ফেসবুক আইডি হ্যাক হয়েছে কি না বুঝবেন কোথায় দেখে
বাংলায় সবচেয়ে বেশি খোঁজা হয় হ্যাক হলে বুঝবো কিভাবে, প্রতিরোধ নয়। তাই এই লেখাটা শুরু হচ্ছে সেই পাতাটা থেকে যেখানে উত্তরটা আসলে লেখা আছে।
Avery Bennettবাংলায় ফেসবুকের নিরাপত্তা নিয়ে যা খোঁজা হয়, তার প্রায় সবটাই আসে ঘটনা ঘটে যাওয়ার পরে। হ্যাক হলে করণীয়, হ্যাক হয়েছে, হ্যাক হলে বুঝবো কিভাবে। এই শেষ প্রশ্নটা দুবার আলাদা করে লেখা হয়, অর্থাৎ ওটাই আসল প্রশ্ন।
তাই এই লেখাটা প্রতিরোধ দিয়ে শুরু হচ্ছে না। শুরু হচ্ছে সেই জায়গাটা দিয়ে যেখানে গিয়ে দেখলে উত্তরটা পাওয়া যায়।
যে পাতাটা আপনাকে সত্যিটা বলে দেবে
ফেসবুকের সেটিংসে একটা তালিকা আছে যেখানে দেখানো হয় এই মুহূর্তে কোন কোন যন্ত্র থেকে আপনার আইডিতে ঢোকা আছে। প্রতিটার পাশে যন্ত্রের নাম আর মোটামুটি একটা জায়গার নাম লেখা থাকে।
এটাই একমাত্র জায়গা যেটা আন্দাজের বদলে তথ্য দেয়। আইডি হ্যাক হয়েছে কি না বোঝার জন্য মানুষ সাধারণত যা দেখেন, যেমন পোস্ট বদলে গেছে কি না বা বন্ধুরা কিছু বলছেন কি না, সেগুলো দেরিতে আসা লক্ষণ। কেউ ঢুকে চুপচাপ বসে থাকলে ওসব কিছুই দেখা যাবে না। কিন্তু তালিকায় তার যন্ত্রটা থাকবে।
একটা কথা মাথায় রাখবেন, জায়গার নামটা প্রায়ই ভুল দেখায়। আপনি ঢাকায় বসে আছেন অথচ অন্য একটা শহরের নাম দেখাচ্ছে, এটা খুবই সাধারণ ব্যাপার এবং সাধারণত এতে ভয়ের কিছু নেই। কারণ ওই নামটা আসে আপনার ইন্টারনেট সংযোগের ঠিকানা থেকে, আর মোবাইল অপারেটরের ঠিকানা প্রায়ই অন্য শহরে নিবন্ধিত থাকে।
তাহলে দেখবেন কী। যন্ত্রটা। আপনার কাছে যদি একটা ফোন আর একটা কম্পিউটার থাকে, তালিকায় তিনটে জিনিস থাকা মানে একটা অতিরিক্ত। শহরের নাম নয়, সংখ্যাটা গুনুন।
অচেনা কিছু দেখলে সঙ্গে সঙ্গে সেটাকে বের করে দিন, তারপর পাসওয়ার্ড বদলান। এই ক্রমটা উল্টো করবেন না, কারণ আগে পাসওয়ার্ড বদলালে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে অন্য যন্ত্রগুলো এমনিতেই বেরিয়ে যায়, কিন্তু সব সময় নয়, আর তখন আপনি জানবেনও না কে ছিল।
two factor authentication required, এই কথাটার মানে
এই ইংরেজি লাইনটা বাংলাদেশ থেকে সবচেয়ে বেশি খোঁজা হয় এর মানে জানার জন্য। মানুষ পর্দায় এটা দেখছেন, আর ঢুকতে পারছেন না।
