পৌঁছানো হঠাৎ কমে গেছে: শাস্তি নাকি স্বাভাবিক
এখন আর অনুমান করার দরকার নেই। ইনস্টাগ্রামের ভেতরেই একটা পর্দা আছে যেটা সোজা বাংলায় বলে দেয় আপনার পোস্ট সুপারিশের যোগ্য কি না। সেটা কোথায়, আর তারপর কী।
Michael Chenপৌঁছানো হঠাৎ পড়ে গেলে প্রথম যে কথাটা মনে আসে সেটা হলো শাস্তি। ইংরেজিতে একে শ্যাডোব্যান বলা হয়, যদিও ইনস্টাগ্রাম শব্দটা কখনো ব্যবহার করে না।
আগে এই প্রশ্নের উত্তর অনুমান করা ছাড়া উপায় ছিল না। এখন আছে, আর সেটাই প্রথম ভাগ।
একাউন্টের অবস্থার পর্দাটা
ইনস্টাগ্রামের সেটিংসে এখন একটা ঘর আছে যেখানে আপনার একাউন্টের অবস্থা লেখা থাকে। সেটিংসে ঢুকে একাউন্টের অবস্থা বা অ্যাকাউন্ট স্ট্যাটাস নামের ঘরটা খুঁজুন।
ওখানে তিনটে জিনিস থাকে, আর তিনটেই কাজের।
- আপনার পোস্ট সুপারিশের যোগ্য কি না। এটাই আসল উত্তর। যোগ্য নয় লেখা থাকলে আপনার পোস্ট এক্সপ্লোর আর রিলের ঘরে যাবে না, অর্থাৎ যাঁরা আপনাকে ফলো করেন না তাঁদের কাছে পৌঁছাবে না।
- কোন কোন পোস্ট সরানো হয়েছে, আর কোন নিয়মে।
- কোন কাজগুলো আপনার জন্য বন্ধ আছে, যেমন মন্তব্য বা বার্তা পাঠানো।
এই পর্দাটা যদি সবুজ দেখায়, তাহলে আপনার সমস্যা শাস্তি নয়, অন্য কিছু। আর হলুদ বা লাল দেখালে সেখানেই লেখা থাকে কী নিয়ে সমস্যা, আর প্রায়ই আপত্তি জানানোর একটা বোতামও থাকে।
একটা কথা। এই ঘরটা ইনস্টাগ্রাম ধাপে ধাপে ছেড়েছে আর জায়গা বদলায়, তাই সেটিংসে না পেলে খোঁজার ঘরে status লিখে দেখুন।
চেকার সাইটগুলো কিছুই জানে না
এই কথাটা আগেও সত্যি ছিল, আর এখন আরও বেশি, কারণ আসল উত্তরটা অ্যাপের ভেতরেই আছে।
যেসব সাইট আপনার নাম বসিয়ে বলে দেয় আপনি শ্যাডোব্যানে আছেন কি না, তাদের ইনস্টাগ্রামের ভেতরে ঢোকার কোনো পথ নেই। তারা বাইরে থেকে কয়েকটা প্রকাশ্য জিনিস দেখে অনুমান করে, আর অনুমানটা প্রায়ই ভুল।
যেগুলো আপনার নাম আর পাসওয়ার্ড চায় সেগুলো আরও খারাপ, কারণ তখন সমস্যাটা পৌঁছানোর নয়, একাউন্ট হারানোর।
নিজে হাতে যে পরীক্ষাটা আগে করতে বলা হতো, সেটাও এখন দুর্বল। পদ্ধতিটা ছিল একটা অস্বাভাবিক ট্যাগ দিয়ে পোস্ট করে অন্য কাউকে ওই ট্যাগে খুঁজতে বলা। এখন এটা কম কাজ করে, কারণ ট্যাগের ভূমিকাই বদলে গেছে আর ইনস্টাগ্রাম নিজেই বলেছে ট্যাগ খোঁজায় সাহায্য করে, পৌঁছানোয় নয়। পরীক্ষাটা করে দেখা যায়, তবে ফল না এলে সেটা কোনো প্রমাণ নয়, আর ফল এলেও নয়। ট্যাগ এখন কীভাবে কাজ করে তা আলাদা লেখায় আছে।
অর্থাৎ অবস্থার পর্দাটাই একমাত্র জায়গা যেখানে উত্তরটা লেখা থাকে, আর ওটা বিনামূল্যে আর আপনার নিজের অ্যাপেই।
পৌঁছানো কমার যে কারণগুলো শাস্তি নয়
বেশিরভাগ ক্ষেত্রে অবস্থার পর্দাটা সবুজ থাকে, আর তবু পৌঁছানো কম। কারণগুলো সাধারণত এই তালিকার ভেতরে।
