সাসপেন্ড, হ্যাক আর আটকে যাওয়া: তিনটে আলাদা জিনিস
বাংলাদেশ থেকে এক্স নিয়ে সবচেয়ে বেশি খোঁজা হয় suspended আর suspended for no reason। কিন্তু সাসপেন্ড হওয়া, হ্যাক হওয়া আর আটকে যাওয়া তিনটে আলাদা অবস্থা, আর সমাধানও আলাদা।
Sarah Johnsonবাংলাদেশ থেকে এক্স নিয়ে যা খোঁজা হয়, তার তালিকায় বারবার একটাই ইংরেজি শব্দ ফিরে আসে, suspended। আর তার ঠিক পাশেই থাকে suspended for no reason।
এই দ্বিতীয় কথাটাই আসল সমস্যাটা ধরিয়ে দেয়। মানুষ জানেন কিছু একটা হয়েছে, কিন্তু কী হয়েছে সেটা জানেন না। আর না জেনে ভুল সমাধান লাগালে হাতে যে সময়টুকু ছিল সেটাও চলে যায়।
তিনটে আলাদা অবস্থা আছে, আর তিনটের চিকিৎসা তিন রকম।
তিনটে অবস্থা চেনার সহজ উপায়
পার্থক্যটা করা যায় একটা প্রশ্ন দিয়ে, দোষটা কার দিকে।
সাসপেন্ড। এক্স নিজে আপনার আইডি বন্ধ করে দিয়েছে। এখানে চেনার চিহ্নটা পরিষ্কার, আপনি পাসওয়ার্ড দিয়ে ঢুকতে পারবেন, কিন্তু ঢোকার পরে একটা নোটিশ দেখাবে আর কিছু করতে দেবে না। অর্থাৎ চাবিটা কাজ করছে, কিন্তু ঘরটা সিল করা।
হ্যাক। অন্য কেউ ঢুকে পড়েছে। চিহ্ন হলো, হয় আপনার পাসওয়ার্ড আর কাজ করছে না, নয়তো কাজ করছে কিন্তু ভেতরে গিয়ে দেখছেন পরিচয়ের অংশে বা পোস্টে এমন কিছু আছে যেটা আপনি করেননি।
আটকে যাওয়া। কেউ কিছু করেনি, আপনি নিজেই ঢুকতে পারছেন না। পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন, বা কোড আসার নম্বরটা আর আপনার হাতে নেই, বা কোড তৈরির অ্যাপটা ফোনের সঙ্গে হারিয়েছে। এখানে ঘরটা ঠিকই আছে, চাবিটা হারিয়েছে।
এই তিনটে গুলিয়ে ফেলা খুব সহজ, কারণ তিনটেতেই ফল এক, আপনি আইডিটা ব্যবহার করতে পারছেন না। কিন্তু কারণ আলাদা, তাই পথও আলাদা।
সাসপেন্ড হলে
এখানে সবচেয়ে দরকারি কথাটা হলো, পাসওয়ার্ড বদলানো, নতুন করে ঢোকা বা সুরক্ষা বসানো, এর কোনোটাই কোনো কাজে আসবে না। সমস্যাটা আপনার নিরাপত্তায় নয়।
এক্সের নোটিশে সাধারণত একটা কারণ লেখা থাকে, আর সেই লেখাটা পড়া দরকার, কারণ পরের ধাপটা ওটার উপর নির্ভর করে। বাংলাদেশ থেকে খোঁজার তালিকায় যে কারণটা সবচেয়ে বেশি দেখা যায় সেটা হলো inauthentic behavior, অর্থাৎ আচরণটা আসল মানুষের মতো লাগেনি।
এই কারণটা সাধারণত আসে চারটে জিনিসের কোনোটা থেকে। নতুন আইডি থেকে খুব দ্রুত অনেক মানুষকে অনুসরণ করা। একই লেখা বারবার পোস্ট করা। অন্যদের পোস্টে একই ধরনের মন্তব্য অনেকবার করা। আর হঠাৎ করে ঢোকার জায়গা বদলে যাওয়া।
