ইনস্টাগ্রামে লাইক বাড়ানোর উপায়, আর লাইক আসলে কতটা কাজের
বাংলায় এই বিষয়ে খোঁজার প্রথম শব্দটাই অ্যাপ। অ্যাপ কী করে, প্রথম এক ঘণ্টা কেন সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ, আর লাইক লুকিয়ে রাখার ঘরটা কী বদলে দিয়েছে।
Sarah Johnsonবাংলায় লাইক নিয়ে খোঁজার তালিকায় দুটো শব্দ বারবার ফেরে: app আর free. আর যে দুটো বাংলা বাক্য বাংলা অক্ষরের বদলে ইংরেজি অক্ষরে লেখা হয়, সেই দুটোতেও প্রথমটা অ্যাপ।
তাই শুরুতেই বলে নেওয়া যাক ওই অ্যাপগুলো কী করে, তারপর যেটা সত্যিই কাজ করে সেটা।
লাইক বাড়ানোর অ্যাপে আসলে কী হয়
এই অ্যাপগুলো মোটামুটি দুই রকম, আর দুটোরই আলাদা সমস্যা।
প্রথম ধরনটা বিনিময়ের ব্যবস্থা। আপনি অন্যদের পোস্টে লাইক দেবেন, বিনিময়ে পয়েন্ট পাবেন, সেই পয়েন্ট খরচ করে নিজের পোস্টে লাইক আনবেন। এতে যাঁরা লাইক দেন তাঁরা আপনার পোস্টটা দেখেনও না, শুধু চাপ দেন। ইনস্টাগ্রামের কাছে এটা ধরা পড়ে, কারণ ওই একাউন্টগুলো একই ধাঁচে শত শত পোস্টে লাইক দেয়।
দ্বিতীয় ধরনটা আপনার নাম আর পাসওয়ার্ড চায়, তারপর আপনার হয়ে অন্যদের পোস্টে লাইক দিতে থাকে। এটা আরও খারাপ, কারণ এতে আপনার একাউন্টটাই যন্ত্রের মতো আচরণ করতে শুরু করে, আর পাসওয়ার্ডটাও আর শুধু আপনার থাকে না।
দুটোরই ফল এক জায়গায় গিয়ে মেলে। সংখ্যাটা বাড়ে, কিন্তু মন্তব্য, সংরক্ষণ আর প্রোফাইলে আসা বাড়ে না, আর ওই ফাঁকটা যে কেউ প্রোফাইল খুলেই দেখতে পান।
প্রথম এক ঘণ্টাই আসল হিসাব
লাইক শুধু একটা সংখ্যা নয়, এটা একটা সংকেতও, আর সংকেতটা সময়ের সঙ্গে জড়ানো।
পোস্ট দেওয়ার পর ইনস্টাগ্রাম সেটা প্রথমে অল্প কিছু মানুষকে দেখায়। ওই ছোট দলটা যদি দ্রুত সাড়া দেয়, তাহলে পরের ধাপে আরও বড় দলকে দেখানো হয়। সাড়া না এলে ওখানেই থেমে যায়।
তার মানে দশ ঘণ্টা পরে আসা পঞ্চাশটা লাইকের চেয়ে প্রথম ঘণ্টার বিশটা লাইক বেশি কাজের। এই একটা কথা বুঝলে বাকি সিদ্ধান্তগুলো সহজ হয়ে যায়।
ব্যবহারিক ফল তিনটে। এমন সময়ে দিন যখন আপনি নিজে ফোনে থাকতে পারবেন। প্রথম ঘণ্টায় আসা মন্তব্যের উত্তর সঙ্গে সঙ্গে দিন। আর পরপর দুটো পোস্ট খুব কাছাকাছি সময়ে দেবেন না, কারণ তখন দুটোই একে অপরের শুরুর দলটা ভাগ করে নেয়।
মানুষ কোন পোস্টে থামেন
লাইক পাওয়ার আগে একটা শর্ত আছে যেটা প্রায়ই বাদ পড়ে যায়: মানুষকে থামতে হবে। ফিডে আঙুল চলতে থাকে, আর যে পোস্টে আঙুল থামে না সেখানে লাইকের প্রশ্নই ওঠে না।