কথাটার মানে হলো, এই আইডিতে ঢুকতে গেলে এখন থেকে শুধু পাসওয়ার্ড যথেষ্ট নয়, দ্বিতীয় একটা প্রমাণ লাগবে। আর required শব্দটার মানে হলো এটা আর ঐচ্ছিক নেই, আপনার আইডির ক্ষেত্রে ফেসবুক এটা বাধ্যতামূলক করে দিয়েছে।
এটা দুই কারণে সামনে আসে। এক, আপনি নিজে আগে এটা চালু করেছিলেন এবং ভুলে গেছেন। দুই, ফেসবুক নিজে থেকে এটা বসিয়ে দিয়েছে, যেটা তারা এমন আইডির ক্ষেত্রে করে যেগুলো তাদের বিচারে বেশি ঝুঁকিতে আছে বা যেগুলো পেজ বা বিজ্ঞাপনের সঙ্গে যুক্ত।
দ্বিতীয় ক্ষেত্রে অনেকে ভাবেন আইডি হ্যাক হয়ে গেছে। হয়নি। এটা উল্টোটা, এটা একটা পাহারা। কিন্তু সমস্যাটা হলো, যদি পুরোনো ফোন নম্বরটা আপনার হাতে না থাকে, তাহলে এই পাহারাটাই আপনাকে আটকে দেয়।
দুই ধাপ চালু করার সময় সবচেয়ে দামি ভুলটা
ভুলটা হলো শুধু ফোন নম্বর দিয়ে চালু করে রেখে দেওয়া, আর ব্যাকআপ কোডগুলো না নেওয়া।
বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে এটা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ সিম বদলানো, নম্বর বন্ধ হয়ে যাওয়া বা অনেকদিন রিচার্জ না করায় নম্বর অন্য কারও হাতে চলে যাওয়া এখানে সাধারণ ঘটনা। নম্বরটা হাতছাড়া হওয়ার দিন আপনার আইডিও হাতছাড়া হয়ে যায়, আর তখন ফেরানোর পথটা লম্বা।
যা করবেন। দুই ধাপ চালু করার সময় খুদে বার্তার বদলে একটা কোড তৈরির অ্যাপ বেছে নিন, কারণ ওটা নম্বরের উপর নির্ভর করে না। তারপর, এবং এটাই আসল কাজ, ব্যাকআপ কোডগুলো নিয়ে কোথাও লিখে রাখুন। ওগুলো আট থেকে দশটা এককালীন সংখ্যা, আর ফোন হারালে ওগুলোই একমাত্র চাবি।
ব্যাকআপ কোড স্ক্রিনশট নিয়ে ফোনের গ্যালারিতে রাখবেন না। ফোনটা হারালে দুটোই একসঙ্গে যায়, আর গ্যালারির ছবি অনেক অ্যাপ পড়তে পারে। কাগজে লিখে রাখা এখানে সত্যিই ভালো উপায়।
একটা আইডি, অনেকজনের হাত
ব্যবসার কাজে ফেসবুক চালালে সাধারণত একজনের বেশি মানুষ ওটা ছোঁয়। আর এখানেই সবচেয়ে বড় ভুলটা হয়। একটা পাসওয়ার্ড সবাইকে দিয়ে দেওয়া হয়।
এটা তিন কারণে খারাপ। কেউ চলে গেলে পাসওয়ার্ড বদলানো ছাড়া তার হাত সরানোর উপায় থাকে না, আর তখন বাকি সবার আবার নতুন পাসওয়ার্ড লাগে। দুই ধাপের যাচাই চালু থাকলে কোডটা কার ফোনে যাবে সেই সমস্যা তৈরি হয়। আর কিছু একটা ভুল হলে কে করেছে সেটা আর জানার উপায় থাকে না।
এর বদলে ব্যবসার জন্য আলাদা ব্যবস্থা আছে, যেখানে প্রত্যেকে নিজের আইডি দিয়ে ঢোকেন আর তাঁকে একটা নির্দিষ্ট দায়িত্ব দেওয়া হয়। কেউ শুধু পোস্ট দিতে পারেন, কেউ শুধু হিসাব দেখতে পারেন, কেউ সব পারেন। কারও কাজ শেষ হলে শুধু তাঁর নামটা তুলে দিলেই হয়, বাকি কারও কিছু বদলায় না।
