গুগল একাউন্ট আর জিমেইল এক জিনিস নয়
জিমেইল লিখে খুঁজলে মানুষ পাসওয়ার্ড খোঁজেন, আর গুগল একাউন্ট লিখলে খোঁজেন রিকভারি। দুটো আলাদা প্রশ্ন, কারণ দুটো আলাদা জিনিস।
Avery Bennettবাংলায় দুটো প্রায় একই রকম শব্দ লিখে খুঁজলে দুটো একেবারে আলাদা তালিকা আসে, আর সেটাই এই লেখার শুরু।
জিমেইল লিখলে যা আসে তার প্রায় সবটাই পাসওয়ার্ড নিয়ে। আর গুগল একাউন্ট লিখলে যা আসে তার একদম প্রথমটাই রিকভারি, আর চার নম্বরে রিকভারি পেজ।
মানুষ এই দুটোকে এক ভাবেন, কিন্তু খোঁজার ধরনটাই বলে দিচ্ছে দুটো এক নয়। এই পার্থক্যটা বোঝা দরকার, কারণ আটকে গেলে এটাই ঠিক করে দেয় আপনি কোথায় যাবেন।
ফারাকটা কোথায়
জিমেইল হলো একটা অ্যাপ, একটা ইনবক্স। ওখানে চিঠি আসে আর যায়।
গুগল একাউন্ট হলো ওই ইনবক্সের নিচের স্তরটা, অর্থাৎ পরিচয়টা। আর ওই পরিচয়টার সঙ্গে জিমেইল ছাড়াও আরও অনেক কিছু জোড়া আছে।
এটা বোঝার সবচেয়ে সহজ উপায় হলো ভাবা, আইডিটা হারালে কী কী হারায়।
- ফোনের অ্যাপের দোকান, অর্থাৎ কেনা অ্যাপগুলো আর সদস্যপদগুলো।
- ভিডিওর হিসাব, অর্থাৎ চ্যানেল, সাবস্ক্রিপশন আর মন্তব্য।
- মেঘে জমা থাকা ছবি আর ফাইল।
- ফোনের নিজের সংযোগ, অর্থাৎ যোগাযোগের তালিকা আর ব্যাকআপ।
- আর যত জায়গায় আপনি গুগল দিয়ে ঢুকেছেন, সেগুলো সব।
এই শেষটা সবচেয়ে বেশি উপেক্ষা করা হয়। অনেক ওয়েবসাইট আর অ্যাপে মানুষ আলাদা পাসওয়ার্ড না বানিয়ে গুগল দিয়ে ঢোকেন। ওই আইডিটা গেলে ওই সবগুলোও একসঙ্গে যায়, আর তখন সেগুলো ফেরানোর কোনো আলাদা পথ থাকে না।
তাই একটা গুগল আইডি হারানো একটা ইনবক্স হারানোর চেয়ে অনেক বড় ঘটনা, আর সেই কারণেই ফেরানোর ব্যবস্থাটাও কড়া।
রিকভারি পেজটা একটা যন্ত্র, ফর্ম নয়
এটাই এই লেখার আসল কথা, আর এটা না জানার কারণেই মানুষ বারবার ব্যর্থ হন।
আপনি যখন ওই পাতায় গিয়ে তথ্য দেন, তখন ওটা কোনো মানুষের কাছে যায় না। কেউ বসে আপনার আবেদন পড়েন না। ওটা একটা স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা, যেটা আপনার দেওয়া উত্তরগুলো মিলিয়ে দেখে আর একটা রায় দেয়।
এর দুটো ফল আছে, আর দুটোই কাজের।
প্রথমত, আবেদনে অনুনয় করে কোনো লাভ নেই। এটা আমার আইডি, আমার খুব দরকার, আমি সত্যি বলছি, এসব লিখলে ওজন বাড়ে না, কারণ পড়ার মতো কেউ নেই।
দ্বিতীয়ত, যেটার ওজন আছে সেটা হলো মিল। ব্যবস্থাটা দেখে আপনি এখন যা করছেন সেটা ওই আইডিটার অতীতের সঙ্গে কতটা মেলে।