- একটা জিনিস, পরিষ্কারভাবে। ছবিতে একটাই বিষয় থাকলে এক সেকেন্ডেই বোঝা যায়। ভিড় করা ছবিতে মানুষ বুঝতে সময় নেন, আর সেই সময়টা তাঁরা দেন না।
- উজ্জ্বলতা আর ফ্রেম। অন্ধকার আর ঝাপসা ছবি বাংলাদেশের বেশিরভাগ ফোনে আরও খারাপ দেখায়, কারণ পর্দা রোদের মধ্যে দেখা হয়।
- ক্যাপশনের প্রথম লাইন। ফিডে ক্যাপশনের এক লাইনের বেশি দেখা যায় না। ওই লাইনটা প্রশ্ন বা দাবি হলে মানুষ বাকিটা খোলেন।
- কয়েকটা ছবির পোস্ট। মানুষ যত সেকেন্ড পোস্টে থাকেন সেটাও গোনা হয়, আর পাশে সরানোর প্রতিটা ছবি ওই সময়টা বাড়ায়।
ট্যাগ নিয়ে একটা কথা। পুরোনো অনেক লেখায় আট থেকে বারোটা ট্যাগ দেওয়ার পরামর্শ আছে। ওটা আর চলে না, সীমাটা এখন অনেক কম আর বাড়তি ট্যাগ গোনাই হয় না। কত আর কীভাবে, সেটা ট্যাগের লেখায় আলাদা করে বলা আছে।
লাইক এখন আগের মতো প্রকাশ্য নয়
এটা এমন একটা বদল যা অনেকে খেয়াল করেননি, অথচ এতে লাইকের ভূমিকা বদলে গেছে।
ইনস্টাগ্রামে এখন লাইকের সংখ্যা লুকিয়ে রাখা যায়, দুই দিক থেকেই। আপনি নিজের পোস্টে সংখ্যাটা লুকিয়ে রাখতে পারেন, আবার একজন দর্শক চাইলে গোটা অ্যাপ জুড়ে সবার লাইক সংখ্যা লুকিয়ে দিতে পারেন। আপনি নিজের পোস্টের সংখ্যাটা সবসময়ই দেখতে পান।
এর মানে লাইক একটা ব্যক্তিগত মাপকাঠি হয়ে গেছে। যাঁরা কম লাইক নিয়ে সংকোচে থাকেন, তাঁদের জন্য এটা কাজের ঘর, কারণ সংখ্যাটা লুকোনো থাকলে মানুষ পোস্টটা নিয়েই ভাবেন।
উল্টো দিকে, যাঁরা বিজ্ঞাপনের কাজ চান তাঁদের জন্য এটা মনে করিয়ে দেয় যে লাইকের সংখ্যা আর প্রমাণ হিসেবে চলে না। যিনি কাজ দেবেন তিনি অন্য কিছু দেখেন, আর সেটা আলাদা লেখায় আছে।
যে অভ্যাসগুলো লাইক ফেরত আনে
এগুলো কোনোটাই চমক নয়, কিন্তু এগুলোই কাজ করে।
- পোস্ট দেওয়ার আগে অন্যদের ঘরে যান। নিজের বিষয়ের কয়েকটা একাউন্টে গিয়ে সত্যিকারের মন্তব্য করুন। এতে ওই মানুষগুলোর ফিডে আপনার নাম সক্রিয় থাকে।
- প্রতিটা মন্তব্যের উত্তর দিন। বিশেষ করে প্রথম ঘণ্টার। এক শব্দের উত্তরও কাজ করে, তবে প্রশ্ন করলে কথা এগোয়।
- বার্তার উত্তর দিন। কেউ স্টোরির উত্তরে কিছু লিখলে জবাব দিন। বার্তা বিনিময়ের পর ওই মানুষটির ফিডে আপনার পোস্ট অনেক বেশি আসে।
- নিজের পুরোনো ভালো পোস্ট দেখুন। ছয় মাসে যে পাঁচটা পোস্ট সবচেয়ে ভালো চলেছে, সেগুলোর মধ্যে মিলটা খুঁজে বের করুন। ওটাই আপনার সূত্র, কোনো তালিকার নয়।
