈরি হয়েছিল সেই পরিচয়ের সংখ্যা দুটোও লাগবে।
ওই শেষ শর্তটা সবচেয়ে বেশি ভোগায়। একটা session ফাইল যে দুটো সংখ্যা দিয়ে বানানো, সেই একই সংখ্যা দিয়েই ওটা খুলতে হয়। বিক্রেতা যদি ফাইলটা দেন কিন্তু ওই সংখ্যা দুটো না দেন, তাহলে ফাইলটা আপনার কাছে অচল।
তাই আপনি যদি প্রোগ্রাম লেখেন না, তাহলে session ফাইল আপনার কোনো কাজে আসবে না, আর ওটার জন্য বাড়তি টাকা দেওয়ারও কোনো মানে নেই। আপনার দরকার tdata।
আর উল্টো দিকটাও সত্যি। যিনি স্বয়ংক্রিয় কাজ চালাবেন, তাঁর কাছে tdata প্রায় অকেজো, কারণ ওটা দিয়ে প্রোগ্রাম চালানো যায় না।
json কেন আলাদা করে সাবধান হওয়ার জিনিস
বাকি দুটোর অন্তত একটা নির্দিষ্ট চেহারা আছে। json এর তা নেই।
দুটো আলাদা বিক্রেতার দেওয়া দুটো json ফাইলের ভেতরের গঠন সম্পূর্ণ আলাদা হতে পারে, আর দুটোই ঠিক। কারণ ওটা কোনো মান নয়, ওটা শুধু তথ্য লেখার একটা ধরন।
খোঁজার তালিকায় একটা প্রশ্ন বারবার আসে, json থেকে tdata বানানো যায় কি না। এটা থেকেই বোঝা যায় সমস্যাটা কোথায়। মানুষের হাতে এক জিনিস আছে আর দরকার অন্যটা।
এর সোজা উত্তরটা হলো, ওটা কোনো সাধারণ রূপান্তর নয়, আর ওই কাজটা করার জন্য যেসব প্রোগ্রাম পাওয়া যায় সেগুলোর ভেতরে আপনার পুরো লগইনটা ঢেলে দিতে হয়। অর্থাৎ অচেনা কোনো প্রোগ্রামকে আপনি আইডিটার পুরো নিয়ন্ত্রণ দিয়ে দিচ্ছেন।
তাই সবচেয়ে সস্তা সমাধানটা রূপান্তর নয়। কেনার আগে জিজ্ঞেস করে নেওয়া, আর যে ফরম্যাটটা আপনার লাগবে সেটাই আছে কি না নিশ্চিত হওয়া। এখানে তিনটের দুটো তালিকাতেই দুটো একসঙ্গে থাকে, তাই সম্ভাবনা আপনার পক্ষেই।
এই ফাইলগুলো আসলে কী
এখানে একটা কথা আছে যেটা না বললে বাকি সবটা অসম্পূর্ণ থাকে।
এই প্রতিটা ফাইল একটা চালু, ঢুকে থাকা লগইনের সমান। যার হাতে আপনার tdata ফোল্ডার বা session ফাইল আছে, সে পাসওয়ার্ড না জেনেই ওই আইডি হিসেবে কাজ করতে পারে।
এটা মাথায় রাখলে কয়েকটা অভ্যাস আপনাআপনি আসে। ফাইলটা সাধারণ চ্যাটে পাঠাবেন না। মেঘে জমা হওয়া ফোল্ডারে দরকারের বেশি সময় রাখবেন না। আর কাজ হয়ে যাওয়ার পরে যেসব জায়গায় অনুলিপি পড়ে আছে সেগুলো মুছে দিন।
ফাইলটা বসানোর পরে কী করবেন সেটা এই লেখার আগের সংস্করণে উল্টো ক্রমে দেওয়া ছিল। ঠিক ক্রমটা নিচে, আর ওটা এক দিনে শেষ হয় না।
- দুই ধাপের যাচাইয়ের পাসওয়ার্ড বসান বা বদলান, নিজের একটা উদ্ধারের মেইল ঠিকানাসহ। এটাই এক নম্বর, কারণ ওই দিনেই সেরে ফেলা যায় এমন কাজ এটাই একটা। পুরোনো পাসওয়ার্ড বহাল থাকলে আইডিটা যিনি ওটা জানেন তাঁরই।