এখানে যেটা করার আছে সেটা হলো আপত্তি জানানো, আর একবারই ভালো করে জানানো। বারবার একই আবেদন পাঠালে সেটা সারিতে পেছনে চলে যায়, সামনে আসে না। আবেদনে কী লিখবেন তার একটাই নিয়ম, সংক্ষেপে আর সত্যি। আইডিটা দিয়ে আপনি কী করেন, আর যে আচরণটা ধরা পড়েছে সেটা কেন হয়েছিল।
আর একটা সৎ কথা বলে রাখা দরকার। সব সাসপেনশন ফেরে না, আর ফেরার কোনো নিশ্চয়তা কেউ দিতে পারে না। যে সরঞ্জাম বা সেবা বলে তারা সাসপেনশন খুলে দিতে পারবে, তারা এমন কিছুর প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে যেটা তাদের হাতে নেই।
হ্যাক হলে
এখানে সময়টাই সব, আর ক্রমটাও গুরুত্বপূর্ণ।
যদি পাসওয়ার্ড এখনো কাজ করে, তাহলে আপনি ভাগ্যবান। ঢুকে পড়ুন, সব সেশন বাতিল করুন, তারপর পাসওয়ার্ড বদলান। এই ক্রমে করলে যে ঢুকে ছিল সে সঙ্গে সঙ্গে বেরিয়ে যায়।
এরপর দুটো জিনিস দেখুন যেগুলো মানুষ প্রায়ই দেখতে ভুলে যান। এক, আইডির সঙ্গে জোড়া মেইল ঠিকানা আর ফোন নম্বরটা এখনো আপনার কি না। যে ঢুকেছিল সে যদি ওগুলো বদলে দিয়ে থাকে, তাহলে পাসওয়ার্ড বদলেও লাভ নেই, সে আবার ফিরিয়ে নিতে পারবে। দুই, কোন কোন বাইরের সরঞ্জামকে অনুমতি দেওয়া আছে। ওখানে অচেনা কিছু থাকলে সেটা তুলে দিন।
আর যদি পাসওয়ার্ড আর কাজ না করে, তাহলে মেইল বা ফোন দিয়ে ফেরানোর পথটাই একমাত্র পথ। সেটাও যদি বদলে দেওয়া হয়ে থাকে, তখন এক্সের কাছে আবেদন করা ছাড়া আর কিছু নেই, আর সেটা সময় নেয়।
আটকে গেলে
এটা সবচেয়ে সাধারণ অবস্থা, আর মজার ব্যাপার হলো এটার একটা বড় কারণ হলো সুরক্ষা নিজেই।
বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি যেটা হয়, সেটা হলো ফোন নম্বরটা আর নেই। সিম বদলেছে, বা অনেকদিন রিচার্জ না করায় নম্বরটা বন্ধ হয়ে অন্য কারও হাতে গেছে। কোড ওই নম্বরে যাচ্ছে, আর আপনি পাচ্ছেন না।
এখান থেকে বেরোনোর পথ একটাই, আর সেটা আগে থেকে তৈরি রাখতে হয়। ব্যাকআপ কোড, বা এমন একটা মেইল ঠিকানা যেটাতে আপনি এখনো ঢুকতে পারেন। ঘটনা ঘটে যাওয়ার পরে এগুলো তৈরি করা যায় না।
তাই যদি এই মুহূর্তে আপনার আইডিটা ঠিকঠাক চলছে, তাহলে আজই দেখে নিন জোড়া থাকা মেইল ঠিকানাটাতে আপনি এখনো ঢুকতে পারেন কি না। বছরে একবার এটা দেখে নেওয়াই যথেষ্ট, আর এটাই সবচেয়ে বেশি কাজে আসে।