লাইকের চেয়ে যে দুটো সংখ্যা বেশি বলে
লাইক সবচেয়ে সহজ সাড়া, আর সহজ বলেই সবচেয়ে হালকা। দুটো সংখ্যা এর চেয়ে অনেক বেশি বলে দেয়।
সংরক্ষণ। কেউ পোস্টটা রেখে দিয়েছেন মানে পরে কাজে লাগবে বলে মনে করেছেন। রেসিপি, তালিকা, দাম, নিয়ম, এসব সংরক্ষিত হয়।
অন্যকে পাঠানো। কেউ পোস্টটা বন্ধুকে পাঠিয়েছেন মানে সেটা তাঁর নিজের নাম দিয়ে সুপারিশ করার মতো ছিল। এটাই সবচেয়ে ভারী সংকেত।
দুটোই ইনসাইটসে দেখা যায়, আর ইনসাইটস পেতে একাউন্টটা পেশাদার হতে হয়। এক সপ্তাহ পরে লাইকের বদলে এই দুটো দেখলে কোন ধরনের পোস্ট বানানো উচিত সেটা অনেক পরিষ্কার হয়ে যায়।
Frequently Asked Questions
সংখ্যা বাড়ায়, বাকি কিছু বাড়ায় না। বিনিময়ের অ্যাপে যাঁরা লাইক দেন তাঁরা পোস্টটা দেখেনই না, আর যেগুলো আপনার পাসওয়ার্ড চায় সেগুলো আপনার একাউন্টকেই যন্ত্রের মতো চালাতে শুরু করে। লাইক বেশি অথচ মন্তব্য শূন্য, এই ফাঁকটা যে কেউ প্রোফাইল খুলেই দেখেন।
কারণ ইনস্টাগ্রাম পোস্টটা প্রথমে অল্প কিছু মানুষকে দেখায়, আর তাঁদের সাড়া দেখে ঠিক করে আরও বড় দলকে দেখাবে কি না। তাই দশ ঘণ্টা পরের পঞ্চাশটা লাইকের চেয়ে প্রথম ঘণ্টার বিশটা বেশি কাজের। এমন সময়ে পোস্ট দিন যখন আপনি নিজে ফোনে থাকতে পারবেন।
যায়, আর দুই দিক থেকেই। আপনি নিজের পোস্টে সংখ্যাটা লুকিয়ে রাখতে পারেন, আবার একজন দর্শক চাইলে গোটা অ্যাপে সবার সংখ্যা লুকিয়ে দিতে পারেন। আপনি নিজের সংখ্যাটা সবসময় দেখতে পাবেন, তাই মাপার কাজে কোনো অসুবিধা হয় না।
পুরোনো লেখায় যে আট থেকে বারোটার কথা আছে সেটা আর চলে না, সীমাটা এখন অনেক কম আর বাড়তি ট্যাগ ইনস্টাগ্রাম গোনেই না। কত এবং কোন ধরনের ট্যাগ বাংলাদেশ থেকে কাজ করে, সেটা ট্যাগ নিয়ে লেখা আলাদা গাইডে বিস্তারিত আছে।
খুব কাছাকাছি সময়ে দিলে হয়। দুটো পোস্টই তখন একই ছোট দলটাকে দেখানো হয়, আর দুটোর কোনোটাই যথেষ্ট শুরুর গতি পায় না। কয়েক ঘণ্টা ফাঁক রাখলে দুটোই আলাদা করে নিজের সুযোগ পায়।
সংরক্ষণ আর অন্যকে পাঠানো। সংরক্ষণ মানে কেউ ভেবেছেন পোস্টটা পরে কাজে লাগবে, আর পাঠানো মানে কেউ নিজের নাম দিয়ে সেটা সুপারিশ করেছেন। দুটোই ইনসাইটসে দেখা যায়, আর ইনসাইটসের জন্য একাউন্টটা পেশাদার হতে হবে।

Sarah Johnson
ডিজিটাল মার্কেটিং বিশেষজ্ঞ, সামাজিক মাধ্যম কৌশলে ১০+ বছরের অভিজ্ঞতা। কার্যকরী মার্কেটিং কৌশলের মাধ্যমে ব্যবসার অনলাইন উপস্থিতি বাড়াতে সাহায্য করতে আগ্রহী।