- একটা পোস্ট খুব ভালো চলেছিল। তার পরেরগুলো স্বাভাবিক সংখ্যায় ফিরলে সেটা পতন মনে হয়, আসলে আগেরটাই ব্যতিক্রম ছিল।
- বিষয় বদলেছে। ইনস্টাগ্রাম যাঁদের আপনার আগের পোস্ট দেখাত, নতুন বিষয়ের পোস্ট তাঁদের কাছে কম যায়। নতুন দর্শক খুঁজে পেতে সময় লাগে।
- ফাঁক পড়েছিল। কয়েক সপ্তাহ চুপ থাকার পর প্রথম কয়েকটা পোস্টে সংখ্যা কম আসে।
- ফরম্যাট বদলেছে। রিল থেকে ছবির পোস্টে গেলে সংখ্যা নামবেই, কারণ দুটোর দর্শক আলাদা।
- ঋতু আর ঘটনা। পরীক্ষা, উৎসব বা বড় কোনো ঘটনার সময় মানুষের অভ্যাস বদলায়।
এগুলোর কোনোটার সমাধান নেই, কারণ এগুলো সমস্যাই নয়। এক মাসের গড় দেখুন, একটা পোস্ট নয়।
সত্যিই সীমা পড়লে কারণ কী হয়
অবস্থার পর্দা যদি সমস্যা দেখায়, কারণটা সাধারণত এই চারটের একটা।
যন্ত্রের মতো আচরণ। কোনো অ্যাপ দিয়ে নিজে থেকে ফলো, লাইক বা মন্তব্য করানো। এটাই সবচেয়ে সাধারণ কারণ, আর সবচেয়ে সহজে থামানো যায়।
একই কথা বারবার। অনেকগুলো পোস্টে হুবহু একই মন্তব্য, বা অনেকজনকে হুবহু একই বার্তা। এটা প্রচারের অভ্যাস, কিন্তু ইনস্টাগ্রামের চোখে স্প্যাম।
নিয়মভাঙা বিষয়বস্তু। কোনো পোস্ট সরানো হলে সেটা পর্দাটায় নাম ধরে লেখা থাকে।
অন্যদের অভিযোগ। একই পোস্টে অনেক মানুষ অভিযোগ করলে সেটা পর্যালোচনায় যায়।
প্রথম দুটো নিজের হাতে, আর দুটোই আজই বন্ধ করা যায়।
ফিরে আসার ক্রম
তাড়াহুড়ো এখানে সবচেয়ে বড় শত্রু। ক্রমটা এই রকম।
- যেসব বাইরের অ্যাপের আপনার একাউন্টে ঢোকার অনুমতি আছে সেগুলো সেটিংস থেকে বাতিল করুন, প্রতিটা।
- অবস্থার পর্দায় যদি নির্দিষ্ট কোনো পোস্টের কথা লেখা থাকে, সেটা নিয়ে যা করার আছে করুন, দরকার হলে আপত্তি জানান।
- কয়েক দিন কম কাজ করুন। পোস্ট দিন, কিন্তু অনেককে ফলো করা বা অনেক মন্তব্য করা বন্ধ রাখুন।
- তারপর স্বাভাবিক ছন্দে ফিরুন আর অন্তত তিন সপ্তাহ চালান।
একটা কথা মনে রাখা দরকার: কত দিনে ঠিক হবে তার কোনো ঘোষিত সময় নেই, আর যাঁরা নির্দিষ্ট দিন বলেন তাঁরা অনুমান করছেন। যেটা বলা যায় তা হলো অভ্যাস না বদলালে সময় দিয়ে কিছু হয় না।
যেটা করলে অবস্থা খারাপ হয়
তিনটে কাজ মানুষ আতঙ্কে করে ফেলেন, আর তিনটেই ক্ষতি করে।
একাউন্ট ডিএক্টিভেট করে আবার চালু করা। এতে কিছুই ঠিক হয় না, আর মাঝের দিনগুলোয় আপনার পোস্ট কেউ দেখেন না।
সব পোস্ট মুছে ফেলা। এতে আপনার একাউন্ট কী নিয়ে সেই তথ্যটাই মুছে যায়, আর ইনস্টাগ্রামকে আবার শুরু থেকে শিখতে হয়।
টাকা দিয়ে সংখ্যা বাড়িয়ে ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার চেষ্টা। যে অবস্থায় ইনস্টাগ্রাম ইতিমধ্যেই আপনার একাউন্টের আচরণ নিয়ে সন্দিহান, সেখানে হঠাৎ বাইরে থেকে সাড়া আসাটা উল্টো কাজ করে। কোন ধরনের কাজ কোথায় বসে তার হিসাব তালিকার পাতায় আছে।