যাঁরা এটা করেন তাঁদের জন্য একটা অভ্যাস, প্রতি কয়েক মাসে তালিকাটা একবার দেখে নেওয়া। মানুষ প্রকল্প ছেড়ে চলে যান কিন্তু তাঁদের নাম তালিকায় বছরের পর বছর থেকে যায়।
কেনা আইডিতে আগের মালিকের যা থেকে যায়
এই সাইটে এই মুহূর্তে ফেসবুক আইডির ঘরে চোদ্দশোর বেশি তালিকা আছে, একশোর বেশি দোকান থেকে। তার মধ্যে নয়শোর বেশি তালিকায় দুই ধাপের যাচাই সংক্রান্ত কিছু না কিছু লেখা আছে। অর্থাৎ প্রতি তিনটের মধ্যে দুটোতে।
এটা শুনতে ভালো লাগলেও এর একটা উল্টো দিক আছে, আর সেটাই এখানে বলার মতো কথা। যেখানে দুই ধাপের যাচাই আগে থেকে বসানো আছে, সেখানে ওটার চাবি প্রথমে অন্য কারও হাতে ছিল। কেনার পরে সেই চাবিটা আপনার হাতে না এলে জিনিসটা আপনার সুরক্ষা নয়, আপনার দুর্বলতা।
তাই হাতে পাওয়ার পরে প্রথম কাজ ওটা যাচাই করা। আপনি নিজে একটা কোড তৈরি করতে পারছেন কি না দেখুন। যদি না পারেন, তাহলে পুরোনো ব্যবস্থাটা বন্ধ করে নিজে নতুন করে চালু করুন, আর নতুন ব্যাকআপ কোড নিয়ে নিন। পুরোনো ব্যাকআপ কোডগুলো আগের মালিকের কাছে থেকে যেতে পারে, আর সেগুলো তখনও কাজ করবে।
সময়ের হিসাবটাও গুরুত্বপূর্ণ। এখানকার প্রতিটা তালিকা সঙ্গে সঙ্গে হাতে আসে, কিন্তু সমস্যা জানানোর মেয়াদ বেশিরভাগ ক্ষেত্রে আধা দিন, আর দেড়শোর মতো তালিকায় সেটা মাত্র কয়েক মিনিট। তাই এই যাচাইটা পরে করব বলে ফেলে রাখার জিনিস নয়।
ঢোকার পরিবেশটা এক রাখা
ফেসবুকের স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা শুধু পাসওয়ার্ড ঠিক আছে কি না দেখে না। কোন যন্ত্র থেকে, কোন সংযোগ থেকে আর কোন ব্রাউজার থেকে ঢোকা হচ্ছে সেটাও দেখে।
একটা নতুন যন্ত্র, একটা নতুন দেশ আর একটা নতুন ব্রাউজার, তিনটে একসঙ্গে হলে সঠিক পাসওয়ার্ড দিয়েও বাড়তি যাচাই আসতে পারে। তাই একটা আইডির জন্য একটা যন্ত্র বা একটা ব্রাউজার ঠিক করে নিয়ে সেটাতেই থাকা সবচেয়ে সহজ কাজ।
যাঁরা একের বেশি আইডি চালান তাঁদের জন্য নিয়মটা আরও কড়া। একই ব্রাউজারে পালা করে কয়েকটা আইডিতে ঢোকা এখানে সবচেয়ে বড় ঝুঁকি, কারণ তাতে আইডিগুলো একে অপরের সঙ্গে জুড়ে যায়। একটাতে সমস্যা হলে বাকিগুলোও একসঙ্গে ধরা পড়তে পারে। প্রতিটার জন্য আলাদা ব্রাউজার প্রোফাইল রাখা এখানে সবচেয়ে কম খরচের সমাধান।