দুই ধাপের যাচাই এই তিনটের মধ্যে কোনটা ঠেকায়
উত্তরটা সৎভাবে দেওয়া দরকার, কারণ এটা সব রোগের ওষুধ হিসেবে বিক্রি হয়।
দুই ধাপের যাচাই দ্বিতীয়টা ঠেকায়। অর্থাৎ কারও হাতে আপনার পাসওয়ার্ড পড়ে গেলেও সে ঢুকতে পারবে না। এটা সত্যিকারের সুরক্ষা আর এটার জন্যই জিনিসটা চালু করা উচিত।
প্রথমটা এটা একেবারেই ঠেকায় না। সাসপেনশন আসে আচরণ থেকে, পরিচয়ের নিরাপত্তা থেকে নয়। যত শক্ত সুরক্ষাই বসান, নিয়ম ভাঙলে আইডি বন্ধ হবে।
আর তৃতীয়টা এটা ঠেকায় না, বরং বাড়ায়। দুই ধাপের যাচাই চালু করার পরে আটকে যাওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়, কারণ এখন হারানোর মতো জিনিস দুটো, পাসওয়ার্ড আর দ্বিতীয় ধাপটা।
এর মানে এই নয় যে চালু করবেন না। মানে হলো চালু করার সময় দ্বিতীয় ধাপটা হারালে কী হবে সেটার ব্যবস্থা একই সঙ্গে করে রাখতে হবে। সুরক্ষা বসানো আর তালার বাড়তি চাবি বানানো, এই দুটো একই দিনে করার কাজ।
কেনা আইডিতে তিনটেই বেশি ঘটে
এই সাইটে এক্সের আইডির ঘরে নয়শোর বেশি তালিকা আছে, আর সেখান থেকে কেনা আইডিতে এই তিনটে ঝুঁকিই একটু বেশি, তাই সেটা লুকিয়ে লাভ নেই।
সাসপেনশনের ঝুঁকি বেশি, কারণ আইডিটা যে দেশ থেকে তৈরি হয়েছিল সেখান থেকে হঠাৎ বাংলাদেশে চলে আসা নিজেই একটা বদল, আর নতুন হাতে পড়ার পরে ব্যবহারের ধরনও বদলায়।
হ্যাকের ঝুঁকি বেশি, কারণ ওই আইডির পাসওয়ার্ড আপনার আগে অন্তত আরেকজন জানতেন। আর নয়শোর বেশি তালিকার মধ্যে পাঁচশো নব্বইটার মতোতে দুই ধাপের যাচাইয়ের কথা লেখা আছে, অর্থাৎ বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ওই দ্বিতীয় ধাপের চাবিটাও প্রথমে অন্য কারও হাতে ছিল।
আর আটকে যাওয়ার ঝুঁকি বেশি, কারণ জোড়া থাকা মেইল ঠিকানা বা নম্বরটা প্রায়ই আপনার নয়।
তাই হাতে পাওয়ার পরে সবচেয়ে দামি কাজটা নিরাপত্তা বসানো নয়, বরং দেখে নেওয়া, চাবিগুলো সত্যিই আপনার হাতে এসেছে কি না। আর এটা প্রথম মিনিটেই করতে হয়, কারণ এই ঘরে নয়শো পনেরোটা তালিকার মধ্যে তিনশোর বেশিতে সমস্যা জানানোর মেয়াদ এক ঘণ্টারও কম।
শেষে একটা কথা। কিছু তালিকায় লেখা থাকে আইডিটার উপর কোনো গোপন সীমা বসানো নেই। এই দাবিটা কেউ বাইরে থেকে যাচাই করতে পারে না, এক্স এমন কিছু প্রকাশ করে না। তাই ওটাকে প্রতিশ্রুতি নয়, বিক্রেতার নিজের কথা হিসেবেই পড়ুন।