এই দ্বিতীয় কথাটা থেকেই সবচেয়ে দামি পরামর্শটা বেরোয়, আর সেটা বেশিরভাগ মানুষ উল্টো করেন।
যেখান থেকে চেষ্টা করছেন, সেটাই সবচেয়ে বড় ভুল
মানুষ সাধারণত আইডি হারানোর পরে যা করেন, তা হলো একটা নতুন কম্পিউটার বা বন্ধুর ফোন থেকে রিকভারি পাতায় গিয়ে চেষ্টা করেন। কারণ নিজের ফোনটা হয়তো হারিয়েছে বা নষ্ট হয়েছে।
এটাই সবচেয়ে খারাপ শুরু। কারণ ব্যবস্থাটা মিল খুঁজছে, আর আপনি একটা অচেনা যন্ত্র থেকে একটা অচেনা জায়গা থেকে আসছেন। ঠিক ওই জিনিসটাই একজন হ্যাকারও করত।
তাই ক্রমটা উল্টে দিন। যে যন্ত্র থেকে আপনি আগে ওই আইডিতে ঢুকতেন, সেটা যদি এখনো থেকে থাকে, তাহলে সেখান থেকে চেষ্টা করুন। যে ব্রাউজারটা আপনি ব্যবহার করতেন, সেটা থেকে। আর যে ইন্টারনেট সংযোগ থেকে সাধারণত ঢুকতেন, সেটা থেকে।
এমনকি পুরোনো ফোনটা যদি নষ্ট হয়ে গিয়ে থাকে কিন্তু বাড়ির ওয়াইফাই একই থাকে, তাহলে বাড়ি থেকে চেষ্টা করা বাইরে থেকে চেষ্টা করার চেয়ে ভালো।
এটা ছোট মনে হলেও এটাই সবচেয়ে বড় পার্থক্য তৈরি করে, আর এটা কোথাও লেখা থাকে না।
ফর্মে যে ভুলগুলো ব্যর্থ করে দেয়
কয়েকটা নির্দিষ্ট ভুল বারবার হয়, আর প্রতিটাই এড়ানো যায়।
আন্দাজে উত্তর দেওয়া। পুরোনো পাসওয়ার্ড জিজ্ঞেস করলে আপনি যদি মনে না থাকা অবস্থায় দশটা আন্দাজ বসান, সেটা মিলের বদলে অমিল তৈরি করে। যেটা মনে নেই সেটা খালি রেখে দেওয়া ভালো, আর প্রশ্নগুলো এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ থাকে।
একদিনে বারবার চেষ্টা করা। পরপর অনেকগুলো ব্যর্থ চেষ্টা নিজেই একটা সন্দেহজনক ধরন। একবার চেষ্টা করে ব্যর্থ হলে কয়েক ঘণ্টা অপেক্ষা করুন, আর এর মধ্যে ভাবুন কোন তথ্যটা আপনি ভালোভাবে দিতে পারতেন।
এমন কোনো ইমেইল ঠিকানা দেওয়া যেটা আপনি খোলেন না। ওরা যোগাযোগের জন্য একটা ঠিকানা চায়, আর উত্তরটা ওখানেই যায়। মানুষ এমন ঠিকানা দিয়ে দেন যেটা তাঁরা মাসে একবারও দেখেন না, আর উত্তরের সময়সীমা পেরিয়ে যায়।
সবচেয়ে পুরোনো তথ্যটা না দেওয়া। আইডিটা কবে খোলা হয়েছিল, এই প্রশ্নটা এলে আন্দাজ করলেও কাছাকাছি মাস আর বছরটা দিন। এটা এমন একটা তথ্য যেটা সাধারণত শুধু আসল মালিকই মোটামুটি জানেন।
আটকানোর আগেই যা করে রাখতে হয়
উপরের সবটা প্রয়োজন হয় তখনই, যখন আগে থেকে কিছু করা ছিল না। আর আগে থেকে করার কাজটা পাঁচ মিনিটের।
গুগল আইডিতে দুটো জিনিস বসানো যায় যেগুলো ফেরার পথ খুলে রাখে। একটা দ্বিতীয় ইমেইল ঠিকানা, আর একটা ফোন নম্বর।