- যন্ত্রের তালিকাটা খুলুন আর কেবল টুকে রাখুন, কিছু না করে। কটা সারি, কোন ধরনের যন্ত্র, কোন অঞ্চল, শেষ ব্যবহার কবে। এক দিন পরে এই টোকাটাই বলে দেবে নতুন কিছু ঢুকেছে কি না।
- মূল ফাইলটা মুছে দিন কাজ করছে নিশ্চিত হওয়ার পর, আর মেঘের সঙ্গে মেলানো ফোল্ডারে কোনো অনুলিপি রেখে যাবেন না।
- এক দিন পরে ফিরে এসে নিজেরটা ছাড়া বাকি সব সেশন বন্ধ করে দিন।
চার নম্বরটা এক দিন পরে কেন, তার কারণ টেলিগ্রামের একটা নিয়ম যেটা বেশিরভাগ লেখা এড়িয়ে যায়। সদ্য খোলা কোনো সেশন অন্য কোনো সেশন বন্ধ করতে পারে না, আর ওই ক্ষমতা আসে পুরো চব্বিশ ঘণ্টা ঢুকে থাকার পরে। এক যন্ত্র সরানো, সব যন্ত্র একসঙ্গে সরানো, এমনকি মেয়াদ বসিয়ে রাখা, তিনটেই একই নিয়মে আটকায়।
এবার সময়ের হিসাবটা, আর ওখানে একটা অস্বস্তি আছে যেটা বলে দেওয়াই ভালো। এই ঘরের ছশো তিরানব্বইটা তালিকার মধ্যে চারশো চব্বিশটায় সমস্যা জানানোর মেয়াদ আধা দিন, আর একশো পঁয়ত্রিশটায় সেটা মাত্র পাঁচ মিনিটের মতো। অর্থাৎ চার নম্বর ধাপে পৌঁছোনোর অনেক আগেই ওই মেয়াদ ফুরিয়ে যাবে।
তাই মেয়াদের ভেতরে যা করার আছে সেটা আলাদা করে নিন: ফাইলটা খুলছে কি না, ভেতরে যা বলা ছিল তা আছে কি না, আর এক নম্বর ধাপটা সত্যিই সম্পন্ন করা যাচ্ছে কি না। ওই তিনটের উত্তর প্রথম মিনিটেই পাওয়া যায়, আর ওগুলোই বলার মতো সমস্যা তৈরি করে। বাকিটা পরের দিনের কাজ, আর ওটা দিয়ে কেনাটা যাচাই হয় না।
অনেকগুলো আইডি একসঙ্গে চালালে
যাঁদের কয়েকটা আইডি একসঙ্গে চালাতে হয়, তাঁদের জন্য দুটো কথা।
প্রথমত, প্রতিটার জন্য আলাদা ফোল্ডার। tdata এর ক্ষেত্রে এটা এমনিতেই বাধ্যতামূলক, কারণ এক ফোল্ডারে দুটো লগইন থাকতে পারে না। কিন্তু মানুষ সময় বাঁচাতে গিয়ে একটা ফোল্ডার বারবার ব্যবহার করেন, আর তাতে আগেরটা মুছে যায়।
দ্বিতীয়ত, এখানে সাধারণত পরামর্শ দেওয়া হয় প্রতিটা আইডির জন্য আলাদা সংযোগ নেওয়ার। আমাদের নিজেদের ঘরটা এই পরামর্শের পক্ষে যথেষ্ট বড় নয়, আর সেটা বলে দেওয়াই ঠিক। প্রক্সির পুরো ঘরে এই মুহূর্তে সাতাত্তরটা চালু তালিকা আছে বারোজন বিক্রেতার কাছ থেকে, আর আবাসিক প্রক্সির ঘরে একত্রিশটা তালিকা মোটে তিনজন বিক্রেতার কাছ থেকে। এটা একটা ছোট ঘর, আর এখান থেকে বড় কোনো ব্যবস্থা দাঁড় করানোর প্রতিশ্রুতি দেওয়া যায় না।