এখানে একটা পরামর্শ যেটা বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে বিশেষভাবে কাজে লাগে। দ্বিতীয় ঠিকানা হিসেবে আরেকটা জিমেইল দেবেন না। অন্য কোনো ব্যবস্থার ঠিকানা দিন।
কারণটা সরল। দুটো জিমেইল একে অপরের উদ্ধারের ঠিকানা হলে, গুগলে কোনো সমস্যা হলে দুটোই একসঙ্গে হাতের বাইরে চলে যায়। আলাদা ব্যবস্থার একটা ঠিকানা থাকলে একটা দরজা তখনো খোলা থাকে।
ফোন নম্বরের ক্ষেত্রে একটা বাস্তব কথা। এখানে সিম বদলানো আর নম্বর বন্ধ হয়ে যাওয়া সাধারণ ব্যাপার। তাই নম্বর বদলালে আইডির ভেতরে গিয়ে নতুনটা বসিয়ে দেওয়াটা একটা কাজ, আর সেটা মানুষ কখনো করেন না। বছরে একবার দেখে নেওয়াই যথেষ্ট।
আর একটা তালিকা আছে যেটা দেখার মতো, কোন কোন যন্ত্রে আপনার আইডি এখন খোলা আছে। ওখানে পুরোনো যে ফোনটা আপনি বিক্রি করে দিয়েছেন সেটা থেকে গেলে সেটা সরিয়ে দিন।
কেনা জিমেইলে এই স্তরটা কোথায় দাঁড়ায়
এই সাইটে জিমেইলের ঘরে এই মুহূর্তে ষোলোশোর বেশি তালিকা আছে, আর সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য সংখ্যাটা দোকানের। একশো একাশিটা আলাদা দোকান।
এটা এই পুরো ব্যাচের যেকোনো ঘরের চেয়ে বেশি। তুলনায় টেলিগ্রামের ঘরে বিয়াল্লিশটা দোকান, ফেসবুকের ঘরে একশো চারটে। অর্থাৎ এখানে বিক্রেতার সংখ্যা সবচেয়ে বেশি, আর তার মানে মানের তারতম্যও সবচেয়ে বেশি।
একটা কথা বলে রাখা দরকার যেটা প্রত্যাশা ঠিক জায়গায় রাখে। এখানে গুগলের অন্য জিনিসগুলোর ঘর কার্যত খালি। গুগল ওয়ার্কস্পেসের ঘরে একটাও চালু তালিকা নেই, গুগল ওয়ানের ঘরে একটা, গুগল ক্লাউডে চারটে। অর্থাৎ এখানে গুগল মানে মূলত ইনবক্স, তার বেশি কিছু নয়।
আর কেনার ক্ষেত্রে এই লেখার মূল কথাটা সবচেয়ে বেশি খাটে। আপনি একটা ইনবক্স কিনছেন, কিন্তু আসলে পাচ্ছেন একটা গুগল আইডি, আর ওটার সঙ্গে ভিডিওর হিসাব, অ্যাপের দোকান আর মেঘের জায়গা সবই জোড়া।
তার মানে আগের মালিকের কিছু জিনিস ওখানে থেকে যেতে পারে। তাই হাতে পেয়ে শুধু ইনবক্সটা দেখে সন্তুষ্ট হবেন না, ওই তালিকাটাও দেখুন কোন কোন যন্ত্রে খোলা আছে, আর উদ্ধারের ঠিকানা আর নম্বরটা কার সেটাও দেখুন। ওই দুটো যদি আগের মালিকের থাকে, তাহলে আইডিটা যেকোনো দিন ফিরে যেতে পারে।
আর এটা দ্রুত করতে হবে। এখানকার প্রতিটা তালিকা সঙ্গে সঙ্গে হাতে আসে, কিন্তু জিমেইলের ঘরে ষোলোশোর মধ্যে নয়শো আটাত্তরটায় সমস্যা জানানোর মেয়াদ আধা দিন, আর একশো তিয়াত্তরটায় সেটা মাত্র কয়েক মিনিট।


